ট্রলার এসে ভীড়লো লাল কাকড়ার চরে৷ এই কাকফাটা রোদে কি আর দেখা মিলবে লাল কাকড়াদের। গর্তবাসী গর্ত থেকে উকিঝুকি দেবার মাঝে এক চিলতে লাল দেখা যায়৷ সব কাকড়া গেছে বনে৷ আমাদের আশা দুরাশায় পরিণত হল৷ মাইলকে মাইল লাল কাকড়ার বালুভূমি যেন এক বিরান মরুভূমি৷

Ashik SarwarAshik Sarwar

জোয়ারের সময় যাও দু'একটা কাকড়াএ দেখা পাই, পায়ের শব্দে তড়িৎ গতিতে গর্তে লুকিয়ে পড়ে। এই লুকাছুপি খেলার মাঝে উপভোগ করতে লাগলাম বে অফ বেংগলের মায়া ভোলা রুপ। সো সো দক্ষিণা বাতাস বইছে৷ প্রকৃতি যেন খুলে দিয়েছে তার লাজের দুয়ার৷ বন বিভাগের নিরলস পরিশ্রমে গড়ে তোলা সবুজ বৃক্ষরাজির সারির মাঝে বিমোহিত হয়ে দেখছি উম্মত্ত বঙ্গোপসাগর রুপ৷ যেন কোন শিল্পী মনের ক্যানভাসে রাংগিয়ে তুলেছে এই বেলাভূমি৷ বিশ মিনিট প্যাকেজ ডিলে সময় ব্যয় করে এবার ঘরে ফেরার পালা৷

Ashik SarwarAshik Sarwar

যথারীতি ফিরে এলাম আবার ট্রলার ঘাটে৷ এবার প্ল্যান দুপুরের খাবার খেয়ে বিকাল পাচটার মধ্যে বরিশালের বাসে উঠে যাব। যাবার আগে দেখে নেই পুরান জাহাজ, আর কুয়াকাটার নামকরণের সেই নলকুপখানি৷ হাবিজাবি অনেক স্থান জোর করে স্পট বানানোর প্রবনতা থেকে রেহাই পাই নেই সাগরকন্যা৷ মটর সাইকেল গাইডদের বাহারি প্যাকেজ মুগ্ধিত হয়ে গেলাম। মার্কেটিং শিখতে হবে এদের কাছ থেকে৷ এক প্যাকেজ ডিলে ১০-১২টা স্পট৷ এত ডেস্টিনেশন হ্যান্টিং এর কবলে পড়ে সবাই উপভোগ করতে ভুলে যায় সাগরের আসল মাধুর্য৷ আবার হয়তো ফিরে আসবো এই সমুদ্রতটে বাংলাপিডিয়ার ছোট একটা ইতিহাসের অংশ দিয়ে শেষ করছি আমাদের কুয়াকাটা ভ্রমণ রোজননামা।

Ashik SarwarAshik Sarwar

"কুয়াকাটার নামকরণ সম্পর্কে জানা যায় যে, ১৭৮৪ সালে বর্মিরাজা রাখাইনদের মাতৃভূমি আরাকান দখল করলে হাজার হাজার রাখাইন তাদের মাতৃভূমি আরাকান ত্যাগ করে। তারা বড় বড় নৌকায় অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। বঙ্গোপসাগরের তীরের রাঙাবালি দ্বীপে এসে তারা অবতরণ করে। গড়ে তোলে বসতি। সাগরের লোনা পানি ব্যবহার এবং খাওয়ার অনুপযোগী বলে বালুর মধ্যে তারা কূপ বা কুয়া খনন করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করত। কুয়া খনন করে এখানে সুপেয় পানি পাওয়ায় তারা এর নাম দিয়েছিল কুয়াকাটা।"