রোদঝলমল এক দুপুরে দেখি শিল্পকলা একাডেমীর সামনে একটা পাজেরো গাড়ি দাড়িয়ে আছে। কালো ঝকঝকে, একদম দৈত্যের মত রাজকীয় ভঙ্গীতে... আমি আদেখলা লোকজনের মতো গাড়িটাকে ছুয়ে দিলাম। আহারে কি বডি, প্রাচীন ভারতের এক গল্পে নাকি ছয়জন অন্ধ লোকের কথা বলা হয়েছিলো- এক অন্ধ হাতীর শরীর ছুয়ে বলে, ওরে বাবা হাতি দেখি দেয়ালের মতো। আরেক অন্ধ হাতির দাত ছুয়ে বলে, হাতি দেখতে মনে হয় বল্লমের মতো চোখা, একজন আবার লেজ ধরে বলে, আরে হাতি তো দড়ির মতো। আমার অবস্থাও অমনই, বুঝতে পারছিনা কিছু।

হুট করে গাড়ির ড্রাইভারের গেট খুলে এক ঘাড়ে গর্দানে লোক বের হয়ে এসে ঘাউ ঘাউ করে ঝাড়ি দিয়ে বলল, "ওই মিয়া গাড়ি হাতান কেন?মতলব ডা কি?" আমি বললাম, "ওস্তাদ তাজমহল যেমন একটা আশ্চর্য, তারে ছুতে পারিনাই...কিন্তু এই পাজেরো ছুয়ে সেই ফিলিংস নেওয়ার চেষ্টা করতেছি"।

যাইহোক একটু সামনে আগালেই, ভোজ রেস্টুরেন্ট। ভিতরে প্রচুর লোক সমাগম, একটা স্বাস্থ্যকর ক্ষুধাবর্ধক স্মেল চারিপাশে।অর্ডার দিলাম খিচুড়ি আর টাকি ভর্তার... খিচুড়ি টা সুন্দর একটা বোলের মধ্যে সার্ভ করেছে, তার উপরে শোয়ানো আছে ঝোলে মাখা চিকেন রোস্ট। আমি কথা না বাড়িয়ে ডিম সিদ্ধ আর পুদিনার চাটনি মিক্স করে একটা বড় নলা মুরগীর রোস্টের নরম মাংসের সাথে মিলিয়ে মুখে দিলাম, আহা!

সুবাসিত খিচুড়ি , তার মাঝে জলপাইয়ের আচার মিক্স করে দেওয়া, এইবার টাটকা টাকি মাছের ভর্তা, যেটা খুব ভালোভাবে মিহি করে বাটা আর হালকা সরিষার তেলের গন্ধ... এক গাদা ভর্তা দিয়ে খিচুড়ি আর চিকেন রোস্টের সাথে একবারে মুখে দিলাম।একটা আচারি স্বাদ আর তার সাথে মোলায়েম টাকি ভর্তা আর সবুজ টসটসে কাচা মরিচের একটা ধাক্কা। সবশেষে একটা কোক।

চিকেন খিচুড়ি ২০০/-
টাকি ভর্তা ৫০/-
ভোজ রেস্টুরেন্ট, সেগুনবাগিচা

যদি সব গল্প গুলো সত্য হতো,তবে তোমাদের লাল নীল শহরের পথে পথে নিখোজ হয়ে যাওয়া মানুষ গুলো একদিন কৃষ্ণচুড়া শোভিত পথে ফিরে আসতো ঠিকই।