ঢাকা থেকে কলকাতায় যেতে হবে।কলকাতা থেকে জয়পুর যাওয়ার সরাসরি ট্রেন ব্যবস্থা রয়েছে। যোধপুর এক্সপ্রেস রাত ১১টায় হাওড়া থেকে ছেড়ে ৩০ ঘণ্টায় জয়পুর গিয়ে পৌঁছায়।ভাড়া এসি থ্রী-টায়ার জনপ্রতি ২৮০০ রুপি।অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটেও কলকাতা থেকে জয়পুর যাওয়া যায়।এছাড়া বাস ও ভাড়া গাড়িতেও যাওয়া সম্ভব।

Dip BiswasDip Biswas

পিঙ্ক সিটি বা গোলাপি শহর নামে সুপরিচিত রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর। রাজস্থান ভারতের পর্যটন স্থানগুলির একটিতে যুক্ত হয়েছে ভারতীয় গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলের তৃতীয় কোণ হিসেবে। জয়পুর দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিমে ৩০০ কিমি দূরে, তাজমহল খ্যাত আগ্রা থেকে পশ্চিমে ২০০ কিমি দূরে অবস্থিত। শহরের তিনদিকে রয়েছে পাহাড়। এখানে দেখা যায় দূর্গ এবং মিনার। পুরো শহর যেন গোলাপি রংয়ে একাকার হয়ে আছে। রাজা দ্বিতীয় রামসিং গোলাপি রং খুব ভালবাসতেন বলেই প্রতিটি বাড়ি এবং দোকানে গোলাপি রং করার আদেশ দেন।

জল মহলজল মহল

জয়পুর শহর গড়ে তুলে রাজা জয়সিং। তার নামানুসারে এই শহরের নাম জয়পুর করা হয়। জয়পুরের অন্যতম আকর্ষণ হল হাওয়া মহল। বিচিত্র শিল্প নৈপুণ্যে ভরা এই প্রসাদটি পাঁচতলা বিশিষ্ট। প্রতাপসিং ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে এটি নির্মাণ করেন। স্যার এডুইন এনরোল্ড হাওয়া মহলের সৌন্দর্য্য দেখে বলেছিলেন ‘আলাদিনের আশ্চর্য্য প্রদীপও এত সুন্দর মহল বানাতে পারতো না।’

হাওয়া মহলহাওয়া মহল

শোনা যায় হাওয়া মহলে বসেই রানীরা উৎসব দেখতেন। ভবনটির পেছনে রয়েছে ৩৬০টি জানালা আর অভ্যন্তরে রয়েছে স্নান কুণ্ড। জয়পুরে দেখার মত আছে গোবিন্দজীর মন্দির, জলমহল, অম্বর প্যালেস, কালী মন্দির, জয়মনি মন্দির, দেওয়ান-ই-আজম, দেওয়ান-ই-খাস, সুখমন্দীর, সিটি প্যালেস মিউজিয়াম, নাহারগড় দুর্গ প্রভৃতি।

এলবার্ট মিউজিয়ামএলবার্ট মিউজিয়াম

সিটি প্যালেস.সিটি প্যালেস.

প্রাকৃতিক হ্রদের মধ্যে অবস্থিত জলমহলটি সত্যি দেখার মত। শহর থেকে ৭ কিমি দূরে অবস্থিত। এক সময় রাজাদের গ্রীষ্মকালীন অবকাশের স্থান ছিল এটি। হ্রদটির নাম মানসাগর।

এর একটু দূরেই রয়েছে মানসিং দুর্গ। সপ্তদশ শতকে নির্মিত এই দুর্গের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য রয়েছে কয়েক মাইল দীর্ঘ চওড়া পরিখা। এই জায়গার নাম অম্বর যা পূর্বে রাজস্থানের রাজধানী ছিল এবং জয়পুর থেকে ১১ কিমি দূরে অবস্থিত। মানসিংস দুর্গের সিঁড়ি দিয়েই ঢুকে দেখা যাবে কালীমন্দির।অম্বর রাজপ্রাসাদের কাছেই রয়েছে একটি মসজিদ। এটির নাম অম্বর মসজিদ। সম্রাট আকবর এটি নির্মাণ করেন।

সিটি প্যালেস এর পাশে.সিটি প্যালেস এর পাশে.

একটু দূরেই রয়েছে সুন্দরগড় যা পাহাড়ে অবস্থিত এবং দেখতে একেবারে বাঘের মত। সিটি প্যালেস এবং মুবারকমহল শ্বেতপাথরে তৈরি। ভেতরে ও বাইরে অসাধারণ কারুকার্যে ভরা। সিটি প্যালেসের পিছনেই রয়েছে জন্তর-মন্তর মানমন্দির। যা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মান মন্দির। জয়সিং নির্মিত এই মন্দির প্রমাণ করে জ্যোতির্বিদ্যায় তার অসাধারণ ক্ষমতা। জয়সিং প্রতিষ্ঠিত পাঁচটি মানমন্দিরের মাঝে জন্তর-মন্তরই শ্রেষ্ঠ। উত্তর-পূর্বে সাজানো বাগান এবং এই বাগানে পাশেই রয়েছে জয়সিংসহ রাজপরিবারে অন্যান্য সদস্যের সমাধি।

Dip BiswasDip Biswas

কেন্দ্রীয় জাদুঘর পুরাতন নগরীর দক্ষিণাংশে রাম নিবাস গার্ডেনে অবস্থিত। এই জাদুঘর জয়পুরের মহারাজার দুর্লভ পোর্ট্রেট, সাজ পোশাক, জয়পুরের বিভিন্ন স্থানের কাঠের কাজ এবং অন্যান্য অণুচিত্র ও শিল্পকলা স্থান পেয়েছে। এখানে বাগানে ছোট একটা চিড়িয়াখানা ও আর্ট গ্যালারি রয়েছে।অপরূপ সৌন্দর্য্য আর স্থাপত্যে ভরা শহরটির গল্প তখনই সত্য মনে হবে যখন এক নজর দেখবেন আপন দৃষ্টির আলোয়।

নাহাড়গড় ফোর্টনাহাড়গড় ফোর্ট

জয়পুরে ঘোরার জায়গাঃ

লালচে গোলাপী সকল স্থাপনায় ঠাসা জয়পুর শহর।এই শহরে এলে পরে আপনি ভেবে পাবেন না,কোনটা রেখে কোনটা দেখবেন।জয়পুর থেকে ২ ঘন্টা লাগে গাড়ীতে আজমির শরীফ যেতে।জয়পুর থেকে পুষ্করও খুব কাছে।পুষ্কর এর মরুভূমিতে উটে চড়তে পারেন।ভালো লাগবে।কিন্তু জয়পুরে বিদেশীদের জন্য থাকার হোটেলের একটু সমস্যা আছে।অধিকাংশ হোটেলের বিদেশীদের রাখার অনুমতি নেই।আপনি রেল স্টেশনের পাশে হোটেল মেট্রোপলিটানে থাকতে পারেন।ওদের বিদেশীদের রাখার অনুমতি আছে।১২০০ থেকে ১৫০০ রুপির মধ্যে ভালো মানের রুম পেয়ে যাবেন।কিন্তু দালাল আর হোটেলের লোক দিয়ে ঘোরার জন্য গাড়ী ঠিক করবেন না।রেল স্টেশনের পাশেই ট্যাক্সি স্ট্যান্ড।ওখানে গিয়ে নিজে গাড়ী ঠিক করলে কম দামে পেয়ে যাবেন।’’রাজ মন্দির” সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে পারেন।

পুষ্করপুষ্কর

জয়পুরে দর্শনীয় স্থানের তালিকা হতে পারে এমনঃ

১) আম্বার ফোর্ট এন্ড প্যালেস।

২) হাওয়া মহল।

৩) জল মহল।

৪) নাহারগড় ফোর্ট।

৫) ফোর্ট অফ জয়পুর।

৬) জয়গড় ফোর্ট।

৭) রাজস্থান ডেজার্ট সাফারি।

৮) রন্থোমবর জাতীয় উদ্যান।

৯) রামবাগ প্যালেস।

১০) সিটি প্যালেস।

১১) জন্তর মন্তর।

১২) এলবার্ট হল মিউজিয়াম।

১৩) গালতাজি (বানর) মন্দির।

১৪) বিড়লা মন্দির।

১৫) এলিফ্যান্ট সাফারী।

১৬) পান্না মিনা’র কুণ্ড।

১৭) গেটওয়ে অফ গনেশ পাল।

আম্বার ফোর্টআম্বার ফোর্ট

জয়পুরে ঘুরতে কোথায় কি খরচ হতে পারে:-

ঘোরাঘুরির জন্য দুইদিনই যথেষ্ট যদি সারাদিনের জন্য গাড়ী নিয়ে নেন।গাড়ী দিনপ্রতি ২০০০ থেকে ২২০০ রুপি পড়বে দিনপ্রতি। টাটা সাফারি বা ইন্ডিকা ভি-২ অথবা জাইলো নিয়ে ঘুরতে পারবেন।

বিদেশীদের জন্য আম্বার ফোর্ট এর টিকিট ৩০০ রুপি,হাওয়া মহল ৫০ রুপি,নাহারবাগ ফোর্ট ১৫০ রুপি,জয়গড় ফোর্ট ১০০ রুপি,সিটি প্যালেস ৫০০ রুপি,জন্তর মন্তর ১০০ রুপি,জলমহল ৭০ রুপি।

Dip BiswasDip Biswas

জয়পুরে থাকাঃ

জয়পুরে বিদেশীদের জন্য থাকার হোটেলের একটু সমস্যা আছে।অধিকাংশ হোটেলের বিদেশীদের রাখার অনুমতি নেই।আপনি রেল স্টেশনের পাশে হোটেল মেট্রোপলিটানে থাকতে পারেন।ওদের বিদেশীদের রাখার অনুমতি আছে।১২০০ থেকে ১৫০০ রুপির মধ্যে ভালো মানের রুম পেয়ে যাবেন।

এছাড়া রাজস্থান পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল গাঙ্গুরা রয়েছে।এছাড়াও রয়েছে হোটেল চন্দ্রালোক, অশোকা,চন্দ্রবিলাস,গোল্ডেন ইন,মমতা ইত্যাদি।

Dip BiswasDip Biswas

জয়পুরে খাওয়াঃ

খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে রাজপুতরা ভেজিটেরিয়ান।ভেজ খেতে সমস্যা হলে মুহাম্মদবাগ চলে যাবেন।পাবেন হাজারো বিরিয়ানীর দোকান।হোটেল মোহাম্মদীতে প্যালেসে খেতে পারেন।ভেজ আর নন-ভেজ দুটোই পাবেন।দাম কম এবং খাবারের মান ভালো।এছাড়া রাজস্হানী ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে চাইলে ডাল বাটি চুরমা খেতে পারেন।খেতে অসাধারন।

ডাল বাটি চুরমা থালি.ডাল বাটি চুরমা থালি.

জয়পুরে কেনাকাটাঃ

রাজস্হানের জয়পুরে কেনাকাটা করা একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা।এই রাজ্যটি ঐতিহ্যগতভাবে হস্তশিল্প এবং হস্তচালিত তাঁত তৈরীর শিল্পে সমৃদ্ধ।টুকিটাকি জিনিস কিনতে পারেন।দাম একটু বেশী।

আসুন ভ্রমণে গিয়ে আমরা যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা না ফেলি, পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব, সম্ভব হলে পড়ে থাকা চিপস, বিস্কুট এর প্যাকেট সাথে করে নিয়ে আসবো এবং নিজে ফেলবো না।