সরাসরি ঢাকা থেকে নেপালের কাঠমান্ডুতে বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথমবারের মতো ঢাকা থেকে ‘শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের একটি বাস ছাড়বে নেপালের উদ্দেশে।

 

২৩ এপ্রিল নেপালের উদ্দেশে প্রথম বাস যাত্রার ট্রায়াল রান শুরু হবে। বাসটির প্রথম যাত্রায় অংশ নেবেন বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের প্রতিনিধি দল ও দাতা সংস্থা সদস্যরা। সেখানে  ঢাকা-কাঠমান্ডুর ১১শ’ কিলোমিটার সড়ক পথ পরিদর্শন করবেন তারা। সেইসাথে সড়কে বাস চলাচলের সম্ভাব্যতা যাচাই, ভাড়া নির্ধারণ এবং তিন দেশের মধ্যে বাস চলাচলের বিভিন্ন বিষয় ঠিক করবেন তারা।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২৩ এপ্রিলের পর সরাসরি বাস সার্ভিস চালু হলে তাতে সাধারণ যাত্রীরা খুব সহজেই নেপাল যেতে পারবেন। স্বাভাবিকভাবে ভারতের মাল্টিপল ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা নিয়ে যেতে হবে। তবে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হতে পারে। এক্ষেত্রে শুধু পাসপোর্ট দিয়ে অন-অ্যারাইভাল ভিসার মতো একটি পদ্ধতিতে এ ভ্রমণ হতে পারে।  প্রটোকল স্বাক্ষর এবং তিন দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর যাতায়াত পদ্ধতি সহজ হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

 

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এহসান ই এলাহী সাংবাদিকদের বলেন, বাসের প্রথম যাত্রা হবে ট্রায়াল রান হিসেবে। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের ২০ জনের মতো যৌথ দল যাবে। নেপালে পৌঁছে বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত হবে এবং প্রটোকল স্বাক্ষরের কাজ রয়েছে। তবে নেপালে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর সবার সম্মতি থাকলে ট্রায়াল ভিত্তিতেই ঢাকা-কাঠমান্ডু বাস চলতে থাকবে।

ঢাকা থেকে বাংলাবান্দার দূরত্ব প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। বাংলাবান্ধা থেকে নেপালের কাঁকরভিটা স্থলবন্দরের দূরত্ব মাত্র ৫৪ কিলোমিটার। কাঁকরভিটা থেকে কাঠমান্ডুর দূরত্ব প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২২০ কিলোমিটার পাহাড়ি খাড়া রাস্তা। সবমিলিয়ে ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু ১১শ’ ৪ কিলোমিটার সড়কপথ।

 

বিআরটিসি সূত্র জানায়, ট্রায়াল রানের পরে ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টায় বাস ছাড়বে। এরপর বাংলাবান্দা পৌঁছাবে পরদিন ভোর ৬টায়। কাস্টমস সম্পন্ন করে বর্ডার পার হয়ে কাঁকরভিটা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে ছেড়ে রাত সাড়ে ১১টায় কাঠমান্ডু পৌঁছে যাবে বাস। সব মিলিয়ে ৩০ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে ঢাকা থেকে নেপাল পৌঁছাতে। যাওযা আসা ভাড়া হতে পারে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা।