শ্রীনগর সরকারি কলেজে প্রায় তিন হাজার পানকৌড়ি পাখি এবং প্রায় পাঁচশত পানকৌড়ির বাসা রয়েছে। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের আড়িয়ল বিল এলাকায় প্রচুর ছোট মাছ থাকায় এই পাখিটি এখানে বিচরণ করে। কলেজের ৭-৮ টি গাছে এসব পাখির বিচরণ। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা, শিশু কিশোরেরা ব্যাপকভাবে পাখি নিধন করতে থাকে। যা দেখে আমি খুব ব্যথিত হই।

পানকৌড়ি পাখিপানকৌড়ি পাখি

আমি শিকারীদের কেন পাখি শিকার করা যাবে না তা বুঝিয়ে বলি। প্রতিদিন ৫-৬ বার করে ১০-২০ জন শিকারীকে ফেরত পাঠাতে হয়। শিকার করতে আসা শিকারীকে ফেরত পাঠানো খুব কঠিন কাজ। এখানে মানুষের একটা আদিমতা জড়িত থাকে। বড় শিকারীদের চেয়ে শিশু শিকারীরা এক্ষেত্রে বেশি ভয়ংকর। তারা কাউন্সিলিং করার সময় খুব মনযোগ দিয়ে কথাগুলো শোনে। তারপর তার যা করার তাই করে। বয়স বিবেচনায় কোন আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া যায় না। তবু আশার কথা এই যে এখন এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা হলেও পাখি রক্ষণাবেক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে।

পাখি শিকারিপাখি শিকারি

বেশ কয়েকজন পেশাদার পাখি শিকারির আনাগোনা দেখে আমি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করি। তাদের কার্যকর ভূমিকা পাখি সংরক্ষণে খুবই ফলপ্রসূ হবে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল বন বিভাগের নির্লিপ্ততা। বন কর্মকর্তাদের কোন মাথাব্যাথা নেই এতে। বরং এলাকাবাসীর মধ্য থেকে কোন একজন বন বিভাগের নামে সচেতনতামূলক ব্যানার টাঙ্গিয়ে রেখেছে। তাঁদের সাথে আমি যোগাযোগ করেছি। বন কর্মকর্তারা আমাকে এই পাবলিক ইনোভেশনোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। ধন্যবাদ জানানোও হয়ত একটা বিশাল ভদ্রতার পরিচয়। সবাই ধন্যবাদ জানাতে পারে না। আপনাদেরকেও প্রগাঢ় ধন্যবাদ।

পাখির লীলাভূমিপাখির লীলাভূমি

যাই হোক, যেভাবেই হোক শ্রীনগর সরকারি কলেজ এখন পাখির লীলাভূমি। সারাদিনই থাকে পাখির আনাগোনা। আর সন্ধ্যার কিছু আগে থেকে আড়িয়ল বিল থেকে নীড়ে ফিরতে থাকে অসংখ্য পাখি। পাখি দেখতে প্রায়ই কোন পথিক থমকে দাঁড়ায় কিছু সময়ের জন্য। বিকাল থেকে হাজার হাজার পাখির কলকালিতে মুখরিত হয়ে উঠে এলাকা।

নিরীহ প্রজাতির পাখিনিরীহ প্রজাতির পাখি

পানকৌড়ি খুবই নিরীহ প্রজাতির পাখি। বিশেষত পাখির ছানাগুলো মানুষের সাহচার্যকে খুব একটা বিপদজনক মনে করে না। এতে তাদের বিপদ বেড়ে যায়। সহজ শিকারে পরিণত হয় তারা। উড়াল না শিখলেও পুকুরে নামে এই পাখির ছানা। তবে সাঁতার কাটতে পারে। কিন্তু পাখির ছানাগুলো শিকারীরা সাঁতার কেটে সহজেই ধরে ফেলে। তাই কলেজের পুকুর থেকে সেগুলোকে ধরে আবার গাছে উঠিয়ে দিতে হয় আমার ছোট একটি এনিমেল রেসকুয়ার দলের মাধ্যমে। 

এনিমেল রেসকুয়ার দলএনিমেল রেসকুয়ার দল

বাংলাদেশ ঋতু বৈচিত্রের দেশ, প্রাণী বৈচিত্রের লীলাভূমি। বাংলাদেশ প্রাকৃতিকভাবে এক বিশাল অপরূপ জলাভূমি। এদেশের সকল মূল বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের ধরে রাখতে হবে। যদি তা না হয় তবে কেমন হবে ঋতু বৈচিত্রহীন-বৃক্ষহীন-জলাহীন অথবা বন্য প্রাণী বা পাখি বিহীন বাংলাদেশ? শিক্ষিত সচেতন মহলের উচিত যার যার অবস্থান থেকে পরিবেশ নিয়ে যতদূর সম্ভব কাজ করার। আমাদের ইচ্ছা শক্তিই পারে দৃশ্যপট পাল্টে দিতে। আমাদের সকলকেই মনে রাখতে হবে যে, ‘মানুষ ছাড়া বন বাঁচে/ বন ছাড়া মানুষ বাঁচে না।’ বনের সব প্রাণসম্পদ আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। এই প্রাণসম্পদ আমাদের প্রয়োজনেই টিকিয়ে রাখতে হবে। টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে আমার আরো কিছু যোদ্ধা প্রয়োজন। আগ্রহী যে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন।

এই প্রাণসম্পদ আমাদের প্রয়োজনেই টিকিয়ে রাখতে হবে। এই প্রাণসম্পদ আমাদের প্রয়োজনেই টিকিয়ে রাখতে হবে।