ইদানিং কালের বড় একটা সমস্যা দেখা দিচ্ছে ব্যাকপ্যাকিং এর নামে কে কত কম টাকায় ঘুরতে পারে আর কে না খেয়ে বা কলারুটি খেয়ে ট্রিপ শেষ করে ঢাকায় এসে ফেসবুকে 500/600/650 টাকায় ঘুরে আসুন অমুক জায়গায় টাইপের পোস্টগুলো । 

“এত(কম) টাকায় ঘুরে আসুন অমুক ঝর্ণা আর ক্যাম্পিং করুন তমুক ক্যাম্পে” টাইপ পোস্ট দেখে আমরাও কম বাজেট নিয়ে গিয়েছিলাম ট্রেকিং আর করতে। সকালে বিল পে করার সময় দেখা গেল বিল প্রায় দ্বিগুন। হিডেন চার্জের অভাব নেই। তারা তাবু পিচ করে দেয়ার জন্য প্রতি তাবু প্রতি 50 টাকা করে চার্জ নিয়েছিল যেখানে একটা তাবু পিচ করতে 5 মিনিট সময় লাগে না। নাইট গার্ড যে ডিউটিতে ছিল তার জন্য আমাদের থেকে 300 টাকা বিল চার্জ করা হয়েছিল। তো আমাদের টাকায় যদি নাইট গার্ড নেয়া হয় তাহলে তারা কি নিরাপত্তা দিলেন আমাদের? সহস্রধারায় যাওয়ার জন্য কোন গাইডের দরকার নেই। কিন্তু তারা 300 টাকা গাইড চার্জ নিয়েছিল। যেখানে তারা আমাদের সাথে সন্ধ্যায় মধ্যরাস্তায় বিদায় নিয়েছিল।আমরা অন্ধকারে মোবাইলের লাইট, টর্চ দিয়ে 2-1 বার রাস্তা হারিয়ে ক্যাম্পে পৌছেছিলাম।

যেহেতু সবেমাত্র ক্যাম্পসাইট গুলো চালু করা হয়েছে। তাই শুরুতে ব্যবস্থাপনায় কিছুটা ভুল থাকবে এটা স্বাভাবিক। ক্যাম্পসাইট গুলো নিয়ে বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল বা যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে প্রচার হয়েছে বাস্তবে সেখানের চিত্রটা বরং অনেকখানিই আলাদা। এদের তেমন কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় উনারাই ঠিক মতো বুঝে উঠতে পারেন না উনাদের কি করা উচিত আর কি করা উচিত না। আমরা শুক্রবার রাতে ক্যাম্পিং করার প্ল্যাণ করায় বুধবার দিন সকাল ফোনে ক্যাম্পসাইটে তাবু বুক করে রাখি। আমরা যেহেতু ট্রাভেলগ্রুপ হিসেবে ঘোরাঘুড়ি করি তাই আলাদা করে বলার প্রয়োজন মনে করিনি যে আমাদের সাথে একজন মেয়ে যাচ্ছে বা তারাই জিজ্ঞেস করেনি যে আমাদের গ্রুপে কোন ফিমেল মেম্বার আছে কিনা। কিন্তু আমরা যখন সন্ধ্যায় ক্যাম্প সাইটে গিয়ে পৌছাই তখন আমাদের সাথে মেয়ে থাকায় তারা আমাদের ক্যাম্পিং করতে দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। এছাড়াও বুক করার সময় ক্যাম্পসাইটে এন্ট্রির টাইম নিয়ে কিছু বলা হয়নি। আমাদের প্ল্যাণ ছিল আমরা সন্ধ্যার দিকে ক্যাম্পে যাবো তাই আমরা শুক্রবার সকালে সীতাকুন্ড নেমে ঝরঝরি ট্রেইলে যখন ঢুকে গিয়েছিলাম তখন আমাদের ফোন করে জানানো হয় যে বিকাল 5.00 টার মধ্যেই ক্যাম্পে প্রবেশ করতে হবে। তারা আমাদের জন্য ওয়েট করতে পারবে না। অনেক কথাবার্তার পরে ঠিক হলো যে আমরা 6.00 টার দিকে ক্যাম্পে যাবো। এর মধ্যে তারা বিভিন্ন নাম্বার থেকে প্রায় 15-20 বার কল দিয়ে ফেলেছিল। সন্ধ্যার দিকে আমরা ছোটদারগার হাট থেকে সিএনজি নিয়ে রওনা হই তখন মাঝরাস্তায় তাদের সাথে আমাদের দেখা হয়েছিল যখন তারা ব্যাক করছিল। রাস্তার মধ্যেই তারা আমাদের ক্যাম্পিং করার পারমিশন পাওয়া যাবে না বলে দেয়। পরে “আমি অমুক গ্রুপের এডমিন, হ্যান ত্যান, বুকিং এর সময় বলেন নাই কেন” টাইপের কথা বার্তা 5-7 মিনিট বলার পরে আমাদের নিজের রিস্কে আমাদের থাকতে দেয়া হয় সেখানে। রাতে নিরাপত্তার কথা বলতে সেখানে মাত্র একজন নাইট গার্ড ছাড়া আশে পাশে কেউ ছিল না। যদি কোন ঝামেলা হতে তিনি কিভাবে আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টা দেখতে সেবিষয়ে আমরা চিন্তা করে পাইনি।



টয়লেট সুবিধার কথা বলা থাকলেও তাদের টয়লেটের অবস্থা খুবই বাজে। যদিও এটা আমাদের তেমন কোন অসুবিধায় ফেলনি। প্রতি তাবুর সাথে একটা করে হ্যামকের ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও তারা আমাদের হ্যামক দিতে পারে নি। তাদের হ্যামক গুলো নাকি ছিড়ে গেছে। সবচেয়ে বড় যে সমস্যা সেটা হলো তাদের টেন্টগুলো দেখতে সুন্দর হলেও কোনটাই ওয়াটার প্রুফ না। রাতে সামান্য বৃষ্টি হওয়াতেই টেন্ট ঘেমে টুপটাপ পানি পড়ছিল আর তলা থেকে মাটি চুয়ে পানি উঠেছিল একটু। 

যাদের সহস্রধারায় ক্যাম্পিং করার ইচ্ছা আছে তারা যাওয়ার আগে জেনে নিনঃ
1/ প্রতি টেন্টের ভাড়া 300/- (দুইজন থাকতে পারবেন)।
2/ টেন্টে দুইটি ম্যাট, দুইটি পাতলা বালিশ আর একটি লাইট থাকে তাই গায়ে দেয়ার মতো চাদর নিয়ে নিতে পারেন।
3/ প্রতিটেন্ট পিচ করে দেয়ার জন্য 50 টাকা করে চার্জ বিলের সাথে নিয়ে নিবে তারা।
4/ নাইট গার্ডের 300 টাকা আপনাদের প্রদান করতে হবে যা বিলের সাথে একবারে হিসাব করা থাকবে।
5/ গাইড নিলে 500 টাকা লাগবে আর না নিলেও 300 টাকা দিতে হবে। এটাও বিলের সাথে হিসেব করে দিবে।
6/ সহস্রধারা ঝর্ণায় যেতে চাইলে বোটে যেতে পারবেন। বোটভাড়া প্রতিজন 40 টাকা। এটা বিলের বাইরে থাকবে।
7/ গ্রুপে কোন মেয়ে থাকলে শুরুতেই ভালমতো বলে নিতে হবে।