দলের সামনে নিক। কিছুক্ষন পরে হঠাৎ থেমে ঘুরে আমাদের দিকে ফিরে বললো,

-"এখন আমাদের পাহাড় বেয়ে বেশ খানিকটা পথ উপর নিচ করতে হবে। পিঠে জিনিসপত্র বোঝাই ব্যাকপ্যাক নিয়ে চলার সময় এখানে ওনেকেই তাল হারিয়ে ফেলে। তাই সময় নিয়ে আস্তে আস্তে আসো।"

 

Naved Naved

ছবিঃ ম্যাপে দেখে নিচ্ছি আমাদের অবস্থান।

বেশ খানিকখন চড়াই পার হবার পর আবার ঢাল বেয়ে নামা শুরু হলো । সাবধানে ভারী ব্যাগ সামলে নামতে লাগলাম সবাই। ঢালের গোড়ায় এসে চারিদিকে তাকিয়ে দেখি সারি সারি গাছপালার ফাক দিয়ে দেখা যাচ্ছে এক টুকরো ঘাসে ছাওয়া জায়গা। কানে ভেসে আসলো বেগমান স্রোতের গর্জন। চলে এসেছি ক্যাম্পিং -এর জায়গায়।

 

Naved
ছবিঃ ক্যাম্পগ্রাউন্ডে নেমে আসার আগে কিঞ্চিত ফটোসেশান।Naved

 

Naved
ছবিঃ ইফেং নেমে আসছে শেষ অংশ বেয়ে।Naved

এক জায়গায় সব ব্যাগ জড়ো করে এগিয়ে গেলাম রেড ক্রিকের দিকে। গাছের সারি পেরিয়ে বড় বড় পাথরের চাই । আর সেগুলোর ফাক গলে প্রবল গর্জনে বয়ে চলেছে রেড ক্রিক। লাল পানির খাঁড়ি। অপূর্ব এক দৃশ্য। ক্যামেরাটা বের করে কিছুক্ষন রেকর্ড করে নিলাম সেই দৃশ্য।

ভিডিওঃ রেড ক্রিক

খেয়াল করিনি কখন নিক পাশে এসে দাড়িয়েছে। বললো,

- "আজকে এই স্রোত পার হওয়া সম্ভব না। সাধারনত হাতে হাত ধরে মানবসেতু বানিয়ে এই খাড়ি পার হতে হয়। কিন্তু এখন যা স্রোত তাতে তাও সম্ভব না। আমাদের পরিকল্পনা ছিল খাড়ির ওপারের আউটলুকে যাওয়া। খুবি সুন্দর দৃশ্য দেখা যায় উচু যায়গা থেকে। তোমাদের কপাল খারাপ এবারে হবে না।"

কি আর করা । ফিরে গিয়ে ব্যাগ থেকে জিনিসপত্র বের করতে লাগলাম। এখন তাবু খাটানোর পালা। দেখি এইবারের যাত্রায় যে তাবুগুলো খাটানো হলো সেগুলো এপালাচিয়ান ট্রেইলে যে তাবুগুলোতে ছিলাম তার থেকে ভিন্ন। এগুলোতে দরজা-জানালার বালাই নেই। শুধু খুটির উপর তেরপল দিয়ে খাড়া করে রাখা। চারটা তাবু গাড়া হলো। এবার রান্নার জোগাড়যন্ত্র শুরু, তেরিজিয়া দেখি স্প্যাগেটি আর মাংস রান্নার যোগাড়যন্ত্র ক্করে ফেলেছে। নদী থেকে পানি এনে তা দিয়ে ফুটিয়ে নেওয়া হলো। এরি মধ্যে শুরু হলো তোড়জোড়ে বৃষ্টি। এর মধ্যেই রান্না শেষ হলো। সবাই সিন্থেটিক কাপড় পড়ে এসেছি যাতে গায়ে পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়। একমাত্র এন্থনি দেখলাম সুতির কাপড় পড়ে ঘুরছে । ঠান্ডা না লেগে যায় না। হলোও তাই কিছুক্ষন পরেই তার শুরু হলো থেকে থেকে হাঁচি।


Naved Naved

Naved
ছবিঃ আমাদের রাত্রির অস্থায়ী আবাসন।Naved

খাবার দাবার সেরে এবার আমরা বেরোলাম দ্বিতীয় হাইকিং এ। লাল পানির এই স্রোতধারা আসলে শুধু রেড ক্রিকেই সীমাবদ্ধ নয়। এই এলাকা জুড়ে যত ছোটখাট ঝর্ণা বা জলাশয় আছে সব লাল। কেন ? সে কথায় আসছি পরে। পাথুরে খাল আর চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এগোতে লাগলাম সবাই। ভেজা মাটিতে হাইকিং বুট ছাড়া চলার কথা চিন্তাই করা যায় না। মনে মনে নিজেকে ধন্যবাদ দিলাম রেক সেন্টার থেকে মনে করে নিয়ে নেবার জন্য। সামনে তেরেজিয়া পথ দেখিয়ে চলেছে। বেশ কিছুক্ষন যাত্রার পরে হঠাত বামে ঝোপঝাড় ভেদ করে চোখের সামনে আবির্ভূত হলো অপূর্ব এক ঝর্না। লাল পানির স্রোত বয়ে চলেছে।

ভিডিওঃ নামহীন এক লাল পানির ঝর্না

 

- "এই বনাঞ্চলের প্রধান গাছ হলো কনিফেরাস জাতীয় (coniferous) । ব্লাক স্প্রুস গাছের প্রাচুর্য এখানে। এই গাছের পাতা যখন পানিতে ঝরে পড়ে। চা-য়ের মতো পানিকে রাঙিয়ে দেয়।" তেরেজিয়া ব্যাখ্যা করে। ব্ল্যাক স্প্রুস এর পাতা চা-পাতা হিসেবেও ব্যবহৃত হয় পরে জেনেছি।
- "এই ঝর্নার কোন নাম আছে?" । জিজ্ঞেস করি আমি। 
- "না।" জবাব দেয় তেরেজিয়া।
- "তাহলে আমরা নাম দিলাম চা-ঝর্না"। আমি বলি। সে হেসে দেয়। 
- "এখানে কাছেই আরেকটা খাড়ি আছে যেটার নাম আসলেই টী ক্রীক বা চায়ের খাড়ি।" 
কিছুক্ষন এর পাড়ে বসে এবার ফেরত যাওয়া শুরু করি আমরা। ক্যাম্পে ফিরে সিদ্ধান্ত যেহেতু নদী পার হওইয়া সম্ভব না এবারের যাত্রায় তাই ক্যাম্পে রাত কাটিয়ে পরের দিন সকালের নাস্তা সেরে ফেরত যাবো গাড়ির উদ্দেশ্যে। এরি মধ্যে বেশ অন্ধকার নেমে এসেছে। সেই সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ঝরেই ছলেছে। এর মধ্যেই আমরা সবাই মিলে ক্যাম্পফায়ার জ্বালিয়ে ফেললাম। বনের ভেতর বেজায় শীত। আগুন ছাড়া টিকে থাকা মুশকিল। ইফেং এর দেখলাম উৎসাহ নিয়ে আশপাশ থেকে কাঠ জোগাড় করে আনছে কিছুক্ষন পর পর আর আগুন উস্কে দিচ্ছে। না হলে নিভে যেত অনেক আগেই। আমিও চেষ্টা করলাম ওকে সাহায্য করতে। সন্ধ্যা নেমে আসলে রাতের খাবার সেরে নিলাম ক্যাম্পের আগুনে। তারপর শুরু হলো আগুন ঘিরে আড্ডা।

 

Naved
ছবিঃ একটু উষ্ণতার জন্য।Naved

হঠাৎ তেরেজিয়া আয়ানকে ফস করে জিজ্ঞেস করে বসলো - 
-"তোমার পিএইডি কিসের উপর?" আর যায় কোথায়। ঝাড়া দশ মিনিট শুনতে হলো আয়ানের জ্ঞানতত্ত্ব বিষয়ক ডিসার্টেশনের খুটিনাটি। তেরেজিয়ার মুখ থমথমে। আমি মনে মনে দাঁত কিড়মিড় করছি। বেটি আর প্রশ্ন করার বিষয় পাইলি না। সারাদিন খাটনি শেষে এই বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে এসব শুনতে কার ভালো লাগে? ওদিকে এন্থনি দেখি খুব মাথা নেড়ে সব বুঝে ফেলেছে এমন ভাব দেখাচ্ছে। মনে মনে বলি আমার হিন্দি চুলটা বুজছো তুমি। আয়ানের পর্ব শেষ হলে নিক শুরু করলো তার এর আগের ডলি সডসে আসার অভিজ্ঞতা-

- "বেশ কয়েকবার এর আগে আসা হলেও সবচেয়ে ভয়ানক অভিজ্ঞতা হয়েছিলো পড়েছিলাম এইরকম হারিকেনের বিপদবার্তা থাকা অবস্থায় ব্যাকপ্যাকিং-এ এসে। রাতের মধ্যেই রেড ক্রিকের পানি এত বেড়ে গেছিলো যে পুরো ক্যাম্পিং গ্রাউন্ড পানিতে সয়লাব । ভোর হতেই সিদ্ধান্ত নিলাম আর থাকলে পানিতে ডুবে মরতে হবে। তাড়াতাড়ি সব গুছিয়ে নিয়ে রোনা দিলাম গাড়ির উদ্দেশ্যে। কিন্তু মাঝপথে দেখি খালের পানি বেড়ে গিয়ে ফেরত যাবার পথও বন্ধ হয়ে গেছে। সবসময় ক্যাম্পিং এ গেলে আমাদের কাছে স্যাটেলাইট ফোন থাকে। এবারো আছে। তবে আশা করি ব্যবহার করতে হবে না। যাহোক, তখন ফোন দিলাম অফিসে। কিন্তু কানেকশান পাওয়া যাচ্ছিলো না দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার জন্য। উপায়ান্তর না দেখে উচু জায়গায় উথে পানি নামার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। পানি বাড়তে বাড়তে সৌভাগ্যজনকভাবে দুপুরের দিকে হঠাৎ পানি নেমে যেতে লাগলো। মোটামোটি অগভীর জায়গা খুজে নিয়ে সেখান দিয়ে আমরা পার হয়ে যাই। বড় বাচা বেচে গেছিলাম সে সময়।"

ঘুমানোর তোড়জোড় শুরু হলো। রাতে যদি বের হওয়া লাগে তার জন্য সবার তাবুতে একটা করে ফ্ল্যাশলাইট রাখা হলো। কনকনে ঠান্ডা হলেও একবার স্লিপিং ব্যাগের মধ্যে শরীরটাকে ঢুকিয়ে চেন টেনে দিলে শরীর বেশ গরম থাকে তাই তেমন সমস্যা হলো না। শুয়ে আছি। তাবুর উপর অনবরত বৃষ্টির ফোটার আঘাতের শব্দ। সেই সাথে তিনদিক থেকে ভেসে আসছে রেড ক্রীকের প্রবল স্রোতের শব্দ। চোখ বন্ধ করে থাকলে মনে হয় যেন মাথার উপর ফুল স্পিডে ফ্যান ঘুরছে আর তার থেকে শো শো শব্দ হচ্ছে। এই তাবুতে আছি আমি আর ইফেং। শুয়ে শুয়ে চেয়ে দেখি সে ফ্ল্যাসলাইটের আলো স্লিপিং ব্যাগের ভিতর ঢুকিয়ে বই পড়ছে। দারুন পড়ুয়ে মেয়ে ত! ক্যাম্পিং এও পড়ার জন্য মনে করে বই নিয়ে এসেছে। একনাগাড়ে স্রোতের শব্দ শুনতে শুনতে কখন দূচোখ বন্ধ হয়ে গেল জানি না।

হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। ঘন অন্ধকার। কটা বাজে বোঝার উপায় নেই। ফোনের চার্জ শেষ। তাকিয়ে দেখি ইফেং ঘুমিয়ে পড়েছে। ওর পাশে রাখা ফ্লাশলাইটটা তুলে নিলাম। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি এখনো পড়ে চলেছে। থেমে নেই। তাবু থেকে বেরিয়ে এলাম। প্রকৃতি ডাকিতেছে। কাজ সারতে হবে ক্যাম্পগ্রাউন্ডের একটু বাইরে গিয়ে। ফ্ল্যাশলাইটের আলোর জোর কম। হাত-দুইয়ের বেশী দেখা যায় না। ক্যাম্পের আগুন নিভে গেছে অনেক আগেই। জায়গাটা পাশ কাটিয়ে এগিয়ে গেলাম। দুটো আলাদা জায়গায় চারটা তাবু গাড়া হয়েছে। এর মাঝখান দিয়ে চলে গেছে বনের দিকে রাস্তা। দ্বিতীয় ক্যাম্প সাইটের দিকে আগাতে লাগলাম। শহুরে মানুষের পক্ষে জংগলের আঁধার কি তা অনুভব করা মুশকিল। চিন্তা করুন আপনি চোখ খুলে আছেন কিন্তু যেন চোখের সামনে কালো পর্দা ফেলে রাখা হয়েছে। আপনি চেষ্টা করছেন কিন্তু এতটুকু আলোর দেখা পাচ্ছেন না। বাজে রকম একটা মানসিক ধাক্কা লাগে এরকম সময়। ছোটবেলায় মনে আছে টেকনাফের সমুদ্রসৈকতে গিয়ে এরকম অন্ধকার অনুভব করেছিলাম প্রথম। সেদিনও আজকের মত মেঘলা। আকাশে তারার আলোও ছিলো না দিক চেনাবার জন্য। নিশ্ছিদ্র অন্ধকার যাকে বলে।

যাহোক, এক জায়গায় সব পু-কিট মাটিতে রাখা আছে পানি ফিল্টারিং ইউনিটের পাশে। একটা তুলে নিলাম। জঙ্গলের দিকে আগাতে লাগলাম। নদীর গর্জন ছাড়া অন্য কোন শব্দ নেই। এই জংগলে কি কোন নিশাচর প্রাণী নেই নাকি ? অবশ্য নিক বলেছিলো ভালুকের প্রাদুর্ভাব ঘটে মাঝেসাঝে। তাই বেশী দূরে না যাওয়াই ভালো। একটু ঝোপঝাড় ঘেরা নরম মাটি-ওয়ালা জায়গা খুজছি। বেশ খানিকটা এগোনোর পর মনে হলো জায়গা মতো পৌছে গেছি। কিট থেকে শাবল বের করে মাটিতে চাড় দিয়ে দেখি সহজে উঠে আসচ্ছে। আর ঝামেলা নেই। মোটামোটি গর্ত খুড়ে ফেল্লাম। না আতংকিত পাঠক ভয় নেই। এর থেকে বেশী বর্ণনায় যাচ্ছি না। কাজ সেরে ফেরত যাবার রাস্তা ধরলাম। কিছুদুর আগানোর পর হঠাৎ সামনে রাস্তার বদলে গাছের সারি । তাহলে কি পথ ভুল করলাম? অন্ধকারে কোন কিছু ঠাহর করা যাচ্ছে না। গাছটাকে পাশে ফেলে আগালাম। মনে হচ্ছে পানির গর্জন বাড়ছে। তারমানে আমি খাড়ির দিকে আগাচ্ছি। মুশকিল। ভুলে খাড়িতে পড়ে গেলে আর ফিরতে হবে না। সলিল সমাধি। দিক পরব্বর্তন করলাম। আন্দাজে ঠিক করলাম খাড়ি ধরে পাশাপাশি আগাই, তাহ্লে অন্তত্য ক্যাম্পগ্রাউন্ডের কাছাকাছি চলে যাওয়া যাবে। তারপর দেখা যাক।

কিছুক্ষন আগাতেই ফ্ল্যাশলাইটের আলোতে দূরে কি যেন চকচক করে উঠলো। কাচের বোতল নাকি ? তাহলে ত ওদিকেই ক্যাম্পগ্রাউন্ড হবে। উৎসাহ নিয়ে আগাতে লাগলাম। কাছে গিয়ে দেখি পুরোনো একটা বোতলের ধাতব ছিপি আলোতে চকচক করছে। তাহলে কি এখনো ক্যাম্পগ্রাউন্ডে আসিনি ? চারিদিকে ফ্ল্যাসলাইটের আলো ঘুরালাম। ঐ ত দ্বিতীয় ক্যাম্প ! যাক আর চিন্তা নেই । পথ খুজে নিয়ে ফিরে আসলাম নিজের তাবুতে।

সকালে ঘুম ভেঙে দেখি নিক এবং আরো কজন ইতিমধ্যেই উঠে পড়েছে। হট কোকো আর ম্যাকারনি দিয়ে নাস্তা সেরে তাবু গুটানোর কাজে লেগে গেলাম। জিনিসপত্র ভাগাভাগি করে ব্যাকপ্যাকে ভরে নিলাম সবাই। রাতে আর জোর বৃষ্টি না হওইয়ায় খাড়ির পানি আর বাড়েনি। তবে বেশ ফুলে ফেপে উঠেছে ইতিমধ্যেই। আর দেরি করা যায় না। পা চালালাম সবাই গাড়ির উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ হাইকিং শেষে ট্রেইলার ব্যাগ ভরে গাড়িতে উঠে পড়লাম সবাই। গন্তব্য মরগানটাউন। তবে ফেরার পথে পড়ছে ব্ল্যাকওয়াটার ফলস। তাই সেখানে না থামলেই নয়!

টাকার কাউন্টিতে অবস্থিত ব্ল্যাকওয়াটার স্টেট পার্কের প্রধানতম আকর্ষন ব্ল্যাকওয়াটার ফলস বা কালো পানির জলপ্রপাত। ব্ল্যাকওয়াটার নদী এক জায়গায় এসে প্রায় ৬২ ফিট নেমে গেছে খাড়া। এই অংগরাজ্যে মাটির উপরে অবস্থিত যত জলপ্রপাত আছে তার মধ্যে এইটাই সবচেয়ে উচু। যেখান থেকে জল গড়িয়ে পড়ে ঠিক সেই খাদের মাঝখানে বড় একটা পাথর স্রোতকে দুভাগে ভাগ করে দিয়েছে। ব্যাপারটা এতটাই বৈশিষ্ট্যপূর্ন যে এটা দেখেই প্রপাতটাকে চিনে ফেলা যায়। শীতকালে আরেক সৌন্দর্য্য। বেশীরভাগ সময়ি জমে বরফ হয় যায় পুরো প্রপাত। গাড়ী থেকে নেমে একটু এগোতেই দেখলাম থাকে থাকে সিড়ি নেমে গেছে বহুদূর। একবারে প্রপাতের কিনার পর্যন্ত। নামতে লাগলাম ধীরে ধীরে সবাই মিলে। অসংখ্য ধাপ শেষে প্রপাতের কিনারায় এসে হাটার কষ্ট ভুলে গেলাম। অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে ক্রমাগত ঝরে চলেছে ব্ল্যাকওয়াটার জলপ্রপাত। ভিডিও করে নিলাম এই বিমুগ্ধকর দৃশ্য। লাল পানির কারন ত জানলাম আমরা। কিন্তু কালো পানির কারন কি? কারন প্রায় একই। উদ্ভিজ্জ কষ মিশে পানির রং বদলে গেছে।

ভিডিওঃ ব্ল্যাকওয়াটারস ফলস!

অপরূপ জলধারার পাশে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে ফিরে আসলাম উপরে। দুপুরের খাবার সেরে নিলাম বেঞ্ছিতে বসে। গাড়িতে উঠে রওনা দিলাম মরগান্টাউনের দিকে।

 

লোহিত খাঁড়ি আর কৃষ্ণ নদীর গল্প (পর্ব-১)