ঘর পোড়া গরুর মতো এক পেট ক্ষুধা নিয়ে শহীদ মিনারের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম... কাচা বিকালের ভরা রাস্তায় কই থেকে একটা বানর এসে আমার পা চেপে ধরলো, আমি ওমাগো বলে একটা লাফ দিলাম। বানর টা ইয়ো ইয়ো টাইপ একটা ছোট্ট লাল প্যান্ট আর হলুদ টিশার্ট পরে ছিলো। সে দেবদাস স্টাইলে আমার পা টা আকড়ে ধরেই আছে।


বান্দরের মালিক উদাস গলায় বলল, "বাদশাহ মিয়া তো আপনাকে লাভ করে ফেলেছে স্যার"। আমি তো শুনে তব্দা খেয়ে গেলাম, বানরের নামও বাদশাহ! যাইহোক রাস্তার সব মানুষ আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে, এক আপু গাড়ির ভিতর থেকে ভিডিও করছে, আমি ওই অবস্থায় লেংচে লেংচে একটা দোকান থেকে এক কাদি সাগর কলা কিনে বাদশাহ মিয়ার হাতে ধরিয়ে দিলাম। সে খুশিতে একটা ডিগবাজি দিলো, আর আমি কোনোরকমে জায়গাটা থেকে পালাইলাম।

ভর সন্ধ্যায় বানরের হাতে ছিনতাই হয়ে উপস্থিত হইলাম লালবাগের ভুতের বাড়িতে। ঘুটঘুটে অন্ধকার পরিবেশে, আফগানি জালেবি চলছে তুমুল। এদিকে ক্ষুধায় আমার যায় যায় অবস্থা, অর্ডার দিলাম নান আর তান্দুরি চিকেনের প্যাকেজ। নান টা দেখেই মন টা ভালো হয়ে গেলো, তুল তুলে সোনালি টোপা টোপা বাটার নান, উপরে শিল্পির তুলির আচড়ের মতো বাটার অয়েলের স্পর্শ। সফট নান দিয়ে তান্দুরির মাংস টা ছিড়ে নিলাম,একদম রসালো...ছুড়ি দিয়ে কেটে মসলা মেরিনেট করেছে তাই তান্দুরির ভিতরে মসলার প্রবেশ হয়েছে সুন্দর, হালকা স্পাইসি টেস্ট। সাথে টমেটো,শশা,মরিচের একটা মিক্সড সালাদ, নানের সাথে নিয়ে এক গাদা চিকেন সহ মুখে দিলাম, আহা! সবশেষে একটা কোক। 

চিকেন তান্দুরি, বাটার নান প্যাকেজ ১৭৯/-
ভুতের বাড়ি, লালবাগ

কিছু গন্তব্য এই চোখ দেখেনি,তবু চলেছি আমরা চন্দ্রাহতের মতো। চোখের সমুদ্রে ডুবে যাওয়া স্বপ্ন গুলোর মতো, আমাদের দিন গুলি এভাবে কেটে যায়। যেভাবে কেটে গেছে শতবর্ষী এক শহরের কিছু মানুষের যাযাবর দীর্ঘশ্বাস।