বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য খ্যাত আমাদের গ্রহের সর্ববৃহৎ উপাসনালয় কম্বোডিয়ার আংকর ভাটের কথাই বলছি, বিশেষ করে বেয়্যন মন্দিরের ২১৬টি অবলোকিত ঈশ্বরের কথা। চলুন, বিস্ময়বোধে আক্রান্ত হই ক্ষণিকের জন্য বা মুগ্ধতায় ডুবে যাই সারা জীবনের জন্য। চির চেনা এই স্থাপত্য, অসংখ্য বইয়ের মলাটে ছাপা ছবি, কত রহস্য এদের নিয়ে! প্রতি স্তম্ভে চার দিকে চারটি করে একই ধাঁচের সুবিশাল মুখ, প্রায় আটশ বছর ধরে টিকে আছেন তারা অজর, অমর, অক্ষয়, অব্যয় হয়ে। কারা এরা? কেন এভাবেই আছে হাজার বছর ধরে? আংকর ভাট বিশ্বের বৃহত্তম মন্দির, স্বাভাবিক ভাবেই এর আছে অনেক শাখা-প্রশাখা। যে কারণেই এখানে টিকেট বিক্রয় হয় ১ দিন, ৩দিন এবং ৭ দিনের, যদিও ৭ দিন যথেষ্ট নয় আংকর ভাটের সবগুলো মন্দির দেখার জন্য। পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ থাকে মূল মন্দির কমপ্লেক্স, দানবাকৃতির প্রাচীন গাছের মন্দির এবং এই অবলোকিত ঈশ্বরের মেলা, ব্যেয়ন।

১২শ শতাব্দীতে দেবতা বিষ্ণুর এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন খেমার সাম্রাজ্যের রাজা ২য় সূর্যবর্মণ। এটি হিন্দু পুরাণে বর্ণিত দেবতাদের আবাস মেরু পর্বতের আদলে গড়া হয়েছে। তিনি এটিকে তাঁর রাজধানী ও প্রধান উপাসনালয় হিসাবে তৈরি করেন। তখন থেকেই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হিসাবে বিবেচিত। প্রথমদিকে হিন্দু মন্দির হিসাবে ব্যবহৃত হলেও পরে এটি বৌদ্ধ মন্দিরে পরিণত হয়। আংকর ভাটের নির্মাণশৈলী খেমার সাম্রাজ্যের স্থাপত্য শিল্পকলার অণুপম নিদর্শন।

কিংবদন্তি আছে, দেবতা ইন্দ্রের আদেশে মোটে মাত্র এক রাতে এই প্রাসাদোপম মন্দিরটি তৈরী হয়েছিল। আংকর ভাট সলোমনের মন্দিরকেও হার মানায়। মাইকেলেঞ্জেলোর মতোই কোন প্রাচীন শিল্পী এটি নির্মাণ করেছেন। আমাদের সবচেয়ে সুন্দর ভবন সমূহের সাথে এটি সমতূল্য। এটি এমনকী প্রাচীন গ্রিস বা প্রাচীন রোমের স্থাপনা গুলির চাইতেও অনেক বেশি রাজকীয়, সুন্দর। দেশটির প্রধান পর্যটন আকর্ষণ এই মন্দিরটি কম্বোডিয়ার জাতীয় পতাকায় স্থান পেয়েছে।