লিভিং রুট ব্রিজ বা জীবন্ত শেকড় সেতু স্তম্ভিত পৃথিবীর সামনে অনন্ত বিস্ময় নিয়ে আমরা ঘুরে দেখি মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে লিভিং রুট ব্রিজ বা জীবন্ত শেকড় সেতু। যদি আপনি মনে করে নিয়ে থাকেন সেতুকে হতেই হবে ইস্পাত আর ইট পাথরের নির্মাণ, তবে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি আপনাকে চমকে দিতে পারে।

শিলং শহর থেকে মাত্র ৫৬ কিমি দূরে জলপ্রপাত আর বনপাহাড়ের দেশ মেঘালয়। এখানেই প্রকৃতির একেবারে বুকের ভেতর বেঁচে আছে সেখানকার খাসিয়া আর জয়ন্তিয়া জনগোষ্ঠী।

প্রকৃতির এই যাদুময়তার কারিগর মেঘালয়ের মানুষেরা আর তাদের এই স্থাপত্যের অস্ত্র হচ্ছে ফাইকাস ইলাস্টিকা নামের একটি রাবার গাছ। ভ্রমনার্থীরা সড়ক পথে শিলং থেকে সহজেই পৌছে যেতে পারেন চেরাপুঞ্জির তিনরং, মিনতেং বা নংরিয়াত নামের চমৎকার সব গ্রামে যেখানে এই রাবার গাছের কান্ড থেকে প্রাকৃতিকভাবে বেরিয়ে আসে শক্ত আর নির্ভরযোগ্য ঝুড়ি মূল যা দিয়ে এক যুগেরও বেশী সময় আর দীর্ঘ পরিকল্পনায় পরিণত হয় এই জীবন্ত সেতু। পাহাড়ি স্নিগ্ধ জলধারা বা নদীর উপর খাসিয়া-জয়ন্তিয়া আদিবাসীরা তাদের অভিজ্ঞতা আর শিল্পসত্ত্বা মিশিয়ে উদ্ভাবন করে এই শেকড় সেতু। দিন বা মাসের হিসাব কিন্তু এখানে চলবে না, গাছের ঝুড়িমূল থেকে সেতু বানাতে প্রয়োজন হয় এক যুগেরো বেশী সময়। প্রথমে সুপারি গাছের কান্ডকে একেবারে মাঝবরাবর ছিদ্র করে একটি নল বানায় তারা। সেই পথে ঝুড়িমূলকে এগোতে দিলে তা পৌছে যায় অন্য পাড়ের পাথুরে মাটিতে। এরপর ঝুড়িমূল মাটির গভীরে পৌছে গেলে সময়ের সাথে হয় আরো দৃঢ় আর আরো মজবুত। যদিও ঝুড়ি শেকড়ের সেতু, কিন্তু কখনো কখনো তা হয় প্রায় শত ফুট দীর্ঘ আর একসাথে চড়তে পারে প্রায় ৫০ জন মানুষ।

নিজেদের প্রয়োজনেই খাসিয়া জনগোষ্ঠী কখনো একতলা বা কখনো দ্বিতল এই পৃথিবীখ্যাত শেকড়সেতু বানায়, যা টিকে আছে শত শত বছর ধরে। যেন বাকী পৃথিবীর মানুষকে এই বলে দিতে চায়, প্রকৃতিকে কেবল কেটে ছিড়েই সুন্দর তৈরি হয় না, হয় প্রকৃতির সাথে নিবিড় বন্ধুত্বেও।

লিখেছেনঃ গোলাম মোঃ খায়রুজ্জামান

ভিডিওঃ তারেক অণু