প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পুলিৎজার পুরস্কারের ইতিহাসে নাম  লিখিয়েছেন বাংলাদেশী আলোকচিত্রী মোহাম্মদ পনির হোসেন। 

এবছর সাংবাদিকতায় অস্কার খ্যাত পুরস্কার ‘পুলিৎজার’ পেয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক মোহাম্মদ পনির হোসেন। এ বছর আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও ফটোগ্রাফিতে সংস্থাটি এ পুরস্কার পায়।

ছবির গল্পে পনির হোসাইন বলেন, ‘দিনটি ছিল ১৪ সেপ্টেম্বর। আমি কক্সবাজারের শাহপরির দ্বীপে যাই ছবি তোলার জন্য। নৌকায় করে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের দৃশ্য খুঁজছিলাম। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে কোন নৌকার দেখা পাইনি। হাঁটতে হাঁটতে এক মাইল সামনে এগিয়ে যাই। তখন হঠাৎ এক সিএনজি চালক বললেন, ওইখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি নৌকা ডুবেছে। সেই সিএনজিতে করেই আমরা দ্রুত সেখানে যাই। সেখানে অনেকের স্বজন হারানোতে কান্না করছিল। তখন এই দৃশ্যটি আমার চোখে পড়ে। নৌকাডুবিতে মৃত শিশুকে বুকে নিয়ে মা কান্না করছে আর চুমো খাচ্ছে। হৃদয় বিদারক দৃশ্যটি আমাকেও ব্যথিত কর। কিন্তু পেশাগত কারণে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে দৃশ্যগুলো আমি ক্যামেরায় ধারণ করি। রাতে রুমে ফিরে যখন ছবিগুলো এডিট করছিলাম; তখন আমি চোখের পানি আটকাতে পারিনি।’

ছবিটিতে দেখা গেছে, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর এক রোহিঙ্গা মা তার ৪০ দিনের শিশুর ঠোঁটে চুমু খেয়ে কাঁদছেন। হামিদা নামে ওই নারীর যমজ শিশুর একটি ওই নৌকাডুবিতে মারা গেছে। ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি ছবিটি তোলেন।

দ্বিতীয় ছবিটিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভেলায় করে নাফ নদী পার হতে দেখা যাচ্ছে। তাদের চোখে-মুখে আতঙ্ক ও হতাশা। ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর ছবিটি তোলা।

তার আরেকটি ছবিতে দেখা গেছে, ঝড়ো বৃষ্টির মধ্যে ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়েছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের দায়ে টেকনাফে বোর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা তাদের আটক করেছেন।

আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের মধ্যে শিশু, নারী ও পুরুষ রয়েছেন। একটি ছাতায় তিন-চারজনও আশ্রয় নিয়েছেন। ছবিটি তোলা হয়েছে একই বছরের ৩১ আগস্ট।