আমাকে কেউ যদি কখনো জিজ্ঞেস করে দেশের সবচাইতে সুন্দর জয়গা কোনটা... আমি মনে হয় চোখ বন্ধ করে বলবো সেটা হল পার্বত্য চট্টগ্রাম বিশেষত বান্দরবান। তিনটা পার্বত্য জেলার মধ্যে ট্যুরিস্টরা যেসব জায়গা যায় বা যেতে পারে তার বেশিরভাগটাই এ জেলাতে।  বান্দরবানের মূল শহর থেকে তিনটি উপজেলাতে যাওয়া যায়, রুমা, থানচি আর রোয়াংছড়ি।কেউক্রাডং, তাজিনডং, বা হাল আমলের ক্রেজ নাফাখুম, আমিয়াখুম সবই এ তিনটি উপজেলায়।কিন্তু ইদানিং সিকিউরিটি জনিত বহুত হাবিজিাবি ব্যাপারের জন্য ওসবদিকে যাওয়াটা রীতিমতো বিরক্তিকর হয়ে পড়েছে। কিন্তু যারা ঘোরাঘুরি করে তাদের জন্য নতুন লোকেশন বের করা কঠিন কিছু না। এবারে আমদের গন্তব্যবান্দরবানের সবচাইতে unexplored উপজেলা গুলোর একটা... আলিকদম।

Pronob Roy ChowdhuryPronob Roy Chowdhury

ট্যুরের প্ল্যান খুব সিম্পল। আমরা যাবো আলিকদমের এক পাহাড়চুড়ায়। ওখানেই রাত থাকবো। এ জায়গাটা যারা ক্যাম্প করে থাকতে চায় তাদের জন্য এককথায় অসাধারণ।এখন হলো ট্যুরমেট জোগাড় করার কাজ। আমার যাদের সাথে যাবার কথা ছিলো এক সপ্তাহ আগেই কিন্তু বিশেষ কারণেযেতে পারিনি। তবে ঘোরাঘুরির জন্য পোলাপানের অভাব কোনকালেই হয়নি!  বন্ধু অনুপ আসবে ঢাকা থেকে, আর চিটাগং থেকে আমি,  ভাইরাভাই কাম বন্ধ দেবু,  আর ওর দুজন কলিগ যাবে। এ ধরণের ট্যুরে খুব বেশি লোকজন অপ্রয়োজনীয়!  প্ল্যান হলো সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখ যাবো আমরা। অনুপ আগের রাতে সরাসরি চকরিয়া চলে আসবে বাকি আমরা চিটাগং থেকে পরদিন দেখা হব।

২৮ তারিখ সকালে ৬ টার সময় ফোনের যন্ত্রণায় ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠে গেছিলাম। অনুপ সমানে ফোন দিয়ে যাচ্ছে কারণ সে অলরেডি আলিকদম পৌছে গেছে। আমরা এখনো রওনাই হতে পারিনাই। দেবুরে কইলাম তাড়াতাড়ি বের হ, সে আমার বাসার নিচে চলে এসে ফোন দিছে। ছোটভাইয়ের গতবার আমেরিকা থেকে আসার সময় টেন্ট নিয়ে এসছে গিফট হিসেবে। ওটা নিয়ে নিচে নেমে দেখি দেবুর দুজন কলিগের একজন এসছে। ট্যুরে এসব ঘটেই। আগের রাতে নাকি তারও আসার প্ল্যান বাতিল হয়ে গেছিলো কিন্তু কি ভেবে সকালে চলে এসেছে। সে যাই হোক আমরা তিনজন কর্নফুলি ব্রীজের গোড়ায় পৌছতে পৌছতে সকাল ৮ টা বাজে। কক্সবাজারের বাসে ওঠার আগে তিনজন বসে চা খেতে খেতে কথা বলছিলাম। দেবুর সাথে অনেকদিন পর ট্যুরে যাচ্ছি আর ওর কলিগ ( নাম হলো রাজ)  খুবই মজার একটা ছেলে। আমার অনেকদিনের ঘোরাঘুরির একটা অভিজ্ঞতা হলো প্রতিবার নতুন কোন সদস্য থাকে। একই রকম গ্রুপ দুটো ট্রিপ করেছি এমন কখনো হয়নি।

Pronob Roy ChowdhuryPronob Roy Chowdhury

চকরিয়া পৌছতে পৌছতে বেলা ১২ টা। এখন চাঁদের গাড়ি তথা জিপে যাবো আলিকদম। তবে চান্দের গাড়ি পাইনি।আমরা পেয়েছিলাম মাইক্রোবাস। রওনা হতে হতে দুপুর একটা বাজে। অনুপের ফোনের যন্ত্রণায় মাথা নস্ট অবস্থা! চকরিয়া থেকে আলিকদম যাবার রাস্তাটা এককথায় অসাধারণসুন্দর। খুব বেশি উঁচু নিচু না। মাঝে একজায়গা গাড়ি দাড়াইছে। চা খেতে খেতে নিচের দিকে তাকাচ্ছি। বেশ খানিকটা উপরে উঠেছি মনে হচ্ছে।মনে কেমন যেনো একটা উত্তেজনা বোধ করছি!  অনেকদিন পরে পাহাড়ে যাচ্ছি তাও ক্যাম্পিং এ। নতুন জায়গা দেখার মধ্যে অদ্ভুত মজা আছে এটা বোধকরি মানুষের একদম মজ্জাগত একটা ব্যাপার!

আলিকদম যাবার অল্প কিছুটা আগে আবাসিক নামে একটা জায়গা আছে। ওখানেই নামতে হবে। আমারা দূর থেকে দেখছি অনুপ বিরক্তমুখে দাড়িয়ে আছে রাস্তার উপরে! ৭ ঘন্টা এমন আকাইম্মা জায়গাতে বসে থাকার জন্য মানসিকভাবে কতট শক্ত হতে হয় সেটা অনুপকে দেখে বোঝার চেস্টা করছি! আমরা নামার সাথে সাথে অনুপ মনে হয় বুকে একটু প্রাণ ফিরে পাইছে। এটাএকটা ছোটখাটো ধরনের বাজার। সে একটা কাজের কাজ করেছে (তবে সত্যিকার অকাজের) । রাতেখাবার জন্য নুডলস, বিস্কিট, পানি এসবনিয়ে রেখেছে। রাতে আগুন জ্বালানোর জন্য পেনস্টোভ নিয়ে এসছে।এখন কেরোসিন নিতে হবে। শুক্রবার দুপুর সময়। বেশিরভাগ দোকান বন্ধ।এক দোকানদারকে ফোন করে কেরোসিন নেয়া হলো। এখন রওনা দিবো। দুপুরে একটু খাওয়াদাওয়া করবো কিন্তু অনুপের বিরক্তি দেখে আর সাহস হয়নি বলার! ওর মতে নাকি একবেলা না খেলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না!  তবে ক্ষিদাও অতো নেই মাঝেআমাদের কলা, বিস্কিট, চা অনেক পরিমানে খাওয়া হয়েছে।

Pronob Roy ChowdhuryPronob Roy Chowdhury

আবাসিক এলাকা থেকে ডানদিকে কিছুটা সমতল পথ হেঁটে পাহাড়ের একদম নিচে পৌছে গেছি।যাবার সময় বেশ কিছু পাহাড়ি পরিবার। আমরা একটা স্পেশাল জিনিস নিয়েনিয়েছি এখান থেকে!এখানে ওঠার সবচাইতে কঠিন বেপারটা হোলো সবকিছু নিচ থেকে নিয়ে উঠতে হয়। মাঝে কিছু পাওয়া যাবেনা আমরা মোট ১০ লিটার পানি নিয়েছি।একরাতের জন্য মনে হয়েছে যথেস্ট ( কিন্তু আদতে তা ছিলো না) ।  নিচ থেকে ওঠা শুরু করেছি আমরা। দেবু হলো আমাদের মধ্যে প্রফেশনাল ট্রেকার। সে এতোবেশি পাহাড়ে এসেছে...আমরা বলি অনেকটা ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করতে করতে পাহাড়ে আসার মতন বেপার। তার লক্ষ্য অবশ্য হিমালয়ের সাদা পাহাড় জয়করা... ইতিমধ্যে সে বেশ কয়েকটা হিমালয়ের পিক সামিট ও করে এসেছে। অনুপের কথাযদি বলি সেও বেশ ভালো ট্রেকার।অন্নপূর্না বেস ক্যাম্পে দেবুদের সাথে ছিলো। সেগুলো অনেক বিশাল কাহিনী!অনুপ নিজেকে অবশ্য প্রফেশনাল ট্রেকার হিসেবে পরিচয় দিতে চায়... আমরা সে স্বীকৃকি কখনোই দেইনা তাকে! আর এখানে দেবু অনেকবছর আগে এসেছে, অনুপ কিছুদিন আগেই এই জায়গায় ক্যাম্প করেছে। তাই বাই ডিফল্ট আমাদের গাইড হিসেবে আছে!   সে তুলনায় আমি মূলত ট্রেকার না... ট্যুরিস্ট বলা যেতেপারে। সময়ের অভাবে আমি অনেকগুলো জায়গাতেই যেতে পারিনা। রাজ ছেলেটা বলতে গেলে একেবারেই এ লাইনে নতুন! সে মনে হয় দ্বিতীয়বারের মতন এসেছেপাহাড়ে। তবে ছেলেটার একটা জিনিস বেশি ভালো লেগেছে, সে আমার মতোন পুরোপুরিলেভেলের চা পাগল। আমরা চান্স পেলেই কোন জায়গায় চা খাওয়ার জন্য বসে যাই।

 

উপরে উঠার ১০ মিনিট পরেই আমি পুরা টায়ার্ড ফিল করছিলাম! ব্যাগে টেন্ট আর ৪ লিটার পানি। কাপড়চোপড় তেমন নাই। তাপরেও বেশ ভারি বোধ হচ্ছে। আর পথটা যে কিরকম মানে মনে হচ্ছে একটানে উঠে গেছে উপরে। স্লোপ হিসেবে বলতে গেলে ৭০ ডিগ্রী মতন খাড়া। প্রথম অংশটা হেরিংবোনইটের রাস্তা। এর মাঝে দুলিটার পানি একাই খেয়ে ফেলছি আমি। শরীর আরো ভারি হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। দেবুর ব্যাগ বলতে কিছু নাই, ও একটা টিশার্ট আর শর্টপ্যান্ট পড়ে চলে এসেছে। কিছুদূর ওঠার পরে ওকে দিয়ে দিছি আমার ব্যাকপ্যাক।তারপরেও ৭৫ কেজি ওজনের শরীর নিয়ে উপরে উঠার হ্যপা পোহাচ্ছি!পাহাড়ের একটা ব্যাপার বুঝিনা, এগুলো কি কারণে এতোখাড়া হয়ে থাকে,স্লোপ একটু কম হলে কত আরাম করে যাওয়া যেতো ওটা ভাবি। অনুপের শরীরে মনে আজরাইল টাইপ কিছু ভর করেছে, ওর ব্যাগও কম ভারি না। সেটা নিয়ে বাইবাই করে উপরে উঠে যাচ্ছেআর কতদূর ওঠার পরে উপর থেকে হাত দেখায়!বয়স বাড়লে এনার্জি নাকি কমে, তার ক্ষত্রে এরকম কিছু ঘটেনি বোঝাই যায়। রাজ ছেলেটাও মোটামুটি উঠে যাচ্ছে,  আমি সবার পেছনে ধীরে ধীরে উঠছি।

Pronob Roy ChowdhuryPronob Roy Chowdhury

অর্ধেকটা পথ উঠেএসেছি। এ রাস্তাটায় কোন নামানামির বেপারসেপার নাই। শুধু উপরে ওঠো। মাঝে একটা াহাড়ি পাড়া পড়েছে। রাস্তার পাশে কি সুন্দর জাম্বুরা ঝুলে আছে। চাইলে মনে হয় নেয়া যাবে। আমরা ওগুলোর দিকে নজর না দিয়ে উপরে উঠছি। একটা সুন্দর বসার মতন জায়গা পেলাম বিশাল গাছের নিচে। ওখান থেকে নিচের পাহাড়, দূরে মাতামুহরী নদী... আহা কি সুন্দর লাগছে। আরো উপরে উঠতে হবে এটা ভাবতেই মন খারাপ হচ্ছিলো। হঠাৎ দেখি উপরথেকে এক বয়স্ক ভদ্রলোক নামছেন। বয়স ৮৫ বা ৯০ বা তারও বেশি। কাঁধে জাম্বুরা র এক বিশাল খাঁচা।উনি কি সুন্দর রিদমিক ভাবে নেমে যাচ্ছে আহা... উনাক ডাক দিলাম। নাম জিজ্ঞেস করলাম, উনি কি যে উত্তর দিলেন কিছু না বুঝে বললাম আসেন ছবি তুলি। বয়সে উনি দাদুর সমান। একটু মজা করাই যায়! উনি ছবি তোলার পরে ব্যাপক খুশি হয়ে গেছে। তবে আমার একটা কাজ হয়েছে। উনাকে দেখে মেন্টাল এনার্জিটা বেড়ে গেছে। এতো বয়স্ক মানুষ যেতে পারলে আমাদের না যাবার কোন কারণই নাই। আমরা তো উনার হাঁটুর বয়েসি! কি আছে জীবনে এই ভাবতে ভাবতে আবার ওঠা শুরু করেছি। পাহাড়ে ওঠা বা যেকোন কঠিন কাজ করার মূল চ্যালন্জটা হলো সত্যিকার ভাবে মানসিক।

অনেকটা উঠেযাবার পরে ধীরে ধীরে নিচের ভ্যালিটা পরিস্কার হচ্ছে। উপর থেকে এই জায়গাটা কি সুন্দর, নিচ থেকে বোঝার কোন উপায়ই নাই। পাহাড়ের একদম শেষদিকে একটা ফ্ল্যাট টাইপ জায়গা। আমি গিয়েই দুম করে শুয়ে পড়েছি। এতোক্ষনে একখান সমতল পাইলাম।এখানেই টেন্ট পিচ করে থেকে যাবো কিনা চিন্তা করছি। অনুপ আর দেবু বলে মামা আরেকটু উঠলেই পুরোটাইনাকি সমতল! ওটাই লাস্ট পয়েন্ট। সুতরাং আর ১০০ ফিট মতন উঠতে হবে। উপরে উঠার পথেকিছুদূর উঠেই কনক্রিটের স্ট্রাকচার চোখে পড়ছে। আমরা জানি এখানে একটা বৌদ্ধমন্দির আছে। সবাই এই জায়গাটা মন্দির নামেই জানে। সুতরাং পথের শেষ... পৌছে গেছি পাহাড়চুড়ায়!

Pronob Roy ChowdhuryPronob Roy Chowdhury

উপরে উঠে দেখি আমরাই একমাত্র গ্রুপ না।অলরেডি ১০ জনের আরেকটা গ্রুপ ওখানে টেন্ট পিচ করে রিলাক্স মুডে বসে আছে! সে যাই হোক আমরা ওদের পাশে টেন্ট রেখে আরেকটু উপরে একটা জায়গা আছে ওখানে চলে গেছি। তখন সন্ধ্যা ছুইছুই। কুয়াশায় ঢেকে গেছে সবদিক। মন্দিরটা একপাশে। আমরা ওই জায়গা থেকে মন্দিরটাকে ভালো মতোন দেখছি না। অনেকগুলো ছবি তোলা হলো কারণ আলো কমে যাচ্ছে।নিচে নেমেই আমরা টেন্ট পিচ করা শুরু করলাম। আমার একটা টেন্ট আর একটা অনুপের। দুটো টেন্টে ৬ জন অনায়াসে থাকা যাবে। আমরা মানুষ ৪ জন। এবারই প্রথম টেন্ট অনুয়ায়ী মানুষ কম মনে হচ্ছে! দেবু আর অনুপ এতো ওস্তাদ এসব কাজে, ১৫ মিনিটেই দুটো টেন্ট পিচ হয়ে গেছে। হঠাৎ ভাবলাম ফানুস উড়ানো দরকার। এতো সুন্দর জায়গা এসে একটু উদযাপন না করলে কেমনে কি! ফানুসটা কেমন পড়ে যাচ্ছিলো, আবারসুন্দর উড়ে গেছে।...ফানুসটা বাতাসে ভাসকে ভাসতে কুয়াশায় মিশে গেছে....  ' আননদধারা বহিছে ভুবনে '....

Happiness Is Out There!Happiness Is Out There!

জায়গাটার একটু বর্ণনা দেই এবার। মারাইনথং....আমরা যে পাহাড়টা উঠে এসেছি। নামটার মানেটা কি আর জিজ্ঞেস করা হয়নি কাউকে। অনুপ জিপিএস বের করে দেখালো হাইট ৫০০ মিটার বা ১৬০০ ফিট মতোন। উপরে উঠার পর জায়গাটা একদমই সমতল। এবং মাঝে দুটো বড়গাছ আছে। জায়গাটা বেশ বড়ই। একপাশে বড় একটা বৌদ্ধমন্দির আর তার পাশেছোট আরেকটা।আমার কাছে মনে হচ্ছিলো বুদ্ধ স্বয়ং এ জায়গাটার গার্ডিয়ান এন্জেলহিসেবে রয়েছেন। পাহাড়ের সমতল অংশের বাকি সবদিক খাড়া নিচে নেমে গেছে। আমার অনেকদিন আগে থেকে এই জায়গায় ক্যাম্প করার ইচ্ছে। কিন্তু সময় সুযোগ হয়ে ওঠেনি।

সন্ধ্যা ৬ টা। কুয়াশায় ঢেকে গেছে মনে হচ্ছে সবদিক। ঠান্ডা ঠান্ডা একটা অনুভূতি। উপরে উঠে আসার সময় ঘামতে ঘাসতে পাগল হয়ে গেছি।কিন্তু উপরে উঠে কিছুক্ষনের ভেতর ঠান্ডা লাগছে।একটু বৃষ্টি আশা করছিলাম। বৃষ্টি হলে পরদিন ভোরে পুরো জায়গাটা মেঘে ঢাকা থাকে। টেন্ট থেকে বের হয়ে মেঘ দেখবো এটা কতদিনের আশা! দেখা যাক। রাত ৮ টার দিকে চাঁদ উঠে গেছে। মাত্র আগের সপ্তাহেই পূর্ণিমা ছিলো। আর তখন নাকি অনেকজন ছিলো এখানে। তবে সেদিক থেকে আমরা বেশ ভালো আছি। লোকজন কম।পুরো জায়গাটার মধ্যে একটা অদ্ভুত নৈঃশব্দ। লোকজন বেশি হলে এই জিনিসটা পাওয়া যায় না। চাঁদের অল্প অল্প আলোতে জায়গাটা কেমন মায়াময় হয়ে রয়েছে। কবিতা বা উপন্যাস লিখি না বা পড়িও না... তা না হয় এখানে কবিতার আস্ত একখান বই লিখে ফেলা কঠিন কিছু না! জীবনে আর রোমান্টিক হতে পারলুম না! (এটাকে অবশ্য আশির্বাদ হিসেবে দেখি আমি!) 

রাত ৯ টার দিকে ক্ষিদায় মাথানস্ট অবস্থা। দেবু পেনস্টোভ বের করেছে। অনুপ নুডলস বের সসপ্যানে ঢেলে পানি দিয়ে রান্না শুরু করেছে। অনুপের মতে আমরা নাকি এখানে সারভাইভাল প্রাকটিস করতে গেছি! পাশের টেন্ট গুলোর ফাঁক থেকে মুরগি, বিরানীর গন্ধ ভেসে আসছে আর আমরা ঠিক তার পাশে কাঁচা নুডলস সিদ্ধ করছি! সেলুকাস ব্যাপারটা বোঝার জন্য এধরনের পরিস্থিতি দেখার প্রয়োজন রয়েছে! যাই হোক ক্ষিদায় মাথা নস্ট অবস্থা। একবার এমন পরিস্থিতিতে কাঁচা নুডলস পর্যন্ত খেয়ে সারারাত ছিলাম। এটা তার থেকে ভালো! নুডলস আনা হয়েছে প্রচুর। আসল কথা এটা সেদ্ধ অবস্থায় কোনকিছু ছাড়া বেশি খাওয়া যায় না। দুপ্যকেট খেয়ে আমরা এদিকসেদিক ঘুরতে বের হয়েছি। এজায়গাগুলো আড্ডা দেবার জন্য যাকে বলে অতিশয় উত্তম। আড্ড না দিলেও শুধু চুপচাপ বসে থাকলেও বোরিং লাগবে না।...ফিলসফি, মিউজিক,সাহিত্য হ্যানত্যান কথা বলতে বলতে রাত ১০টার উপর বেজে গেছে। ফানুস আছে আরো তিনটা।কিন্তু কেমন যেনো আড়স্ট হয়ে গেছি। মানে কোনকিছুই করতে ইচ্ছে করছে না এরক টাইপ। ইংরেজিতে High হয়ে যাওয়া একটা ব্যাপার আছে.... তার জন্য সাইকডেলিক টাইপ ড্রাগ নিতে হয় কিন্তু ওটা ছাড়াই কেমন high হয়ে আছি! অনুপের নুডলসে কিছু মিশাই দিলো কিনা ভাবছিলাম। আসলে জায়গাটা এমনি। গেলেই ভালো লাগবে। যারা সাজেক গেছেন পূর্ণিমায় তারা কিছুটা বুঝতে পারবেন। রাত ১১ টার দিকে আবার ক্ষিদা লেগে গেছে। বাকি দুপ্যাকেট নুডলস বের করা হলো। এটা মনে হয় পুরোটা খেতেই পরিনি। বলছিলাম একটু কফি খেতে পারলে মন্দ হোতো না। অনুপ দেখি আবার কফির প্যাকেট বের করে আনছে। কিন্তু চিনি ছাড়া খেতে কেমন হবে এটা বলতেই সে দেখি চিনির প্যাকেট নিয়ে আসছে!তার ব্যাগটা যে এতোদিনে একটা মুদি দোকান হয়ে গেছে এটা জানতাম না। সে যাই হোক... সেখানে দুটো মুরগি থাকলে কি এমন দুনিয়ার ক্ষতিবৃদ্ধি হোতো তা জানতেই পারলুম না! (এরকম নুডলস খেয়ে সারভাইভাল প্রাকটিস যদি লাইভ দেখানো হয় টিভিতে... আমার ধারণা লোকজন হাসতে হাসতে মরে যাবে!)

রাত ১২ টা। আর একটা কথা বলাই হয়নি। রাত ৯টার দিকে ঢাকা থেকে আরেকটা গ্রুপ এসছে সেটাও মোটামুটি ১০জনের। ওরা এসে আমাদের পাশেই টেন্ট পিচ করেছে। তবে একটা বেপার খুব ভালো লেগেছে এখানে কোন হইচই করা লোকজন নেই। এরকম কিছু ট্যুরিস্ট গ্রুপ দেখি মাঝে মাঝে মেজাজ খারাপ হয়। তবে ধীরে ধীরে আমাদের মেন্টালিটি চেন্জ হচ্ছে এট্ই বড় ব্যাপার। আমরা ওইজায়গায় মনে হয় ২৫ জনের মতন ছিলাম কিন্তু কারো শব্দ কাউকে ডিস্টার্ব করছে না। যে যার মতোন আড্ডা দিচ্ছে। বা বসে বসে চাঁদ দেখছে। বাংলাদেশে শান্তির জায়গা দিনদিন কমে যাচ্ছে....তবে এখনো কিছু জায়গা আছে যেখানে মনের মতন থাকা যায়। একটু খুঁজে নিতে হয় এটাই মূল ব্যাপার।

Pronob Roy ChowdhuryPronob Roy Chowdhury

আড্ডা দিতে দিতে সময় কোনদিকে পার হয়ে যায় বোঝা যায় না। রাত ১ টা মতন বাজে। সকাল ৬ টায় রওনা দিয়েছি। তারপর আর রেস্ট নেই কারো।দেবুর শরীর খারাপ লাগছিলো। সে আগেই টেন্টে ঢুকে গেছে। রাজ ও একই ব্যাপার। আমার ঘুম আসছিলো না। এটা নিয়ে কততম রাত বন্ধুদের সথে বাইরে আছি সেটা ক্যালকুলটরে হিসেব করতে হবে। একেকটা রাতের অভিজ্ঞতা একেকরকম। কোনরাত থাকে পুরো টালমাটাল, কখনো বা এমন শান্ত ধরণের। টালমাটাল রাতের কথা আসলেই আসবে টাঙ্গুয়ার হাওরে কাটানো রাতগুলোর কথা। কিংবা ছেড়াদ্বীপে প্রথমবার ক্যাম্প করতে গিয়ে যে অসাধারণ অভিজ্ঞতা।নিঝুম দ্বীপের দ্বীতীয় রাতটা তো পুরা কাব্যিক। রাত ৪ টায় আকাশের তারানগুণতে গুণতে প্রায় সকাল হয়ে গেছে। সবগুলো ট্যুরের গল্প এড করলে একটা ছোটখাটো বই হয়ে যাবে। আমার একটা কথা সবসময়ই মনে হয় ট্যুরে গেলে.... 'The nights r always young '!

ভোর ৫ টা।রাতে কুয়াশা পুরো বৃস্টির মতন ঝড়ে পড়েছে। আমাদের টেন্টগুলো ওয়াটারপ্রুফ।নইতো ভেতরে পানিতে ভাসতে হোতো।  টেন্ট থেকে বের হয়েছি । অনেকদিন পর মনে হয় ভোরের সূর্য দেখছি। সূর্যটা একবার উঠে আবার কুয়াশায় মিলিয়ে যায়। বৃস্টি হয়নি। নাহলে জায়গাটা মেঘে ঢাকা থাকতো। কুয়াশার জন্য ২০ ফিট দূরে পরিস্কার দেখা যায়না। দেবুকে ডাক দিলাম। ও আর রাজ ঘুমে কাতর। অনুপকে ডাক দিলাম। একাই ওর টেন্টে ছিলো ও।অনেকগুলো ছবি তুলেছিলাম তখন। কুয়াশাঢাকা পাহাড়চুড়া কি যে সুন্দর লাগছে ....সৌন্দর্য কিংবা সুখ পুরোটাই সম্ভবত মনের ব্যাপার!

ভোরে উঠে আরেকটা জিনিস চোখে পড়েছে। মন্দিরের কাছেই একটা সিঙ্গেল টেন্ট ছিলো গতরাতে। সকালে সুন্দরমতন এক মেয়ে বের হয়ে ছবি তুলছে। আমার থেকে ও মোটাসোটা হবে মেয়েটা। আরো দুএকজন বন্ধুদের সাথে এসেছে। এই জায়গাটা অতোটা রিমোট প্লেস তা বলবো না তবে মেয়েরা ক্যাম্পিং এ আসছে এখন এ জিনিসটা দেখা খুব আনন্দের। আমার ইচ্ছে আছে একবার আমার পিচ্চিগুলো বড় হয়ে গেলে বৌ কে নিয়ে এখানে আসবো.... দেখা যাক! (আমার স্ত্রীর ব্যাপক দুঃখ ওকে কোন জায়গা নিয়ে যাইন)রোমান্টিক জায়গায়... রোমান্স করার লোকজন না থাকলে কেমনে কি!

Pronob Roy ChowdhuryPronob Roy Chowdhury

আমাদের পাশে যারা ছিলো তারা মূলত ইভেন্টের মাধ্যমে এসেছে। আমি মারাইনথং র ডে ছবি দেখে প্রেমে পড়েছিলাম, সে জায়গা এতদিনে... এতোই যে জনপ্রিয় হয়েছে এটা জানা ছিলোনা। এই জায়গাটার বিশেষত্বটা হোলো, খুব বেশি উচুঁ না হলেও এই উপরের ভ্যালিটাতে সবসময়ই মেঘ থাকে, দ্বিতীয়ত এখানে আসার সময় কোন আর্মি, বিজিবির সিকিউরিটি নিয়ে কোন পেরা দেয়না। আমার জীবনে সত্যিকারের একটা ইচ্ছে ছিলো সাজেকে ক্যাম্প করার। কিন্তু আর্মিরা থাকতে দেয়না এখন। পাহড়চুড়ায় ক্যাম্প করে থাকার ইচ্ছেটা এ জায়গায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।

সকাল ৭টার দিকে আমাদের পাশের গ্রুপ টেন্ট গুছিয়ে নিচে রওনা হয়েছে। ওদের সবার গন্তব্য ' দামতুয়া ঝর্না '।এখান থেকে নিচে নেমে বেশকিছুটা গাড়িতে তারপর হেঁটে ওই ঝর্নায় যেতে হয়। ওই গ্রুপের একজনের সাথে কথা হোলো.. ওরা দামতুয়া ঝর্ণা দেখে সেখান থেকে থানচি চলে যাবে (একটু বলে রাখি, আলিকদম থেকে থানচি পর্যন্ত রাস্তাটা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাস্তা যেটা থানচি ব্রিজের একপাশে ডিম পাহাড়ের উপর দিয়ে তিন্দু হয়ে নিচে নেমে এসেছে,  যারা ওসব জায়গা গিয়েছেন ছবির মতোন ভেবে নিতে পারবেন),  এরপর নাফাখুম, আমিয়খুম দেখে তারপর উনারা ঢাকা ব্যাক করবেন।....নাফাখুম, আমিয়াখুম নাম শুনলেই আমার একগাদা সুখেরস্মৃতি মনে পড়ে যায়।... উনাকে বললাম 'সবকিছু দেখে ঠিকঠাক যদি  ব্যাক করতে পারেন,  তো ভাববেন দেশের সবচাইতে সুন্দর জায়গাগুলোর কিছুটা দেখে ফেলেছেন '...বেস্ট অব লাক। আমরা ও হয়তো দামতুয়া যেতুম তবে দেবুর শরীর নাকি বিশেষ ভালো না। তাই প্ল্যান বাদ দিয়ে সকাল ১০ টা পর্যন্ত ওই জায়গায় বসে ছিলাম। একেবারে কোন লোকজন না থাকলে... জায়গাটা একটুকরো স্বর্গ!

আমরা নিচে নামতে শুরু করেছি। গতকাল যেটাতে উঠতে আড়াই ঘন্টা লেগেছে ওটা আমরা ১ ঘন্টায় নেমে গেছি। তবে পাহাড়ে ওঠার থেকে নামাটা সবচেয়ে রিস্ক। গ্রাভিটি বেপারটা সুবিধার না... উঠতেও কস্ট নামতেও... বৃস্টি হলে এ জায়গা তে নামতে সাবধানে নামা উচিত নয়তো... দুপাশের খাড়া পাহাড়ে একদম পপাত ধরণীতল!

নিচে নামার সময় সমস্যায় পড়ে গেছি। ১০ লিটার পানির এক ফোঁটাও নাই। মাথার উপর সূর্যমামা ভালো পেইন দিচ্ছে। দেবু আর অনুপ পায়ে স্প্রিং লাগাইছে আমার ধারণা। আমি যথারীতি সবার পেছনে!আমার অল্প সামনে রাজ ছেলেটা। মাঝেতৃষ্নায় অস্থির হয়ে এক পাহাড়ি দাদা থেকে দুটো কমলালেবু নিয়ে নিছি। কিন্তু চামড়া ছিলে খাবার টাইম নাই। তেতো স্বাদের চামড়া সহ কচকচ করে খেয়ে একটু ভালো লাগছে! ভিটামিন সি পানির তৃষ্না দূর করে দিয়েছে।

একদম নিচে নেমে সবার আগে চলে গেছি এক টিউবওয়েলে।পানির অপর নাম জীবন এটা ভুল না। এক লিটার জল খেয়ে একটা পাড়ার সামনে দোকানে বসে চা খেলাম। ওটা সম্ভবত ত্রিপুরা পাড়া। আমরাও একটা ঝর্ণাতে যাবো, ওখান থকে কাছেই। ওই দোকানে ব্যাগ রেখেসবাই রওনা হয়েছি ঝর্ণার দিকে। যাবার সময় দেবু একটা কথা বলছে,  ' মামা, তোর হাঁটার ব্যালান্স নাই '। আসলে ও আর অনুপ অনেক বেশি পাহাড়ে যায়। পাজাড়ে চড়ার মূল নিয়ম হোলো ধৈর্য রেখে ধীরে ধীরে উঠতে হয়। তাগাহুড়ার কোন ব্যাপার নেই।তারউপর আমার জল খেতে হয় অনেক বেশি।তবে ধৈর্য জিনিসটা কম হবার কারণে পাহাড়ে উঠতে বেশি কস্ট হয় আমার।

পাড়া থেকে ১৫ মিনিটের দূরত্বেই ঝর্ণাটা। এটা আসলে এই পাড়ার পানির একটা সোর্স। আমরা ১০ মিনিট ঝিরিপথে হেঁটেই ঝর্ণায় চলে গেছি। এতো কাছে যে একটা ঝর্ণা আছে তেমন কেউ জানেই না।ওখানে গিয়ে দেখি আরো কিছুলোকাল লোকজন আছে। আমাদের দেখে তারা সরে গেছে। এগুলো বাঙ্গালি। সত্যিকারভাবে বলতে গেলে চাঁটগাইয়া। আশেপাশে বাড়ি। ওদের সাথে কথা বললাম। আমরাও চিটাগং র (অনুপ অবশ্য চাঁটিগার না,তবে সে এতো বেশি চিটাগংআসে ওকে চিন্তা করতেছি এবার নাগরিকত্ব দিয়ে দিবো পারমানেন্ট) । আমি সবসময়ই বলি নতুন কোন জায়গা গেলেঅবশ্যই লোকাল লোকজনের সাথে কথা বলা উচিত। সে পাহাড়ি বা বাঙ্গালি। ওরাই আপনাকে ওখানকার সব কথা বলে দিবে। আপনি অপিরিচিত কাউকে জিজ্ঞেস করবেন ' কেমন আছেন '...এই অল্প একটু কথাবার্তা আপনাকে ওদের আপন করে দিবে। আমরা ঝর্ণায় বসে আছি। খুব বেশি বড় জায়গা না। বড় পাথরের চাঁতাল আমরা ৪ জন ব্যালান্স করে বসছি। উপর থেকে সমানে পানি পড়ছে মাথার উপর। লোকাল লোকজনগুলো খুশিহয়ে পেয়ারা নিয়ে আমাদের জন্য কোন এক গাছ থেকে। আশপাশপুরোটা জঙ্গল। গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত যতনক্লান্তি.... সব মনে হয় একবারে শেষ। পহাড়ি ঝর্ণাগুলোর মতোন রিফ্রেশিং কিছু হতে পারেনা। তবে একটু নাকি ভুল হয়ে গেছে!  এটা আগে বলিনি...গতকাল যাবার সময় আমরা দোচোয়ানী( পাহাড়ি মদ) এর একলিটার নিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু উপরে পানি না থাকার কারণে সেটা আর খাওয়া হয়নি। সকালে নামার সময় ওখানেই রেখে এসছি ওটা। এই ঝর্ণায়বসে এটা খেতে নাকি সেরকম মজা হোতো.... হার্ড ড্রিংকসে আমার আসক্তি নেই তেমন... তবে দেবু আর অনুপের কথা শুনে বোঝারচেস্টা করছিলাম!

আমরা মনে হয় দুঘন্টার উপর বসে ছিলাম ওখানে। ওখানে বসে আড্ডাদিচ্ছি আর মনে হচ্ছে 'জীবনটা বেশ কিছুটা সুন্দর '....তবে ঝামেলা হোলো নামতেই ইচ্ছে করছে না। এই ঝর্নার উপরে অনেকগুলো স্টেপ আছে, যারা খইয়াছড়া ঝর্নায় গেছেন তারা বুজতে পারবেন। আমরা একদমই নিচে বসা। পাহাড়ি ঝর্নাগুলোর আমরা যে অংশটা দেখি অরেকে ভাবি এটাই প্রথম বা এটাই েকমাত্র স্টেপ৷ কিন্তু এর উপরে আরো যে কত স্টেপ আছে তা না দেখলে নিচ থেকে বোঝার উপয় নেই। এখানে দুতিনটি পানির পাইপ টানা আছে যেটা দিয়ে পাহাড়ি কোন পরিবারে সরাসরি পানি চলে যাচ্ছে।

আমরা আবার পাহাড়ি পাড়াটাতে চলে এসেছি।  আবার চা,বিস্কিট,কলা খেলাম আমরা। এখানেও বেশকিছু পাহাড়ি পিচ্চি আছে। ওগুলোর সাথেকিছু ছবি তুলে আমরা রওনা দিয়েছি। এখন বাড়ি ফেরার পালা। (স্যাড ইমোটিক হবে) । আবার গতকালকের সেই স্টার্টিং পয়েন্টে। পাশে এক রেস্টুরেন্ট থেকে ভাত খেয়ে বাসে উঠে চকরিয়া চলে এসেছি। এরপরের গল্প খুব সিম্পল কক্সবাজারের বাসে চিটাগং চলে এসেছি ৪ জনই। রাজ ছেলেটা বিদায় নিয়েছে ব্রিজের গোড়া থেকে। আমরা তিনজন ওখান থেকে দামপাড়ায় গেলাম অনুপ রাতের বাসে ঢাকা যাবে তার টিকেট করতে, ওখান থেকে সরাসরি রয়েল হাটে। অনুপরে কইলাম কালকে রাতে চিকেন খেতে দেসনাই, তোরে খাওয়াই আজকে। তিনজনেই ডাবল ডাবল খেয়ে স্টেডিয়ামের পাশে বিখ্যাত এক চায়ের দোকান চা খেতে খেতে আড্ডা দিলাম অনেকক্ষন। পরে অনুপকে বাসে উঠিয়ে দিয়ে আমি আর দেবু বাসার দিকে রওনা দিয়েছি।

পাহাড়ে কেনো যাই....উত্তর একটাই...Happiness Is Out There!