আমি রিকশাতে উঠলেই রিকশাওয়ালারা একেকজন মনে হয় বাহুবলী হয়ে যায়। একেবারে উসাইন বোল্টের মত গতিতে লুঙ্গিকে প্যারাসুটের মতো ফুলিয়ে রিকশা চালাতে শুরু করে... তার মধ্যে ছুটির দিনের সকাল, বেরহম শীতে কাপছি। আচানক সামনে একটা ডিম ওয়ালার ভ্যান এসে পড়ল, আর আমার রিকশা উড়িয়ে দিলো সেই স্বপ্নের দুই হালি ডিম। ব্যাস! ভ্যান বাবু আর রিকশাবাবুর মাঝে হাতাহাতি, মাতামাতি শুরু। ডিমশেপ চেহারার এক ট্রাফিক দৌড়িয়ে এসে পাপীর মত বলে উঠলো- "পোপ আসবে রাস্তা ক্লিয়ার করেন জলদি"।

যাইহোক সেই বিধ্বংসী রিকশা নিয়া পৌছে গেলাম চকবাজারের বিখ্যাত আমানিয়া হোটেলে। অর্ডার দিলাম নেহারী আর তন্দুল।

আমানিয়ার নেহারী ও তন্দুল আমানিয়ার নেহারী ও তন্দুল

আহা! নেহারীটার চেহারা দেখেই শান্তি, ভুলে গেলাম পথের সকল ক্লান্তি! ঘন ঝোল, বড় একটা হাড় তার মাঝে মজ্জা, খেতে ভারী মজা। নেহারীর ঝোল টাই আসল, গরুর মাংসের ছোট ছোট পিস দিয়েছে, আর মগজ দিয়েছে অল্প পরিমানে। অসাধারণ স্বাদ, তন্দুল টাও তুলতুলে, টুপ করে নেহারীর ঝোলে ডুবিয়ে দিলাম। সবুজ ধনেপাতা, টক লেবুর রস আর নেহারী- কম্বিনেশন একেই বলে। হাড় টার আশে পাশের চর্বি মাংস সব একেবারে সফট গুলু গুলু। গরম গরম এবং ধব ধবে সাদা তন্দুল রুটি নেহারীতে চুবিয়ে খেলাম। সবশেষে একটা কোক।

তন্দুল ৬/-

নেহারী ১২০/-

আমানিয়া, চকবাজার শাহী মসজিদ।

নেহারীনেহারী

তারপরে, একবার না বারবার স্বপ্নের এপার ওপার, ভালো লাগা গুলো ভালো নেই। আজকাল নাকি কথাগুলোর মাঝে কোনো কথা নেই, দৃষ্টির মাঝে কোনো আলো নেই, আলোর মাঝে ঔজ্জ্বল্য নেই। তবুও খুজে বেড়াই যারা বাচতে শেখায়, শুধুই ভালোবাসতে শেখায়।।