ইস্তাম্বুলের মাঝখান চিরে চলে গেছে ইতিহাস বিধৌত বসফরাস প্রণালী, জলের মাঝে একটি সরু আঙ্গুলের মত অনুপ্রবেশ ঘটেছে গোল্ডেন হর্নের, তার পাশের এক জমজমাট পানশালায় তুর্কি বন্ধুদের সাথে ঢুকেছি মাছ ভাজা আর পানীয়ের তাগিদে। বাহিরে ডিসেম্বরের ধারালো বাতাস, ভেতরটা উষ্ণ হয়ে আছে খাবারের গন্ধে আর হুক্কার ধোঁয়ায়। অর্ডার নিতে বেয়ারা এসে আলাদা চামড়ার দেখেই হবে, বেশ কৌতূহল প্রকাশ করে বন্ধুত্বপূর্ণ হাসি দিয়ে বলল, কী করা হয় বন্ধু?

বললাম ফিনল্যান্ডের এক বিশ্ব-বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করি। তা আপনি কী করেন?

ঝকঝকে হাসি দিয়ে বলল, আমি ইস্তাম্বুলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা অধ্যয়ন করি

কিন্তু সেটা কী তা জানার আগেই সবার চাহিদা জেনে সে ফের উধাও হয়ে গেলে ধোঁয়াটে হেঁশেলে।

কী হতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়? সেটা কি দর্শন? নাকি জীববিদ্যা? না মহাকাশবিজ্ঞান? চিকিৎসাবিজ্ঞান? পদার্থবিদ্যা? ইতিহাস? অর্থনীতি? নৃবিজ্ঞান? আইন? ব্যবস্থাপনা? মাথার ধূসর কোষগুলোতে একের পর এক অনুরণন ঘটে গেল সেই কথা চিন্তা করতে করতে।

যখন সবার চাহিদা মত খাদ্য-পানীয় নিয়ে সে ফিরল, শুধু জিজ্ঞাসা করলাম, কী পড়েন আপনি ইস্তাম্বুলে?

আস্তে করে ট্রেটা টেবিলে রেখে মুচকি হেসে চোখের তারায় কৌতুক নিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে সে বলল,

I study LIFE.