(প্রায়) সর্বভূক হওয়ার সবথেকে বড় সুবিধা হচ্ছে যেকোনো জায়গায় বেড়াতে গেলে সেখানের যেকোনো খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়। নেপালে যে ক’দিন ছিলাম, সে ক’দিনে অবশ্য এমন কোনো খাবারের দেখা পাই নি যেগুলো দেখে আমাদের দেশের মানুষ নাক সিঁটকোয় (ধর্মীয় কারণে নিষিদ্ধ খাবার ব্যতীত)। নেপালে রাস্তায় ও রেস্তোরাঁগুলোতে যা খেলাম, দাম এবং স্বাদ দু’দিক থেকেই বেশ ভালো।

যাই হোক, মূল কথায় আসি। নেপালে অন্যতম সহজলভ্য এবং সুস্বাদু খাবার মোমো; যা আমার নিজেরও খুব পছন্দের। সাতদিনের ট্যুরে শুধু আসার দিন বাদে সব ক’দিনই কোনো না কোনো রকমের মোমো খাওয়া হয়েছে। ভাঁপে করা থেকে শুরু করে ভাজা, ভেজ নন-ভেজ – মোমোর রকমফের এতোই যে সব ধরণের মোমো ট্রাই করার জন্য এক সপ্তাহ যথেষ্ট সময় না। যে কয় রকমের খাওয়ার সুযোগ হয়েছে, তার কিছু ছবিঃ

থামেল মোমো হাট-এর পালক পনির মোমো। নেপালে আমার খাওয়া ভেজ মোমোগুলোর মধ্যে সবথেকে সুস্বাদু ছিলো এটা।থামেল মোমো হাট-এর পালক পনির মোমো। নেপালে আমার খাওয়া ভেজ মোমোগুলোর মধ্যে সবথেকে সুস্বাদু ছিলো এটা।

থামেল মোমো হাট-এর অস্ট্রিচ মোমো। এই প্রথমবার উটপাখির মাংস খাওয়ার অভিজ্ঞতা হলো।থামেল মোমো হাট-এর অস্ট্রিচ মোমো। এই প্রথমবার উটপাখির মাংস খাওয়ার অভিজ্ঞতা হলো।

চিকেন কোথে মোমো; অর্ধেক ভাজা ও অর্ধেক ভাঁপে বানানো।চিকেন কোথে মোমো; অর্ধেক ভাজা ও অর্ধেক ভাঁপে বানানো।

 চিকেন চিলি মোমো। ভাঁপে বানানো মোমোগুলো ঝাল লঙ্কা ও টমেটোর ঝাঁঝালো সসের সাথে পরিবেশন করা। চিকেন চিলি মোমো। ভাঁপে বানানো মোমোগুলো ঝাল লঙ্কা ও টমেটোর ঝাঁঝালো সসের সাথে পরিবেশন করা।

রাস্তায় একটা খাবারের দোকানে খাওয়া ফ্রাইড মোমো।রাস্তায় একটা খাবারের দোকানে খাওয়া ফ্রাইড মোমো।

ভক্তপুরে বেড়াতে গিয়ে খাওয়া মোষের মাংসের ঝোল মোমো, সাথে ব্রহ্মতালু কাঁপানো ঝাল লঙ্কার সস।ভক্তপুরে বেড়াতে গিয়ে খাওয়া মোষের মাংসের ঝোল মোমো, সাথে ব্রহ্মতালু কাঁপানো ঝাল লঙ্কার সস।

বাঁধাকপি, গাজর ও অন্য কিছু তরকারি দিয়ে বানানো ভেজিটেবল মোমো।বাঁধাকপি, গাজর ও অন্য কিছু তরকারি দিয়ে বানানো ভেজিটেবল মোমো।

মোমো নিয়ে অনেক হলো, এবার অন্য কিছু খাবারের কথায় আসি। কাঠমান্ডুতে প্রথম নৈশভোজের জন্য গেলাম আমার হোটেলের ঠিক সামনেই “যাত্রা ক্যাফে অ্যান্ড বার” নামে এক রেস্তোরাঁয়। গার্লিক ব্রেড আর রেড ওয়াইনের সাথে ওদের স্পেশাল “পর্ক সন্ধেকো” (বিভিন্ন মশলার মিশ্রণ) নামের অসাধারণ একটা খাবার চেখে দেখা হলো। (ওদের মেন্যুতে মুরগি এবং মোষের মাংসেরও পাওয়া যায়)।

পর্ক সন্ধেকো, গার্লিক ব্রেড ও রেড ওয়াইনপর্ক সন্ধেকো, গার্লিক ব্রেড ও রেড ওয়াইন

নেপালের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার ওদের “থালি”। ভাতের সাথে পাঁপড় ভাজা, হরেক রকমের ডাল, তরকারি, মাংস ইত্যাদি একটা থালায় পরিবেশন করা হয়। কাঠমান্ডুতে শুধু একবারই থালি খাওয়া হয়েছিলো, কাঠমান্ডু কিচেন নামের এক রেস্তোরাঁয়। পাঁপড়ভাজা, সাদাভাত, দু’ধরণের ডাল (কী কী তা আমার জানা নেই), মুলোশাক, মুরগির মাংস, সালাদ, ঝাল লঙ্কার আচার – সবগুলো শেষ করতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছে। আমাদের রান্না থেকে ওদের রান্না কিছুটা আলাদা হলেও পরিচিত খাবারগুলো নতুন স্বাদে খেতে (মুলাশাক বাদে) বেশ ভালো লেগেছে। সাথে লেমন সোডা ছিলো, যেটা বেশ রিফ্রেশিং।

নেপালি থালি (নন-ভেজ)নেপালি থালি (নন-ভেজ)

নেপালে গেলে আরেকটি জিনিস না ট্রাই করলেই নয়, সেটা হচ্ছে ওদের নানা রকমের চা (দুর্ভাগ্য আমি সেগুলোর তেমন ছবি তুলে রাখি নি)। ওদের একেক জায়গার চা’র স্বাদ ও গন্ধের তারতম্য বেশ ভালোভাবেই অনুভব করা যায়। ওদের চা’এর মধ্যে ইলাম অঞ্চলের চা আমার কাছে সবথেকে ভালো লেগেছিলো।

থামেলের অদূরেই অস্ট্রিয়ান সরকার নিয়ন্ত্রিত “গার্ডেন অফ ড্রিমস” নামে অত্যন্ত সুন্দর একটা স্থান আছে, কাঠমান্ডুর ব্যস্ত অঞ্চলগুলোর থেকে একটু নিরিবিলি এবং এর মূল আকর্ষণ অগণিত কাঠবিড়ালি। ওখানে এক ইউক্রেনিয় পর্যটকের সাথে বন্ধুত্ব হওয়ায় এবং সেখানের কফির সুনাম শুনে দু’জনে দু’ধরণের কফি নিলাম। অস্ট্রিয়ান “মোকা গেশপ্রেটজ্‌” (Mocha Gespritzt) হচ্ছে ব্র্যান্ডিমিশ্রিত মোকা – যেটা বেশ স্ট্রং এবং সুস্বাদু।

মোকা গেশপ্রেটজ্‌ ও চকলেট কোল্ড কফিমোকা গেশপ্রেটজ্‌ ও চকলেট কোল্ড কফি

 নেপালে খাওয়া পছন্দের খাবারগুলোর মধ্যে আরেকটা হচ্ছে ক্কাঁতী (Kwati)। শিমের নয় প্রকার বিচি আর ডাল দিয়ে বানানো খাবারটা অনেকটা চটপটির মতো, এবং বেশ সুস্বাদু। এই খাবারটা মূলত নেপালি চন্দ্রপঞ্জিকার দশম মাস – গুংলা’র গুণ পূণ্যি (পূর্ণিমা) উৎসবে খাওয়া হয়। ললিতপুরের পটন যাদুঘরের ক্যাফেতে এই খাবারটা পেয়েছিলাম।

ক্কাঁতীক্কাঁতী

নেপালের স্ট্রিটফুডের মধ্যে আমাদের মতো ফুচকার চল দেখা যায়। নেপালের দু’জনের সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার ওরা পানিপুরি আর দহি চাট খাওয়ালো, দহি চাটটা আমাদের দই ফুচকার মতো – এবং বেশ মজার।

 পানি পুরি ও দহি চাট পানি পুরি ও দহি চাট

দেশে ফেরত আসার দিন এয়ারক্র্যাফটে সমস্যা থাকায় ফ্লাইট প্রায় ৭ ঘণ্টা ডিলে। রিজেণ্ট এয়ারওয়েজ থেকে যাত্রীদের নৈশভোজের জন্য এয়ারপোর্টের র‍্যাডিসন লাউঞ্জে নেপালি বুফের ব্যবস্থা করেছিলো। নেপাল ছেড়ে আসার আগে শেষবার খাওয়াটাও বেশ ভালোমতোই হয়েছিলো এজন্য।

মিক্সড তরকারি, ডাল, মুরগির মাংস, সালাদ আর আম-লেবুর আচারমিক্সড তরকারি, ডাল, মুরগির মাংস, সালাদ আর আম-লেবুর আচার

নেপালে গিয়ে এক সপ্তাহে অর্ধশতাধিক খাবার ট্রাই করা হয়েছে, যেগুলো নিয়ে আলাদাভাবে লিখতে গেলে শেষ করা কঠিন হয়ে যাবে। পরবর্তী পর্বে পছন্দের অন্য কিছু খাবার তুলে ধরার চেষ্টা করবো। 

(চলবে)