উড়োজাহাজের প্রতি আমার একটা আলাদা আকর্ষণ সবসময়ই ছিলো। উড়ে বেড়ানোর প্রতি একটা ভালোবাসা তো আছেই, তার সাথে খাওয়াদাওয়ার প্রতি ভালোবাসাটাও খুব একটা কম নয়। একটা কথা অনেকের কাছ থেকেই শুনি যে তাদের প্লেনের খাবার তেমন ভালো লাগে না – বিষয়টা স্বাভাবিক কেননা সমুদ্রপৃষ্টের কুড়ি থেকে চল্লিশ হাজার ফিট উপরে চাপ নিয়ন্ত্রিত অপেক্ষাকৃত শুষ্ক বাতাসের একটা ক্যাবিনের মধ্যে আমাদের রিসেপ্টরগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। এজন্য এয়ারলাইনগুলোর খাবার তৈরি এবং সংরক্ষণ ভিন্ন পদ্ধতিতে হয়, এবং যেসব এয়ারলাইনগুলো এই দক্ষতা বেশ ভালোমতো আয়ত্ত করতে পেরেছে, তাদের মধ্যে থাই এয়ারওয়েজ একটি।

ঢাকা-ব্যাংকক-ঢাকা ফ্লাইটে ওয়েলকাম ড্রিঙ্ক হিসেবে শুরুতেই কয়েক ধরণের জ্যুস থাকে। ওদের মেইন কোর্সে মাছ অথবা মাংসজাতীয়, অথবা ভেজিটেরিয়ান মীল (প্রি-সিলেক্টেড) থাকে। খাওয়া শেষে চা-কফি-জ্যুস এবং অ্যালকোহলিক বেভারেজ (মূলত রেড-হোয়াইট ওয়াইন, বিয়ার) থাকে।

ফিশ মীল (১):

সুইট অ্যান্ড সাওয়ার ফিশ, ক্যাংকং, ফ্রাইড রাইস, সাথে কোনো এক ধরণের আচার, একটা ছোট্ট বান আর মার্জারিন। ডেজার্ট হিসেবে ছিলো কেক আর তিন ধরণের ফল (ড্র্যাগনফ্রুট, পেঁপে, আর কোনো এক ধরণের মেলোন)।

1সুইট অ্যান্ড সাওয়ার ফিশ, ক্যাংকং, ফ্রাইড রাইস, কোনো এক ধরণের আচার, একটা ছোট্ট বান আর মার্জারিন, কেক আর তিন ধরণের ফল।1সুইট অ্যান্ড সাওয়ার ফিশ, ক্যাংকং, ফ্রাইড রাইস, কোনো এক ধরণের আচার, একটা ছোট্ট বান আর মার্জারিন, কেক আর তিন ধরণের ফল।

ফিশ মীল (২):

এই মীলে নারকেল দুধ আর কাফির লাইম-এর পাতা দিয়ে রান্না করা টক-মিষ্টি-ঝাল মাছের সাথে ছিলো অ্যারোম্যাটিক রাইস, সটেড ভেজিটেবল, মার্জারিন-বান, র‍্যাডিশ পিকল, তিন ধরণের ফল (এবার ড্র্যাগনফ্রূটের পরিবর্তে আনারস ছিলো), থাই রাইসবেরি চাল আর ক্রিম দিয়ে তৈরি করা ফাজ।

2ফিশ উইথ কোকোনাট মিল্ক অ্যান্ড কাফির লাইম লিভ্‌স্‌, অ্যারোম্যাটিক রাইস, সটেড্‌ ভেজিস্‌, আর ডেজার্ট।2ফিশ উইথ কোকোনাট মিল্ক অ্যান্ড কাফির লাইম লিভ্‌স্‌, অ্যারোম্যাটিক রাইস, সটেড্‌ ভেজিস্‌, আর ডেজার্ট।

চিকেন মীল (১):

এই মীলে ছিলো বাসমতি চালের ভাত, আলুর তরকারি, আর মুরগি (এই ডিশটা কী কী দিয়ে তৈরি ছিলো ঠিক মনে নেই), মূলার আচার, মাখন আর বান, ফল আর কেক।

3ভাত, আলুর তরকারি, মুরগি, মূলার আচার, মাখন আর বান, ফল আর কেক।3ভাত, আলুর তরকারি, মুরগি, মূলার আচার, মাখন আর বান, ফল আর কেক।

চিকেন মীল (২):

এই মীলে রেড চিকেন কারি, চিকপী’র তরকারি আর বাসমতি চালের ভাতের পাশাপাশি ছিলো অর্ধেক পরোটা, আচার, বাটার আর বান, ফ্রুটস্‌, আর চিজকেক বার।   

4রেড চিকেন কারি, চিকপী, রাইস, পরোটা, ডেজার্ট।4রেড চিকেন কারি, চিকপী, রাইস, পরোটা, ডেজার্ট।

ওদের ভেজিটেরিয়ান মীল-এর জন্য টিকেট করার সময়ই ওদের অনলাইন পোর্টালে প্রি-বুক করে রাখা লাগে, এজন্য ঐ মীল টেস্ট করার সুযোগ হয় নি।

ফুকেট থেকে ব্যাংককের মাত্র এক ঘন্টার ফ্লাইটেও ওদের ইকোনমি মীল বেশ মজার। এই মীলে ছিলো চিকেন টেরিয়াকি সস টরটিয়া রোল, ড্রিংক্স, আর চা-কফি।

5চিকেন টেরিয়াকি সস টরটিয়া রোল5চিকেন টেরিয়াকি সস টরটিয়া রোল

যেকোনো এয়ারলাইনে ড্রিঙ্ক নিতে গেলে সবথেকে নিরাপদ চয়েজ অ্যাপেল জ্যুস নেওয়া, থাই-ও এর ব্যতিক্রম নয়। এর বাইরে ওদের সার্ভ করা টমেটো জ্যুসও বেশ মজার। হাই অ্যালটিটিউডে অরেঞ্জ জ্যুসের স্বাদ তেমন পাওয়া যায় না।

6 অ্যাপল জ্যুস6 অ্যাপল জ্যুস

7 টম্যাটো জ্যুস7 টম্যাটো জ্যুস

8অরেঞ্জ জ্যুস8অরেঞ্জ জ্যুস

9 চা9 চা

10 কফি10 কফি

উড়োজাহাজে খাবারের স্বাদ নিয়ে বেশ চমৎকার একটা আর্টিকেল চাইলে পড়তে পারেন এখানে। আর এই লিঙ্কে দেখতে পারেন উড়োজাহাজে খাবারের স্বাদের হেরফেরের ব্যাখ্যার একটা ছোট্ট কিন্তু তথ্যবহুল ভিডিও।