মেইল ট্রেন আমার ছাত্রজীবনের অনেক বড় অংশ জুড়ে ছিল। আমি তখন মেইল ট্রেনে ঘুরতাম মানুষ দেখার জন্য। ব্যাপারটা অদ্ভূত। মানুষ ও আবার দেখার জিনিষ নাকি ছাই। তবে কবি বলেছেন, যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন।

জ্বী আমি পুরা নিম্নবিত্ত সমাজের একটা বৃহৎ অংশ দেখেছিলাম মেইল ট্রেনে। তাদের হাসি কান্না দুঃখ আমাকে ছুয়ে যেত। একটু প্রিয় মানুষের মুখ দেখার জন্য কি কস্টে টাকা পয়সা জমা করে কত আনন্দের সাথে এরা মেইল ট্রেনে উঠাতো দেখে আমার মনটা বিষণ্ণ হয়ে যেত। এত অল্পতে এরা খুশি আর আমাদের চাহিদার শেষ নাই। আমি নিতান্তপক্ষে একটু টাকা বাঁচানোর জন্য তখন মেইল ট্রেনে ভ্রমণ করতাম। কিন্তু তখন আমার মত মানুষের সংখ্যা ছিল মেইল ট্রেনে নগন্য।

একটু যখন বুঝার বয়স হল তখন লং রুটের চট্টগ্রামের বাসে চড়ে চলে যেতাম চট্টগ্রাম। চিটাগাং রোডের সামনে দাঁড়ালেই পাওয়া যেত লং রুটের বাস। তেতুলিয়া থেকে চট্টগ্রাম এর বাসে মাঝ রাস্তা দিয়ে যাত্রী উঠালে স্বাভাবিক ভাবে ভাড়া কম পড়তো। কস্ট ও হত কম।

এখন অন লাইন ট্রাভেল গ্রুপের কল্যানে মেইল ট্রেনের বগী দখল হচ্ছে, জায়গা পাচ্ছে না খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষরা। বগী দখল করেও ক্ষেমা দিচ্ছে না তারা। সারা রাত হই চই করে পাশের যাত্রীদের করছে পেরেশান।

ভ্রমণ মানুষ কে বড় মাপের মানুষ হতে সাহায্য করে এইটা আমার বিশ্বাস। ভ্রমণ থেকে মানুষ প্রতিনিয়ত শিখে। এমন বিবেকহীন কর্মকান্ড কি কোন ভ্রমণকারীর পক্ষে করা সম্ভব এইটা এখন বড় প্রশ্ন। আমাদের বাসায় যে ছুটা বুয়া কাজ করে উনার বাড়ী সীতাকুন্ড। উনি মেইলে যায় সব সময়। উনি বললেন মামা আপনারা ভদ্রলোক মানুষরা গরীবের ট্রেনে উঠেন কেন? আপনাদের কারনে আমরা ট্রেনের সিট পাই না। আমার কাছে এই প্রশ্নের কোন উত্তর ছিল না।

পাবলিক ট্রান্সপোর্ট হিসাবে মেইল ট্রেনে উঠার অধিকার আমাদের সবার আছে। কিন্তু ইদানিং বৃহস্পতিবার আসলে মেইল ট্রেনে ট্রাভেলারদের যাবার একটা হিড়িক পড়ে গেছে। ট্রাভেলারদের ঠেলায় জায়গা পাচ্ছে না খেটে খাওয়া মানুষ গুলো। মেইল ট্রেন গরীবের ট্রেন। গরীবের হক মেরে আমাদের ভ্রমণ কতটা আনন্দময় হবে এটা ভাবার বিষয়। যদিও বা কেউ মেইল ট্রেনে উঠবেন দয়া করে চিল্লাচিল্লি করে পাশের যাত্রীদের বিরক্তির কারন হবেন না।

মেইল ট্রেন ছাড়াও কম খরচে চট্টগ্রাম যাবার কিছু পদ্ধতি নিচে দিলাম।
১. খবরের কাগজের মাইক্রোবাসের সাথে খুব সহজেই কম খরচে আপনারা চট্টগ্রাম যেতে পারেন।
২. সায়েদাবাদে সারা রাতই সেমি লোকাল বাস চলে চট্টগ্রাম রুটে। একটু দামাদামি করলে ২০০-২৫০ এর মধ্যে চট্টগ্রাম যেতে পারবেন। 
৩. চিটাগাং রোডের মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকুন। লং রুটের গাড়ী দেখিবার মাত্রই ঝাপাইয়া পড়বেন। উত্তরবংগের বেশির ভাগ লং রুটের গাড়ী গুলা হানিফ/শ্যামলীর মতই ফাস্ট ক্লাস। টানেও ভাল। দামাদামি করলে ২০০-২৫০ এর মধ্যেই রাজি হয়ে যাবে।

ভ্রমণ হোক আনন্দময়।