বাংলাদেশে ঘুরতে যাবার জন্য যে কয়েকটি জায়গা আছে, তারমধ্যে সিলেট অন্যতম। আমার মতে সিলেট ঘোরার জন্য উপযুক্ত সময় অক্টোবর।। বিশেষ করে যারা পাহাড়, ঝর্না দেখতে চান। কারণ এই সময় না শীত, না গরম। বর্ষার পরপরই হওয়ার কারণে ঝর্নায় ভাল পানি থাকে। আবার প্রকৃতিও থাকে অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়ে যেন আপনাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য সে প্রস্তুত। চারিদিকে পাবেন শুধু সবুজের সমারোহ। আর যদি ক্যালেন্ডার দেখে পূর্নিমার সময় যান। তাহলেই তো কথায় নাই।

তাই ঘরে শুয়ে বসে না থেকে বেরিয়ে পড়ুন প্রকৃতির রুপ সুধা পান করতে। আর এর জন্য সিলেট হতে পারে সবচেয়ে সেরা পছন্দ। সিলেটে পাবেন অসংখ্য ঝর্না, ছড়া, নদী, পাহাড়, সোয়াম্প ফরেস্ট, মেঘের লুকোচরি খেলা ইত্যাদি ইত্যাদি। আর সাথে থাকছে ভারতে মেঘালয় রাজ্যের অদ্ভুত সৌন্দর্য। যাহোক কাজের কথায় আসি। কোথায় কোথায় যাবেন? কি কি দেখবেন? সবার সুবিধার জন্য ঢাকা থেকে ট্যুর প্লান দিচ্ছি।

ট্যুর প্লানটা হতে পারে এমনঃ

দিন-০ঃ মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে এনা পরিবহনের রাতের গাড়ীতে শ্রীমঙ্গল।

দিন-১ঃ

হামহাম জলপ্রপাত মাধবপুর লেক ও লাউয়াছড়া। ভোরে শ্রীমঙ্গল পৌঁছে একটু ফ্রেশ হয়ে ও নাস্তা সেরে একটি জীপ গাড়ী ভাড়া করে লাউয়াছড়া বনে ঢুঁ মেরে চলে যান চম্পারাই চা বাগান। তবে সিএনজি নিবেন না। কারন এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশী হয়। যদি সামান্য বৃষ্টিও হয়, তাহলে সিএনজি বেশী দূর যেতে পারবে না। ফলাফল ০১ ঘন্টা অতিরিক্ত হাটা। এই চা বাগান পার হয়েই ৩০০-৪০০/- টাকায় একজন গাইড ভাড়া করে ৫ টাকায় একটি লাঠি ক্রয় করে খাবারের দোকানে ভাতের অর্ডার দিয়ে এবং সম্ভব হলে এখানেই কিছু খেয়ে হামহামের উদ্দেশ্যে ট্রেকিং শুরু করেন।

হামহাম যাবার ট্রেইলহামহাম যাবার ট্রেইল

হামহামে গিয়ে লাফালাফি, ঝাপাঝাপি করে চলে আসেন। তবে ভুল করেও ময়লা আবর্জনা ফেলে আসবেন না। হামহাম থেকে ফিরে খাওয়া করে চলে যান মাধবপুর লেক। তারপর যান মৌলভীবাজারের আর একটি উপজেলা কমলগঞ্জে এবং এখানেই রাত্রিযাপন করবেন।

দিন-২ঃ

পাথাড়িয়া পাহাড় এবং পাঁচটি ঝর্না (পুছুম, ঝরঝরি, বান্দরডোবা, রজনীকুন্ড, ডাবল ফলস)। এই ট্রেইলটা অসম্ভব সুন্দর। এটি একটি Raw trail. এখানে এখনো লোকজনের খুব একটা যাতায়াত শুরু হয়নি।

ঝরঝরি ঝর্না, পাথারিয়া পাহাড়, মৌলভীবাজারঝরঝরি ঝর্না, পাথারিয়া পাহাড়, মৌলভীবাজার

রজনীকুন্ড ঝর্না, পাথারিয়া পাহাড়, মৌলভীবাজাররজনীকুন্ড ঝর্না, পাথারিয়া পাহাড়, মৌলভীবাজার

বান্দরডোবা ঝর্না, পাথারিয়া পাহাড়, মৌলভীবাজারবান্দরডোবা ঝর্না, পাথারিয়া পাহাড়, মৌলভীবাজার

সকালে নাস্তা সেরে সিএনজি নিয়ে চলে যান সমনবাগ চা বাগান। সেখান থেকে পাপন (০১৭৯২-৭৭৯১০৯) বা পাপ্পুকে (০১৭১৯-৩৭৩৩৫৫) গাইড নিয়ে ঘুরতে থাকুন একে একে পাঁচটি ঝর্না আর চোখ জুড়ানো ট্রেইল। সাথে বোনাস হিসাবে পাবেন জোক মামার দেখা। পাথাড়িয়া দর্শন সেরে দুপুরে পর রওনা দিন সিলেটের উদ্দেশ্যে এবং রাতটা সিলেটেই থাকুন। সম্ভব হলে শাাহজালাল বা শাহপরানের মাজার ঘুরে আসুন।

ডাবল ফলস, পাথারিয়া পাহাড়, মৌলভীবাজারডাবল ফলস, পাথারিয়া পাহাড়, মৌলভীবাজার

দিন-৩ঃ

বিছানাকান্দি লক্ষনছড়া পাংথুমাই জাফলং, খাশিয়া পল্লী ও সেংগ্রামপঞ্জী ঝর্না। একটু সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সিএনজি নিয়ে মালনীছড়া ( হাদাড়পাড় গিয়ে নাস্তা সেরে নৌকা ভাড়া করবেন বিছানাকান্দি, লক্ষনছড়া ও পাংথুমাই যাবার জন্য। ভাড়া পড়বে ২০০০-২৫০০/- টাকা। শুধু লক্ষনছড়া যেতে ১ ঘন্টা (আসা-যাওয়া) হাটতে হবে।

বিছানাকান্দি, সিলেটবিছানাকান্দি, সিলেট

এগুলো দেখে পাংথুমাই থেকে সিএনজি গাড়ি নিয়ে চলে যান বল্লাঘাট (পিয়াইন নদী)। দুপুরের খাওয়া করে বল্লাঘাট থেকে নৌকা করে খাসিয়াপুঞ্জি। তারপর অটোরিকশা করে শেষ মাথায় এবং সেখান থেকে হেটে সেংগ্রামপুঞ্জী (যদি এটি ভারতের মধ্যে কিন্তু যাওয়া যায়)। ঝর্নায় গোসল করে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে রাতটা কেটে দিন এই জাফলং এ।

সেংগ্রামপুঞ্জী ঝর্না, জাফলং, সিলেটসেংগ্রামপুঞ্জী ঝর্না, জাফলং, সিলেট

পাংথুমাই ঝর্না ( ভারতে নাম বরহিল), সিলেটপাংথুমাই ঝর্না ( ভারতে নাম বরহিল), সিলেট

দিন-৪ঃ

লালাখাল রাতারগুল খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান খাদিমনগর চা বাগান। সকালে সিএনজি নিয়ে চলে যান লালাখাল। সেখানে নৌকা নিয়ে লালাখালের নীল পানি দেখতে দেখতে চলে যান জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত। এরপর চলে যান রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট।

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, সিলেটরাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, সিলেট

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, সিলেটরাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, সিলেট

এখানে নৌকায় করে পুরো বনটা ঘুরে দেখলে মনে হবে আপনি National Geography এর কোনো অনুষ্ঠানে আছেন। আর ওয়াচ টাওয়ারে উঠে পুরো বনটা একসাথে দেখতে ভুল করবেন না। রাতারগুল দেখার পর খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান ও খাদিমনগর চা বাগান দেখে ট্যুরের সমাপ্তি টানেন।

বিঃদ্রঃ

বৃহত্তর সিলেটে ঘোরাঘুরির জন্য গাইড হিসাবে নিতে পারেন, লিটন দেবকে (০১৭১০-৯৯৪০৯৯)।