১৯৭৩ সালে যখন রিচার্ডো বোফিল ধ্বংসপ্রাপ্ত সিমেন্ট কারখানায় হোঁচট খেয়েছিলেন, তখন তিনি তাৎক্ষণিক একটি সম্ভাবনা দেখেছিলেন। প্রায় ৪৫ বছর পর লা ফেব্রিকা আবির্ভুত হয়, এটির কাঠামো সম্পূর্ণরূপে একটি দর্শনীয় এবং অনন্য বাড়িতে রূপান্তরিত করা হয়েছে।    

বার্সেলোনার বাইরে অবস্থিত এই কারখানাটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে দূষিত মেশিন ছিল, যা সম্পূর্ণরুপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। রিকার্ডো বোফিল ও তাঁর দল এটি ক্রয় করে অনেক মেরামতের কাজ শুরু করেন। আংশিক নির্মাণের পর, নির্ধারিত স্থপতি উদ্ভিদ বৈশিষ্ট্যের সাথে বাইরের পরিবেশ এবং ভিতরে একটি আধুনিক জীবনযাত্রা ও কাজের স্থান হিসাবে নকশা করলেন।  

লা ফ্যাব্রিকা বর্তমান দিনেও কাজ করে যাচ্ছেন, যার ফলে বোফিল নিজের জীবনের সাথে সেটি তুলনা করেছেন, আগামী ভবিষ্যতে তাঁর দূরদর্শিতা নকশা পরিবর্তনে অনেক অবদান রাখবে। এই কারখানার চিমনি দিয়ে আগে ধোঁয়া নির্গত হয়ে বায়ুতে মিশে যেতো, এখন এখানে ঘন সবুজ গাছের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। এটি সৃষ্টিশীল চিন্তার সুন্দর পরিবর্তনের একটি চমৎকার উদাহরণ।

১৯৭৩ সালে স্প্যানিশ স্থপতি রিচার্ডো বোফিল বার্সেলোনার কাছে অবস্থিত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সময়ের একটি সিমেন্ট কারখানাটি ক্রয় করেন।

তিনি তাৎক্ষণিক এই ভবনের মধ্যে একটি নতুন সম্ভাবনা লক্ষ্য করেন এবং পুননির্মাণ কাজ শুরু করে তাঁর নিজের বাসস্থানে এটিকে রুপান্তরিত করেন।

আংশিক নির্মাণের পর তাঁর দল বাড়ীর ভিতরে আধুনিক জীবনযাত্রার স্থানের মতো করে সজ্জিত করেন।

বাইরের দিক গাছপালা দিয়ে আচ্ছন্ন করা হয়েছিলো এবং বর্তমানে এটি ঘন সবুজের সাথে প্লাবিত হচ্ছে।

গঠন কাঠামো সম্পূর্ণরূপে একটি দর্শনীয় এবং অনন্য বাড়িতে রূপান্তরিত হয়েছে।

বোফিল তাঁর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লিখেছেন-‘সিমেন্ট ফ্যাক্টরি কাজের সমান শ্রেষ্ঠত্বের একটি স্থান’।

প্রতিটি কক্ষ এটির নিজস্ব বিশেষ উদ্দেশ্যে নকশা করা হয়েছে।

‘একটি পরিবেষ্টিত বিশ্বের মধ্যে আমার জীবনের গভীর অনুভূতি রয়েছে, যা আমাকে বাইরের এবং দৈনন্দিন জীবন থেকে রক্ষা করে’ বোফিল লিখেছেন।

জীবন এখানে ধারাবাহিক পর্যায়ক্রমে অতিবাহিত হয়, কাজ এবং অবসরের মধ্যে খুব সামান্য পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

ভিতরের এবং বাইরের অবসর-বিনোদন স্থানগুলোতে বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়।

কাজ স্থানটিও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, কারণ বোফিলের দল একটি স্টুডিও হিসাবে ঘরের অংশটি ব্যবহার করেন।

বাইরের বেশিরভাগই ঘাস দ্বারা আবৃত, সেইসাথে ইউক্যালিপটাস, পাম এবং জলপাই গাছও রয়েছে।

এটি ভবনটি ‘রোমান্টিক ধ্বংসাবশেষের রহস্যজনক দিক, যা এটি অনন্য এবং পুনরাবৃত্তিযোগ্য করে তুলেছে’।

নিচ তলায় অবস্থিত রান্নাঘর-ডাইনিং রুম হল পরিবারের সাক্ষাতের স্থান।

এটির অবিশ্বাস্য রূপান্তর সত্ত্বেও, কারখানাটিতে এখনও অগ্রগতির কাজ চলছে।  

বোফিল তাঁর নিজস্ব জীবনধারা এবং সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির সাথে প্রকল্পের নিত্য বিবর্তনের তুলনা করেছেন।  

লা ফেব্রিকার আকর্ষণের একটি প্রতীকী অংশ।  

যথেষ্ট সৃষ্টিশীল চিন্তাভাবনার সাথে যেকোনও স্থান নতুন এবং সুন্দর কিছু হতে পারে।

বোরডপান্ডা থেকে অনুদিত।