উত্তরের বনের হিসাব পৃথিবীর আর সব বনের চেয়ে আলাদা, এখানের গাছ- ভুপ্রকৃতি যেমন আলাদা, তেমনই পশু-পাখিও অদ্ভুততর সব নিয়মে মানিয়ে নিয়েছে টিকে থাকার লড়াইয়ে। যে বছর এখানে ভোল (Vole ইঁদুর জাতীয় ক্ষুদে প্রাণী) বাচ্চা বেশি দেয় সেই বছর প্যাঁচারাও বাচ্চা বেশি দেয়, যে বছর খাবার কম মেলায় ভোল বাচ্চা কম দেয় সেই বছর প্যাঁচারাও ডিম কম দেয় ( এই ডিম দেবার সংখ্যা ২ থেকে শুরু করে ৭ পর্যন্ত হতে পারে খাবারের জোগানের উপর নির্ভর করে)। সেখানে একটি ভালো দিনে যেমন প্রচুর শিকার মিলতে পারে, তেমনি খারাপ দিন আসতে পারে সপ্তাহের পর সপ্তাহে যখন শিকারের টিকিটিরও দেখা মেলে না !

আমাদের Boreal Owl ( Tengmalm's Owl ),/ Aegolius funereus নিজের সৌভাগ্যের দিনে ৬-৭টা করেও ভোল শিকার করতে পারে। তারপর সেগুলোকে গাছের খোঁড়ল, এমনকি ডালের ভাঁজেও রেখে দেয়। কনকনে শীতকাল শিকারের জন্য খুবই ভাল কারণ শিকার করা খাবার মাসের পর মাস নষ্ট হয় না চরম ঠাণ্ডায়, কোনমতে শিকার করে লুকিয়ে রাখলেই হয় ! কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্যাঁচারা সাধারণত শিকারের পরপরই উষ্ণ খাবার খায়, ঠাণ্ডা জমাট খাবার তাদের পক্ষে গলাধকরণ এবং হজম করে ফেলা খুবই কষ্টসাধ্য। এই সমস্যা সমাধানে চমৎকার উপায় বাহির করেছে আমাদের ক্ষুদে বোরিয়াল প্যাঁচা।

তার সেই অসাধারণ উপায়টি হচ্ছে, পাখিরা যেমন ডিম উষ্ণ রাখার জন্য ডিমের উপর বসে থাকে, নিজের শরীরের উষ্ণতা দিয়ে ডিমকে গরম রাখে যাকে আমরা বলি তা দেওয়া বা ইনকিউবিশন! আমাদের বোরিয়াল প্যাঁচার যখন খাবার দরকার হয় , তখন আগের শিকার করা জমানো একটি ভোল নিয়ে তার উপর বসে তা দিতে থাকে! যখন ভোলটি তার শরীরের উষ্ণতায় একটি জমাট বাঁধা কঠিন মৃতদেহ থেকে ঈষদুষ্ণ, নরম, সুস্বাদু খাবারে পরিণত হয়, যা সে অতি সহজেই হজম করতে পারে তখনই সে খাবার কাজটি সমাধা করে।

বেঁচে থাকো বোরিয়াল প্যাঁচারা!

(এখন পর্যন্ত ভোলে তা দিতে থাকা বোরিয়াল প্যাঁচার ছবি তুলতে পারি নাই, তবে যেদিন পেয়ে যাব, আবার লিখব তাকে নিয়ে)