লেখা ও ছবিঃ খোকন সরকার 

খরচঃ ৪৫০০ টাকা (শুধু প্যারাগ্লাইডিং, অন্যান্য খরচের বিস্তারিত নিচে)। 
ভ্রমণ তারিখঃ ৩০/১২/১৭ থেকে ০৪/০১/১৮
ভিসাঃ অন এরাইভাল ভিসা (কাঠমান্ডু এয়ারপোর্টে নেমে শুধু ২টা ফর্ম পুরন করতে হয় এবং যারা প্রথমবার যাবে তাদের কোন টাকা লাগবে না। এক বছরে একের অধিকবার গেলে কিছু টাকা দিতে হবে)

যাতায়াতঃ ঢাকা থেকে রিজেন্ট এয়ারওয়েজে কাঠমান্ডু। 
ভাড়াঃ ১৫৫০০ টাকা (রিটার্ন টিকেট সহ)। 
দুই দিন কাঠমান্ডু ছিলাম। কাঠমান্ডুর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান যেমন (দরবার স্কয়ার,পাশুপাতিনাথ মন্দির,শিব মন্দির) সব গুলোই আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
কাঠমান্ডুর থামেল জায়গাটা ট্যুরিস্ট এরিয়া। ওখানেই ছিলাম। হোটেল ভাড়া ১২০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। (ডাবল বেড)

আকাশে উড়তে পেরে আনন্দিত আমি! আকাশে উড়তে পেরে আনন্দিত আমি!

বছরের শেষ রাত টা কাঠমান্ডুতে কাটিয়ে নতুন বছরের প্রথম সূর্যকে সাথে নিয়ে মাইক্রোবাসে পোখারার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। জনপ্রতি ৪০০ টাকা করে ভাড়া। জ্যাম না থাকলে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লাগে যেতে। পোখারাতেও হোটেল ভাড়া একই রকম। শুধু লেক ভিউ হোটেল গুলোতে ভাড়া একটু বেশি হতে পারে। সন্ধ্যায় লেকের পাশে রেস্টুরেন্টে বসে সূর্যাস্ত দেখতে সবারই ভাল লাগবে।
পোখারাতে পৌঁছেই প্যারাগ্লাইডিং এর জন্য বুকিং দেয়া ভাল।  যাচাই বাছাই করে নেওয়া যায়। আমি প্যারাগ্লাইডিং করেছিলাম লেক ভ্যালি এডভেঞ্চার লিমিটেড থেকে। পরের দিন দুপুরে ওদের গাড়ি দিয়েই নিয়ে যায় সারাংকোট (যেখান থেকে প্যারাগ্লাইডিং এর জন্য জাম্প করতে হয়)। প্যারাগ্লাইডিং এর প্রথমই শুধু একটু নার্ভাস লাগে, এর পর আর সমস্যা হয় না। এছাড়া পাইলট গুলো বেশ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং বন্ধুভাবাপন্ন। একবার ওপরে উঠে গেলে ক্ষণিকের জন্য হলেও নিজেকে পাখি মনে হবে, পাখির মত উড়ার দারুন অভিজ্ঞতা হবে। মাথার উপর নীল আকাশ, পায়ের নিচে পাহাড়। পাশেই আরো অনেকই পাখির মত উড়ছে। এ এক দারুন অভিজ্ঞতা।

প্যারাগ্লাইডিং
আমি প্রায় ২৫ মিনিট উপরে ছিলাম। বাতাসের ওপর নির্ভর করে সময় কম বেশি হতে পারে। আরেকটি বিষয় প্যারাগ্লাইডিং করার ২ ঘণ্টা আগে খাবার সেরে ফেলাটা ভালো কারন অনেকের মাথা ঘোরার কারনে বমি হতে পারে। 
প্যারাগ্লাইডিং করার সময় ওদের ক্যামেরা দিয়েই ছবি এবং ভিডিও করে দিবে। যার খরচ ওই ৪৫০০ টাকার মধ্যেই রয়েছে। তারপরও বুকিং দেয়ার সময়ই এই খরচের বিষয়টা ওদেরকে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত করে নেয়া উচিৎ।  
প্যারাগ্লাইডিং করে নামার পর ওদের গাড়িতে করেই ওদের অফিসে নিয়ে আসে। তারপর প্যারাগ্লাইডিং এর ছবি এবং ভিডিও ডিভিডিতে রাইট করে দেয় এবং হোটেল পৌঁছে দেয়।প্যারাগ্লাইডিং

পাইলটের সাথে, আধঘন্টার জন্য তার দায়িত্বেই ছিল আমার এই জীবন-মরণ
আমি ওইদিনই মাইক্রোবাসে করে কাঠমান্ডু ফিরে আসি, এবং পরের দিন অল্প শপিং করে ফিরতি ফ্লাইট ধরে ঢাকা চলে আসি।
আরেকটি বিষয় বলে রাখছি নেপালের খাবার আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে এবং মূল্য যথেষ্ট নাগালের মধ্যে।
বিমান ভাড়া বাদে ২০০ ডলার সাথে নিয়েছিলাম। 
উপরে যত মূল্য দেয়া হয়েছে সব বাংলাদেশি টাকায়। আমাদের ১০০ টাকা নেপালের ১২৫ টাকার মতো।পাইলটের সাথে, আধঘন্টার জন্য তার দায়িত্বেই ছিল আমার এই জীবন-মরণ

নেপালের মানুষও বেশ ভালো। আমি যেই খরচ দিয়েছি সেটা সময় ভেদে কম বেশি হতে পারে।