নগরীর শেষ চাবিটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে গেলো কেউ একজন।ভারী লোহার সেই চাবির উপরে সোনালী কারুকাজ,আমি সেই দিকে তাকিয়ে ছিলাম মুগ্ধ হয়ে।জানি নগরীর প্রবেশপথে আজ কোনো পাহারাদার নেই,শুধু এক বিশাল তালা ঝুলছে দরজাতে আর অসংখ্য অদৃশ্য তালা ঝুলে আছে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।

"মি:বাদশাহ সুলতান..এরপরে আপনার কল"।
তন্দ্রা ছুটে নিজেকে খুজে পাই সারি সারি শান্তির পায়রার মতো সাদাশার্ট পরিহিত চাকুরীপ্রার্থীদের ভীরে... আমি ছাইরঙা শার্ট পরে সবার মাঝে কুৎসিত দলছুট কাক যেন এক।ইন্টার্ভিউ বোর্ডের গৎবাঁধা প্রশ্নের বেড়াজালে আমি কেন যেন খেই হারিয়ে ফেলি।চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠে সেই স্বপ্ন নগরীর সিংহ দুয়ার।
অফিসের পাথুরে দালান থেকে বেড়িয়ে রাস্তা ক্রস করে প্রবেশ করলাম ডাক্কা কুজিনে।

অর্ডার দিলাম নবাবী বিরিয়ানীর.. ওয়েটার অবাক হলো,কারন এটা চারজনের ডিশ।বললাম,"বাকিটা পার্সেল হবে..সেটা পাবে চলতি পথে যার রিজিকে লিখা আছে"।

একটা গোল স্টিলের ডিশের উপর ঘি আর জাফরানের সুগন্ধে ভরপুর নবাবী বিরিয়ানীর রাইস।তার উপরে বিশাল বড় আস্ত লেগ রোস্ট শোয়ানো আছে,উপরে কুচি কুচি পেয়াজ বেরেস্তা বিরিয়ানীর সাথে খাসির মাংস টা ছিঁড়ে নিলাম।যাকে বলে তুলতুলে মাংস,উপরের ঝাল গ্রেভী দিয়ে মাখিয়ে মুখে দিলাম।একটা মসলাদার ঝাল স্বাদে মুখ টা আন্দোলিত হলো। ডিম সিদ্ধর সাথে খাসির ঝোল মিক্স করে ঠাসা মাংসের সাথে খেতে লাগলাম।সবশেষে একটা কোক।

নবাবী বিরিয়ানী-৯৯৯/-
(চারজনের জন্য,একদিন আগে অর্ডার নেয়)
ডাক্কা কুজিন,নয়া পল্টন,আলামিন টাওয়ার।

পথে আবার ফিরে আসা..যেখানে সূর্য এসে মুখ লুকায় লাল ইটের প্রস্তরে।আমার স্বপ্নের যেখানে শেষ,তোমাদের কল্পনার শুরু সেখানে।
চলে যাবার আগে একবার ফিরে তাকাই।অপেক্ষায় নেই কেউ...দৃষ্টি বিভ্রমের আগেই দৃশ্যপট থেকে আমি অদৃশ্য হলাম।