There are no foreign lands. It is the traveller only who is foreign.
- Robert Louis Stevenson

গভীর ঘুম থেকে চোখ খুলে দেখলাম অনেক বেলা হয়ে গেলো। ধীর পায়ে রুম থেকে বের হয়ে হোস্টেলের রান্না ঘরে টুকটাক সকালকের নাস্তা বানিয়ে নিলাম। কাল রাতের মতনই অবস্থা, ঠিক নাটকের রিহার্সালের মতো নানান দেশের ছয় সাত জন যার যার মতো করে নাস্তা বানিয়ে নিলো কোনো কথাবার্তা ছাড়া। সবাই একই চুলা, একই বেসিন ব্যবহার করলো। হোস্টেলে ভেন্ডিং মেশিনে ফ্রি কফি ছিল। বেশ চমৎকার স্বাদের কফি।

আজকে যদিও অন্য প্ল্যান ছিল, কিন্তু ওয়েদার ফোরকাস্টে বলছে আজকে সেদিকে বৃষ্টি! সাথে সাথে সকালেই ডিসিশন চেঞ্জ করে দক্ষিণ আইসল্যান্ড যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। মূলত দ্বিতীয় দিনের প্ল্যান তৃতীয় দিনে নিয়ে নিজেকে একটু চাঙ্গা করে রওনা দিলাম আজকের গন্তব্য সাউথ কোস্ট সোলহেমাসান্দুর (আইসল্যান্ডিক ভাষায় লেখে Solheimasandur)। ব্ল্যাক বীচের উপর ধসে পড়ার প্লেনের অংশবিশেষ দেখা, ওখান থেকে জনপ্রিয় ব্ল্যাক বীচ রেনিসফিয়ারা (আইসল্যান্ডিক ভাষায় Reynisfjara), এবং আসার পথে দুইটি জনপ্রিয় জলপ্রপাত স্কগাফস (আইসল্যান্ডিক ভাষায় Skógafoss) এবং সেলয়ালান্ডসফস (আইসল্যান্ডিক ভাষায় লেখে Seljalandsfoss) দেখা।

ব্ল্যাক বীচ রেনিসফিয়ারা (আইসল্যান্ডিক ভাষায় Reynisfjara)ব্ল্যাক বীচ রেনিসফিয়ারা (আইসল্যান্ডিক ভাষায় Reynisfjara)

গাড়ি নিয়ে রওনা , শহর থেকে একটু বের হতেই হাইওয়ের দুই পাশে বিশাল লাভার মাঠ , তার উপর সবুজ মস এবং দূরের ভলকানিক মাউন্টেন। কিছু পাহাড়ের গা ঘেঁষে তুলোর মতো ঝরে পড়ছে পানির ধারা। কিছু কিছু থেকে ধোঁয়া বেরুচ্ছে

The real voyage of discovery consists not in seeing new landscapes, but in having new eyes.
- Marcel Proust

এভাবে দৃশ্যের পর দৃশ্য হাজির হচ্ছে চোখের সামনে নতুন এক ভালো লাগা অদ্ভূত অনুভূতি নিয়ে। স্মৃতির ক্যানভাসে পৃথিবী নামের শিল্পীর তুলির কারুকার্য চলছে অনবরত। 

গাড়ির মধ্যে চলছে গান আর হাতের পাশে পটেটো চিপস। এই ভাবে প্রায় দুই ঘন্টা ড্রাইভ করে আসতে হলো সোলহেমাসান্দুর। হাইওয়ে এর পাশে plane wreck এ যাবার কোনো সাইন নেই। রীতিমতো মিস করে প্রায় পনেরো মিনিট ড্রাইভ করে মনে হলো ঠিক পথে নেই। আবার ইন্টারনেটে খুঁজাখুঁজি করে বের করলাম জায়গাটার GPS cordination (63 27.546-19 21.887) । সাথে আনলকড ফোন থাকায়, একটা সিম কার্ড নিয়ে নিয়েছিলাম GPS এর জন্য। 

রাস্তার পাশে ছোট্ট একটা পার্কিং লট। ওখান থেকে পরিত্যাক্ত প্লেনে যাবার ব্যবস্থা একমাত্র হাঁটা পথে। যাওয়া আসা ৭ কিলোমিটারেরও বেশি পথ এবং এতে সময় লাগবে তিন থেকে চার ঘন্টা। শুনলাম প্লেন wreck-এর কাছাকাছি আগে গাড়ি নিয়ে যাওয়া যেত , পরে সেটা বন্ধ করে দেয়। গাড়ি ভলকানিক অ্যাশের মধ্যে আটকে যেতে পারে এবং ওখানে যেহেতু তেমন কোনো লোকজন থাকে না, খুব বিপদে পড়ার সমূহ সম্ভবনা রয়েছে। শুনলাম পরে তারা ফোর হুইলারের ব্যবস্থা করে, এখন তাও বন্ধ। একমাত্র পায়ে হেঁটে কিংবা বড়ো চাকার মাউন্টেন বাইক নিয়ে যেতে হয়।

সোলহেমাসান্দুরের কালো সৈকতে পরিত্যাক্ত Plane Wreckসোলহেমাসান্দুরের কালো সৈকতে পরিত্যাক্ত Plane Wreck

১৯৭৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী ডিসি প্লেনের জ্বালানী শেষ হয়ে যায় এবং আইসল্যান্ডে দক্ষিণ কোস্টের সোলাইমসানদুরের কালো সমুদ্র সৈকতে ক্র্যাশ হয়। এবং সৌভাগ্যবশত প্লেনের সবাই বেঁচে যায়। পরে জানা যায় যে পাইলট ভুল ট্যাংকের সুইচ অন করেছিলেন। প্লেনের অবশিষ্টাংশ সমুদ্রের খুব কাছাকাছি বালির উপর এখনও রয়েছে। জাস্টিন বীবারের আই উইল শো ইউ গানের মিউজিক ভিডিও এবং শাহরুখ-কাজলের গেরুয়া মুভির শুটিং হওয়াতে জায়গাটি ভিসিটরদের কাছে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এই দুইজনের একজনও আমার পছন্দের তালিকায় না থাকায়, এই জায়গাটি সম্পর্কে আমি পূর্বে অবগত ছিলামনা।

ঘন কুচকুচে কালো ভোলকানিক ছাই-য়ের ট্রেইল আর দুই পাশে খোলা টুকরো টুকরো পাথরের কালো মাঠ এবং সামনের অনেক দূরে আটলান্টিক সাগরের একটি লম্বা রেখা দেখা যাচ্ছে কেবল। এর মধ্যে হেঁটে চলা প্লেন wreck এর দিকে।

সোলহেমাসান্দুরের কালো সৈকতে পরিত্যাক্ত Plane Wreckসোলহেমাসান্দুরের কালো সৈকতে পরিত্যাক্ত Plane Wreck

অবশেষে পৌঁছালাম প্লেনের কাছাকাছি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী প্লেন ঘিরে, কেউ কেউ দূর থেকে ছবি তুলছে। কেউ প্লেনের ভিতরটা হেঁটে হেঁটে দেখছে। কেউবা নানা অঙ্গ ভঙ্গি করে ছবি তুলছে। জনারণ্যহীন কালো সমুদ্র সৈকতের উপর পরিত্যক্ত ধূসর এই প্লেনের অংশবিশেষ যেন কোনো এক সাইন্স ফিক্শন মুভির দৃশ্য। প্লেনের মুখটা নেই, ভেঙে চুরমার , দুই পাখার অর্ধেকটা এখনো আছে। প্লেনের গাঁয়ে পারমানেন্ট মার্কার পেনে অনেক আঁকাজোকা , 

তার মধ্যে ক্রিস্টোফার মিক্কোন্ডলেসের উক্তিটা চোখে পড়লো “Happiness is real only when shared” । জানালার ফটক গুলোতে কোনো জানালা নেই। পিছনের লেজের অংশটুকু নেই , এবং লেজবিহীন অংশ দিয়ে প্লেনের ভিতরে যাওয়া যায়। ভিতর বলতে কিছু নেই। কেবল মাত্র প্লেনের কঙ্কাল এবং প্লেনের নীচের বেশির ভাগ অংশটুকু বালির মধ্যে গেঁথে আছে। এবং প্লেনের ভিতরে হাঁটার সময় মূলত বালি আর পাটাতনের উপরেই হাঁটতে হচ্ছিলো। সামনের দিকে এলোমেলো তার ঝুলে আছে। ভাবতে অবাক লাগে এতো ভয়াবহ একটি দুর্ঘটনায় সব যাত্রীই বেঁচেছিল। অবশ্য দর্শনার্থীরদের অবাক চেহেরার চেয়ে হাস্যউজ্জল চেহেরাই দেখতে পাচ্ছি। বিশেষত যখন মোটামোটি সবাই ক্যামেরা নিয়ে ব্যস্ত। আল্টান্টিক সমুদ্রের বাতাস আর ঠান্ডা অবহওয়া ওখানে বেশিক্ষন থাকার অনুকূলে ছিল না। খুব বেশিক্ষণ থাকার মতোও তেমন কিছু ছিল না। উল্টা পথে আবার হাঁটা শুরু। পিছন দিকে ফিরে তাকালে প্লেনটা কেমন যেন নিঃস্ব মনে হচ্ছিলো। “তেমনি দেখেছি তারে , অন্ধকারে। বলেছে সে এতদিন কোথায় ছিলেন”

ব্ল্যাক বীচ রেনিসফিয়ারা (আইসল্যান্ডিক ভাষায় Reynisfjara)ব্ল্যাক বীচ রেনিসফিয়ারা (আইসল্যান্ডিক ভাষায় Reynisfjara)

উল্টা চেনা পথ আবার নিয়ে আসলো গড়িতে। ম্যাপ আর জিপিএস -এ ঠিক করে নিলাম পরের গন্তব্য। অল্প দূরত্ব পরে ভীক (Vik) নামে ছোট গ্রামের পাশে অবস্থিত বিশ্ব বিখ্যাত কালো স্যান্ড বিচ রেনিসফিয়ারা । ১৯৯১ সনে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি এইটাকে দশ শীর্ষ দর্শনীয় নন - ট্রপিকাল বীচ মধ্যে একটি ঘোষণা করে। গাড়ি পার্ক করে বীচে ঢুকতেই প্রচুর দর্শনার্থীর ভীড়। সমুদ্রের প্রচন্ড গর্জন আর বিশাল বিশাল ঢেউ আগে কোথাও দেখিনি। পানিতে নামা এমনকি পানির খুব কাছাকাছি যাবার নিষেধ রয়েছে। সমুদ্রের দিকে তাকালেই তা বুঝা যায়। এখনি বুঝি টেনে নিয়ে যাবে অতল গহ্ববরে। বীচের পাশে অদ্ভুত সুন্দর আগ্নেয়গিরিজাত শিলা (basalt) । শিলা গুলো সিঁড়ির মতো করে অনেক উপরে উঠে গিয়ে hexagonal columns - এর আকার ধারণ করেছে এবং কলামগুলোর একটু পাশে একটা পাহাড়ের নিচে বিশাল Cave, এবং Cave-র ছাদ ঘিরে কাটাকাটা স্বচ্ছ ভেজা অপূর্ব রক ফরমেশান। 

আগ্নেয়গিরিজাত শিলা আগ্নেয়গিরিজাত শিলা

একটু দূরের সমুদ্রের মধ্যে দুটো খাড়া কালো পাহাড়ের মতো দেখতে বিশাল আকৃতির রক। অনেক মুভি, টিভি শো যেমন Game of thrones এর শুটিং হয় এখানে । গেমস অফ থ্রোন্স যারা দেখছেন তারা আইসল্যান্ডের এসব জায়গা সম্পর্কে নিশ্চই পরিচিত।

কালো বীচের উপর সমুদ্রের ফেনা তুলে সাদা ঢেউ অপূর্ব, আশ্চর্য্য একটা চিত্র তৈরী করে। ‘Beauty is real when shared’ whatsapp-এ ভিডিও কল দিলাম ভ্রমণ পিপাসু বন্ধু মামুনকে। ঢেউয়ের গর্জনে ওর কথা শুনতে পারলাম না , কিন্তু ওকে দেখলাম উতাল পাতাল সমুদ্র, ছোট যন্ত্রে সে কেমন দেখলো ঠিক জানি না। তারপর অনেকটা জোড় করে দেখানোর মতো। এতে আমার শান্তি হলো কিছুটা।

দেখলাম উতাল পাতাল সমুদ্র,দেখলাম উতাল পাতাল সমুদ্র,

এভাবে ঢেউয়ের মতো এলোমেলো কিছু সময় কেটে গেলো। এরপর ছুটতে হচ্ছে পরের গন্তব্যে স্কগাফস জলপ্রপাত ।

সূর্য উঁকি দিলেই পুরো আইসল্যান্ডের শোভা অন্য রূপ ধারণ করে। রৌদ্র গিয়ে পরে সবুজাভ মসের উপর এবং দিগন্তে পাহাড়ের গায়ে। গাড়ী চলতে চলতে একটু পর পর দেখি রাস্তার দুইপাশে ঘোড়া ঘাস খেয়ে যাচ্ছে। আবার কিছু ঘোড়া একসাথে এতো নীরবে স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে যে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাই রীতিমতো আসল না নকল বুঝতে। মাঝে মধ্যে হাইওয়ের পাশে ইমার্জেন্সি লাইট দিয়ে গাড়ি থামিয়ে ঘোড়ার আশপাশে চলে যাই । 

আইসল্যান্ডীক ঘোড়া একটি ছোট প্রজাতির ঘোড়া যেগুলো কেবল মাত্র আইসল্যান্ডে বিচ্ছিন্নভাবে বিবর্তিত হয়েছে। আইসল্যান্ডের আইন অনুযায়ী বাইরে থেকে ঘোড়া আমদানি বা রপ্তানি করা নিষেধ। যদি কোনো ভাবে , কোনো কারণে কোনো ঘোড়া দেশের বাইরে চলে যায়, তাকে আর ফেরত আনা নিষেধ। যেমন কেউ যদি আইসল্যান্ড থেকে ঘোড়া নিয়ে ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতায় যায়, তারা চেষ্টা করে ভালো ঘোড়া না নিয়ে যেতে, এবং পরে ওই ঘোড়াটা ওই দেশেই বিক্রি করে আসে, আইসল্যান্ডে ফেরৎ আনতে পারে না। তাই এখাকার ঘোড়াগুলোর একটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট থাকে।

আইসল্যান্ডীক ঘোড়াআইসল্যান্ডীক ঘোড়া

ঘোড়াগুলো দেখতে ছোট হলেও অনেক শক্তিশালী। আইসল্যান্ডীক ঘোড়াগুলোর জনপ্রিয়তার আর একটা কারণ হলো এরা খুব ফ্রেন্ডলি এবং একদম ঠান্ডা মেজাজের। কাছে যেয়ে হাত বুলাতেই একদম চুপচাপ। একটা ঘোড়াকে হাত বুলাতেই আসে পাশে আরো দুই একটা চলে আসে । ভাইকিং সেটেলার্সরা অনেক আগে ৮৬০ থেকে ৯৩৫ খৃষ্টাব্দের দিকে এই ঘোড়া গুলো সাথে নিয়ে এসে উপনিবেশ করে। অপূর্ব সুন্দর এক একটি ঘোড়া। অদ্ভুত রকম চুলের বিন্যাস।সবুজ খোলা মাঠে তাদের দৌড়ে মসৃণ চুল গুলো ঝিরঝির ঢেউ খেলে যায়। ক্যামেরায় বন্দী করে দেয়ালে ঝুলানোর মতো এই এক অভিনব দৃশ্য।

জনপ্রিয় জলপ্রপাত স্কগাফসজনপ্রিয় জলপ্রপাত স্কগাফস

অল্প কিছুক্ষন ড্রাইভ এসে পৌঁছুলাম আইসল্যান্ডের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে সুন্দর জলপ্রপাত স্কগাফস এ। প্রস্থে ১৬ মিটার এবং দৈর্ঘ্যে ৬২ মিটারের এই ওয়াটারফলের উৎপত্তি স্কগা নদী থেকে। এবং দুইটা গ্লাসিয়ার্সের পানি এক হয়ে স্কগা নদী তৈরী করে। অভিনব এই জলপ্রপাত , অবিরাম তার ধারা , ক্ষিপ্ত গতি , এবং সাথে বিশাল গর্জন। ওয়াটারফলের যত কাছে যাচ্ছি জলের ধারাকে আর জলধারা মনে হচ্ছে না।মনে হচ্ছে ঝড়ে ঝড়ে পড়া বিশাল তুলো রাশি। পানির বাষ্প চারপাশে। সাথে রেইন কোট নিয়ে যেতে হয়। নয়তো একেবারে ভিজে চুপসে হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। বেশ অনেক মুভি , মিউজিক ভিডিও তে এই জলপ্রপাত দেখা যায়। যেমন শাহরুখ খান, জাস্টিন বাইবার এখানে শুটিংয়ের কাজ করেন। পাশের পাহাড়ের উপরে উঠে প্রপাতের শুরুটা দেখা যায়। ঘন সবুজ মসে ঢাকা পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা Skoga নদীর পানি অঝোরে ঝরছে জলপ্রপাত হয়ে।

জনপ্রিয় জলপ্রপাত স্কগাফসজনপ্রিয় জলপ্রপাত স্কগাফস

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলো, অনেকটা দূর ড্রাইভ করে হোস্টেলে ফিরতে হবে , এখনো লিস্টে বাকি আছে পরবর্তী ভিসিটিং প্লেস সেলয়ালান্ডসফস -তারই উদ্দেশ্যে রওনা। ১৯৭ ফুট উচ্চতার চমৎকার এই জলপ্রপাতের উৎপত্তি Eyjafjallajökull নামে একটা গ্লাসিয়ার্স থেকে। এই ওয়াটার ফলের মজার ব্যাপার হচ্ছে এর পিছন দিকে একটা Cave আছে এবং হেঁটে ওয়াটার ফলের পাশ দিয়ে কেভের ভিতরে যাওয়া যায় এবং ফলের পেছন থেকে জল- প্রপাতের অনর্গল ও অবিরাম ধারাটি উপভোগ করা যায় । মিহি তুলোর মতো দুইশ ফুট উপর থেকে পানির এই ধারা প্রচন্ড গর্জনে নিচে পড়ছে। মাঝে মধ্যে এর ঝাপ্টা একদম বৃষ্টির মতো উড়ে আসছে সারা শরীরে। এরই মধ্যে অন্ধকার প্রায় ঘনিয়ে আসছিলো।

সব পাখি ঘরে আসে , সব নদী ফুরায় জীবনের সব লেনদেন ।

জলপ্রপাত সেলয়ালান্ডসফস (আইসল্যান্ডিক ভাষায় লেখে Seljalandsfoss)জলপ্রপাত সেলয়ালান্ডসফস (আইসল্যান্ডিক ভাষায় লেখে Seljalandsfoss)

এবার যাবার পালা। এখান থেকে প্রায় দুই ঘন্টার ড্রাইভ হোস্টেলে ফিরতে। আইসল্যান্ডে সন্ধ্যাকে খুব অন্যরকম মনে হয়। কেমন যেন কালো সন্ধ্যা। ভিনগ্রহের কোনো এক সাইন্স ফিক্শন মুভির মতো। একটা ভালো লাগা রহস্যময় ভুতুড়ে ব্যাপার আছে।অন্ধকারে ড্রাইভ করতে ইদানিং খুব অসুবিধে হচ্ছে। তার উপর জেটলেগ তো আছেই। নিজে নিজে বেসুরা গলায় গান কিংবা বাদাম খেয়ে খেয়ে নিজেকে অনেক কষ্টে জাগিয়ে রাখলাম। অবশেষে ক্লন্তিময় শরীর হোস্টেলে এসে পৌঁছালো। হোস্টেল ভর্তি ছেলে মেয়ের জম্পেশ আড্ডা কমন রুমে কিন্তু শোবার ঘর একদম নিস্তব্ধ। যেহেতু শোবার রুম শেয়ার করা হচ্ছে, আওয়াজের ব্যাপারে সবাই খুব সতর্ক। টুকটাক খেয়েদেয়ে একেবারে চিৎপটাং।

To awaken quite alone in a strange town is one of the pleasantest sensations in the world.

-Freya Stark

(চলবে)

পরবর্তী (তৃতীয়) পর্বে থাকছে আইসল্যান্ডের বিখ্যাত গোল্ডেন সার্কেল , Pingvellir ন্যাশনাল পার্ক , Tectonic plate, Stokkur, Geysers এবং জলপ্রপাত Gullfoss এর গল্প