ভিলিহা ভিটকুট, ২৬ বছর বয়সী সুদর্শনা লিথুনিয়ান শিল্পী মূলত একজন বডিপেইন্টার। কিন্তু ভিলিহার কাজের প্রধান উপজীব্য হল প্রকৃতি, আর এটিই তাকে আলাদা করেছে অন্য সবার থেকে।

'প্রকৃতির মধ্যে মিশে যেতে চাই'- আমাদের মধ্যে এমন কেও নেই যার সমুদ্র বা পাহাড়ের কাছে যেয়ে এমনটি মনে হয়নি, আর ভিলিহা আক্ষরিক অর্থে ঠিক এই কাজ টিই করেন- মানুষকে মিশিয়ে দেন প্রকৃতির মাঝে, তার আর্টের প্রকাশভঙ্গিই এটি। প্রকৃতির সাথে মিলিয়ে মানুষের শরীর এ রঙ তুলির আঁচড় এমন ভাবে কাটেন তিনি, তাতে মনে হয় ওখানে কোন মানুষ আর নেই- প্রকৃতির সাথেই মিশে গেছে-বিলীন হয়ে গেছে। 

ছোট বেলায় ভিলিহা প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন, তার বাবা মেয়েকে একটু মানসিক ভাবে সুস্থ করতে নিয়ে যেতেন প্রকৃতির কাছে। তখন থেকে প্রকৃতিই হয়ে ওঠে ভিলিহার সবথেকে আপন। এখন এই ২০১৮ এসেও ভিলিহা বলেন- "আমি প্রকৃতির মাঝেই সবথেকে বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করি। এখানেই আমি নিজেকে খুঁজে পাই, এখানেই আছে সীমাহীন বাধাহীন স্বাধীনতা। আর আমি আমার আর্টের অনুপ্রেরণা খুঁজে পাই পাহাড়, জল আর প্রকৃতির রঙ থেকে।"  (I used to spend most of my time in nature because it is where I find myself free, and it has no borders and no limits. There I take in expressions from mountains, water and colors) 

ভিলিহার হাতে গড়া শৈল্পিক সৌন্দর্য গড়ে তুলে মানুষ এবং প্রকৃতির মধ্যে এক অবাধ সম্পর্ক। পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তিনি তাঁর মডেলদের শরীর রং দিয়ে এঁকে দেন এবং তারপর ছবি তোলেন তাঁর মডেলদের। ছবিগুলো দেখলে মনে হয় যেন তারা হারিয়ে গিয়েছেন প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্যে।

 

চলুন দেখে নেয়া যাক  স্কেন্ডিনেভিয়ায়  ভিলিহার হাতে তোলা এমন কিছু ছবি

 

বৃক্ষের মধ্যে যেন হারিয়ে গেলেন এই মডেল

 

সৌন্দর্য শুধু প্রকৃতির কিংবা মানুষের মধ্যে নয়। উভয়ের মিলনের ফলে সৃস্টি হয় অন্য এক মায়াবী সৌন্দর্যের

 

যেন পাতার মহাসৌরভে আচ্ছাদিত মায়াবিনী এক রমণী

 

মডেলের শরীর এমনভাবে পেইন্ট করা যেন তাঁর শরীরের ভিতর থেকেই দেখা যায় ওপারের দৃশ্য

 

ভিলিহার হাতে রয়েছে এক মায়াভরা জাদু, হয়ত তা আর বুঝার বাকি রাখেনা

 

পাহাড়ের উপর বসে থাকা অদৃশ্য এক নারী। যেন পাহাড়ি সৌন্দর্য ঘিরে রেখেছে তাকে পাহাড়ের সৌন্দর্যে

 

যেন সমুদ্রের সাথে মিশে আছেন এই নারী 

 

তরুন এই শিল্পীর কাজ দেখলেই বোঝা যায়- প্রকৃতির প্রতি রয়েছে তার অসীম ভালোবাসা।