মূল লেখাঃ ক্রিস্টিনা মিটারমেজার

তিনি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের চিত্রগ্রাহক।

একজন বন্যপ্রাণীর চিত্রগ্রাহকের কাছে প্রিয় প্রাণীর না খেতে পেয়ে ধীরে ধীরে মারা যাওয়ার দৃশ্য দেখা আসলেই সবচেয়ে বেদনাদায়ক। তাইতো এই ক্ষুধার্ত মেরু ভালুকের কষ্ট দেখা, ছবি তোলা এবং সাহায্য করার অক্ষমতা মেনে নেয়া আমার জন্য খুবই কঠিন ছিল।

দুর্বল পেশি, চরম অনাহারে সে নিজেকে তুলে ধরে রাখতে পারছিলো না। এটা পরিষ্কার ছিলো আমার ব্যাগে থাকা সামান্য বাদাম যদি আমি তাকে খাওয়াতাম এই দুর্গম পরিবেশে তা তার খুব একটা কাজে আসতো না বরং কষ্ট বাড়িয়ে দিতো।

দুর্বল পেশি, চরম অনাহারেদুর্বল পেশি, চরম অনাহারে

কোনভাবে টলতে টলতে সে একটি পরিত্যক্ত মাছ ধরা ক্যাম্পে প্রবেশ করে যার একটু দূরেই আমরা ছিলাম, দেখলাম সে কিছু আবর্জনা পেলো খাওয়ার জন্য। মনে মনে ভাবছিলাম সে যদি আরো অনেক খাবার খুঁজে পেতো। একটা ময়লার বাক্সে খুঁজে পাওয়া স্নোমোবাইলের তুলার সীটটি সে কামড়ে কামড়ে খেলো, রাগে দুঃখে আমি নিজের সাথে লড়াই করছিলাম, একসময়কার রাজকীয় এই প্রাণী আজ ময়লা কুড়িয়ে খাচ্ছে।

রাজকীয় এই প্রাণীর আজ বেহাল দশারাজকীয় এই প্রাণীর আজ বেহাল দশা

অনেকেই আমাকে সমালোচনা করছেন, কেন আমি তাকে সাহায্য করলাম না, কিন্তু আমরা যেখানে ছিলাম তা থেকে নিকটবর্তী গ্রাম অনেক দূরে এবং অস্ত্র ছাড়া কোন ক্ষুধার্ত প্রাণীর সামনে যাওয়া পাগলামি ছাড়া কিছুই না।

শেষপর্যন্ত আমি একটা কাজই করেছি, নিজের ক্যামেরায় এই মেরু ভালুকের ছবি আর ভিডিও নিয়েছি যাতে বিশ্বকে দেখাতে পারি যে আমরা এদের কি হাল করেছি।

যদিও আমি এই ভালুকের দশার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে পুরোপুরি দোষারোপ করতে পারি না, কিন্তু একটা বিষয় আমি জানি তা হলো এরা বরফ আচ্ছাদিত সাগরে শিকার ধরে বেঁচে থাকে যা দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রতি বছর একটু একটু হারিয়ে যাচ্ছে।

মেরু ভালুকের কষ্ট দেখামেরু ভালুকের কষ্ট দেখা

এর মানে হচ্ছে সাধারণ ভূমিতে এরা অসহায়, যেখানে তারা শিকার ধরতে পারে না। কারণ এখানে সীল, তিমি, সিন্ধুঘোটক কিছুই নাই, না খেয়ে থাকা ছাড়া কিছু করার নেই।

আমি জানি এই ছবিগুলো বেদনাদায়ক এবং দেখাটা খুবই কষ্টের, কিন্তু আমরা আমাদের পৃথিবীর এমন এক সময়ে এসে দাড়িয়েছি এবার আর মুখ ফিরিয়ে থাকা যাবেনা। আমাদের জেগে উঠতে হবে, জোর গলায় বৈশ্বিক উষ্ণতা আর কার্বন নিসঃরণ নিয়ে কথা বলতে হবে।

আমি আমার সমালোচনায় দুঃখিত হওয়ার চেয়ে ইতিবাচক মন্তব্যগুলো পড়ে আনন্দিত হচ্ছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে আমরা সবাই একটু একটু করে হলেও সাহায্য করতে পারি। দৈনন্দিন অনেক কাজের মাধ্যমে আমরা একটু হলেও তা কমাতে পারি।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক থেকে অনূদিত।