বিমান যাত্রায় যারা ভয় পান, তারা অনেকেই মূলত ভয়টা পান এই ভেবে যে প্লেন টা ক্রাশ করতে পারে। LPC survival এর গবেষণা বলে, প্রকৃতপক্ষে একটি বিমান দুর্ঘটনায় জড়িত থাকার সম্ভাবনা থাকে নয় মিলিয়নে মাত্র একজন এর। আরো একটি তথ্য আপনাকে বিস্মিত করতে পারে- রেকর্ডগুলি দেখায় যে ১৯৮০ এবং ২000 সালের মধ্যে ৫৬৮ মার্কিন বিমান ক্র্যাশ করেছিল, এবং এর মধ্যে ৯০ ভাগ মানুষ এরও বেশি জীবিত রয়েছে।

বেঁচে যাওয়ার একটা চমৎকার উদাহরণ তৈরি করেছিলেন পাইলট সুলি সুলেনবার্গ। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসের ঘটনা। ইউএস এয়ারলাইন্স এর ১৫৪৯ নাম্বার ফ্লাইটের বিমান টি উড্ডয়নের পরপরই দূর্ঘটনায় পতিত হলে তিনি হাডসন নদীতে জরুরী অবতরণ করেন- একপাল কানাডিয়ান রাজহংসের পালের মধ্যেই বৃহৎ সাদা হংসের মত ভেসে থাকা প্লেনের ছবি মিডিয়াতে ছেয়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনায় বিমানে থাকা ১৫৫ জন যাত্রী ও ক্রু প্রত্যেকেই বেঁচে গিয়েছিলেন।  

পুরণো কথা তোলার মানে হল, এরকম কিছু যদি আপনার সাথে হয়, আপনি কি তার জন্য প্রস্তুত?

ফ্লাইট এজেন্টদের ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, তারা বাতাসের মাস্ক সম্পর্কে কথা বলবে, নিশ্চিত করবে যে এগুলো দরজার কাছাকাছিই সাহায্যের জন্য প্রস্তুত আছে,  সীট বেল্ট সম্পর্কে কথা বলবে এবং জানাবে কিভাবে আমাদের সীট কুশন ও একটি ভাসবার ডিভাইস হিসাবে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু এটা নিয়ে সন্দেহ আছে যে যেটার উপর যাত্রীদের জীবন নির্ভর করতে পারে সেই বিষয় তারা আসলে কতটুকু মনোযোগ দিয়ে শোনে!

এখন জানা যাক সত্যিকার গুরুতর পরিস্থিতিতে কি কি উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, বিমানে থাকাকালীন আমরা মাটি থেকে হাজার হাজার ফুট উপরে একটা মেটাল টিউবের মধ্যে থাকি, যেটা কিনা আবার অকল্পনীয় গতিতে ছুটে চলেছে- সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য ব্রেক করার কোন উপায় তার নেই।  

তারপর ও, অনিবার্য বিষয়টির জন্য প্রস্তুত হতে পারেন কিছু  সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করে।

 

পোশাক-আশাকঃ-

হ্যা, পোশাক ও আপনার জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিমান যাত্রায় কখনোই হাই হিল পড়া উচিৎ নয়। ইমার্জেন্সীর সময়ে, যখন আপনাকে দ্রুত বের হতে হবে- হাইহিল আপনার গতি কমিয়ে দেয়। উপরন্তু ইমার্জেন্সী এস্কেপ স্লাইড এ আপনাকে হাইহিল নিয়ে উঠতেও দেবেনা।

অতিরিক্ত ঢিলেঢালা পোশাক ও সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সাথে একটা জ্যাকেট রাখা উত্তম, কেননা ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ঠান্ডা কোথাও হতে পারে। তার থেকেও বড় কথা শরীরের যত বেশি অংশ জ্যাকেটে ঢাকা থাকবে, সেই অংশের পোড়া বা আঘাতপ্রাপ্ত হবার সম্ভাবনা তত কমবে। এবং সুতি বা উলের আরামদায়ক কাপড় পরা ভালো।

আসন নির্বাচনঃ

‘পপুলার মেকানিক্স’ ম্যাগাজিন এর বিস্তারিত গবেষণায় উঠে এসেছে যে বিমানের পেছনের দিকের সিট গুলো অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। তারা গত 36 বছরের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক জেট ক্র্যাশের তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং দেখেছে যে বিমানের পিছনের যাত্রীদের বেঁচে যাওয়ার হার 40 শতাংশের বেশি।

[সোর্স: ‘পপুলার মেকানিক্স’]

অবশ্য ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর মতে- বিমান দূর্ঘটনায় পতিত হলে কোন আসনই নিরাপদ নয়। এফএএ 2005 সালের একটি রিপোর্টে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, কোনও সিটই তার আগের বা পরের সিটের তুলনায় নিরাপদ নয়।

‘দ্যা সারভাইভর গাইডঃ দ্যা সিক্রেটস এন্ড সাইন্স দ্যাট কুড সেভ ইয়োর লাইফ’ এর লেখক বেন শেরম্যান এর বরাত দিয়ে foxnomad.com জানায়- গবেষণায় দেখা গেছে যে জ্বলন্ত বিমান থেকে নামার সময় যাত্রীরা গড়ে পাঁচ সারি পথ সামনে আগাতে পারে।

তো ইমার্জেন্সি এক্সিট এর পাঁচ সারির যত পেছনে বসা যায় বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও ততটা হ্রাস পায়।

বিমান থেকে অবতরণের সময়ঃ

গবেষণায় প্রমাণিত, বেশিরভাগ দূর্ঘটনায় বিমান অবতরণের পর মাত্র ৯০ সেকেন্ড সময় পাওয়া যায় নেমে যাওয়ার জন্য। তার মানে হল প্রথমেই মাথা ঠান্ডা রেখে ‘ইমার্জেন্সি এক্সিট’ টা খুঁজে রাখতে হবে।

দূর্ঘটনা যখন ঘটে, প্রচন্ড উত্তেজনা এবং বিভ্রান্তির মধ্যে, এবং সম্ভবত ধোঁয়া ও ধংসযজ্ঞের মধ্যেও আগে থেকে চিহ্নিত করে রাখা ‘এক্সিট’ ই আপনার জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে।

 

সিট বেল্টঃ

সিট বেল্ট এর লাইট নেভার সাথে সাথেই কি আপনি বেল্টটি খুলে ফেলেন?  Farecompare.com অনুযায়ী সবসময় সিট বেল্ট পড়ে থাকাটাই উচিৎ। আমরা এমনকি গাড়িতেও সবসময় বেল্ট পড়ে থাকি- কেননা গতিশীল গাড়ি একটা নুড়ি পাথরে লাগলেও আমরা আঘাত পাই। তাহলে মাটি থেকে এত উচ্চতায় ৩০০ মাইল পার ঘন্টা গতিবেগে আমাদের কি করা উচিৎ?

এযাবৎ কালে প্লেন ক্র্যাশ এ যারা বেঁচে গেছেন প্রত্যেকেই প্রাথমিক রক্ষাকবচ হিসেবে সিট বেল্ট এর কথা বলেছেন। সিট বেল্ট পরে থাকার আরও একটা বড় কারন হতে পারে টার্বুলেন্স। যারা বিমানে ভ্রমণ করেন তারা জানেন এইটা কত বড় একটা ভয়ানক অভিজ্ঞতা। সিট বেল্ট বাঁধা না থাকলে অতিরিক্ত টার্বুলেন্স এর সময় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার ও সম্ভাবনা থাকে।

পরিশেষে, বিমান দুর্ঘটনায় একটি সেকেন্ড ও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে। ঠান্ডা মাথা ও শান্ত মনই পারে প্লেন ক্রাশের আগে ও পরে আপনাকে বাঁচাতে সবথেকে বেশি ভূমিকা রাখতে।

 

(survivallife.com, Foxnomad.comFarecompare.com অবলম্বনে লিখিত)