“কসম খায়া বলেন আপনের পোলার হাইট কত?” -হাতের ছবিটা টেবিলে ছুঁড়ে ফেলে প্রশ্ন করলো ঘটক।
আমার খালু একটু নড়ে চড়ে বসে, খুক খুক করে একটু কেশে বলল- "এক কম পাচ ফুট দুই ইঞ্চি"।

ঘটক পুরা খ্যাক খ্যাক করে উঠলো- "আপনের বামন মার্কা পোলারে বিয়া দিতে চান আমেরিকা ফেরত কন্যার লগে,কেমুন মানুষ আপনে?"
খালু মিন মিন করে বলল, "আমার ছেলে বেটে হলেও খেটে খায়। জব করে ভালো, গায়ের রঙ ফর্সা, আমার সংসারের ভরসা।"

আমি খালুরে নিয়া ঘটকের চেম্বার থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামলাম। দেখি ঝমঝম বৃষ্টি হচ্ছে, হাটু পানিতে রিকশায় চড়ে উপস্থিত হলাম মৌচাক মার্কেটের সামনে। রিকশা থেকে নামতে যেয়ে খালু হুড়মুড় করে পানির উপর পড়ে গেলো, আমি আর রিকশাওয়ালা মিলে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলাম সাদ হোটেলে।

সাদ হোটেলের ভাজি ভর্তা সাদ হোটেলের ভাজি ভর্তা

অর্ডার দিলাম প্রচুর। খালুর এই অপমান ভুলতে অনেক কিছু খেতে হবে আজকে। সাদা ভাতের সাথে নিলাম ঝাল আলু ভর্তা, ডাল চচ্চরি এক গাদা। মুখের রুচি মনে হয় দ্বিগুণ হয়ে গেলো সাথে সাথে। আধা প্লেট ভাত শুধু ভাজিভর্তা দিয়েই উড়ায় দিলাম।
এরপরে নিলাম খাসির ডাল গোস্ত। ঘন মুগের ডালে চুবানো খাসির ঠাসা মাংস টা গরম ভাতের সাথে নিয়া গপাগপ মুখে চালান করে দিলাম। খালু বলল,"এইখানের কালা ভুনা টা নাকি অসাধারণ"?

কালো ভুনাকালো ভুনা

আনতে বললাম দুই বাটি কালা ভুনা। পাচ ছয়টা হাড় ছাড়া গরুর মাংসের পিস মসলাদার স্বাদ যুক্ত। কচি লেবুর রস দিয়ে ভাত, মাংস আর কাঁচামরিচ ডলে নিয়ে উদরপূর্তি করলাম। সবশেষে একটা কোক।

সাদ হোটেল, মালিবাগ
ভাজি ভর্তা -২০/-
খাসি ডাল গোস্ত-১১০/-
কালা ভুনা- ১২০/-

ডাল-গোস্ত ডাল-গোস্ত

আকাশের বৃষ্টি থেমে গেছে ততক্ষনে, খালু নিজ মনে বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন, “অথচ আমিও আমার ছেলের জন্য অনেক মেয়েকে বাতিল করেছি, মেয়ে শ্যামলা বলে”। আমি রাতের আকাশে তাকিয়ে বললাম, “একজন আছেন, যিনি সব কিছুর খবর রাখেন, সবকিছু ফিরিয়ে দেন সময়মত”। স্ট্রিট লাইটের আলোয় দেখি বয়ষ্ক মানুষটির চোখে জল.....