আপনি যখন ভ্রমণ করছেন নিশ্চয়ই সেরা মুহূর্তগুলো ধরে রাখতে চাইবেন। এমনকি আপনি পেশাদার ফটোগ্রাফার না হলেও কিচ্ছু এসে যায় না। এখানে আপনার জন্য থাকছে ক্যামেরা বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস। মাথায় রাখুন নিচের প্রশ্নগুলোর জবাব।

 

ক্যামেরার জন্য আপনার বাজেট কতো?

আপনার বাজেট আপনার জন্য সঠিক ক্যামেরা বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটা ব্যক্তিগত ব্যাপার হলেও নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন।

আকসেসরিস কী কী লাগছে সেটা হিসেব করুন। উচ্চক্ষমতার মেমরি কার্ড, ব্যাগ/কেইস, অতিরিক্ত ব্যাতারি, ট্রাইপড কিন্তু জরুরি অনুষঙ্গ। আপনার ক্যামেরাটির লেন্স বদলানোর মত হলে বাড়তি লেন্সের দামও মাথায় রাখুন। অনেক সময় ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, জিনিসপত্র হারাতে বা চুরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে কীরকম মূল্যমানের সরঞ্জামাদি সাথে নেবেন সেটা বিবেচ্য।

আপনার বাজেট অল্প হলে পয়েন্ট-এন্ড-শ্যুট বা গো-প্রো এর মত একশন ক্যামেরা নিতে পারেন বা আপনার স্মার্টফোনটি আরেকটু ভালো দেখে নিতে পারেন। বাজেট মোটামুটি হলে ডিএসএলআর নিয়ে নিতে পারবেন। প্রফেশনাল ক্যামেরার জন্য বাজেট বেশ ভালরকম-ই লাগবে।সেক্ষেত্রে আপনি রাতের ছবি বা একশন ফটোগ্রাফির সুবিধাও পাবেন।

Expert VagabondExpert Vagabond

কতোটা যন্ত্রপাতি সাথে বহন করবেন?

ভ্রমণে আপনি কতটা যন্ত্রপাতি সাথে বহনে ইচ্ছুক সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি চাইলে স্মার্টফোনেও কাজ সেরে ফেলতে পারেন, যদি বেশি বোঝা না বইতে চান। হালকা ক্যামেরাও ব্যবহার করতে পারেবন। তবে আপনি যদি সত্যি-ই ভাল কিছু ছবি নিতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে বেশি বোঝা বহন করতেই হবে।

ক্যামেরার কারিকুরি শেখার ঝক্কি পোহাতে কতটা আগ্রহী

ভাল মানের ক্যামেরা থাকলেই যে কেবল আপনি ভাল ছবি তুলতে পারবেন, ব্যাপারটা মোটেই এরকম নয়। ধরা যাক, আপনি বেশ দাম দিয়ে ভাল মানের ক্যামেরা কিনলেন, কিন্তু আপনি সেটা দিয়ে কাজ করার জন্য যে টেকনিক্যাল জ্ঞান তার বিন্দুবিসর্গও জানেন না, তাহলে আপনার পুরো বিনিয়োগটাই যে বিফলে যাবে সে সম্বন্ধে নিশ্চিত থাকুন। ফলে, যে ক্যামেরাই ব্যবহার করতে চান না ক্যনো সেটা চালানোর জন্য ব্যাসিক ধারণা নিন।

এবার আপনার জন্য থাকছে ক্যাটাগরির ভিত্তিতে নানা ক্যামেরার একটি তালিকা। মূলত ক্যামেরার ওজন, ব্যবহারের জটিলতা এসব মাথায় রেখেই এটি সাজানো হয়েছে।

স্মার্টফোনঃ

স্মার্টফোন সহজে বহনযোগ্য। ছবি এডিট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারে অত্যন্ত সুবিধাজনক। ঝামেলা হচ্ছে, স্মার্টফোন দিয়ে আপনি জুম করতে, স্বল্পালোকে বা রাতে ভাল ছবি পাবেন না।

hastalosmegapixeles.comhastalosmegapixeles.com

পয়েন্ট-এন্ড-শ্যুটঃ

পকেটে বহনযোগ্য ক্যামেরা হিসেবে এ ধরনের ক্যামেরার জুড়ি নেই। এগুলো জুম করবার সুবিধা এবং নানা ধরনের শ্যুট মোড দিতে পারে। যদিও স্বল্পালোকে খুব কমই কাজে দেবে।

একশন ক্যামেরাঃ

এডভেঞ্চার ফটোগ্রাফির জন্য যুতসই। পানিতে, ধুলোয় বা তুষারে, যেখানেই হোক, এটি কাজে দেবে। জুম করার সুবিধা অবশ্য পাবেন না।

ব্রিজ ক্যামেরাঃ

এ ধরনের ক্যামেরা পয়েন্ট-এন্ড- শ্যুট থেকে ভাল। জুম করতে পারবেন। ম্যানুয়ালি কন্ট্রোল করতে হয়।

মিররলেসঃ

ডিএসএলআর থেকে কিছুটা ছোট হলেও ছবির মান একইরকম পাবেন। ম্যানুয়ালি কন্ট্রোল করতে হয়। বেশ দামি। ফটোগ্রাফির ব্যাপারে সিরিয়াস হলে অবশ্যই ব্যবহার করুন।

ডিএসএলআরঃ

ছবির মান, লেন্সের ব্যবহার বা ম্যানুয়াল কন্ট্রোলের কথা ভাবলে এ ধরনের ক্যামেরা সবচেয়ে ভালো অপশন হতে পারে। অবশ্য ভ্রমণের ছবির জন্য মিররলেস ক্যামেরা ডিএসএলআর এর চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।

তো আপনার জন্য রয়েছে আপনার চাহিদা, সামর্থ্য এবং দক্ষতার ভিত্তিতে নানান ক্যামেরা বাছাইয়ের সুযোগ। নিজের জন্য সেরাটি বেছে নিন, ভ্রমণের মুহূর্তগুলোর সেরা ছবি তুলুন। হ্যাপি ক্লিকিং!