“কায়াবুকি-নো-সাতো’’, বাংলায় ভাবানুবাদ করলে বলা যায় “কুঁড়েঘরের গ্রাম”। জাপান, যেখানে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তায় চলে দৈনন্দিন জীবন, যেখানে বাথরুম থেকে সপিংমল সবখানে অটোমেশন, যেখানে ঘর পরিস্কার এর জন্য রোবোট রাখা হয়, সেই দেশে এখনও দেখা যায় খড় কাঠের বানানো ঘরের গ্রাম। কিয়োতো শহর এর উত্তরপূর্ব দিকে সারি সারি পাহাড়-বন পেরিয়ে ছোট এক শহর নান্তান। আর এই নান্তান শহরের পাহারের কোল ঘেঁসে গরে গরে ওঠা ৫০/৬০ ঘরের ছোট্ট গ্রাম উত্তর মিয়ামা (মিয়ামা-চো-কিতা)। গ্রামের ঠিক পিঠের উপর হাজার ফুট উচ্চতার বিশাল পাহাড়, পাইনের ঘন বন আর সামনে দিয়ে বয়ে চলা  ইউরা নদি (Yura gawa)।তবে গ্রামটার বিশেষত্ব হচ্ছে এখানে এখনও প্রাচীন জাপানের গ্রামীন পরিবেশ ও জীবনযাত্রার দেখা মিলে। ১৯৩০ সালেও কিয়োতো থেকে ৬০ কিমি দূরত্বের এই গ্রামে যাওয়ার একমাত্র পথ ছিলো পাহাড়-বন এর মাঝ দিয়ে ভাল্লুক এর সাথে যুদ্ধ করে পায়ে হাঁটার ট্রেইল। ১৯৯৩ এর দিকে পুরো গ্রাম কে ওরা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। গ্রামবাসীদের সাথে সরকার চুক্তি করে, কেউ তাদের পুরানো জাপানিজ ঘর পরিবর্তন করতে পারবেনা।ঘরের সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ এর প্রয়োজোন হলে নির্দিষ্ট নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে নির্দিষ্ট ডিজাইন মেনে করতে হবে। এর বিনিময়ে সরকার থেকে বিভিন্ন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে তারা। ফলে পুরো গ্রামটাই প্রাচীন জাপানের জীবনযাত্রার এক জীবন্ত জাদুঘর বা নিদর্শন হিসেবে এখনও নিজেদের বিশেষত্ব নিয়ে সগৌরবে টিকে আছে।

পাহাড়ের কোল ঘেঁসে গরে ওঠা কুঁড়েঘরের গ্রামপাহাড়ের কোল ঘেঁসে গরে ওঠা কুঁড়েঘরের গ্রাম

পর্যটকদের জন্য পসরা সাজিয়ে বসা এক গ্রামীণ দোকান।পর্যটকদের জন্য পসরা সাজিয়ে বসা এক গ্রামীণ দোকান।

ঐতিহ্যবাহী কুঁড়েঘর, পিছনে বসন্তের রঙে রঙিন পাহাড়।ঐতিহ্যবাহী কুঁড়েঘর, পিছনে বসন্তের রঙে রঙিন পাহাড়।

কিছু কিছু ঘরে দেখা যায় কাঠের গুঁড়া, ভুসি বা ধানের তুষ, মাটি দিয়ে বানানো দেয়াল।কিছু কিছু ঘরে দেখা যায় কাঠের গুঁড়া, ভুসি বা ধানের তুষ, মাটি দিয়ে বানানো দেয়াল।

(চলবে)