লেখা ও ছবি- তামিম সাহেব 

মোটামুটি কম খরচে আর কম সময়ে যারা রোমাঞ্চকর আর সভ্যতা থেকে দূরে নেটওয়ার্কবিহীন একটা রাত কাটাতে চান, তাদের জন্য আদর্শ জায়গা সোনাদিয়া দ্বীপ। কক্সবাজার থেকে সাত কিলোমিটার দূরে মহেশখালী উপজেলার অন্তর্গত নয় বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপ সোনাদিয়া। এখনো খুব একটা পরিচিতি না পাওয়ার জন্য এই দ্বীপে পর্যটক যায় না বললেই চলে।

তাই বলাই যায়, যারা সুনসান একটা সমুদ্রের তীরে বসে নীল জলরাশির দেখার স্বপ্ন দেখেন কিন্তু কক্সবাজার সেন্ট মার্টিন গিয়ে উপচে পড়া মানুষ দেখে বারবার আশাহত হয়েছেন, তারা ঘুরে আসতে পারেন সোনাদিয়া।

সমুদ্র সৈকতসমুদ্র সৈকত

বাংলাদেশের যেকোন জায়গা থেকে কক্সবাজার গিয়ে এরপর কলাতলী মোড় থেকে টমটমে একশো টাকা ভাড়া দিয়ে যেতে হবে মহেশখালী ঘাট। সেখানে ফিশারিঘাট থেকে চাইলে সোনাদিয়ায় খাওয়ার জন্য কিনে নিতে পারেন টাটকা মাছ। মহেশখালি ঘাট থেকে চাইলে লোকাল ট্রলার করে মহেশখালি হয়ে সোনাদিয়া আসতে পারেন। আমাদের কক্সবাজারেই বিকেল হয়ে গিয়েছিলো বলে আমরা ট্রলার একদম সোনাদিয়া পর্যন্ত রিজার্ভ করেছিলাম। অনিন্দ্য সুন্দর দ্বীপ সোনাদিয়া দ্বীপের পূর্ব পাড়ে পৌঁছাই আমরা বিকেল চারটায়। এরপরই সেখানকার স্থানীয় আনসার ভাইয়ের বাসায় রেস্ট নিয়ে সমুদ্র পাড়ে তাঁবুগুলো খাটাই। নয়জনের জন্য মোট তিনটা তাঁবু নিয়ে গিয়েছিলাম।

ক্যাম্পিং এর প্রস্তুতি চলছেক্যাম্পিং এর প্রস্তুতি চলছে

রাত হলে সুনসান সোনাদিয়ায় নেমে আসে অপার্থিব সৌন্দর্য্য। মোটে চার পাঁচটা পরিবারের বসতি সোনাদিয়ার পূর্ব পাড়ে। সন্ধ্যা নামতেই মোটামুটি মধ্য রাতের মত পরিবেশ ধারণ করে দ্বীপটি। আকাশে হাজার হাজার তারার সাথে অর্ধেক চন্দ্রের আলোয় চারপাশ হয়ে উঠে মায়াবী। পুরো দ্বীপে আমরা নয়জন ছাড়া কেউ নেই।

রাতের খাবারে ভাজা ইলিশরাতের খাবারে ভাজা ইলিশ

আনসার ভাইয়ের বাসায় রাতের খাবারের ব্যবস্থা হয়েছিলো। ফিশারিঘাট থেকে আমাদের কিনে নিয়ে যাওয়া ইলিশ মাছ দিয়ে আনসার ভাইয়ের আম্মা রাতের খাবার রান্না করেছিলেন। এখানে বলে রাখা ভালো, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সোনাদিয়া দ্বীপে আসেন এবং সেখানে আনসার ভাইয়ের নানা তখন তাঁকে আশ্রয়দান করেন। বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত খাটটি আনসার ভাইয়ের বাসায় এখনো আছে।

ফানুস উড়াই ফানুস উড়াই

খাওয়া দাওয়া করে আমরা আমাদের তাঁবুতে চলে আসি। সমুদ্রের গর্জনের সাথে আমরা গান ধরি আর আমাদের সাথে আনা ফানুসগুলো উড়াই। এরপর আগুন জ্বালিয়ে আকাশ ভরা তারার নিচে গান গেয়ে আড্ডা মেরে একটা সময় তাঁবুতে শুয়ে পড়ি।

পরদিন সকালে আনসার ভাইয়ের সহায়তায় তিন কিলোমিটার হেঁটে শুটকি মহল এসে শুঁটকি কিনে আনসার ভাইয়ের ঠিক করে দেওয়া স্পিড বোট করে আবার কক্সবাজার ফিরে আসি।

দ্বীপের কুয়াশামাখা ভোরদ্বীপের কুয়াশামাখা ভোর

আমরা নয়জনের দলের জনপ্রতি খরচ পড়েছে দুই হাজার টাকা। চট্টগ্রাম থেকে গেলে পনেরোশো টাকার মধ্যেই হয়ে যায়, কিন্তু আমরা সময় স্বল্পতার কারণে বোট রিজার্ভ করে গিয়েছিলাম বলে টাকা পাঁচশো বেশি লেগেছে। যদি কক্সবাজার থেকে সকাল সকাল রওনা করেন, তাহলে লোকাল বোটে মহেশখালি হয়ে আসতে পারেন।

আর সোনাদিয়ায় ক্যাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে কোন নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। আনসার ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে গেলে কক্সবাজার থেকে সোনাদিয়া গিয়ে রাত কাটিয়ে শুঁটকি কিনে আবার কক্সবাজার ফিরে আসা, সব উনি ব্যবস্থা করে দিবেন। বিনিময়ে উনার সাথে আন্তরিক ব্যবহার করবেন আর আসার সময় কিছু টাকা দিয়ে আসবেন। যদিও উনি নিজ থেকে কিছুই দাবি করেন না।

দলের সবাই দলের সবাই

তো আর দেরি কেন? পঞ্জিকা ঘেঁটে পূর্ণিমা বের করে একদিন সময় সুযোগ বুঝে ব্যাগপ্যাক আর তাঁবু নিয়ে ঘুরে আসুন সোনাদিয়া।

আনসার ভাইয়ের নাম্বার : 01835848311