পাইয়েখালি আমার জানা প্রথম রুশ শব্দ যার অর্থ চলো যাই! মহাশূন্যে প্রথম গমনকারী মানুষ রুশ দেশের মানুষ ইউরি গাগারিন রকেটে চেপে এই শব্দটি চিৎকার করে বলেছিলেন। ইউরি গাগারিন একজন মহানায়ক, ইতিহাসের এক অনন্য মুহূর্তের একমাত্র সাক্ষী। আজ পর্যন্ত পৃথিবী নামের নীল গ্রহে কয়েকশ কোটি মানুষ বাস করেছে, তাদের মধ্যে গাগারিনই প্রথম দেখেছিলেন শূন্য থেকে পৃথিবীকে দেখতে কেমন লাগে, কতটা ভয়াল সুন্দর শূন্যে ভাসমান আমাদের নীল বাড়ী। এই মানুষটিকে নিয়ে ব্যপক আগ্রহ সবার সারা বিশ্ব জুড়েই, নিঃসন্দেহে তার এই অর্জনের পিছনে হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ এবং কোটি মানুষের পরোক্ষ অবদান ছিল তারপরও ইতিহাসের বিশেষ মুহূর্তে অবস্থানের কারণে গাগারিন হয়ে উঠেছেন অমর একজন মানুষ। তাকে নিয়ে তথ্যচিত্র পরিচালক জেমি ডোরান এবং লেখক পিয়ার্স বিজোনী’র STARMAN- The Truth behind the Legend of Yuri Gagarin বইটা ব্যপক আগ্রহ নিয়ে পড়লাম গত ২ দিন ধরে, সেটারই একটা আলোচনা লিখেও ফেললাম ঝটপট।

 

yuri-gagarintimecoveryuri-gagarintimecover

 

১৯৩৪’র ৯ মার্চ মস্কো থেকে ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমের এক ছোট গ্রাম ক্লুসিনো ( Klushino) তে ইউরির জন্ম, বাবা অ্যালেক্সি পেশাগত ভাবে ছিলেন যৌথখামারের একজন কাঠমিস্ত্রী এবং মা আন্না দুগ্ধখামারে কাজ করতেন। সাধারণ সেই কৃষক পরিবারের জীবন আরও কোটি কোটি রাশানের জীবনের মতই চিরতরে পরিবর্তিত হয়ে যায় ১৯৪১ সালে যখন ৩০০০ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর কামানের গর্জনে। ছোট্ট ইউরি যুদ্ধের মাঝে বেড়ে উঠতে থাকেন উৎকণ্ঠা এবং জীবনের কালো দিককে সাথী করে।

এর মাঝে রাস্তায় বোতল ভেঙ্গে কাঁচের টুকরো ফেলে জার্মান হানাদার বাহিনীর গাড়ীর চাকা ফুটো করার বানোয়াট অভিযোগে বিকৃতরুচির অধিকারী আলবার্ট নামের এক সৈন্য (যাকে গ্রামের বাচ্চার শয়তান বলে ডাকত) ইউরির পিঠাপিঠি ছোট ভাই বরিসকে চকলেট দেবার ছলে মাটিতে চকলেট ফেলে দেয়, বরিস চকলেট নেবার চেষ্টা করলে বুট দিয়ে তার নিস্পাপ ক্ষুদে আঙ্গুলগুলো থেঁতলে দিয়ে সেই শয়তান তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেয়ে এক আপেল গাছের ডালে নিজের স্কার্ফ দিয়ে ফাঁসি দেবার জন্য ঝুলিয়ে রেখে চলে যায় শিশুটিকে মৃত্যুর মুখে ফেলে। তার আগে সে ঝুলন্ত বরিসের কিছু ছবিও তোলে ক্যামেরা দিয়ে, এরপর গুলী করার জন্য পিস্তল হাতে নিলেও তার দলনেতার আদেশে ফিরে যায় গুলী না করেই। তৎক্ষণাৎ ইউরির বাবা-মা যেয়ে সেই ফাঁস থেকে বরিসকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনা এক অমোচনীয় কালো দাগ ফেলে ইউরির মনে।

 

স্কুলছাত্র ইউরি গ্যাগারিন স্কুলছাত্র ইউরি গ্যাগারিন

 

যুদ্ধের মাঝে গাগারিন পরিবার তাদের চার সন্তানের মাঝে ( ভ্যালেন্তিন, জয়া, ইউরি, বরিস ) বড় দুইজনকে চিরতরে হারিয়েই ছিলেন বলে ভেবেছিলেন শেষের একবছর। অবশেষে ১৯৪৫’র শেষের দিকে ভ্যালেন্তিন এবং জয়া ফিরে আসে পরিবারের কাছে জীবন্ত অবস্থায়। জীবন এগিয়ে চলে আপান গতিতে, ইউরি এবং বরিস জীবনের প্রথম পড়া শুরু করে রাশান সৈন্যদের ফেলে যাওয়া সামরিক ম্যানুয়াল থেকে।

ইউরির স্কুলজীবন নিয়ে তার শিক্ষিকা ইয়েলেনা স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন ইউরি মাঝে সততা ছিল খুব বেশী পরিমাণে, যে কোন দুষ্টুমি করার পরে স্বীকার করে বলতেন- এটা আমি করেছি, আর করব না!

পরিবারের প্রথম সন্তান ভ্যালেন্তিনের মনে পড়ে ৬ বছর বয়স্ক ইউরি যখন তাকে বা বাবাকে কাঠের ছোট মডেল বিমান বানিয়ে দিতে বলত, আর বলত- আমি বিমান চালক হব, দেশের একজন নায়কে পরিণত হব। সেই ক্ষুদে গ্রামের উপর দিয়ে বিমান উড়ত খুবই কম, হয়ত সেই বিরল ঘটনা থেকেই ইউরির মনে আকাশে ওড়ার বাসনা ঠাই নিয়েছিল প্রবল ভাবে।

১৬ বছর বয়সে ইউরি নিজের উপার্জন শুরু করার জন্য লেনিনগ্রাদে ( বর্তমানে সেইন্ট পিটার্সবার্গ ), সেখানের খুব সুবিধের করতে না পেরে ১৯৫০ সালে মস্কো চলে যান একটা মেটাল কোম্পানির চাকরি পেয়ে। সেখানেই জীবনের প্রথম ইউনিফর্মের গর্বিত মালিক হয়ে পকেটের শেষ রুবলগুলো খরচ করে ইউনিফর্ম সমেত একটি ছবি তুলে পাঠান বাড়ীতে।

 

তার ছাত্র জীবন পুনরায় শুরু হয় স্যারাটোভ টেকনিক্যাল স্কুলে,  যেখান থেকে ১৯৫৫ সালে ২১ বছরের ইউরি গ্রাজুয়েশন পূর্ণ করেন। এর আগে ১৯৫১ বসন্তে স্থানীয় ফ্লাইং ক্লাবের দর্শন পেয়ে সেখান বিমান চালনা শেখা শুরু করেন, ট্রেনিং-এ ব্যবহার করা হয়েছিল YAK-18 ধরনের বিমান,  প্রথমবারের সংক্ষিপ্ত উড্ডয়নে তারা ১৫০০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছেছিল,  ইউরির সহজাত দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে প্রশিক্ষক দিমিত্রি মার্টিনভ বলেছিলেন- চমৎকার চালাচ্ছ হে, এইবারই যে প্রথমবার বিমানে উড়ছ মনেই হচ্ছে না! উত্তরে সদা কৌতুকরত ইউরি বলেছিল- আহ, আমি সারাজীবনই বিমান চালাচ্ছি!

STARMAN- The Truth behind the Legend of Yuri GagarinSTARMAN- The Truth behind the Legend of Yuri Gagarin

পরবর্তীতে উরাল নদীর তীরবর্তী ওরেনবুর্গ বিমান চালনা একাডেমীতে ভর্তি হন ইউরি , অন্য অনেক ব্যাপারে সাবলীলতা দেখালেও তার অবতরণ বা ল্যান্ডিং নিখুঁত হচ্ছিল না কখনোই। অবশেষে ইউরি নিজে নিজেই তার সমস্যা বাহির করে সেটার সমাধান করেন, আর কিছুই না, বিমানের সিটের উপরে একটা বালিশ দিয়ে তার উপরে বসতেন সবসময় যাতে দেখতে কোন সমস্যা না হয় ! তারপর থেকে পুচ্ছদেশের নিচে বালিস ছাড়া ইউরি কোন বিমান চালান নি! তার সম্পর্কে প্রশিক্ষকদের মন্তব্য ছিল- ইউরি হয়ত জিনিয়াস না কিন্তু জয়ী হবার মানসিক তাগিদ ছিল ভিতরে সবসময়ই, যুদ্ধবিমান চালানোর জন্য রোমাঞ্চপ্রিয় মন আর ঝুঁকি নেবার তাগিদ ছিল।

ওরেনবুর্গেই দেখা হয় তার ভ্যালেন্তিনা গরিয়াচেভার সাথে, পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। ১৯৫৬ ফেব্রুয়ারিতে ইউরি সার্জেন্টের র‍্যাংক পান এবং ১৯৫৭’র ২৬ মার্চ প্রথমবারের মত মিগ-১৫ বিমান একাকী চালান। সেই বছরের ৪ অক্টোবর ঘটে যায় ইতিহাস, মহাকাশে প্রবেশ করে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক! ইউরি তখন ব্যস্ত তার পরীক্ষা নিয়ে, যার পরপরই চাকরির সুবাদে বদলি ঘটে সুমেরু বৃত্তের কাছে মারমানস্ক অঞ্চলে। এখানেই ১৯৫৯’র ১০ এপ্রিল লেনা নামের এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের বাবা হন তিনি।

১৯৫৯’র অক্টোবরের সারা সোভিয়েত ইউনিয়নের সমস্ত বিমান ঘাটি জুড়ে শুরু হয় এক রহস্যময় দলের আগমন। তারা বিশেষ অজানা কাজের জন্য কিছু পাইলটকে বাছাই করছিল। গাগারিন সেই সময়ের কিছু বাছাইকর্মের কথা বলেছিলেন পরে, শুধু চোখের জন্য সাত সাতটা পরীক্ষা পাশ করতে হয়েছিল তাকে, আর বিশেষ ধরনের মানসিক এবং অঙ্ক পরীক্ষায় সবসময় এক কণ্ঠ থাকে ভুল উত্তর দিয়ে যেত, যাকে উপেক্ষা করে মানসিক দৃঢ়তা ও একাগ্রতা দিয়ে তাকে পেতে হত সঠিক উত্তর। নানা প্রশিক্ষণে উৎরে গাগারিন পান নতুন চাকরি, তাকে শুধু বলা হয় অনেক উঁচুতে ওড়ার জন্য কিছু মানুষ বাছাই করা হচ্ছে। যতটা না নতুন চাকরির জন্য, তার চেয়েও বেশী সুমেরু বৃত্তর সেই বিমর্ষ পরিবেশ থেকে সপরিবারে রেহায় পাবার জন্য মহানন্দে গমন করেন নতুন গন্তব্যে।

 

সেখানে সারা সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্ভাব্য ২২০০ প্রার্থীর মধ্য থেকে তন্ন তন্ন করে বাছাই করে নেওয়া ২০ জন কসমোনাটের একজন হিসেবে নিজেকে আবিষ্কার করেন ২৬ বছর বয়স্ক ইউরি যেখানে তার সাথে পরিচয় হয় বাকীদের, যার মাঝে পরবর্তীতে মহাকাশযাত্রা করে বিশ্বখ্যাত জন গেরম্যান তিতভ এবং অ্যালেক্সেই লিওনভ।

 

ট্রেনিংএর অন্যতম কঠিন বিষয় ছিল আবদ্ধ কক্ষে একা থাকা, যাকে বলে আইসোলেসন ট্রেনিং, অনেক সময় দশ দিনের জন্যও। জানা যায় ইউরি তার চেম্বারের সবচেয়ে ক্ষুদে জিনিসটি নিয়েও গান গেতেন, পাওয়ার চেষ্টা করতেন নতুন নতুন অনুপ্রেরণা, অনেকটা মরুভূমির যাযাবরের মত, যে চারপাশে যা থাকে সেটা নিয়েই গান বানায়!

 

তিতভ ( পরবর্তীতে ইতিহাসের কনিষ্ঠতম নভোচারী, মাত্র ২৫ বছর বয়সে মহাশূন্যে গমন করা সোভিয়েত কসমোনাট Gherman Stepanovich Titov, যিনি কিনা প্রথম মানুষ হিসেবে মহাশূন্যে ২৪ ঘণ্টার বেশী থেকে ১৭ বার পৃথিবীকে প্রদিক্ষণ করেছিলেন, ঘুমিয়েছিলেন, স্পেস সিকনেসে আক্রান্তও হয়েছিলেন এবং প্রথমবারের মত মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর ছবি তুলেছিলেন ) সম্পর্কে মজার তথ্য ছিল, তার শিক্ষক সাহিত্যপ্রেমী বাবা তিতভের ফার্স্ট নাম নিয়েছিলেন পুশকিনের বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম ইশকাপনের বিবি থেকে। আর তিতভকে তার ট্রেনিংমেটরা খুব অদ্ভুত মনে করত কারণ সুযোগ পেলেই উনি জোরে জোরে বা আনমনে নানা কবিতা বা সাহিত্যের উক্তি আওড়াতেন, শুধু সমসাময়িক সাহিত্য নয়, ক্ল্যাসিকাল বইগুলো থেকেও ! আবদ্ধ কক্ষের ট্রেনিঙে তিতভ শুধু পুশকিন আবৃত্তি করতেন। আর একবার সাথে মিথ্যা বলে একটা বই নিয়ে গিয়েছিলেন, যদিও নিয়মে আছে যে বই নেওয়া যাবে না, কিন্তু তিতভ বলেছিলেন এই বই আমার মুখস্থ, সাথে থাকুক বা না থাকুক, আমি কিন্তু বিড়বিড় করবই প্রতিটি লাইন, তার চেয়ে সাথেই থাক! কিন্তু ডাহা মিথ্যা কথা ছিল সেটি, ফাঁকে সেই সময়ে মজাসে একটি নতুন বই পড়া হয়ে গেছিল !

 

 

এরপরে কয়েক অধ্যায় জুড়ে সেই ট্রেনিংএর বর্ণনা এবং সোভিয়েত মহাকাশ অভিযানের পিছনের কিছু কালো অধ্যায় তুলে আনা হয়েছে, বিশেষ করে হিউম্যান গিনিপিগ হিসেবে ১২০০ স্বেচ্ছা সেবকের করুণ কাহিনী, যাদের উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল নানা পরীক্ষায়, সবচেয়ে বেশী চাপে, তাপে, ঘূর্ণনে মানবদেহের উপরে কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তবে একটা কথা পরিষ্কার থাকা দরকার এই বইটিতে রাশিয়ার সাথে পশ্চিমের দেশগুলোর যে রাজনৈতিক আদর্শগত দন্ধ ছিল তা সুযোগ পেলেই বরাবরের মত ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এবং লেখকদ্বয় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে পারেন নি, বরং সুযোগ পেলেই সোভিয়েত অর্জনের চেয়ে সেই অর্জনের ফাঁকফোঁকর গুলো খুঁজে দেখাতে সচেষ্ট ছিলেন, বিশেষত বারবার বলার চেষ্টা করেছেন গ্যাগ্যারিনের উড্ডয়ন ছিল ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তা ছিল না বললেই চলে।

আবার বইটির বিস্তর পাতা গেছে ইউরি এবং তিতভের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে, সেটা নিয়ে একটা তথ্যচিত্রও বানানো হয়েছে। এইটা বুঝতে হবে যে বিশাল সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে মাত্র ২ জন সেরা পাইলট কে বেছে নেওয়া হয়েছিলে প্রথম মানুষ হিসেবে মহাশূন্যে যাবার জন্য, এবং সেই সুযোগ নিতে মুখিয়ে থাকবে সবাই-ই। আর বইটির প্রথম সংস্করণে যা তথ্য ছিল তার প্রায় সবই গ্রহণযোগ্য বলে রায় দেয়া হলেও পরের সংখ্যার সবকিছুই প্রমাণিত সত্য নয়, বরং কিছুটা মনগড়া ঘটনারও মিশেল দেওয়া হয়েছে, সম্ভবত বইয়ের বিক্রি বাড়াতে, এবং সোভিয়েত আমলকে ব্যপক গালমন্দ করলে হয়ত তা বাজারজাতের জন্য বেশী ভাল এই দৃষ্টিকোণও কাজ করতে পারে।

 

স্পুটনিকের পর মহাকাশের প্রথম জীব হিসেবে লাইকা নামের কুকুরটা ইতিহাসের বিখ্যাততম সারমেয় হয়ে গেল। তার পরপরই ৩৫০০ চিঠি এসেছিল সোভিয়েত একাডেমী অফ সায়েন্সের কাছে স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে থেকে, সবাইই মহাকাশে যেতে ইচ্ছুক, কেউই জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবিত ছিল না, সবাই চেয়েছিল নীল গ্রহটাকে আসল রূপে একপলক দেখতে, ইতিহাসে অমরত্ব নিশ্চিত করতে।

 

এরপরে আসে সেই অসাধারণ বিজ্ঞানীটির কথা, সোভিয়েত তথা মানুষের মহাকাশযুগের পুরোধা অথচ রহস্যে মোড়া ব্যক্তিত্বের কথা যার নাম জনসমক্ষে নেওয়া নিষিদ্ধই ছিল, কোন খবরে তার উপস্থিতি ছিল না, অথচ তিনিই ছিলেন এই বিশাল কর্মকাণ্ডের সর্বেসর্বা। তাকে আড়ালে বলা হত দ্য কিং, বস অফ দ্য বসেস, চীফ ডিজাইনার অথবা তার নামের আদ্যাক্ষর এস পি নামে। সের্গেই পাবলোভিচ করোলভ, দ্য ট্রু ম্যান বিহাইন্ড দ্য স্টোরি।

 

Yuri GagarinYuri Gagarin

 

এরপর সংক্ষেপে বলা হয়েছে স্ট্যালিনের সময়ে কোন রকম প্রমাণ ছাড়া খামোখা অভিযোগে করোলভের ১০ বছরের নির্বাসন দেওয়া হয় (স্ট্যালিন বুদ্ধিমান সৈন্যদের পছন্দ করতেন না বিদ্রোহের ভয় সহ নানা কারণে, করোলেভের উপরওয়ালা মার্শাল তুকাচেভস্কি কে এমন সন্দেহের বসে হত্যা করা হয় এবং তাদের অধীনে কর্মরত সবারই শাস্তি হয়) সাইবেরিয়াতে যার মানে নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু নাৎসিদের আক্রমণের পরে কিছু লোকের কলকাঠি নাড়ার ফলে করোলভসহ অনেক নামী বিজ্ঞানী মুক্তি পান যুদ্ধে যোগদানের জন্য। যদিও মহাশক্তিধর ব্যক্তিটি কোনদিন জনসম্মুখে তার প্রতি রাষ্ট্রযন্ত্রের এই হঠকারী অন্যায় নিয়ে একটি কথাও বলেন নি।

(চলবে...)