ঢাকা থেকে ঢাকা প্রতিজন খরচ হয় ১৫০০'র মতো..

আমাদের কারোরি কখনো তাবুতে থাকা হয়নি, ২০১২ তে HSC পরীক্ষার পর সবাই ছন্নছাড়া। হঠাৎ প্ল্যান করলাম, সবাই একসাথে ঘুরতে যাবো... যেই ভাবা সেই কাজ।

বর্ষাকাল বলে সবারই ঝর্ণা দেখার মত ছিলো, তাই ঝর্নার দেখা চূড়ান্ত হয়ে যায়, সাথে রাতে তাবুতে চাঁদ দেখবো!নবেশি সময় লাগেনি সেটা বাস্তবে রুপ দিতে। সহস্রধারা লেকের পাশে USAID'র প্রকল্পের একটি অফার পেয়ে লুফে নিই। উনারা তাবু, হ্যামকসহ ক্যাম্পিং করার সবকিছু ব্যাবস্থা করে দিবেন নির্দিষ্ট খরচের বিনিময়ে! ক্যাম্প সাইটটিও ছিলো অসাধারন এক জায়গায়, চারপাশে পাহাড়, মাঝখানে লেক, লেকে বোটের ব্যাবস্থা, বোট দিয়ে লেক পার হলেই অসম্ভব সুন্দর 'মূল সহস্রধারা ঝর্ণা'....আর কি চাই?

এবার মূল কথায় আসি,

আমরা ১০জন আসার ৩ তারিখ রাতে স্টার লাইনের টিকিট কাটি। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক ভাবে ২জন আসতে পারে নাই। তাই ৮জনেই রওনা দেই। রাত সাড়ে ১১টার স্টারলাইনের বাসে ফেনী যাই, ভাড়া ২৭০/- জনপ্রতি।

মহিপাল পৌছাই রাত সাড়ে ৩টা নাগাদ। মহিপাল একটি হোটেলে পরটা, ভাজি দিয়ে নাস্তা করে নিই, ৩০/- জনপ্রতি আসে। নাস্তা পর্ব শেষ করে আমরা খৈয়াছড়ার উদ্দেশ্যে একটি বাসে উঠি, জনপ্রতি ৫০ টাকা বড়তাকিয়া পর্যন্ত। বাসটি এত দ্রুত চলছিলো যে অবিশ্বাস্য! ৪০ মিনিট পর বাসের সামনে গিয়ে দেখি বাস তখন নিজামপুর! মানে বড়তাকিয়া অনেক আগেই ফেলে গেছে। কি আর করার, ড্রাইভার, হেল্পারদের কিছু বলি নাই। ভাবতে থাকি কি করবো! তারপর ড্রাইভার কে বড়দারোগারহাট থামাতে বলি।

ভোড় ৬টা তখন বাজে!

সদ্য খোলা একটা টং থেকে কলা আর কেক কিনে রওনা দিই মধুখাইয়া ট্রেইলের দিকে! এ জার্নি শেষ হয় দুপুর আড়াইটায়! এটার গল্প এখন বললে রাত শেষ হয়ে যাবে। তাই স্কিপ করলাম।

মধুখাইয়া ট্রেইল শেষ করে বড়দারোগারহাট পৌছি দুপুর ৩টায়! তারপর সিএনজি দিয়ে চলে যাই সহস্রধারায় লেকের দিকে... ছোটদারোগারহাটের দিকে। রেললাইনের আরো পর পর্যন্ত সিএনজি নিয়ে যায় আমাদের, ভাড়া জনপ্রতি ৬০ টাকা করে পরে।

তারপর আরো ৩০ মিনিট হেটে ক্যাম্পে পৌছাই। আগে ধেকে অর্ডার থাকায় দুপুরের খাবার খেয়ে নেই। লেকের বাধে আমাদের তাবু সেট করা হচ্ছিলো তখন।. তাবু প্রস্তুত হওয়ার পর ৯ঘন্টা হাটা ক্লান্ত শরীরকে বিশ্রাম দিতে ঘুমিয়ে পরি, বাকিরা লেকে বোটে ঘুরছিলেন। সন্ধ্যা হওয়ার পর ঘুম থেকে উঠে হ্যামকে শুয়ে আড্ডা দিতে থাকি।

রাত ৯টায় চাঁদের আলোতে লেকে বের হই ঝর্না দেখতে। ঝর্ণার পৌছানোর আগ মুহুর্তে ১কেজি + একটি সিলভার কার্প বোটে উঠে পরে!

তারপর এটাকে ফ্রাই করে খাই!! সারারাত চাঁদের আলোয় আর পাহাড়ের মাঝখানে জীবনের প্রথম তাবু বাস করি । সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার ঝর্ণা দেখে নাস্তা করে ক্যাম্প সাইট ত্যাগ করি।

এবার আসি ক্যাম্পের খরচের ব্যাপারে

  •  ২জনের এক তাবু + প্রত্যেকের ১টি করে হ্যামক ৩০০ টাকা. .. জনপ্রতি ১৫০
  •  ৩বেলা খাবার, গরু, দেশি মুরগী, সবজী ডাল ভর্তা এগুলোয়.. ৮জনের ৩২০০টাকা বিল আসে। জনপ্রতি ৪০০/-

(আপনারা গেলে এটা কমে পাবেন, প্রতিবেলা ১০০-১২০ টাকা এবং নাস্তা ৫০-৬০ লাগবে)

 ক্যাম্প দেখাশুনা +রান্না করার জন্য একজন ভাইয়া ছিলো, উনার সম্মানি ৫০০ এবং বিকাল+ সারারাত+সকালে সার্বক্ষণিক বোট ব্যাবহার করি ভাড়া ৫০০

সর্বমোট ১০০০, জনপ্রতি ২৩০ এর মত

(ক্যাম্প সাইটে গাইড রাখতে চাইলে রাতে দেখাশোনা এবং সহস্রধারা ট্রেইল দেখানো বাবদ প্রতিদিন ৫০০ লাগবে। আমরা গাইড নিই নি।)

(লেকের অপরপারে ঝর্ণা দেখতে আসা-যাওয়া বাবদ বোট ভাড়া জনপ্রতি ৩০-৪০ টাকা নেয়)

 তারপর ১০টাকা জনপ্রতি সিএনজি ভাড়ায় ছোট দারোগারহাট যাই। ছোটদারোগারহাট থেকে ৫০ টাকায় ফেনী, ফেনী থেকে ২৭০ টাকায় ঢাকা 

সর্বমোট খরচ হয়ঃ ১৫০০ এর মত 

(ছবিটি সহস্রধারা লেক থেকে তোলা... লেকটির চারপাশই পাহাড়ে ঘেরা...)

 

ক্যাম্পসাইটের কিছু তথ্যঃ

(যেহেতু নতুন প্রজেক্ট, তাই বিস্তারিত দেয়ার চেষ্টা করলাম সবার সুবিধার্তে)

>এখানে সর্বোচ্চ ১০টি তাবু ভাড়া পাওয়া যাবে, সাথে প্রতিজনের জন্য হ্যামক সরবারহ করবে

>প্রতিটা তাবু ওয়াটারপ্রুফ, ঝড় বৃষ্টিতেও পানি ডুকবে না

> প্রতিটা তাবুতে এলইডি লাইট, বিছানা, বালিশ রয়েছে

> নিজেদের তাবু নিয়ে ক্যাম্পিং করতে চাইলে প্রতি তাবু ১৫০টাকা ভাড়া দিতে হবে

>সহস্রধারা লেক ছাড়াও আরো দুই জায়গায় এভাবে ক্যাম্প করতে পারবেন

- সহস্রধারা লেক (ছোটদারোগার হাট)

সহস্রধারা ঝর্না এবং ট্রেইল পাবেন

-বাওয়াছড়া লেক/নীলাম্বর লেক (ছোট কমলদহ বাজার)

হাটুভাঙ্গা ঝর্ণা এবং ট্রেইল পাবেন লেকের ওপার,

লেকে বোট আছে এটায়

-খৈয়াছড়া (বড়তাকিয়া)

খৈয়াছড়া ঝর্ণা এবং ট্রেইল

আমার সাজেশন থাকবে সহস্রধারায়

  • লেকের পাশে অফিস রুম আছে, যেকোন পরিস্থিতিতে ওখানে থাকতে পারবেন। তাছাড়া সাইটটি ভালোই নিরাপদ মনে হলো। লোকালয় বেশি দূর না।
  • অফিস রুমে টাইলসের টয়লেট রয়েছে।
  • বারবিকিইউ করতে চাইলে আগে থেকে জানিয়ে রাখলে ব্যাবস্থা করে দিবে
  • বিদ্যুত নেই, তাই পাওয়ার ব্যাংক অবশ্যই নিবেন।

 

 ক্যাম্প সাইট নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে এবং বুকিং দিতে

সরওয়ার উদ্দিন: 01815-578093

[ক্যাম্পের সকল জিনিসপত্র যত্নসহকারে ব্যবহার করার অনুরোধ রইলো,যেন পরবর্তিতে অন্যরা ব্যবহার করার সুযোগ পায়]

[লেক,ঝর্ণা, পাহাড় নোংরা হয় এরকম কাজ থেকে বিরত থাকি]