শেষ বিকালে হুদাই হাটছিলাম বেইলী রোডে সাই সাই করে, পেছন থেকে ধাই ধাই করে একটা মোটা লোক এসে আমার কানে কানে ফিসফিসিয়ে বলল, "এই ভাই এই!! সস্তায় পেট ভরে খেতে চাই, কই খাবো?"

আমি ভালো করে তাকালাম লোকটার দিকে। চেহারার মধ্যেই একটা খাই খাই ভাব, বোঝা যায় ইনি খুব মন দিয়ে বাজার করেন, মুরগির পেটে চিপ দিয়ে মাংস মাপেন, মাছের কানকোর লাল তার প্রিয় রঙ। ইনি নিশ্চিত বিয়ে বাড়িতে জীবনেও দ্বিতীয় ব্যাচে খান নাই, আর রোস্টের ক্ষেত্রে রান আর সীনা নিয়ে নিশ্চই অনেক ক্যাচাল করেন।

ভদ্রলোক তার মোটা ঠোট একটু ভিজিয়ে দিশেহারা হয়ে আবার বলল, "ভাই বলেন না জলদি! বউ আজকে আমার বাজেট ফেল করায় দিছে। ভাবছিলাম শপিং শেষে কাবাব পরটা অথবা তেহারী খাবো। কিন্তু এখনতো মুড়িও জুটবেনা কপালে, রাগ করে বউকে মার্কেটে ফেলে আমি বাইরে এসে পড়ছি"।

আমি এবার তাড়াতাড়ি বললাম "ভাই, সামনেই গ্রাউন্ডস রেস্তোরাঁ। স্বস্তা কিছু আইটেম আছে সেখানে। জলদি খেয়ে নেন, আপনার বউ আসার আগে।"

লোক টা বুভুক্ষুর মত ধুমধাম করে রেস্টুরেন্ট এ ঢুকলো, পিছে পিছে আমিও। শেষ বিকালের আলোতে কিছু অতি উৎসাহী খাদক মনোযোগ দিয়ে খেয়ে যাচ্ছে। ওপেন এয়ার রেস্টুরেন্ট, একটা ছাতার নিচে বসে অর্ডার দিলাম বাটার নান আর তান্দুরি চিকেনের।

দ্যা গ্রাউন্ডস এর তান্দুরি চিকেন ও নানদ্যা গ্রাউন্ডস এর তান্দুরি চিকেন ও নান

সামনে আসা মাত্র নয়ন জুড়িয়ে গেলো আমার। চিকেন টা রেডিশ, উপরে ধনেপাতা দিয়ে গার্নিশ করা। নানরুটি টা সফট আছে, সেটার পিঠে হালকা বাটার ওয়েল ছুইয়ে দেয়া হয়েছে। চিকেনের ভেতর টা জুসি, ঝাল মসলা সুন্দর ভাবে প্রবেশ করেছে। আর ফোলাফোলা গরম নান দিয়ে মাংস ছিড়ে মুখে দিলাম। আহা! এইবার একটু চিকেন দই সালাদের মধ্যে চুবিয়ে নানের সাথে মুখে দিলাম। ঝাল তান্দুর, মাখন নান আর কুচি মরিচ শশার অসাধারন মেলবন্ধন। সবশেষে আয়েশ করে একটা কোক খেলাম।

 

নান ৩০/-

তান্দুরি চিকেন ১২০/-

দি গ্রাউন্ডস, বেইলী রোড।।

 

সন্ধ্যা নামছিলো আকাশ জুড়ে, শহরের কোলাহল যেন আমাদের হৃদস্পন্দন হয়ে ধুক ধুক করে বেজে চলে নিরন্তর। এরই মাঝে কিছু মানুষ স্বপ্ন দেখে বিভোর চোখে। ইট পাথরের এ শহর আজ সব কেড়ে নিয়েছে, শুধু নিতে পারেনি আমাদের স্বপ্ন গুলো। যদিও আজো মানুষ ভালোভাবে ভালোবাসতে শিখেনি।