নানুর ঘরের দরজা টা হালকা করে ধাক্কা দিলাম। দেখি ভোরের নরম আলোয়, তসবিহ হাতে নানু বিছানায় বসা।আমাকে দেখেই হুরমুর করে উঠে তার পুরান লোহার আলমারি খুলে একটা বাজারের বস্তা বের করে আমার হাতে দিয়ে দিলেন। আমি ভিতরে উকি মেরে দেখি তিন টা মোটা মোটা স্বর্নের বালা, আর এক জোড়া সীতাহার। আমারতো দেখেই মাথা বোঁবোঁ করে ঘুরতে লাগলো... নানু কানে কানে বলল, "এইগুলা আমার সনাতনী গোল্ড..দুইটা এতিম মেয়ের বিয়া দিবো নিয়ত করছি, ভাই তুই এইগুলা কোনো স্বর্ণকার এর কাছে নিয়া বেইচা আমারে টাকা টা দে"!

আমার মাথা ততক্ষনে ক্লিয়ার হয়ে গেছে.. এই গোল্ড নানুরে ফেরত দেয়ার কোন মানেই হয়না। পুরাটাই গাপ করে দিবো এই চিন্তা নিয়ে গয়নার বস্তা টা বুকে চেপে রিকশায় উঠলাম। মাঝে মধ্যে মনে হচ্ছিলো এগুলারও মনে হয় জান আছে, খলবল করছে ব্যাগের ভিতরে।

নবাবীভোজের পরোটা, খাসির কলিজা ভুনা ও ডাল নবাবীভোজের পরোটা, খাসির কলিজা ভুনা ও ডাল

এতো সকালে গোল্ডের দোকান খোলেনা, কিন্তু রেস্টুরেন্ট গুলা ঠিকই খোলা। ঢুকে গেলাম সোজা, অর্ডার করলাম প্রচুর..আজ আমি বড়লোক। এদের পরটার সাইজ গুলা বেশ বড়, ছেড়া পরটা যাকে বলে.. আগের রাতের ময়দার ময়ান করা ছিলো তাই পরটা গুলো মাখনের মতো নরম।।খাসির কলিজা প্রচুর পরিমানে দেয়, হালকা ঘন গ্রেভীতে কুচি কুচি কলিজা। আমি পরটা দিয়া পেচিয়ে একগাদা কলিজা মুখে দিলাম, আহা। লেবুর রস দেওয়াতে স্বাদ খুলেছে, আর মাঝে মাঝেই সবুজ কাঁচামরিচ এ কামড়। বুটের ডাল টাও অমায়িক স্বাদের, ধনেপাতার কুচি ছিটিয়ে দিলাম উপরে, সদ্য তাওয়া থেকে নামানো গরম পরটা চুবিয়ে দিলাম ডালে।আর সবশেষে একটা কোক। 

পরটা ১৫/-
খাসির কলিজা ১০০/-
ডাল ৩০/-
নবাবীভোজ, বেইলি রোড।

অনেক অনেক রাতে, এমনকি যখন নিজেও ঘুমিয়েছে ওই রাত্রী.. আমি শুধু একলা পথের যাত্রী। নানুর দরজায় আবারো টোকা দিলাম..চন্দ্রাহতের মতো সেই বৃদ্ধা ঘুম ভেঙে বলে, ভাই এতো দেরী হলো যে... আমি ব্যাগ টা তার হাতে দিয়ে বললাম,"যতই দেরী হোক আমিতো ফিরে আসবোই...আমাকে বারবার ফিরে আসতেই হবে।"