এক পেট খিদা নিয়া আমি কানা ঘুড়ির মতো ধানমন্ডির অলিতে গলিতে গোত্তা খাইতেসিলাম... আইনস্টাইনের সুত্র অনুযায়ী পকেট খালি থাকলে ক্ষুধা লাগে বেশী, তাই হলুদ হলুদ মানুষগুলার কোনো সুখই আমার সহ্য হইতেছিলোনা।।আমি ট্রাফিকের আইল্যান্ডে দাড়াইয়া পুরা শহররে গালি পারতেছিলাম, সেইটা দেইখা বাচ্চারা আমাকে পাগল ভাইবা তালি মারতেছিলো।

যাইহোক বেংগল বইয়ের সামনে যাইয়া আবিষ্কার করলাম গত সপ্তাহের ইন্টার্ভিউ বোর্ডের ঘাড়তেড়া ম্যাডাম এইখানে ঝোলা কান্ধে এক ছেলের সাথে ঝুলতেঝুলতে ভুতের বাড়ি রেস্টুরেন্টে ঢুকতেছে। রেস্টুরেন্ট এর মেইন গেট টা একটা রাক্ষসের মুখের মতো, আমিও পিছে পিছে রাক্ষসের মুখে পারা দিলাম।

ভূতের বাড়ির ভুনা খিচুড়ি, সাথে গরুর ঝুরা মাংস, ডিমভাজি আর সালাদ ভূতের বাড়ির ভুনা খিচুড়ি, সাথে গরুর ঝুরা মাংস, ডিমভাজি আর সালাদ

পিছন থেকে হালুম কইরা বললাম, “এই ম্যাডাম, আমার বেলা যে যায় সাঝ বেলাতে, তোমার সুরে সুরে সুর মিলাতে...”

পাশের লুতুপুতু লোকটা ম্যাডামের সামনে নিজের হ্যাডাম দেখাইতে চিৎকার দিয়া বলল, "শারমীন! হু ইজ হি?" আমি বললাম, স্যার রাগ করবেন না, ম্যাডামের কারনে আমার চাকরি হয়নাই, তাই বাটে পাইয়া আপনাদের কাছ থেকে আজ খিচুড়ি আদায় করুম।।শারমীন আর লুতু ভাইয়া কেমন জানি ডরাইয়া গেলো, আমি খুব ক্যাজুয়ালি ওয়েটার কে ডাইকা কইলাম, "মামা, খিচুরি আনো একটা"

খিচুড়ি টা ছিলো জুসি, তবে মাখা মাখা না। ভিতরে কুচি কুচি মাংস দিয়ে রান্না করা... সাথে সম্পুর্ন হাড় চর্বি বিহীন ঝুড়া মাংস।। কোরবানি ছাড়া ঝুড়া মাংস পাওয়া অসম্ভব, মাগার এরা করসে।আমি কথা না বাড়াইয়া খিচুড়ির সাথে মাংস মিলাইয়া উপরে লেবুর রস চিপা মুখে দিলাম,আহা। গরুর গোস্তের অসাধারন স্বাদ নিমেষেই মুখকে আন্দোলিত করলো, আর এক পাশে টমেটো, পেয়াজ,  মরিচ কুচি দিয়ে ভাজা ডিমের এক সাইড ছিড়ে খিচুড়িরর সাথে মিক্স করলাম, তার উপরে ঢাইলা দিলাম আলু বোখারার চাটনি। উম, খিচুরির স্পাইসিভাব,  ঝুড়া মাংসের সুস্বাদ আর ভাজা ডিম এবং টক ঝাল চাটনি একসাথে মিলেমিশে আমার মন জুড়িয়ে দিলো।

এর পরে দেখি ফিন্নি! আহা ঘন দুধ কিশমিশ,  পেস্তা কুচি দিয়ে বানানো এই ফিন্নি শুধুমাত্র কন্যাদায়গ্রস্ত মা তার মেয়েজামাই এর জন্যই রাধতে পারে, এই মুহুর্তের ঢাকার বেস্ট ফিন্নি এটা। আর লাস্টে একটা পেপসি,  আলহামদুলিল্লাহ।

ভূতের বাড়ির ফিন্নী ভূতের বাড়ির ফিন্নী

খিচুড়ি, গরুর ঝুড়া মাংস, ডিম ভাজা, ফিন্নি-২২০/-

ভুতের বাড়ি,ধানমন্ডি ২৭..

 

বেরিয়ে যাবার পথে, যুগল আমাকে মায়াভরা কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলো, ওইদিন ওই জব না পাওয়াতে আপনার অনেক কষ্ট হয়েছিলো তাইনা??

আমি আকাশ পানে চেয়ে বললাম,

“তখন সন্ধ্যার পথে দাড়ানো আমি

মুখোমুখি এক পশলা অন্ধকার

পদতলে ছিলো কুয়াশার শীতল মৃতদেহ

কথা গুলো বুকে ছিলো, মুখে নয়

স্বপ্ন গুলো স্বপ্ন ছিলো,  দু চোখে নয়।”