বাংলাদেশ থেকে প্রচুর লোক কাশ্মীর বেড়াতে যান।ঘোরাঘুরির পাশাপাশি কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী ওজওয়ান খেয়ে দেখতে পারেন।অসাধারন খেতে।ওজওয়ান প্লেটারের দাম ৩৬০০ রুপি।এক প্লেটার ওজওয়ান ৭-৮ জন খাওয়া যায়।কাশ্মীরের ওজওয়ান এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ওজওয়ান পাওয়া যায় হোটেল মুঘল দরবারে।শ্রীনগর শহরে দুইটা মুঘল দরবার আছে।

হোটেল মুঘল দরবারহোটেল মুঘল দরবার

একই বিল্ডিং এর নিচ তলায় একটা।আর দুই তলায় একটা।স্হানীয়দের মতে দুই তলার মুঘল দরবার এর ওজওয়ান এখন পুরানো ঐতিহ্যবাহী ওজওয়ান এর মান ধরে রেখেছে।আমাদের ক্যাপ্টন মাশরাফি বিন মুর্তজা কাশ্মীর বেড়াতে গিয়ে মুঘল দরবার এর ওজওয়ান খেয়েছিলেন।হোটেলের স্টাফরা আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি শুনে বলছিলেন।কাশ্মীর সবাই বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে ভীষন ভালোবাসে।

ওজওয়ানওজওয়ান

‘’ওজওয়ান'’ নামটি কাশ্মীর থেকে বেরিয়ে আসা প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে শুনতে পাওয়া যায় কারণ যিনি এই খাবার একবার খান তিনি তার জীবনে কখনো এর কথা ভুলতে পারেন না।ওজওয়ান একটি সংস্কৃত শব্দ যা দুটি শব্দের সমন্বয়ে বিভক্ত, একটি হলো 'ওজ' যার অর্থ কুকিং বা রান্না করা আর একটি হলো 'ওয়ান' যার অর্থ শপ বা দোকান।এই ওজওয়ান কাশ্মীরি সংস্কৃতির একটি অংশ এবং রন্ধন শিল্প যা যুগ যুগ ধরে কাশ্মীরের সিগনেচার ডিশ হিসেবে খ্যাত এবং আন্তর্জাতিক ফুড ফেস্টিভ্যালে এই খাবারটি স্থান পায়।এটাকে অনেকগুলো ডিশের সম্মেলন বা কম্বো বলা যেতে পারে যেখানে খাসি,ভেড়া বা মুরগির মাংসের উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়।’ওজওয়ান' মূলত ২৮টি পদের সমন্বয়,যেখানে ২০-২৫টি পদই থাকে মাংসের নানা প্রিপারেশন।খাবার শুরুর আগে টাশ-টি-নের নামক বড় বেসিনে হাত ধুয়ে নেয়ার রীতি রয়েছে।তাম্রপাত্রে এক থাল পোলাওয়ের উপর দুটি শিক কাবাব, চারপিস মাংসের মেথি কোরমা, দুটি তাবাক মাজ, একটি সফেদ ককুর (চিকেন উইথ হোয়াইট সস), জাফরান ককুর (চিকেন উইথ জাফরান সস) এবং আরো কিছু বিশেষ পদ থাকে।দই এবং চাটনি আলাদা পাত্রে দেয়া থাকে এবং একই সাথে আরো প্রায় ২০ রকমের পদ একের পর এক পরিবেশন করা হয়ে থাকে।সাতটি পদ অবশ্যই থাকতে হবে এই ওজওয়ানে।সেগুলো হলো:- তাবাক মাজ, রিস্তা (মিটবল), রোগান জোস, দানিয়েল কোরমা, আব গোস, মার্চওয়াগান কোরমা এবং গোস্তাবা l গোস্তাবাই সবার শেষে পরিবেশন করা হয়।

গোস্তবাসহ বিভিন্ন আইটেমগোস্তবাসহ বিভিন্ন আইটেম

যোধা-আকবার কক্ষ... স্টাফরা বলছিলেন আমাদের ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজা এই রুমে বসে ওজওয়ান দিয়ে ডিনার করেছিলেন।যোধা-আকবার কক্ষ... স্টাফরা বলছিলেন আমাদের ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজা এই রুমে বসে ওজওয়ান দিয়ে ডিনার করেছিলেন।

কলকাতা থেকে কাশ্মীর কিভাবে যাবেন:-
কলকাতা থেকে সরাসরি জম্মু যাওয়ার দুটি ট্রেন আছে। হিমগিরি ও জম্মু তাওয়াই। হিমগিরি সপ্তাহে ৩ দিন (মঙ্গল, শুক্র ও শনিবার) রাত ১১:৫০ টায় হাওড়া থেকে জম্মুর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সময় লাগে ৩৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। আর জম্মু তাওয়াই প্রতিদিন চললেও সময় একটু বেশি লাগে।ভাড়া পড়বে ১২০০ থেকে ৫০০০ পর্যন্ত স্লিপার,এসি থ্রি/টু টায়ার আর বাথ।জম্মু নেমে শ্রীনগর যেতে হবে বাস বা রিজার্ভ কারে করে। বাসের ভাড়া পড়বে ‪৮০০-১৫০০‬ রুপি।আর গাড়ি ভাড়া পড়বে ৫০০০-৮০০০‬ রুপি পর্যন্ত। গ্রুপের সদস্য সংখ্যার ওপরে নির্ভর করে গাড়ি নেবেন। জম্মু থেকে শ্রীনগর যেতে সময় লাগবে ৮-১০ ঘণ্টা।চাইলে ৫২ কিমি এগিয়ে উদামপুর নাগাদ যাওয়া যায়, তারপর সেখান থেকে ১৫২ কিমি ট্যাক্সিতে প্রায় ৫/৬ ঘন্টায় বানিহিল নাগাদ যেয়ে বাকি অংশ মানে বানিহিল থেকে শ্রীনগর নাগাদ রেলে যাওয়া যায়। এতে সময় ও খরচ দুটোইই বাঁচে। এই পথে পাহাড়ের নীচ দিয়ে প্রায় ১১২৫০ মিটার লম্বা টানেল পার হয়ে যেতে হয়, তাছাড়া উদামপুর ও জম্মুর মধ্যেও অনেকগুলো টানেল রয়েছে।

এছাড়াও আপনি জম্মু নেমে শ্রীনগর না গিয়ে সরাসরি পেহেলগাম যেতে পারেন।সরাসরি পেহেলগাম যেতে হলে আপনাকে জম্মু থেকে গাড়ী ভাড়া করতে হবে।রিজার্ভ করলে ভাড়া পড়বে ৭০০০-৮০০০ রুপি।পেহেলগাম খুবই সুন্দর।মানুষগুলো তারচেয়ে বেশী ভালো।অদ্ভুত ভাল ব্যবহার।পেহেলগাম থেকে চান্দেনওয়ারী যেতে সময় লাগে ৩০ মিনিট।চান্দেনওয়ারী,আরু ভ্যালী আর বেতাব ভ্যালী এই ৩ জায়গা দেখতে গাড়ী ভাড়া ১৬০০ রুপি।

যদি আপনি জম্মু থেকে সরাসরি শ্রীনগর যান তাহলে শ্রীনগর শহর থেকে ৫২ কিমি গুলমার্গ।গাড়ী ভাড়া পড়বে ২০০০ রুপি।

এছাড়াও কলকাতা থেকে দিল্লি যেতে পারেন বেশ আয়েশ করে রাজধানী এক্সপ্রেসে।ভাড়া পড়বে ‪৩০০০-৪০০০‬ টাকা শ্রেণিভেদে। তবে সব খাবার এই টিকেট ভাড়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে। দিল্লিতে সারা দিন ঘুরে রাতের রাজধানী এক্সপ্রেসে যেতে পারেন দিল্লি থেকে জম্মু পর্যন্ত। রাতে ছেড়ে সকালে পৌঁছায়। জম্মু থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত আগের মতো বাস বা গাড়ি রিজার্ভ করে।

এয়ারে কাশ্মীর যেতে হলে ঢাকা থেকে আন্তর্জাতিক বিমানে প্রথম যেতে হবে দিল্লি ইন্ধিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, সেখান থেকে শ্রীনগর। অথবা ঢাকা থেকে কলকাতা যাবেন ট্রেনে বা বাসে পরে সেখান থেকে ডোমেস্টিক বিমানে জম্মু অথবা শ্রীনগর বিমানবন্দরে যাওয়া যাবে। কলকাতা থেকে সরাসরি শ্রীনগরে কোনো ফ্লাইট নেই তাই দিল্লি হয়ে যেতে হয়।

আসুন ভ্রমনে গিয়ে আমরা যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকি।