ফিলিপাইনের পালাওয়ান সৈকত কে বিবেচনা করা হয় পৃথিবীর অন্যতম উপেক্ষিত সৈকতদের একটি হিসেবে। শুধু পালাওয়ান সৈকত ই নয়, ফিলিপাইনে আছে অসাধারণ সব হাইকিং, ট্রেকিং এর ট্রেইল, স্বচ্ছ-সুনীল জলের লেক, ডাইভ দেয়ার মত সমুদ্র, বিস্তীর্ন জঙ্গল- এককথায় পর্যটকের হৃদয় হরণের সব উপকরণই মজুদ আছে এখানে।  

সে তুলনায় ফিলিপাইনের হাইপ বেশ কম, আর এজন্যই হয়ত এর অমূল্য সৌন্দর্য্য রয়ে গেছে এখনো অটুট। অত্যাধিক মানুষের চাপে হারিয়ে ফেলেনি সজীবতা।

ফিলিপাইনের সৈকত গুলো এত বেশি সুন্দর যে সব গুলো সৈকতেই আপনি সময় কাটাতে চাইবেন। কিন্তু যদি আপনার হাতে সময় কম থাকে বেছে নিতে পারেন ফিলিপাইন সৈকতের রাণী কে- ফিলিপাইনের সেরা সৈকত পালাওয়ান বীচ কে।

সম্প্রতি এই সৈকত বিখ্যাত ভ্রমণ বিষয়ক ম্যাগাজিন travel+leisure পত্রিকার র‍্যাংকিং অনুযায়ী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সৈকত হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।

ম্যাগাজিন টি মোটেও অত্যুক্তি করেনি একে পৃথিবীর সুন্দরতম সৈকতের আখ্যা দিয়ে। এখানে গাঢ় নীল জল মিশেছে পান্না সবুজ জলের সাথে, দ্বীপের মত জেগে থাকা সবুজ গাছে ভরা পাহাড় গুলো দেখলে মনে হয় সমুদ্র থেকেই জন্ম হয়েছে তাদের, আর আছে ছোট ছোট জেলেপল্লী। সবমিলিয়ে তৈরি এই পালাওয়ান প্রভিন্স, যাকে স্বর্গ বললেও কম বলা হবে।

পালাওয়ান শুধু সুন্দরই নয়, এর আছে বহু বছরের পুরনো ইতিহাস। ৫০০০০ বছরের পুরনো আর্টিফ্যাক্ট পাওয়া গেছে এখানে। জলপথ বা আকাশপথে আসা সম্ভব এখানে। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে দেড়ঘন্টার বিমানযাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব এখানে। মে থেকে অক্টোবর- এই মাসগুলোই পালাওয়ান ভ্রমণ এর সেরা সময়।

এখানে রয়েছে বেশ কিছু লাক্সারি হোটেল। আইল্যান্ড ও ল্যাগুন হপিং এও যাওয়া যাবে পালাওয়ান থেকে। বিপন্ন ও বিচিত্র কিছু প্রাণীর দেখা পাবেন এই দ্বীপে, যার মধ্যে আছে বেগুনী রঙের কাঁকড়া, প্রজাপতি থেকে শুরু করে ফিলিপাইন মাউস হরিণ বা প্যাঙ্গোলিন পর্যন্ত।

পালাওয়ান যেয়ে ডাইভিং না করে চলে আসা টা অন্যায়। তারপর ও যদি নিতান্তই ভয় পান সমুদ্রতলে ডুব দিতে, যেতে পারেন ইউনেস্কো ঘোষিত পৃথিবীর অন্যতম ইউনিক নদী পালাওয়ানের আন্ডারগ্রাউন্ড নদী ভ্রমণে। অথবা একটা বাংকা নৌকো নিয়ে ভেসে যেতে পারেন দ্বীপ থেকে দ্বীপান্তরে।

পালাওয়ান এতটাই মনোহর, যে আমি নিশ্চিত ওখানে একবার গেলে আপনার আর ফেরত আসতে ইচ্ছে করবে না!

 

( huffingtonpost.com অবলম্বনে লিখিত)