ডাউকি বর্ডার, মুহিত ভাইয়ের ভিআইপি পাসপোর্ট ও ভ্রমণের প্রথম দিন

ডাউকি বর্ডার ধূলোয় ধূসর হয়ে আছে। চেয়ারে ধূলো, টেবিলে ধূলো, জামা-কাপড়-গাছের পাতায় ধূলো। হাতে-পায়ে, মাথায় ধূলো। বেলা দশটার মতো বাজে। আকাশ পরিস্কার। শীতের সকাল রোদে ঝলমল করছে। বাংলাদেশের সিলেট থেকে ভারতের মেঘালয়ে যেতে এই বর্ডারপোস্ট ব্যবহার করা হয়। বর্ডারের এপারে বাংলাদেশ-অংশের নাম তামাবিল। আর ওপারে ভারত-অংশের নাম ডাউকি। সিলেট অঞ্চল এমনিতেই সবুজের সমারোহে বড়ই মনোরম। মেঘালয়ের অপরূপ পাহাড়ে ঘেরা দিগন্ত এই সবুজকে আকাশেরর কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। কেবল ভাঙাচোরা রাস্তায় চলাচল করা পাথরবাহী সারি সারি লক্করঝক্কর ট্রাকের চাকায় যে ধূলোর কু-লী আমাদের চারপাশ কুয়াশাচ্ছন্ন করে রেখেছে সেটুকু না থাকলেই মেঘালয় ভ্রমণের এই প্রথম দিনটা আরো অপূর্ব হতে পারতো। কিন্তু উতলা হয়ে কোনো লাভ নেই, ভ্রমণে এই বিপত্তিগুলোও উপভোগ করতে হয়।

মিচ গাড়ি দাঁড় করালো ডাউকি বর্ডার পোস্টের একদম কাছে। একটা বট গাছের ছায়ায়। ঘড়িতে দশটা বাজে। এবার তারেক অণুকে ফোনে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করলাম। বিধি বাম! নেটওয়ার্ক নেই। মিচের ফোনেও নেটওয়াকের্র করুণ দশা - এই আসে এই যায়। এদিক ওদিক একটু হাঁটাহাঁটি করের নেটওয়ার্কের কোনো দেখা পেলাম না। ভারতীয় ফোনের সার্ভিস বর্ডারের কাছাকাছি এলেই এমন দূর্বল হয়ে যায়। হঠাৎ মাথায় এক বুদ্ধি এলো। ভাবলাম বাংলাদেশের সিমটা মোবাইলে ঢুকিয়ে দেখি তো চালু হয় কিনা! বাহ! সিমটা ঢুকিয়ে মোবাইল চালু করতেই ফুল নেটওয়ার্ক পেলাম। অণু ভাইয়ের সাথে কথা বললাম। বর্ডার কার্যক্রম শেষ করতে তাদের আরো সময় লাগবে। সুতরাং অপেক্ষার পালা শুরু হলো।

বর্ডার ইমিগ্রেশন অফিসের পথের দিকে চেয়ে চেয়ে পাক্কা দুই ঘণ্টা বসে রইলাম।

বেলা সাড়ে বারোটায় আমাদের ৮ জনের ভ্রমণ দলের ছয় জনের দেখা মিললো। (বাকি দুজন - তন্ময় কৈরী ও প্রণব কৈরী - ভিসা জটিলতায় আজকে আসতে পারছে না। আগমীকাল তারা আমাদের সাথে চেরাপুঞ্জিতে যোগ দেবে।) তারা পায়ে হেঁটে ভাঙা রাস্তাটুকু পাড় হয়ে এগিয়ে এলো। আমরা মিলিত হলাম। তারপর একটা ছোট্ট বাজারের মতো জায়গায় এসে দাঁড়ালাম।

অপু ভাই বেশ বিরক্ত। মুহিত ভাইয়ের ভিআইপি পাসপোর্ট নিয়ে কোনো জটিলতা দেখা দিয়েছে। আর সে কারণেই দুই বাল্যবন্ধু কৌতুকমিশ্রিত তর্কবানে একে অপরকে বিদ্ধ করে চলেছেন। দ্বৈপায়নদার চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ। নাদিম ভাই নির্বকার। অণুভাই বললেন, চলেন আমাদের ড্রাইভার সাহেবের সাথে সবাইকে পরিচয় করাই। সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিলাম মিচের সাথে।

কাস্টমসের কাজ এখনো বাকি। সুতরাং সব ব্যগপত্র নিয়ে চললাম কাস্টমসের অফিসে। চেকপোস্ট থেকে কাস্টমস অফিস তিনমিনিটের হাঁটা পথ। অফিস কক্ষ বলতে গেলে ফাঁকা। আমরা কজন ছাড়া আর কেউ নেই। ঢিলে ঢালা ভাব। ক্স্যানিং মেশিন বন্ধ ছিলো। আমরা ঢোকার পর শুরু হলো ফর্ম ফিলাপ পর্ব। তারপর লাইনে দাঁড়িয়ে একে একে সব ব্যাগ খুলে খুলে চেক করা হলো। সবাই ভালোয় ভালোয় উতরে গেলেও মুহিত আটকা পরে গেলা। একেতো বেচারা আমাদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে সিনিয়র। তার ওপর ন্যাশনাল ফিগার। পাসপোর্টে লাগানো ভিআইপি ভিসা। মুশকিল হলো চেকিং অফিসার জীবনে কোনোদিন ভিআইপি ভিসা দেখা নাই। ফলে অহেতুক নানা প্রশ্নবানে মুহিত ভাইকে জর্জরিত করছে। বেশ কিছুক্ষণ পর মুহিত ভাইয়ের পাসপোর্ট নিয়ে সে তার বসে কাছে গেলো এবং আরো অনেকক্ষন পর বিষন্ন মুখে ফিরে এলো। মনে হলো, অজ্ঞতার জন্য বস তার ওপর একটি স্বল্পকালীন ঘুর্ণিঝড় বইয়ে দিয়েছেন। আর সেই ঘুর্ণিঝড়ের প্রকোপে তার চুল উস্কখুস্ক, চোখ ঘোলাটে আর চোয়াল ঝুলে পড়েছে। এবার শুরু হলো মুহিত ভাইয়ের ব্যাগ চেক করার পালা।

চেকিং অফিসার মুহিত ভাইয়ের ব্যাগের কিছুই চিনতে পারছে না। বাইনোকুলার দেখে বলে, ‘এটা কী? আপনি এটা দিয়ে কী করেন? দেখি আপনার পাসপোর্টটা, কী পেশা লেখা আছে? ’ মুহিত ভাই রুমের ছাদের দিকে তাকিয়ে ফ্যানের পাঙ্খায় লাগানো ঝুলের বয়স ঠাহর করার চেষ্টা করছেন। এত গরমেও লোকগুলো কেন ফ্যান চালাচ্ছে না তিনি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না। চেকিং অফিসার এবার মুহিত ভাইয়ের ব্যাগ থেকে একটা লাল রং-এর বিশালাকৃতির ক্যাপসুল সাইজের ইলেক্ট্রিনিক বস্তু আবিস্কার করে উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। বস্তুটা একটা ছোট চালকুমড়ার মতো দেখতে। এমন আজব সাইজের গান শোনার স্পিকার আমিও আগে কখনো দেখিনি। বর্তমানে নানা অদ্ভূত অদ্ভূত আকৃতির দারুণ সব রিচার্জাবল স্পিকার বাজারে পাওয়া যায়। চেকিং অফিসার এবার এই বস্তুর কুষ্ঠি উদ্ধার করতে মুহিত ভাইকে একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছেন, ‘এটা কী, কোন্ দেশের, নতুন না পুরাতন, দাম কত...... ’। একদিকে অন্যান্য ভ্রমণসঙ্গীরা অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অপু ভাই। তিনি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ভিআইপি ভিসা সংক্রান্ত মুহিত ভাইয়ের গর্বভরা সব বাক্য এখন ডায়লগ আকারে আবৃত্তি করছেন। যাতে অন্তত মুহিত ভাইয়ের কান পর্যন্ত পৌঁছায়। অসহিষ্ণু সঙ্গীরা এতে ব্যাপক আনন্দ পাচ্ছে। বুঝতে পারছি এই বিমল আনন্দে কিছুটা হলেও সবার ক্ষুধা যন্ত্রণা লাঘব হচ্ছে। কিন্তু মুহিত ভাইয়ের ক্রোধ যন্ত্রণা এতে বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছিলো। আর দেরি না করে আমি আর তারেক অণু আগ বাড়িয়ে গিয়ে চেকিং অফিসারের সঙ্গে কথা বললাম। সমস্যার সমাধানও হওয়া দরকার। এই সময়ে চেকিং অফিসার মুহিত ভাইয়ের স্পিকার ছেড়ে সবেমাত্র ক্যামেরা প্রসঙ্গে জেরা শুরু করতে চলেছেন। অনেক বুঝিয়ে বলার পর, চেকিং অফিসার কী বুঝলো কে জানে, মুহিত ভাইকে বলল, ‘ঠিক আছে। ধন্যবাদ। চলে যান।’

আমরা সবাই হাফ ছেড়ে বাঁচলাম এবং দ্রুত গাড়ির দিকে ঠাঁটা শুরু করলাম। অপু ভাই হঠাৎ করে আমাকে বললেন, ‘আখতার ভাই, জানেন আমার প্রিয় গান কি?’ আমি উত্তর দেয়ার আগেই তিনি বললেন, ’ফান্দে পরিয়া বগা কান্দে.....এইটা আমার প্রিয় গান। আচ্ছা আমি কী আমার প্রিয় গানটার দুটো লাইন আপনাকে গেয়ে শোনাতে পারি? মনে বড় আনন্দ পেতাম তাহলে।.....’ আমি মুহিত ভাইয়ের দিকে এক ঝলক তাকাতেই বুঝতে পারলাম, এই মিছরির ছুড়ি কাকে রক্তাক্ত করে চলেছে। বললাম, “না ভাই , এখন গান না গাওয়াই ভালো। চলেন তাড়াতাড়ি দুটো ডাল-ভাত পেটে দেই। ফান্দে যে কে কখন পড়ে তার কোনো ঠিক নাই।”

চা খাওয়া দরকার। ইতমধ্যে মিচ সবার লাগেজ গাড়ির ছাদে বেঁধে ফেলেছে। দলের সবাই বেশ ক্লান্ত। তারা গতরাতে বাসজার্নি করে ঢাকা থেকে এসেছেন। দ্বৈপায়ন এসেছেন চট্টগ্রাম থেকে। আর আমিতো আগে থেকেই শিলং পৌঁছে গিয়েছিলাম।

বাজারের ছোট্ট চায়ের দোকানে চা অর্ডার করার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই চা পরিবেশন করা হলো। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলাম একটা বাজে। রওয়ানা হওয়ার আগেএক কাঠের দোকানে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। সাধারণ আইটেম, মাছ-মুরগী, সব্জি ভাজি আর ভাত। কিন্তু কী অসাধারণ স্বাদ! পরিচ্ছন্ন পরিবেশনা।

পাহাড় বেয়ে বেয়ে মাউলিনং গ্রামের পথেপাহাড় বেয়ে বেয়ে মাউলিনং গ্রামের পথে

আমাদের পরবর্তী গন্তব্য চল্লিশ কিলোমিটার দূরে এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম বলে খ্যাত ‘মাউলিনং’। যেতে ঘন্টা দুয়েক সময় লেগে যাবে। মিচেল বেশ আরাম করে পান চিবুতে চিবুতে গাড়ি চালাচ্ছে। জীবনে তার একটাই নেশা - পান। প্রতি ঘণ্টায় গোটা দশেক রসালো পান না খেতে পারলে তার মাথা খারাপ হয়ে যায়। গাড়ি চালাতে যেমন তেল বাধ্যতামূলক, মিচেলকে সুস্থ ও খোশমেজাজে রাখতে পানের ভূমিকাও তাই। গাড়ি পাহাড়ের অনেকটা উপর থেকেই চলছে। সিলেটের সমতল ভূমি, ধান খেত, পাংথুমাই, বিছনাকান্দি ইত্যাদি চোখে পড়লো। পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে তৈরি হওয়া ছোট্ট ঝিরি নদীর আঁকাবাঁকা রূপ মাঝে মাঝেই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। মনেহলো আমরা বাংলাদেশের মানচিত্রের কোল ঘেঁষে চলছি। বর্ডার পার হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা চলার পরও দেখলাম বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু আছে। কথপোকথন পরিস্কার বোঝা যায়। তারপর আমাদের রাস্তা সুপারি গাছের এক জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়লো। আমরা আর বাংলাদেশ দেখতে  পেলাম না।

শুনশান সুপারির অরণ্যের ভেতর থেকে চলছে আমাদের রাস্তাশুনশান সুপারির অরণ্যের ভেতর থেকে চলছে আমাদের রাস্তা

গাড়ি চলছে মাউলিনং গ্রামের দিকে। রাস্তার দুপাশে হাজার হাজার অগণিত সুপারি গাছ। দেখলে মনেহয় এই সুপারি-অরণ্য প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে ওঠা। কোনো সারি নেই, সীমানা নেই। জঙলের মতো বিশাল ব্যাপ্তি নিয়ে এলোমেলো গজিয়ে আছে। বাতাসেও যেন সুপারির ঘ্রাণই পাচ্ছিলাম। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে আমরা মাউলিনং গ্রামে পৌঁছে গেলাম। গ্রামের মূল ফটকের মিনিট পাঁচেক আগেই মিচেল গাড়ি থামালো রাস্তার বা পাশে। বলল, এখানে আমরা ব্যালেন্সড রক দেখবো। সবাই নামলাম। কী এই জিনিস? একটা ছোট গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। গেটের মুখেই এক শিশু দাঁড়িয়ে জনপ্রতি দশ টাকা করে টিকেট নিচ্ছে। আশেপাশে প্রচুর গাছগাছালি। মাঝখানে একটু খোলা জায়গার মাঝখানে বিশাল এক পাথর আরেকটা ছোট্ট পাথরের ওপর বিস্ময়কর ভারসাম্য বজায় রেখেদাঁড়িয়ে আছে। আমরা সবাই ছবি তুললাম পাথরের সাথে। একা একা, গ্রুপে, নানা ভঙ্গিমায়। এখানে পনের মিনিটের মতো সময় কাটিয়ে বেরিয়ে এলাম। তারপর একটু সামনে এগিয়েই বিখ্যাত মাউলিনং গ্রামের ফটক। ভেতরে ঢুকতেই ছোট উঠানের মতো একপ্রস্থ খোলা জায়গা। মিচেল এখানেই আমাদের নামিয়ে দিয়ে গাড়ি পার্ক করলো।

মাউলিনং গ্রামের শিশুরামাউলিনং গ্রামের শিশুরা

আমরা মাউলিনং গ্রামটি ঘুরে দেখলাম। সত্যিই পরিচ্ছন্ন। লক্ষ করলাম শিশুরা পর্যন্ত কোথাও এতটুকু ময়লা ফেলছে না। সর্বত্র ডাস্টবিন আছে। বয়স নির্বেশেষে সেখানেই সবাই ময়লা ফেলছে। সুতরাং গ্রামটি নোংরা হওয়ার কোনো সুযোগই থাকছে না। একজন বৃদ্ধার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, এই গ্রামটি পরিচ্ছন্ন রাখার মূল দায়িত্ব নাকি গ্রামের শিশুদের ওপরই ন্যাস্ত। কারণ এই শিশুরাই আগামী দিনে গ্রামের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করবে। তাদের সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন গ্রামবাসী। গ্রামের ঘরগুলো আকারে বেশ ছোট। তবুও প্রায় প্রতিটি ঘরের সামনে বাহারি ফুলের বাগান। নানা গাছপালায় সবুজ ছায়াঘেরা গ্রামখানি আমাদের খুব ভালো লেগে গেলো। লম্বা সরু সরু রাস্তা ধরে আমরা আশেপাশের এলাকা যতটা পারলাম ঘুরে দেখলাম ছবি তুললাম। একটা ছোট্ট চায়ের দোকানও পাওয়া গেলো। সবাই চা বিস্কুট খেলাম। তারপর আবার এগিয়ে চলা। এবার আমরা দেখতে যাবো আরেক আশ্চর্য প্রাকৃতিক নির্দশন - গাছের জীবন্ত শেকড়ের তৈরি প্রাকৃতিক সেতু।

রিওয়াই গ্রামের ঘর-বাড়িরিওয়াই গ্রামের ঘর-বাড়ি

জীবন্ত সেতুটি দেখার অভিজ্ঞতা বহুদিন স্মৃতিতে খোদাই হয়ে থাকবেজীবন্ত সেতুটি দেখার অভিজ্ঞতা বহুদিন স্মৃতিতে খোদাই হয়ে থাকবে

মাউলিনং গ্রাম থেকে রিওয়াই গ্রাম মিনিট বিশেক পথ। এই রিওয়াই গ্রামেই প্রাকৃতিক জীবন্ত শেকড়ের সেতুর অবস্থান। পাহাড়ি ঝর্ণার ফলে তৈরি এক বহমান ঝিরির ওপর এই সেতু। দুপাশের জীবন্ত গাছের শেকড় এমন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে এই সেতু তৈরি হয়ে আছে যে অনায়সে তিন চারজন মানুষ পাশাপাশি হেঁটে এই সেতু পাড় হতে পারবে। না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন যে প্রকৃতি কত ভাবে তার মহিমা প্রকাশ করতে পারে। আমরা দৈত্যাকার পাথুরে পথ ধরে কিছুটা ট্রেকিং করে বিশাল সব মহীরুহের গোড়ায় গিয়ে পৌঁছলাম। যাদের শিকড়গুলো দিয়েই শত শত বছর ধরে এই সেতু তৈরি হয়েছে। এই জীবন্ত সেতুটি দেখার অভিজ্ঞতা বহুদিন স্মৃতিতে খোদাই হয়ে থাকবে। মেঘালয় ট্যুরিজম বোর্ড সারা পৃথিবীর কাছে এই ব্রীজের কথা বেশ জোড়েসোড়ে প্রচার করে। মাঝপথে আমরা গ্রামের শিশুদের বিক্রি করা জাম্বুরা খেলাম। সবাইকে কলাপাতায় করে খেতে দিলো। বিকেলের হলুদ আলো ধীরে ধীরে নিভে এসেছে। সন্ধ্যা হয় হয়। এবার আমরা ফিরতি পথে সোজা রওয়ানা হলাম শিলং শহরের দিকে। মেঘালয়ের রাজধানী শিলং। আজ রাতে আমাদের অবস্থান শিলং শহর।  হোটেল ইয়ালানা।

(চলবে)

উত্তর-পূর্ব ভারতের ৪ রাজ্য ও হর্নবিল উৎসব ২য় পর্ব

উত্তর-পূর্ব ভারতের ৪ রাজ্য ও হর্নবিল উৎসব ১ম পর্ব