লেখা ও ছবি- জিহাদ হাসান কামরুল 

"-ভাই হরিণ তো চিড়িয়াখানাতেই দেখা যায়।

-আরে অতো কষ্ট করারই বা কি দরকার, ডিসকভারি খোলো আর ফ্রিতে দেখো। এতে এন্ট্রি ফি আর গাড়িভাড়াও বেচে গেলো!" 

তবে ম্যানগ্রোভে ঢুকে উপড়ে নিচে ডানে বামে শ্বাসমূলের গুঁতোয় লাল না হলে যারা হরিণ দেখে আরাম পান না, তারা মনপুরায় একটা ঢু মারতে পারেন।

যেভাবে যাবেন-

সদরঘাট থেকে হাতিয়ার লঞ্চে উঠে পড়বেন। ওই লাইনে এক দিনে দুটা লঞ্চ ছাড়ে, এম ভি ফারহান ( ৫-৩০) আর তাসরিফ (৬টা) । বাংলাদেশে কোন কাজ সময়মত না হলেও, এরা একদম পাক্কা সময়ের ব্যাপারে। তাই ভুলেও বিলম্ব করবেন না।  হাতিয়ার লঞ্চে উঠলেও আপনাকে বেশি হাপাতে হবে না, কারন আপনার গন্তব্য মনপুরা। সকাল পাঁচটা নাগাদ পৌঁছে যাবেন কোন যান্ত্রিক গোলযোগ না হলে। লঞ্চ ভাড়া ( ডেক ১৫০ / কেবিন ৮০০-২০০০ কোয়ালিটি ভেদে ) ।

সবুজ মনপুরা সবুজ মনপুরা

ওখানে নেমেই নাস্তা করবেন না, চলে যাবেন হাজীরহাট। তার আগে বাইক বা রিকশা দিন চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে নেবেন, দুটোই হাজার টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন, ওরাই আপনাকে ঘুরিয়ে দেখাবে দর্শনিয় স্থানগুলো।

(বাইক নিজে চালাতে পারলে ওদের সাথে কথা বলে বাইক ভাড়ায় পাবেন। দিনশেষে পালানোর যায়গা না থাকায় এই সুবিধে। বাইকারর্সরা সময় করে আমাকে ধন্যবাদটা দিতে ভুলবেন না।)

আপনি চাইলে আগে হাজীর হাট গিয়ে নাস্তা করে তারপরও বাইক বা রিকসা ভাড়া করতে পারেন, সে আপনার মর্জির ব্যাপার।

ম্যানগ্রোভ বনম্যানগ্রোভ বন

খাবার দাবাড় তেমন আহামরি কিছু নেই, সকালে রুটি-ডাল সাথে মিষ্টি খেতে পারেন ( পিস ১০-২০টাকা )। তবে আমি বলবো লুচিটা খেয়ে দেখতে, তেল বেশি হলেও স্বাদ ভালো। দুপুরে ভাত-মাছ বা মুরগী দিয়ে দুপুরের খাবারটা সেরে ফেলবেন ( মাছ প্রতি পিস - ৪০-৬০ / মুরগীও ৬০ ) । আমি একটা ছোট মাছের চর্চরি খেয়েছিলাম, ব্যাপক স্বাদ। জিজ্ঞেস করবেন ওদের কাছে, থাকলে ওটা খেতে করতে ভুলবেন না।

থাকার জন্য ডাকবাংলো আছে রাত প্রতি ৬০০ করে। বিরাট রুম, এক রুমে ৫-৬জন এটে যেতে পারবেন অনায়াসে। এছাড়া হোটেল ২০০-৪০০র মধ্যে পাওয়া যায় এক রুম।