অসাধারণ, অপুর্ব সব ঝর্নার গল্প, চাইলে সময় সুযোগ করে নেমে পরতে পারেন অ্যাডভেঞ্চারে।

অপার্থিব আমিয়াখুম:

আমিয়াখুম যেতে হলে আপনাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।ঢাকা থেকে যেতে হবে বান্দরবান শহর।বান্দরবান শহর থেকে চাঁদের গাড়ীতে ৮২ কি.মি.পাড়ি দিয়ে যেতে হবে থানচি। থানচি বিডিআর ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিয়ে ট্রলারে করে যেতে হবে পদ্মমুখ। পদ্মমুখ থেকে ৫-৬ ঘন্টা হেঁটে থুইসাপাড়া। থুইসাপাড়া পৌঁছাতে রাত হয়ে যায় সাধারনত। সবচেয়ে বড় কথা আমিয়াখুম ট্যুরে আপনি রাতে ট্রেকিং করার অদ্ভুত অনুভূতি পাবেন। থুইসাপাড়া রাতে থাকতে হবে। থুইসাপাড়াটা ছবির মতো সুন্দর।আর পাড়ার মানুষগুলো খুব ভালো। পরের দিন সকালে ১ ঘন্টা হেঁটে দেবতা পাহাড় এর কাছে পৌঁছাতে হবে। তারপর সেখান থেকে দেবতা পাহাড় নামতে হবে।দেবতা পাহাড় মোটামুটি ৮০ ডিগ্রি খাড়া। দেবতা পাহাড় নেমে একটু সামনের দিকে ৫ মিনিট হাঁটলেই পেয়ে যাবেন অপার্থিব আমিয়াখুম।

অপার্থিব আমিয়াখুম।অপার্থিব আমিয়াখুম।

যেভাবে যাবেন:-
ঢাকা-বান্দরবান-থানচি-পদ্মমুখ-হরিশচন্দ্রপাড়া-থুইসাপাড়া-দেবতা পাহাড়-আমিয়াখুম.

কমলদহ ট্রেইল:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড জোনে যে কয়েকটা ঝর্নার ট্রেইল রয়েছে তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে বড় কমলদহ ট্রেইল। এই ট্রেইলে ছোটবড় মিলিয়ে ৭-৮ টা ঝর্ণা রয়েছে। শুধু তাইনা ক্যাসকেড রয়েছে আনুমানিক ১৪-১৫ টার মতো। দুই পাশে ঘন জঙল, কোথাও কোথাও খাড়া পাহাড় আর ঠিক তার মাঝ দিয়েই অসাধারণ এক ঝিরিপথ। শুনলেই মনের মধ্যে কেমন একটা রোমাঞ্চকর অনুভূতি জাগে। আর ঝর্ণা বেয়ে উপরে ওঠার এডভেঞ্চার তো আছেই। অথবা নিজে গিয়েও ঘুরে আসতে পারেন।

কমলদহ ট্রেইলকমলদহ ট্রেইল

যেভাবে যাবেনঃ
দেশের যেকোন স্থান থেকে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে চট্টগ্রামের বড়দারোগার হাট বাজারে। বাজারের পাশেই ইটভাটার পাশ দিয়ে গ্রামীনপথ সোজা চলে গেছে রেললাইন পেরিয়ে ঝিরিপথের দিকে। ঝিরিপথ ধরে মাত্র ২০ মিনিট হাটলেই পেয়ে যাবেন অপরূপ এই কমলদহ ঝর্ণা। এরপর ঝিরিপথ ধরে যতই এগোবেন, ততই মুগ্ধ হতে থাকবেন এর রূপ, ক্যাসকেড এবং ঝর্ণা দেখে।

ঝরঝরি ঝর্না:

ঝরঝরি ঝর্না-২টা বড় ক্যাসকেড-মূর্তি ঝর্না-নাম না জানা একটা ঝর্না এবং ক্যাসকেড....

ঝরঝরি ট্রেইলের শুরুতে আছে ঝরঝরি ঝর্না। তারপর কিছু দূর সামনে গেলে বড় বড় দুইটা ক্যাসকেড আছে। শেষ ক্যাসকেড থেকে ২ ঘন্টা ট্রেকিং করলে পাওয়া যাবে মূর্তি ঝর্না। মূর্তি ঝর্নার মাঝখান দিয়ে উপরে ওঠার ছোট একটা রাস্তা আছে। মূর্তি ঝর্নার খুব কাছে না গেলে রাস্তাটা দেখা যাবে না। মূর্তি ঝর্নার মাঝখান দিয়ে উপরে উঠলেই পাওয়া যাবে আরো একটা ঝর্না এবং ক্যাসকেড।

ঝরঝরি ঝর্নাঝরঝরি ঝর্না

যেভাবে যাবেন:-
ঢাকা থেকে মিরসরাই পার হয়ে পন্থিছিলা বাজারে নামতে হবে। বাজার থেকে পূর্ব দিক যেতে হবে। প্রথমে রেল লাইন পড়বে। রেল লাইন ধরে ৫ মিনিটের মত বাম দিকে গেলে হাতের ডানের প্রথম মাটির রাস্তা ধরে গেলে কানি ঝিরি পড়বে। এখান থেকে ঝিরি ও একটি পাহাড় পার হলে ঝরঝরি ঝিরি পাবেন। ঝিরি ধরে ৩০ মিনিটের মত গেলেই ঝিরি মুখে পাবেন ঝরঝরি ঝর্না। পন্থিছিলা থেকে ঝরঝরি পর্যন্ত হেঁটে আসতে ১ ঘন্টার মত লাগবে। বাম দিক দিয়ে উপরে উঠে ঝিরি ধরে যেতে থাকলে বড় বড় অনেক সুন্দর দুইটি ক্যাসকেড এবং একটা খুম পাবেন। শেষ ক্যাসকেড থেকে ২ ঘন্টার মত ট্রেকিং করলে মানুষের মুখের আকৃতির একটি পাথর দেখতে পাবেন। স্থানীয় অনেকে এটাকে মূর্তি ঝর্ণা বলে। মূর্তি ঝর্নার মাঝখান দিয়ে উপরে ওঠার ছোট একটা রাস্তা আছে। মূর্তি ঝর্নার খুব কাছে না গেলে রাস্তাটা দেখা যাবে না। মূর্তি ঝর্নার মাঝখান দিয়ে উপরে উঠলেই পাওয়া যাবে আরো একটা সুন্দর ঝর্না এবং ক্যাসকেড।

সংগ্রামপুঞ্জি :

সাম্প্রতিককালে সিলেটে ঘুরে দেখার মত আরো কিছু নতুন দর্শনীয় স্থান উন্মোচিত হয়েছে। তেমনই একটি হলো সংগ্রামপুঞ্জি বা সেনগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা বা মায়াবী ঝর্ণা এবং আরেকটি হলো উৎমাছড়া। জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ১৫-২০ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত এ ঝর্ণাটি ভারতের সীমান্তে পড়েছে। তবে বিএসএফের প্রহরায় চাইলেই বাংলাদেশীরা এ ঝর্নার চূড়া পর্যন্ত উঠতে পারে। কয়েক ধাপবিশিষ্ট এমন ঝর্না কমই দেখতে পাওয়া যায়। ঝর্ণার খানিকটা দূর থেকেই এর মেঘালয়ের পাহাড় বেয়ে বয়ে যাওয়ার গর্জন কানে আসবে।

সংগ্রামপুঞ্জি সংগ্রামপুঞ্জি

কখন যাওয়া উচিতঃ

জলপ্রপাতে বর্ষাকালে বেশি পানি থাকে। তাই বর্ষাকাল ঝর্ণাতে যাওয়ার উপযুক্ত সময়।

কিভাবে যাওয়া যায়ঃ

ঢাকা থেকে সিলেট এর উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায় গাবতলী এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে৷বাস গুলো সকাল থেকে রাত ১২.৪৫ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়। এছাড়া শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ইউনিক সার্ভিস, এনা পরিবহনের পরিবহনের নন এসি বাস সিলেটে যায়। ভাড়া ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা। এনা পরিবহনের বাসগুলো মহাখালী থেকে ছেড়ে টঙ্গী ঘোড়াশাল হয়ে সিলেট যায়।

ঝর্নার নাম ক্রাংসুরি:

ঝর্নার নাম ক্রাংসুরি। অসাধারণ এই ঝর্নাটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অবস্থিত । যাওয়া খুবই সহজ। সিলেটের তামাবিল বর্ডার দিয়ে যারা ভিসার এন্ট্রি পোর্ট নিয়েছেন তাদের জন্য সবচেয়ে সহজ এবং সময় বাঁঁচবে অনেক, কারন বর্ডার ক্রস করে মাত্র এক ঘন্টার ট্যাক্সি জার্নি। ট্যাক্সি ভাড়া সুনির্দিষ্ট নয়। দরদাম করে নিতে হবে নিজেকেই। যদি চার জন যান তবে সবচেয়ে ভাল হয়। আমরা ভাড়া করেছিলাম ১৫০০ টাকায়। সাথে ছিল আরো ৩/৪ টি অসাধারণ স্পট। বর্ডার ক্রস করে ডাউকি শহরে যাবেন। যেতে জনপ্রতি ১০ রুপি। সেখান থেকেই ট্যাক্সি পাবেন। 

ঝর্নার নাম ক্রাংসুরি

রুট- ঢাকা- সিলেট - তামাবিল বর্ডার - ডাউকি- ক্রাংসুরি ঝর্না।ঝর্নার নাম ক্রাংসুরি

চলবে...