প্রথম পর্বের লিঙ্ক

সময়স্বল্পতার কারণে থাইল্যান্ডে ঘুরে ঘুরে দেখতে গিয়ে ওদের খাবারের স্বাদ তেমনভাবে নেওয়ার সুযোগ হয় নি, তার উপরে যে কোনো খাবারই একজনের জন্য যে পরিমানে দেওয়া হয়, একটা খাবার খাওয়ার পর অন্য কিছু নিতে গেলে তা শেষ করা সম্ভব হয় না বিধায় অতোকিছু খাওয়া হয়ে ওঠে নি।

ব্যাংকক এমন একটা জায়গা, যেটা স্ট্রিটফুডপ্রেমীদের জন্য স্বর্গ বলা যেতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে ফিরতেই ওদের রাস্তাঘাটে নানা রকমের খাবার দেখতে পাওয়া যায়। হরেক রকম মাংসের নানা পদ, চাওমিন অথবা স্টিকি রাইস – এগুলো প্রায় সব জায়গাতেই দেখতে পাওয়া যায়। দামের দিক থেকে রেস্তোরাঁগুলোর থেকে কম হলেও বাংলাদেশী টাকায় চিন্তা করলে অল্প অল্প স্বাদ নিতে গিয়ে বেশ ভালো অংকের টাকা খরচ হয়ে গেছে।

রাস্তায় পাওয়া এসব খাবারগুলো প্রতিটাই গ্রিল অথবা ফ্রাই করে দেওয়া হয়। সবগুলো খেয়ে দেখতে না পারলেও যতগুলো খেয়েছি, প্রতিটাই খুবই সুস্বাদু, এবং সস্তা। একটাই সমস্যা, বেশিরভাগ স্ট্রিটফুড স্টলে খাবারগুলো পরিবেশন করে ছোট ছোট স্বচ্ছ পলিথিনের প্যাকেটে।

স্টিমড ডাক ও ন্যুডলসস্টিমড ডাক ও ন্যুডলস

 

ব্যাংককের চায়নাটাউনে বেড়াতে গিয়ে খাওয়া সবথেকে মজাদার স্ট্রিটফুডের একটা এই স্টিমড ডাক ও ন্যুডলস। আস্ত হাঁস দীর্ঘ সময় ধরে তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে স্টিম করে নরম করে ফেলা হয়, তাও খুব সামান্য লবণ আর মশলা দিয়ে। স্টিমড নরম মাংসের স্বাদ ও ফ্লেভার এক কথায় অতুলনীয়। সাধারণত স্যুপ ন্যুডলস এর সাথে সার্ভ করা হলেও আমি স্যুপ ছাড়াই নিয়েছিলাম। খুব কম দামে পেট ভরে খাওয়ার মতো একটা সুস্বাদু খাবার।

এর পর আসি সিফুড প্রসঙ্গে। ব্যাংককে সিফুড খানিকটা দামি হলেও এখানে বেশ ফ্রেশ সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া যায়। কিনলে আপনার সামনেই আপনি যেমনভাবে চান, সেভাবে রান্না অথবা গ্রিল করে দেওয়া হয়।

ব্যাংককের সিফুড স্টলের একাংশব্যাংককের সিফুড স্টলের একাংশ

 

ব্যাংককের থেকে ফুকেট-এ সিফুড স্টলগুলোর খাবার তুলনামুলক ফ্রেশ। আমি ফুকেট-এর পাতং বিচ-এর পাশেই ছিলাম, ওখানে কয়েক’পা এগুলেই একের পর এক খাবারের দোকান। কিছুটা দামি হলেও খাবারগুলো বেশ মজার।

ফুকেট-এর সিফুড স্টলের একাংশফুকেট-এর সিফুড স্টলের একাংশ

 

চিলি সস দিয়ে চিংড়ি গ্রিলচিলি সস দিয়ে চিংড়ি গ্রিল

পাতং সি বিচের কাছে প্রায় প্রতিটা স্টলেই গ্রিল করা চিংড়ি পাওয়া যায় – যেটার স্বাদ এক কথায় অসাধারণ!

জাম্বো ফ্রাইড চিকেনজাম্বো ফ্রাইড চিকেন

 

ফুকেট-এ ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ চোখ পড়লো একটা স্টলে, একটা মুরগির থাই ও লেগপিস-এর সাইজ দেখে অবাক হতে হয়। এই একটা টুকরার ওজন কতো হবে, জানি না, তবে খেয়ে শেষ করতে গিয়ে টের পেয়েছি যে এর পর অন্য কিছু খাওয়া কতোটা কঠিন হবে।

ব্যানানা রোটিব্যানানা রোটি

 

ফুকেট-এ যেই ব্যানানা রোটি খেলাম, সেটা মূলত প্যানকেক ব্যাটার দিয়ে তৈরি করা (ব্যাংককের ব্যানানা রোটির থেকে অনেক আলাদা), ভিতরে ডিম আর কলা, আর উপরে চকলেট সিরাপ দেওয়া। মিউট্যান্ট মুরগির ঠ্যাং শেষ করার পর ডেজার্ট হিসেবে এটা নিয়েছিলাম, এটা শেষ করতে তখন রীতিমতো কষ্ট হয়েছিলো।

টম ইয়াম গুঙটম ইয়াম গুঙ

 

থাইল্যান্ডে খাওয়া সবথেকে মজাদার খাবারের মধ্যে এই টম ইয়াম গুঙ (Tom Yum Goong) স্যুপ একটা। স্পাইসি টক-ঝাল-মিষ্টি স্যুপের মধ্যে চিংড়ির আধিক্যই বেশি ছিলো, সাথে চিলি, লেমনগ্রাস, লেবু, লেবু পাতা, ফিশ সস ইত্যাদির সংমিশ্রণে বানানো ব্রথটায় যেই অপূর্ব একটা ফ্লেভার ছিলো – তা না খেলে বুঝানো সম্ভব না। 

টম খা গাইটম খা গাই

 

টম খা গাই (Tom Kha Gai) মূলত নারকেল দুধ আর মুরগির সাথে গালাঙ্গাল (থাই আদা) দিয়ে তৈরি করা হয়। এর মধ্যেও লেমনগ্রাস, লেবুপাতা ও ঝাল লঙ্কা দেওয়া হয়। স্বাদের দিক থেকে বেশ মজার।

স্কুইড ফ্রাইড রাইসস্কুইড ফ্রাইড রাইস

 

ব্যাংককের রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ একটা স্টলে স্কুইড দেখে লোভ লেগে যাওয়ায় স্কুইড ফ্রাইড রাইস খেতে বসে পড়ি। এই ফ্রাইড রাইসে ওরা ফিশ সস ব্যবহার করে, যার জন্য স্বাদ খানিকটা আলাদা আর আকর্ষনীয়। সাথে কোনো একটা ড্রিংক নিয়েছিলাম পাশের একটা স্টল থেকে, ভাষাগত ব্যবধান থাকায় বুঝতে পারি নি ড্রিংকটা কীসের ছিলো, তবে একবার স্ট্র দিয়ে টান দিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়বার খেতে ইচ্ছা করে নি।

থাইল্যান্ডে এতো রকমের খাবারের দেখা মেলে যার ৫%ও এক সপ্তাহের ভ্রমণের মধ্যে খাওয়া সম্ভব বলে মনে হয় না। আমার লেখাগুলোতে ওদের ফলের বর্ণনা দেওয়া হয় নি, কিন্তু যা মনে হয়, বিভিন্ন প্রকার ফল খেয়েই কয়েকদিন পার করে দেওয়া সম্ভব।

চ্যাং বিয়ারচ্যাং বিয়ার

 

লেখাটা শেষ করবো থাইল্যান্ডের সবথেকে জনপ্রিয় বিয়ারের বর্ণনা দিয়ে। চ্যাং বিয়ার মনে হয় থাইল্যান্ডের মার্কেটের সবথেকে বড় অংশ দখল করে আছে। দামের দিক থেকে সস্তা এবং সহজলভ্য হওয়ায় ট্যুরিস্টদের কাছে এটা বেশ জনপ্রিয়। আর প্রোডাক্ট কোয়ালিটির দিক থেকেও এটা বেশ ভালো। ফুকেট-এ গিয়ে সমুদ্রভ্রমণে বের হবার পর ওখানে পরিচয় হওয়া এক ব্রিটিশ ট্যুরিস্টের কারণেই এই বিয়ারটা ট্রাই করা হয়েছিলো।