আজ আপনি যেখানে ফুলের বাগান দেখছেন কাল সেখানে শুধু পুড়ে যাওয়া আগুনের ভস্ম দেখতে পারেন। আজ যে সুরম্য অট্টালিকায় আপনি বাস করছেন কাল তা ধুলোয় মিশে যেতে পারে। নশ্বর এই পৃথিবীতে মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে যেকোনো কিছু।

আজকের এই ছবিগুলো একই স্থানের একদিন আগে পিছে তোলা ছবি। ছবিগুলো আপনাদের দেখাবে নিয়তির নির্মম পরিহাস ও প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেলা কিভাবে রাতারাতি বদলে দিতে পারে কোন স্থানের চেহারা।

১। মাউন্ট সেইন্ট হেলেন’স আগ্নেয়গিরি।

ওয়াশিংটনের এই আগ্নেয়গিরি ১৯৮০ সালে বিস্ফোরিত হয়। ফলে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার উপর পর্যন্ত ছাইয়ের একটা কুণ্ডলী সৃষ্টি হয়। এর আশেপাশের গাস লতাপাতা ও বিশাল অংশের বন লাভায় পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

২। চেরনোবিল দুর্ঘটনা, সোভিয়েত ইউনিয়ন।

চেরনোবিল ছিল একটা ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক এলাকা। ১৯৮৬ সালে চেরনোবিল পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে যা বদলে দেয় শহরটির চেহারা। তেজস্ক্রিয়তার জন্য সম্পূর্ণ এলাকাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। হাজার হাজার মানুষ ও কর্মীকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়। রাতারাতি শহরটি একটি নির্জন জনশূন্য ভৌতিক নগরে পরিণত হয়।

৩। সাহারা মরুভূমিতে তুষারপাত।

তাপমাত্রার তারতম্য কি করতে পারে সে সম্পর্কে আপনাদের হয়ত ধারণা আছে। কিন্তু তাপমাত্রার তারতম্যে যে মরুভূমিতেও বরফ পড়তে পারে তার সাক্ষী এই ছবি দুটো। সাহারা মরুভূমিতে রেকর্ড তাপমাত্রা পরে যাওয়ার ঘটনায় পুরো মরুভূমি জুড়ে একটা পাতলা বরফের আস্তরণ পরে যায়।

৪। হোনসু , জাপান।

হোনসু জাপানের সবথেকে ঘনবসতি পূর্ণ শহর ও সবথেকে বড় দ্বীপ। ২০১১ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের এক ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামীতে এই শহরটি পুরোপুরি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা ১৩০ ফুট ছাড়িয়ে যায়। প্রকৃতির নির্মম খেলায় রাতারাতি শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

৫। হ্যারিকেন হার্ভে, টেক্সাস।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে আমেরিকার টেক্সাসে হ্যারিকেন হার্ভে আঘাত হানে। টানা কিছুদিনের বর্ষণে শহরটির অনেকাংশ পানিতে ডুবে যায়। এমনকি ফ্লাই ওভারগুলোও তলিয়ে যায় পানির নিচে।

৬। হাইতির ভূমিকম্প।

হাইতির ইতিহাসে সবথেকে ভয়ানক ভূমিকম্পটি হয় ২০১০ সালে। প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ এই ভূমিকম্পের শিকার হয়। শহরগুলোর সুরম্য অট্টালিকা ও স্থাপত্যগুলো ভেঙে পড়ে। যদিও ভূমিকম্পটির স্থায়িত্ব খুব অল্প সময় ছিল তবুও প্রকৃতি এই সময়েই তার নির্মম আচরণের সাক্ষী রেখে যায়।

৭। ভারত মহাসাগরের ভূমিকম্প।

ভারত মহাসাগরে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট পৃথিবীর সবথেকে বড় সুনামিতে ইন্ডিয়া, শ্রীলংক, ইন্দোনেশিয়াসহ থাইল্যান্ডের অনেকাংশ অতল পানির নিচে তলিয়ে যায়। ওই সুনামিতে আঘাত হানা ঢেউয়ের কম্পন দক্ষিণ আফ্রিকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। উপরের ছবিটি এই ভয়াবহ সুনামির নৃশংসতার সাক্ষী।

৮। নিউ অরলিয়েন্স, হ্যারিকেন ক্যাটরিনা।

আমেরিকার ইতিহাসে ২০০৫ সালের হ্যারিকেন ক্যাটরিনা ছিল সবথেকে ভয়াবহ। এই দুর্যোগের নির্মম ছোবলে নিউ অরলিয়েন্স শহরটি পুরোপুরি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। পুরো শহর বন্যাপ্লাবিত হয়ে অতল জলের নিচে তলিয়ে যায়। দুটো ছবি একই স্থানের যেগুলো এই ভয়াবহ হ্যারিকেনের বিধ্বংসী আঘাতের সাক্ষী।

৯। ব্লাক ফ্রাই ডে, আমেরিকা।

উপরের ছবি দুটো আমেরিকার স্টক এক্সচেঞ্জের এক দিন আগে পিছে তোলা। ১৯২৯ সালে নভেম্বরের চতুর্থ শুক্রবার এই স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যপক পরিমাণে ধস নামে। হাজার হাজার মানুষ এখানে ভিড় জমায়। বিশ্ব অর্থনীতি গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে যায়।

১০। বার্লিন প্রাচীরের বিলুপ্তি।

এই ছবি দুটি একটু ভিন্ন ধরনের। ১৯৮৯ সালে দুই জার্মানির মিলনের ছবি এই দুটি। ২৮ বছর আগে ভিন্ন দুই রাষ্ট্রনীতিতে পৃথক হয়ে যাওয়া পশ্চিম ও পূর্ব জার্মানি তাদের মধ্যকার বার্লিন দেয়াল ভেঙে ফেলে। এক অপূর্ব ঐক্য, শান্তি ও ভালোবাসার সাক্ষী ধরে রেখেছে ছবি দুটি।

আমাদের অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এই ছবিগুলো। ছবিগুলো আমাদের নির্মম নিয়তির প্রমাণ যা যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে। নির্মম নিয়তির বাস্তবতা যা আজ অথবা কাল আমাদের সাথেও ঘটতে পারে, তাই পরিবেশের উপর অত্যাচার এই মুহূর্তে বন্ধ করা দরকার।