কুয়াশাভেজা সন্ধ্যায় চিঠিটা এসে পরলো আমার হাতে, শীতের গন্ধ লেগে ছিলো তার গায়ে, আর ছিলো শুকনো পাতার পোড়া রঙ, হয়তো আমার মনের ভুল। তবে ভাবছিলাম, আজকাল চিঠি লেখার অবকাশ কারই বা হয়! রুপালী ঝকঝকে কাচি দিয়ে সযতনে হলুদাভ খাম টা কাটলাম। ভেতরে দু লাইনের সম্বোধনহীন চিঠি- "বাপ দাদার ভিটে বাড়ি দেখতে এসেছিলাম,এরই মাঝে তোমার সাথে কি দেখা করা যায়?"
-ইতি "অভি ভাইয়া"

এর এক ঘন্টা পরে আমরা দুজন বেরিয়ে পরলাম ঢাকার রাস্তায়। খিলগাঁও এর কাছাকাছি এসে ঢুকে পরলাম "ডাইনিং লাউঞ্জে"। সবাই ঢাউস আকৃতির পিৎজা, পর্বতপ্রমাণ ফ্রাইড রাইস আর মুরগিভাজার স্বাদে মশগুল। আর আমরা অর্ডার দিলাম ফিউশন ফুড "পিৎজা পাস্তা"। বেশ বড় সাইজের পিৎজার উপরে পাস্তার টপিংস, ভরপুর চিজ এবং চিকেন বিফের প্রাচুর্য। ক্রাস্ট একটু ক্রাঞ্চি তবে উপর টা সম্পুর্ন জুসি, মেল্টেড চিজ আর দরাজ হাতে দেওয়া ফ্রাইড মিট। মুখে দেওয়া মাত্রই পিৎজা এবং পাস্তার দুইটারই স্বাদ অনুভূত হয়,আর পরিমান দু জনের জন্য যথেষ্ট। সবশেষে একটা কোক।

পিৎজা পাস্তা ৫৪৫/-
ডাইনিং লাউঞ্জ, খিলগাও

রিকশা চলছে আমাদের দুজনকে নিয়ে হিম বায়ুকে পাল্লা দিয়ে পাশ কাটিয়ে, এক মৃতপ্রায় অন্ধকার গলির প্রায়অন্ধকার রুগ্ন প্রাচীন বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ভাইয়া কাকে উদ্দেশ্য করে আবৃত্তি করলেন-

"জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি-কুড়ি বছরের পার-
তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার 
সোনালি সোনালি চিল- শিশির শিকার করে নিয়ে গেছে তারে-
কুড়ি বছর পরে সেই কুয়াশায় পাই যদি হঠাৎ তোমারে"

আমরা আবার রিকশায় চড়ে ফিরে চলেছি চেনা পথে, চোখ করে জ্বালাপোড়া, এতো ধুলো এত আঁধার কেন আজ চারিপাশ!