আমার মতে জীবনে একবার হলেও পাঞ্জাব যাওয়া উচিত।পাঞ্জাবের খাবার আর পাঞ্জাবের মানুষের অমায়িক ব্যবহারের জন্য।যারা খেতে ভালোবাসেন তাদের জন্য পাঞ্জাব ভ্রমন অতি আবশ্যক।পাঞ্জাবের লাচ্ছি একবার খেলে আপনার অন্য কোন লাচ্ছি আর ভালো লাগবে না।শুধু পাঞ্জাবের খাবার খাওয়ার জন্য হলেও সবার একবার পাঞ্জাব যাওয়া উচিত।

অমৃতসরে যা যা দেখবেন:-

১) গোল্ডেন টেম্পল।

২) জালিয়ানওয়ালা বাগ।

৩) ওয়াগা বর্ডার।

৪) ইন্ডিয়া গেট/ ওয়ার মেমোরিয়াল।

৫) হাতি গেট।

৬) দুরজিয়ানা টেম্পল।

৭) গোবিন্দগড় ফোর্ট ।

৮) মহারাজা রনজিত সিং প্যানারোমা।

৯) মহারাজা রনজিত সিং মিউজিয়াম।

১০) রামবাগ গার্ডেন।

১১) ভাটিন্ডা ফোর্ট।

 

গোল্ডেন টেম্পলঃ 

bengali.mapsofworld.combengali.mapsofworld.com

অমৃতসরের প্রধান আকর্ষণ এই শিখ স্বর্ণমন্দির। 

ব্রাদারস অমৃতসরী ধাবা নামে একটা রেস্টুরেন্ট আছে গোল্ডেন টেম্পল এর পাশে।খুবই ভালো মানের রেস্টুরেন্ট আর দামও কম। ওখানে খেতে পারেন।সব মজাদার আইটেম পেয়ে যাবেন।

জালিয়ানওয়ালা বাগঃ-

 

১৯১৯ সালে বৈশাখী উৎসবের আগের দিন অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হয়। তারা জানত না যে তখন মার্শাল ল চলছিল। সেখানে ব্রিটিশ সেনারা টানা দশ মিনিট এলোপাথারি গুলিবর্ষন করে। পরে একটা কুয়োর ভিতরে হাজারখানেক লাশ পাওয়া যায়। এরিয়াটা অনেক বড় এবং খুবই সুন্দর করে গুছিয়ে রেখেছে।

লাশগুলো এই কুপের মধ্যে ফেলা হয়েছিললাশগুলো এই কুপের মধ্যে ফেলা হয়েছিল

এর পরে গেলাম লাঞ্চ করতে, খেলাম পাঞ্জাবী আর সাউথ ইন্ডিয়ান থালি। ফেরার পথে কুলফি আর লাচ্ছি খেলাম। কুলফিটা মনে হল পুরাই দুধের ক্ষীর! মাত্র ৩০টাকা দাম। আর লাচ্ছিটা ছিল ২৫টাকা কিন্তু একদম অরিজিনাল টক দই। আমার সুগার থাকা সত্বেও পরপর দুবার খেলাম! এখনো স্বাদ মুখে লেগে আছে।

ওয়াগা বর্ডারঃ

এই রাস্তা দিয়ে ওয়াগা বর্ডার যেতে হয়এই রাস্তা দিয়ে ওয়াগা বর্ডার যেতে হয়

সাড়ে তিনটার মধ্যে ওয়াগা বর্ডারের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে,তা না'হলে ভারতীয় ও পাকিস্তানী সীমান্তপ্রহরীদের যৌথভাবে পতাকা নামানো ও গার্ড বদলের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান মিস হয়ে যাবে।
ওয়াগা বর্ডার থেকে লাহোর মাত্র ২৩ কিমি দূর। আর অমৃতসর শহর থেকে ওয়াগা বর্ডার ২৫ কি.মি.।সেখানে প্রতিদিন বিকেলে ভারতীয় এবং পাকিস্তানি কিছু সেনা মিলে কুচকাওয়াজ করে। এটাকে ওরা ফ্রেন্ডলি এক্টিভিটি বলে। বছরের ৩৬৫ দিনই এটা চলে।

ওয়াগা বর্ডারওয়াগা বর্ডার

এই বর্ডার দিয়েই লাহোর দিল্লী বাস যাতায়াত করে। কুচকাওয়াজ ঠিক ৪.৩০ মিনিটে শুরু হয়।৩০ মিনিট হয়।৫ টায় শেষ হয়।প্রচুর লোকের সমাগম হয়।ইন্ডিয়া এবং পাকিস্তান দুই দেশের লোকের মধ্যেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।দুই দিক থেকেই স্লোগান চলে।

গোবিন্দগড় ফোর্ট :-

গোবিন্দগড় ফোর্টগোবিন্দগড় ফোর্ট

দুরজিয়ানা টেম্পল :-

দুরজিয়ানা টেম্পেল গোবিন্দগড় ফোর্ট থেকে হাটা দূরত্বে অবস্থিত। দুরজিয়ানা টেম্পেল ও গোবিন্দগড় ফোর্ট থেকে হাতি গেট কাছেই। 

দুরজিয়ানা টেম্পলদুরজিয়ানা টেম্পল

অমৃতসরে থাকার জায়গাঃ

গোল্ডেন টেম্পল এর আশেপাশে প্রচুর হোটেল আছে।ভাড়াও খুব কম।৫০০ থেকে ৮০০ রুপির মধ্যে ভালো হোটেল পেয়ে যাবেন।গোল্ডেন টেম্পল থেকে অমৃতসর রেলওয়ে জংশন এর দুরত্ব মাত্র ২০-৩০ মিনিটের (গাড়ীতে)।

অমৃতসরে খাওয়াঃ-

বাহারি ডিম বাহারি ডিম

১) জালিয়ানওয়ালা বাগে কুলফি আর লাচ্ছি। কুলফিটা মনে হবে পুরাই দুধের ক্ষীর।

Empty RucksackEmpty Rucksack

২) অমৃতসরি খুলচা (Amritsari Kulcha)

pinterestpinterest

৩) লাচ্ছি 

 

৪) আলু পরোটা।পান্জাবের আলু পরোটা অসাধারন খেতে।

৫) ফিন্নি।

৬) ভেজিটেবল বিরিয়ানী।অসাধারন খেতে।

৭) চানা মাশালা।

৮) সর্ষে কি শাক।

৯) মাখ্খি দি রুটি।

NDTV FoodNDTV Food

১০) মাশালা ডোসা।

১১) মেথি মালাই পনির।

gharbaithebazar.comgharbaithebazar.com

১২) ডাল মাখানি।

১৩) কাজু কারি।

Sify BawarchiSify Bawarchi

১৪) মালাই কোপ্তা।

yummy delight for uyummy delight for u

১৫) রাজমা।

কিভাবে যাবেনঃ 

অমৃতসর যেতে হলে আপনাকে কলকাতা থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনে দিল্লি যেতে হবে।ভাড়া জনপ্রতি ৩০০০ রুপি এসি থ্রী-টায়ার।কলকাতা থেকে দিল্লি ১৬ ঘন্টায় পৌঁছে যাবেন।দিল্লি থেকে অমৃতসর মেইল ট্রেনে অমৃতসর আসতে হবে।দিল্লি থেকে অমৃতসর পৌঁছাতে সময় লাগবে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা। ভাড়া জনপ্রতি ১৩৫০ রুপি এসি থ্রী-টায়ার।এছাড়াও দিল্লি থেকে ভলভো বাসে অমৃতসর যাওয়া যায়।