১৯৯০, এরশাদ নামবে নামবে করছে। বার্ষিক পরীক্ষা হবে না শুনে মন-রাজ্য আতশবাজির দখলে। বন্ধুর কাছে পেয়েগেলাম এক ভীষণ ভারী বই। পরিচিত হলাম 221B,বেকার স্ট্রিটের সাথে। ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত স্টাডি ওব স্কারলেটে'র শার্লক হোমস আর ডাঃ ওয়াটসনের দেখা পেলাম ১৯৯০ এর কুয়াশাছন্ন ভূতুড়ে রাতে এসে। সেই '৯০ থেকেই 221B, বেকার স্ট্রিট আমার কাছে অনন্য এক গন্তব্য।

221B, বেকার স্ট্রিট পুরো পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিখ্যাত ঠিকানা। এখনও ভক্তদের থেকে অন্তত চল্লিশ খানা চিঠি আসে প্রতি সপ্তাহে । যত্নকরে পড়ে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে উত্তরও দেয়া হয় সেগুলোর।

চিঠিচিঠি

 সেকেন্ড এ্যাংলো আফগান যুদ্ধ থেকে ফেরা হোমসের গোয়েন্দাগিরির পট তৈরি হয়েছিল ১৮৮১ সালে কিন্তু এই ২০১৭ সালেও সেই নিখুঁত গল্প গাঁথুনি এতোটা হৃদয়গ্রাহী রয়েছে যা কল্পনাতীত। প্রথম প্রকাশের পরে মোটেও জনপ্রিয় হয়নি কিন্তু, বছর দুয়েক পরে ম্যাগাজিনের পাতায় এসে বৃটেনের ঘরে ঘরে সমাদৃত হয় শার্লক হোমস। স্যার আর্থার কোনান ডোয়েলের সৃষ্ট চরিত্র শার্লক হোমস ও হোমসের সেই অনবদ্য গল্পকার চিকিৎসক বন্ধু ওয়াটসন যে সত্যিই ছিলেন কি না তা নিয়ে চলেছে নানান গবেষণা। স্বয়ং ইংল্যান্ডের বাসিন্দাদেরই একটা বিশাল অংশ মনে করে যে শার্লক কেবলই একটি গোয়েন্দা গল্পের চরিত্র নয়, লন্ডন শহরের বেকার স্টিট ধরে হয়তো হোমসের পদচারণা ছিল কোন এক সময়। ডোয়েলের লেখা গল্পের সার্থকতা এখানেই।

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

জাদুঘরজাদুঘর

 

লন্ডন শহরের মে ফেয়ারে কাজ সেরে সোজা চলে গেলাম বেকার স্ট্রিটে। ভেতরে প্রবল উত্তেজনা টের পাচ্ছি। একটু এগোচ্ছি আর শার্লকের কান্ড কারখানা মাথায় আসছে। স্টাডি অব স্কারলেট,সাইন অব ফোর, বাস্কারভিল, ভ্যালি অব ফিয়ার সবই মাথায় আসতে শুরু করলো। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেছি একেবারে 221B, বেকার স্ট্রিট! কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম মিসেস হাডসনের ভাড়াটে হোমসের বাড়ির দরজায়। দুনিয়ার নানা কোণ থেকে এসেছে হোমস ভক্ত অনেকেই। শার্লক হোমস ১৮৮১ থেকে ১৯০৪ পর্যন্ত এই ঠিকানাতেই থেকেছেন আর করে গেছেন লোমহর্ষক সব ঘটনার অবিশ্বাস্য সমাধান এমনটাই আঁকা রয়েছে হোমসের কাহিনিতে। এ ঠিকানাতেই স্থাপিত হয়েছে শার্লোক হোমস জাদুঘর। উপন্যাসে বর্নীত হোমসের ঘরের মতো করেই সাজানো হয়েছে প্রত্যেকটি আসবাব ও অন্যান্য জিনিস পত্র। ২৩ বছরের গোয়েন্দাগিরিতে মাঝপথে হোমসকে একবার মেরে ফেলেছিলেন ডোয়েল ১৮৯৩ সালে। মাস্টার মাইন্ড প্রফেসর জেমস মরিয়ার্টির হাতে নিহত হয়েছিলেন শার্লক হোমস। মিউজিয়ামে উল্লেখ দেখলাম, সেই সময়টিতে বৃটেন জুড়ে চরম হাহাকার! লাখ লাখ চিঠি আসা শুরু করেছে, সবাই মর্মাহত আর হতাশায় ডুবে গেছে হোমসের বিদায়ে। ডোয়েলের উপর অব্যহত চাপে ৮ বছর পরে উনি বাধ্য হলেন হোমসকে ফিরিয়ে আনতে। বৃটেন জুড়ে সে এক আনন্দ অভ্যুত্থান!

লেখকলেখক

 

লেখকলেখক

 

লেখকলেখক

পুরো বেকার স্ট্রিট জুড়ে যা কিছু আছে সবই হোমসের নামে। শার্লক হোমস কেবল ইংল্যান্ডেই নয় পুরো পৃথিবীতেই এক অনন্য চরিত্র। হোমসের বাড়ি ঘুরে যে রোমাঞ্চ নিয়ে ফিরলাম তা আমার পুরো জীবনের শ্রেষ্ঠতম! যে হোমস আমার শৈশব কৈশোরে মনজুড়ে ছিল তা যে কখন আমার পুরো জীবনেই এক রকম সাহস আর আত্নবিশ্বাস হয়ে আছে তা বুঝলাম হোমসের ঘর থেকে পথ হাঁটতে হাঁটতে।

হিরো শার্লক হোমসের সান্নিধ্যে