“খুম” শব্দটা পাহাড়ীদের থেকে পাওয়া। “খুম” সাধারণত বড়সড় গর্তের মত জায়গাটাকে বলা হয়  যেখানটায় এসে বহমান পানি প্রবলবেগে পরতে থাকে। সেখান থেকে শুরু হয়ে যায় পানির আরেক পথ, বইতে থাকে এক খুম থেকে আরেক খুমের মধ্যে। পাহাড়ের গা থেকে আসা ঝর্ণা না হলেও “খুম” এর সৌন্দর্য কোন অংশেই কম নয়, বরং এত প্রচন্ড দুধ-ফেনিল পানির স্রোতের দিকে তাকিয়ে সম্মোহিত হয়ে যেতে হয়। এক প্রবল ইচ্ছা হয় ঐ অসাধারণ শক্তিশালী পানিতে ঝাপিয়ে পরতে। অন্য কারো এমনটা হয় কিনা জানিনা, তবে আমাকে এভাবেই সম্মোহন করে পানির ঐ অপূর্ব ধারা।

আমাদের সবচেয়ে পরিচিত খুম হল নাফাখুম; বান্দরবানের এই জায়গাটির নাম শোনেনি এমন খুব কম মানুষই আছে। তবে আজকে বলব আরেক খুমের গল্প, অনেকেই এর নাম শুনলেও যাওয়া হয়নি বেশিরভাগেরই। কেননা নাফাখুমের মত এত সহজে যাওয়া যায়না এই খুমের কাছে। সেখানেই যেতে পারার সৌভাগ্য হয়েছিল একবার আর স্মৃতির পাতায় সেই ভ্রমণের ছবি আঁকা হয়ে গেছে চিরদিনের মত।

 নাফাখুমের জলরাশি নাফাখুমের জলরাশি

 

বান্দরবানের বেশ ভেতরে আমিয়াখুম। স্বভাবতই মেয়ে হিসেবে এতদূরে যাওয়াটা কখনোই নিরাপদ মনে হয়নি বিধায় যাবার পরিকল্পনা করা হয়ে ওঠেনি কখনো। তাই এক সকালে যখন স্কুল ফ্রেন্ড জিগেস করল অমিয়াখুম যাব কিনা, বেশ দ্বিধা-দ্বন্ধে ছিলাম, কারণ যাওয়ার কথা ছিল এক অনলাইন ট্রাভেল গ্রুপের সাথে। আজকাল বেশ কিছু ট্রাভেল গ্রুপ গড়ে উঠেছে এবং তারা বেশ ভালো করছেও, কিন্তু আমার কখনো ওইভাবে ভ্রমণ করার অভিজ্ঞতা ছিলনা তাই সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না। একদিকে নিখাদ সবুজের হাতছানি আরেকদিকে সংশয়। তবে শেষমেষ জয় হল তীব্র ইচ্ছারই। “বৃত্তে”র সাথে রওনা দিলাম আমিয়াখুমের দিকে।      

প্রথমেই বৃত্ত থেকে জিয়ন ভাই বেশ করে বলে দিয়েছিলেন অমিয়াখুমের কষ্টকর ট্রেইলের কথা। ভয় যে একটু পাইনি তা না, তবে “কষ্টকর ট্রেইল” কথাটাই আমাকে বেশি আকৃষ্ট করেছিল। ঠিক কেমন হতে পারে “কষ্টকর ট্রেইল” দেখার ইচ্ছেটা প্রবল হয়ে গিয়েছিল। যেহেতু জায়গাটা অনেক বেশি ভেতরে যেখানে অনেক অনেক দূর পর্যন্ত হয়ত কোন পাড়া বা জন-মানুষের দেখা মিলবে না, তাই প্রস্তুতিটা এমনভাবে নেয়া হল যেন দরকারী যেকোন কিছুর যোগান আগামী দুই তিনদিন নিজেই দেয়া যায়। ছোটখাটো মেডিকেল কিট থেকে শুরু করে শুকনো খাবার, টর্চ, পাহাড়ের ঠান্ডা মোকাবেলায় ভারী কাপড়, আর ট্রেকিং উপযোগী স্যান্ডেল সবই বেশ আয়োজন করে নিয়ে নিলাম। এই আয়োজন বৃথা যায়নি, প্রত্যেকটা জিনিসেরই উপযুক্ত ব্যবহার হয়েছিল। তবে এতকিছুর মধ্যেও ব্যাগটা যত পারা যায় হালকা রাখার চেষ্টা করছিলাম, কারণ ঐ ব্যাগ নিয়েই হাটতে হবে মাইলের পর মাইল! সব আয়োজন শেষে এক রাতে উঠে পরলাম বান্দরবানের বাসে।

ভোরে বান্দরবান পৌছে চান্দের গাড়ি নিয়ে চলে গেলাম থানচি। গিয়েই প্রথমে ভাত খেয়ে নিলাম, সারাদিন পেটে আর ভাত পরবে কিনা কে জানে! এরপর সাঙ্গুতে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে রওনা। সাঙ্গু নদী আমার বেশ পছন্দের, এর আগে নাফাখুম যাবার সময় বেশ চমৎকার ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল সাঙ্গুতে। সেই ঘটনা আরেকদিন বলা যাবে।

 নৌকা থেকে সাঙ্গু নৌকা থেকে সাঙ্গু

 

 

 যাকগে, নৌকায় উঠে বান্দরবানের অসীম সৌন্দর্য দেখতে দেখতে হারিয়ে যাচ্ছি প্রায়, এই সময় নৌকা পাড়ে ভিড়ল। অবাক হলাম, ভেবেছিলাম রেমাক্রি যাবার মত বেশ বড়সড় ৩ ঘন্টার একটা নৌকাভ্রমণ হয়ে যাবে, কিন্তু এ দেখি শুরু না হতেই শেষ! জানতে পারলাম আমরা যাবো পদ্মমুখ ঝিরি হয়ে। বেলা প্রায় বারোটার দিকে খাবার দাবার ভাগাভাগি করে ব্যাগে পুরে নিয়ে হাটা দিলাম পদ্মমুখ ঝিরি দিয়ে।  

পদ্মমুখ ঝিরিপদ্মমুখ ঝিরি

 

প্রথমে কিছুদূর আরামেই হাটলাম, চারপাশে সবুজের চাদর আর পায়ের নিচে ঝিরির হালকা পানি। আবহাওয়াটাও মন্দ না, বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা একটা পরিবেশ। হঠাৎ করে বেশ গভীর পানির এক জায়গায় এসে পরলাম। পার হব কি করে! দেখলাম একদম একপাশে বাঁশ দিয়ে সাকোর মত বানানো, কোনমতে একটা পা ফেলা যায় একবারে।

বাঁশের সাকোবাঁশের সাকো

 

 সেটা দিয়ে ধীরে ধীরে সবাই পার হয়ে গেলাম। বুঝলাম শুরু হচ্ছে “কষ্টকর ট্রেইল”। ও আচ্ছা, আমাদের গন্তব্য ছিল থুইসা পাড়া। সেখানে রাতে থাকব, আর পরদিন উঠে চলে যাব আমিয়াখুমে। সে নাকি থুইসা পাড়া থেকেও আরো কয়েক ঘন্টার পথ! ভাবলাম, আচ্ছা আগে থুইসা পাড়ায় যাই। কিন্তু সেটা যে কতদূর তা আন্দাজও করতে পারছিলাম না। শুধু হেটেই যাচ্ছি, পাহাড় ডিঙোচ্ছি। ঠিক কয়টা পাহাড়ে উঠলাম আর নামলাম এখন আমার ঠিক মনেও পরছে না, তবে সেইদিন মনে হচ্ছিল অনন্তকাল ধরে আমি ঐ কাজই করে যাচ্ছি! পাহাড়গুলোও এমন, কিছু জায়গায় ঝুরঝুরা মাটি এবং বেশ খাড়া। পা বারবার পিছলে যাচ্ছে। কোনমতে হাচড়ে পাচড়ে একে অন্যকে ধরে উঠে পরেছি। নিচে দাঁড়িয়ে যখন দেখি পাহাড়ের কোন মাথায় উঠতে হবে, পা আর চলতে চায় না। আবার একটু একটু করে ঐ চূড়ায় ওঠার পর সেখান থেকে যখন আশেপাশের অসাধারণ প্রকৃতি দেখি, মনে হয় কষ্ট সার্থক। অত নিরিবিলি সবুজ আমি আর কোথাও দেখিনি, একটা জনমানব নেই, কোলাহল নেই, একদম শান্তিময় একটা পরিবেশ। নিজে অনুভব না করলে বোঝানো বেশ কঠিন।

থুইসা পাড়া যাওয়ার পথে কোন এক নাম না জানা পাহাড়েথুইসা পাড়া যাওয়ার পথে কোন এক নাম না জানা পাহাড়ে

 

এত এত পাহাড় ডিঙিয়ে প্রায় দুপুর তিনটার দিকে এক পাড়ার দেখা পাওয়া গেল। হাতে গোণা তিন চারটা বাড়ির ঐ পাড়ার নাম হরিশচন্দ্র পাড়া। সবাই একটু জিরিয়ে পানি আর শুকনো খাবার খেয়ে নিল।

হরিশচন্দ্র পাড়ার পথেহরিশচন্দ্র পাড়ার পথে

 

গাইড ছিল সাথে, তাকে যতই জিগেস করা হয় আর কতদূর, সে বলে আর একটু। সেই “আর একটু” শেষই হতে চায় না। তবে একটা পাড়ার দেখা পাওয়ায় আমরা বেশ উৎফুল্ল হয়ে গেলাম যে থুইসা পাড়া নিশ্চয়ই কাছেই। দ্বিগুণ উদ্যমে আবার হাটা দিলাম। আবারো সেই পাহাড় ডিঙোনো, কখনো ঝিরির মধ্যে হাটা।

ঠিক যখন সূর্য ডুবিডুবি তখন বেশ উঁচু এক পাহাড়ের চূড়ায় পৌছুলাম। জিয়ন ভাইয়ের কথায় সবাই থামলাম সূর্যাস্ত দেখার জন্যে। আমার দেখা অন্যতম সুন্দর সূর্যাস্ত ছিল সেটা। সূর্য ডুবে গেলে একটু পা চালিয়েই হাটা শুরু করলাম, রাতের বেলা পাহাড়ে হাটা চাট্টিখানি কথা না! যদি জানতাম আরো কত পথ বাকী তাহলে অত তাড়াহুড়া করতাম না, কারণ এরপরেও আমাদের আরো আড়াই ঘন্টার মত হাটতে হয়েছিল! সবার সাথেই মোটামুটি টর্চ ছিল, এমন পরিস্থিতি অনুমান করেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আর ছিল আকাশে বিশাল একটা চাঁদ। ঠিক পূর্নিমার আগের দিন আমরা রওনা দিয়েছিলাম। অন্ধকারে খুব সাবধানে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ হয়ত আলো ফেললাম, দেখা গেল বাম পাশে খাদ, কিছু নেই! শেষের দিকে রেমাক্রি খালে নামার জায়গাটা বেশ বিপদজনক ছিল। কিভাবে যে নেমে এসেছিলাম তা নামার পরেও বুঝতে পারিনি। খাল পেরিয়ে ভাবলাম চলে এসেছি নিশ্চয়ই, গাইডও বলল আর দশ মিনিট। কিন্তু সেই দশ মিনিটও আর শেষ হতে চায় না। ততক্ষণে প্রচন্ড ক্ষুধায় আর পরিশ্রমে সবাই বেশ কাহিল। আরো প্রায় বিশ মিনিট পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় পাড়ায় এসে পৌছুলাম।   

থুইসা পাড়ার পথে থুইসা পাড়ার পথে

রাতের খাবারটা ছিল যেন অমৃত! অত পরিশ্রমের পরে সাধারণ খাবারই অমৃত লাগবে সেখানে পাহাড়ি মরিচ দিয়ে জিয়ন ভাইয়ের রান্না করা মুরগি, সাথে ডাল সবজি আলু ভর্তা, এখনো ভাবতেই জিভে পানি চলে আসছে! সারাদিনের ধকলে সবাই কাহিল। আমি ততক্ষণে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি পরদিন আর কোথাও যাচ্ছিনা, একদিন বিশ্রাম নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা দেব। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কম্বল-মুড়ি দিয়ে ঘুম দিলাম। ভোর ৬ টায় যখন বন্ধু এসে ডাকাডাকি শুরু করল, তখন আর গতরাতের “যাবোনা” সিদ্ধান্তের কথা মনে পরছিল না। উঠে ঝটপট রেডি হয়ে নাস্তা খেয়ে রওনা দিলাম আমিয়াখুম-ভেলাখুম-সাতভাইখুম আর নাইক্ষ্যংমুখের উদ্দেশ্যে। বাকী জায়গাগুলো আমিয়াখুমের আশেপাশেই। আজকে ব্যাগটা না থাকায় বেশ আরামেই হাটা যাচ্ছিল। ভোরের থুইসা পাড়ার সোন্দর্য দেখতে দেখতে আবারো পাহাড়ে ওঠা-নামা, ঝিরির মধ্য দিয়ে পৌছে গেলাম দেবতার পাহাড়ের মাথায়। ৬০০ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়টা এখন নামতে হবে। আমি ওখানে ঠিক বুঝতে পারছিলাম না নামার পথ কোনদিক দিয়ে। পরে দেখলাম যেখানে দারিয়ে আছি তাঁর একটু সামনেই একদম খাড়া একটা ঢাল নেমে গেছে তাই দিয়ে নাকি নামতে হবে! ভয়ে আত্মা শুকিয়ে গিয়েছিল সত্যি সত্যিই, কারণ আমার উচ্চতা ভীতি আছে বেশ ভালো পরিমাণেই। আর সরু পথটার বামপাশে গভীর খাদ, একবার পরলে আর দেখতে হবে না। কিন্তু এতদূর এসে তো ফিরে যাওয়া যায়না, বসে বসেই নামতে শুরু করলাম।

দেবতার পাহাড় ধরে নামার সময়দেবতার পাহাড় ধরে নামার সময়

 

ঐ এক ঘন্টা আমার জীবনের দীর্ঘতম এক ঘন্টা। প্রতিটা পা ফেলছি ভয়ানক সতর্কতার সাথে। যখন নেমে গেলাম পুরোপুরি মনে হল বিশ্বজয় করে এসেছি! আমিয়াখুমের চারপাশের যে সৌন্দর্য তা আসলে লিখে বর্ণনা করা সম্ভব না। আহ্‌, ঠিক এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে চলে যাই ওখানটায়! আমিয়াখুম দেখলাম, ছবি তুললাম।

আমিয়াখুমের আশপাশের প্রকৃতিআমিয়াখুমের আশপাশের প্রকৃতি

 

আমিয়াখুমের আশপাশের প্রকৃতিআমিয়াখুমের আশপাশের প্রকৃতি

এরপর গেলাম ভেলাখুমে। ভেলাখুম থেকে এসে আমিয়াখুমের পেছনদিকে নাইক্ষ্যংমুখ। তবে তা দেখতে হলে যেতে হবে ভেলায় চড়ে। জীবনে প্রথমবার ভেলায় চড়া এবং চালানো দুই অভিজ্ঞতাই হয়ে গেল।

ভেলায় চড়ে নাইক্ষ্যংমুখভেলায় চড়ে নাইক্ষ্যংমুখ

 

 সব দেখা শেষে হালকা কিছু খেয়ে নিয়ে ফেরার পালা। দেবতার পাহাড় এবার উঠতে হবে! নামতে যত না ভয় লাগছিল উঠলাম তাঁর দ্বিগুণ ভয় নিয়ে। উঠেই কিছুক্ষণ ঘাসে শুয়ে জিরিয়ে নিলাম। এরপর ফেরার পালা। হাতে যেহেতু সময় আছে বেশ আস্তে ধীরে ফিরছি সবাই, এরই মধ্যে জিয়নভাই আবিষ্কার করলেন এক জুমঘর। জুমঘর থেকে যতদূর চোখ যায় পাহাড় আর সবুজ।

জুমঘর থেকে আকাশজুমঘর থেকে আকাশ

 

সূর্যাস্তসূর্যাস্ত

বিকেলটা ঐ জুমঘরে কাটিয়ে দিয়ে সন্ধ্যায় ফিরে এলাম পাড়ায়। রাতে পেলাম পূর্ণিমা। অতবড় চাঁদ আমি আর কখনো দেখিনি। জোছনায় যেন ভাসিয়ে নিচ্ছিল চারিদিক। ঠিক ঐ মুহূর্তে মনে হচ্ছিল- হ্যা, এটাই তো জীবন।

যদি ভেবে থাকেন এই ভ্রমণের এখানেই সমাপ্তি, ভুল করছেন। পরদিন ফিরি আমরা অন্য পথ দিয়ে, এই পথটা নাফাখুম হয়ে রেমাক্রি দিয়ে থানচি। থুইসা পাড়া থেকে নাফাখুম আসার পথটা এত প্রচন্ড সুন্দর, শুধুমাত্র ঐ পথটায় হাটার জন্যেই হয়ত আরেকবার থুইসা পাড়ায় যাব।

থুইসা পাড়া থেকে নাফাখুম ফেরার পথেথুইসা পাড়া থেকে নাফাখুম ফেরার পথে

 

 থুইসা পাড়া থেকে নাফাখুম ফেরার পথে থুইসা পাড়া থেকে নাফাখুম ফেরার পথে

 

রেমাক্রির পথেরেমাক্রির পথে

ফেরার মতে নাফাখুমও দেখা হয়ে গেল আরেকবার। রেমাক্রি জায়গাটা আমার অনেক প্রিয়, সেখানে আরেকবার যেতে পেরে খুব ভাল লাগছিল। খেয়েদেয়ে আগেরদিনের মত নৌকায় উঠে রওনা দিলাম। এবার প্রায় তিন ঘন্টার নৌকাভ্রমণ। আবার দেখলাম “বড় পাথর”, তিন্দু। সবুজ দেখতে দেখতে থানচি ফিরলাম। রাতের বাসে ঢাকায়।

নৌকায় সাঙ্গু পাড়িনৌকায় সাঙ্গু পাড়ি

 

পুরো ভ্রমণে যে জিনিসটা সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রেখেছি সবাই তা হল কোনভাবেই যাতে পরিবেশ নোংরা না করি। মানুষের পা কম পরায় এখনো জায়গাগুলো আবর্জনায় ভরে যায়নি। নিজেরা খাবার দাবারের প্যাকেটগুলো যেখানে সেখানে ফেলে পরিবেশ দূষিত না করতে সচেষ্ট ছিলাম। সব প্লাস্টিকের প্যাকেট ব্যাগে জড়ো করে নিয়ে এসেছিলাম। আমাদের পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার দায়িত্ব আমাদেরই, এই কথাটা সবার মাথায় রাখা উচিৎ।

আমিয়াখুমের রাস্তা বেশ কষ্টদায়ক কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু ঐ কষ্টের প্রতিটা মুহূর্ত আপনি উপভোগ করবেন এইটুকু হলফ করে বলতে পারি। তবে হুট করে চলে না গিয়ে কিছুটা প্রস্তুতি নিয়ে গেলে আরো ভালো উপভোগ করতে পারবেন। শুভ হোক প্রতিটি ভ্রমণ।