মালয়েশিয়া  একটি পর্যটকবান্ধব, নিরাপদ ও পর্যটনসমৃদ্ধ দেশ। দেশটি বেড়িয়ে আসতে পারবেন অনায়াসে তবে বাংলাদেশী টুরিস্টদের জন্য শুধু পশ্চিম মালয়েশিয়া  বেড়ানোর অনুমতি দেয়া হয়। কোথায় কোথায় যাবেন তা ঠিক করুন, কতদিন থাকবেন প্লান করুন, একবার দেশটিতে ঢুকলে ৩০ দিন থাকতে পারবেন। মানুষ তিনটি জায়গায় বেশী যান কুয়ালালামপুর(রাজধানী), পেনাং আর লাংকাউই। পেনাং আর লাংকাউই দুটি দ্বীপ। কুয়ালালামপুর শহরটি বেশ বড়, পুরা মালয়েশিয়া  যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভালো। তো, এখন যাওয়ার আগে আপনার বাজেট করে নিন। পিক সিজন-আফ পিক সিজন জেনেশুনে বেরিয়ে পড়ুন। পিক সিজনে খরচ কিন্তু বেশীই হবে।

কুয়ালালামপুর

ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে রওনা করলে কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্ট পৌছতে ৪ ঘন্টা লাগে, এয়ার এশিয়ার মতো বাজেট এয়ারে গেলে আপনাকে নামাবে KLIA2 টারমিনালে (যার পুরাতন নাম LCCT) আর অন্য প্লেনে গেলে KLIA টারমিনালে নামাবে। তবে যেখানেই নামাক সমস্যা কিছু নাই। প্রথমে এখান থেকেই সিম সংগ্রহ করে নিন, digi নিতে পারেন ভালো কানেকশনের জন্য। দুই টারমিনাল থেকেই KLIA এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ৩০ মিনিটে পৌছে যাবেন KL SENTRAL রেলস্টেশনে, নেবে ৫৫ রিংগিত ঐ দেশী। ওখান থেকে ট্যাক্সি নিবেন আপনি যে হোটেল বুকিং করেছেন বা না করে থাকলেও সমস্যা নাই যে এলাকাতে যেয়ে হোটেল নিবেন তার জন্য। বেশীর ভাগ মানুষ হোটেল নেন বুকিত বিনতাং, মাসজিদ জামেক, চায়না টাউন তবে যে কোন জায়গাতেই হোটেল নিতে পারেন আপনি। এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি করে কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার যেতে ভাড়া অনেক বেশী। এয়ারপোর্ট এর ভিতরে এয়ারপোর্ট টু কুয়ালালামপুর সিটি বাসের টিকেট কিনে বাসে উঠতে পারবেন ভাড়া ১০ রিংগিত। বাস আপনাকে থামাবে পুদুরায়া বাস স্টান্ড, যাকে পুদু সেন্ট্রাল ও বলে। এর গায়েই লাগানো হল চায়না টাউন। এখানে ও আশে পাশে অনেক হোটেল আছে থাকার।

তবে মনে রাখবেন কুয়ালালামপুর সিটিতে ট্রাফিক অনেক বেশী তাই বিশেষ সময়গুলিতে অনেক জ্যাম থাকে, তবে তা ঢাকার মত বিশৃংখল না। যে মাধ্যমেই যান না কেন লাগেজ রাখতে কোন সমস্যাই হবে না। হোটেলে এসেই কুয়ালালামপুর সিটির একটা ম্যাপ চেয়ে নিন বা প্রয়োজনীয় ম্যাপ আগেই জোগাড় করুন। আগের থেকে হোটেল বুক করতে চাইলে http://www.agoda.com/ বা http://www.booking.com/ দিয়ে করে নিন।

কুয়ালালামপুরে কি কি দেখবেন? কুয়ালালামপুর সিটিতে ঘুরার জন্য বাসে উঠতে পারেন, সবচেয়ে ভালো এলআরটি (মেট্ররেল), আর ট্যাক্সি তো আছেই। তবে সব সময় টাকা খুচরা রাখবেন। টুরিস্টদের জন্য ফ্রি বাস ও রয়েছে একটা গ্রীন কালার লাইন যায় কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার টু বুকিত বিনতাং আর পারপেল কালার লাইন যায় পাসার সেনি টু বুকিত বিনতাং। এরা কাভার করে কেএল টাওয়ার, পেট্রনাস টুইন টাওয়ার, বুকিত বিনতাং, চায়না টাউন, কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার ইত্যাদি। হপ অন হপ অফ বাসের টিকেট কেটেও কুয়ালালামপুর সিটি কিছুটা ঘুরতে পারবেন। পেট্রনাস টুইন টাওয়ারের সাথেই সুরিয়া শপিংমল। এর পর যেতে পারেন সেন্ট্রাল মার্কেট, মাসজিদ জামেক, মারদেকা স্কয়ার, টাইম স্কয়ার(কস্মো ওয়ার্ল্ড ২ডি ৩ডি সিনেমা)এদের পাশেই রয়েছে দুটি নদী ক্লাং আর গাম্বাক। খারাবের জন্য বিখ্যাত রাস্তা হলো জালান (মালয় ভাষায় রাস্তা) আলোর যেতে ভুলবেন না যা বুকিত বিনতাং এর কাছেই। কেএল বার্ড পার্ক যেতে ভুলবেন না যেতে হবে ট্যাক্সি নিয়ে, সি ওয়ার্ল্ড (একুয়ারিয়া), ইসলামিক আর্ট মিউসিয়াম, বাতুকেভ বেড়িয়ে আসুন। কুয়ালালামপুর সিটি থেকে একটু দূরে গাড়িতে এক ঘন্টা জেন্টিং হাইল্যান্ড যা কিনা পাহাড়ের উপর রিসর্ট যাতে পাবেন কেবল কার, থিম পার্ক। এটাকে বলে সিটি অফ এন্টারটেইন্মেন্ট। যেতে পারেন পুত্রজায়া সিটিতে যা অনেক সাজানো গোছানো যেখানে ওদের পার্লামেন্ট, সরকারি অফিস আদালত, সেক্রেটারিয়েট, কূটনীতিক মিশণ ইত্যাদি রয়েছে।

কেএল বার্ড পার্ককেএল বার্ড পার্ক

 

এবার কুয়ালালামপুর থেকে বেরুনোর পালা, যেতে পারেন পেনাং বা লাংকাউই। প্লেনে যেতে আসতে পারেন পেনাং বা লাংকাউই যদি সময় কম থাকে আপনার। কিন্তু দেখতে দেখতে যেতে চাইলে যাবেন বাসে বা ট্রেনে। বাসের টিকিট কেটে যেতে চাইলে কুয়ালালামপুর নেমে চলে যান পুদুরায়া বাস স্টান্ড (এটা একটু কনফিউসিং ধাধার মত জায়গা)। টিকেট বিল্ডিং এর চলন্ত সিড়ি দিয়ে ভেতরে যান অনেক বাসের দালাল টাইপ লোকরা (তবে এরা বাস কাউন্টারেরই লোক) আপনাকে ডাকবে আপনি কারো কথায় তেমন পাত্তা না দিয়ে চলে যান থার্ড ফ্লোরে, বাসের কাউন্টার খুজে টিকেট কিনুন পেনাং বা লাংকাউইর। যদি কাউন্টার পেতে সমস্যা হয় ভিতরে গিয়ে একটা ভালো দেখে দালাল্কে নিয়ে তাদের কাউন্টারে ও যেতে পারেন টিকেট বিষয়ে কথা বলতে, ওরা একস্ট্রা কোন টাকাই নেবেনা।

আন্ডার ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, লাংকাউইআন্ডার ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, লাংকাউই

ট্রেনে করে পেনাং যেতে পারবেন তার জন্য KL SENTRAL থেকে রওনা হয়ে নামতে হবে Butterworth স্টেশনে। সেখান থেকে ফেরি করে যাবেন পেনাং এর জর্জটাউনে। তবে ট্রেনের টিকেট পাওয়া মুষ্কিল তিন চার সপ্তাহ আগের থেকে করতে হয়। এই সাইটে “https://intranet.ktmb.com.my/e-ticket/login.aspx” একাউন্ট করে ইন্টারন্যাশনাল পেমেণ্ট করে কিনতে পারেন বা কেউ কাউন্টারে গিয়েও আপনার জন্য কেটে দিতে পারে। তবে ট্রেনে করে লাংকাউই যেতে পারবেন না। বাস ট্রেনের টিকেট http://www.easybook.com/ এর মাধ্যমে অনলাইনে চাইলে করতে পারেন।

আন্ডার ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, লাংকাউইআন্ডার ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, লাংকাউই

এখন দুধরনের প্লান করা যায় বাসে

  •  কুয়ালালামপুর- পেনাং- লাংকাউই- কুয়ালালামপুর
  •  কুয়ালালামপুর- লাংকাউই- পেনাং- কুয়ালালামপুর। আমি দুটি নিয়েই এখানে বলছি।

N.B.1 কুয়ালালামপুর থেকেই দেখেশুনে কেনাকাটা করাই ভালো, পেনাং এও কিছু হস্তশীল্প কিনতে পারেন। লাংকাউই থেকে যত কম কেনাকাটা করবেন ততই ভালো, কিছু জিনিস ছাড়া। তবে সব মানুষের টেস্ট ভিন্ন ভিন্ন, আপনি আপনার জন্য যেটা ভালো মনে করবেন তাই করুন।

N.B.2 মালয় কিছু খাবার যেমন নাসি গোরেং (ফ্রাইড রাইস), টমইয়াম স্যুপ, স্যাটে, রুটি চেনাই, নাসি কাম্পুর, ইকান বাকার (গ্রিল্ডফিস), আয়াম (চিকেন), দাগিং (বিফ)।

পেনাং

কুয়ালালামপুরের পুদুরায়া বাস স্টান্ড থেকে বাসে চড়ুন পেনাং এর উদ্দেশ্যে। বাস আপনাকে সাগরের উপরে তৈরী ব্রীজ দিয়ে পেনাং আইল্যান্ডের বাস স্ট্যান্ডে নামাবে। সময় নেবে ৫ ঘন্টা। এইটাই সহজ ওয়ে তবে ব্রীজ দিয়ে পেনাং না এসে বাটারওয়ার্ত স্থানেও নামতে পারেন তারপর ফেরি করে পেনাং আসুন। এই ফেরি জার্নি মাত্র ১৫ মিনিটের যেতে টিকেট কাটতে হবে ১.২ রিংগিট কিন্তু ফেরত আসাটা ফ্রি। এখান থেকে সিটিবাসে বা টেক্সিতে চলে যান বাতুফিরিঙ্গি বীচ এরিয়ায় নামুন ম্যাকডোনাল্ডসের কাছে। হোটেল নিন। বীচে ঘুরুন, ওয়াটার স্পোর্টসে অংশ নিন। তবে এখানে ও তা করতে পারবেন বা লাংকাউই যেয়েও পারবেন। রাতে নাইট মার্কেট ঘুরুন, বীচের বাস্তার দুপাশে প্রচুর মালয়, এরাবীয়ান, ইন্ডিয়ান, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট পাবেন।

মাসজিদ কাপিতান, জর্জটাউনমাসজিদ কাপিতান, জর্জটাউন

এখানে বেড়ানো শেষ হলে সিটিবাসে(র‍্যাপিড পেনাং) বা টেক্সিতে আসুন পুরাতন কীর্তিপূর্ণ জর্জটাউনে। এটি পেনাং এর রাজধানী, ব্রিটিশ কলোনীয়ালিজমের স্বাক্ষীসব পুরাতন আর্কিটেকচারের ভবন এখানে দেখতে পাবেন। যা এভাবেই সংরক্ষণ করা হয়েছে দেখলে মনে হবে আপনি অন্য এক মালয়েশিয়া চলে এসেছেন। ছিমছাম নিরিবীলি পৃথিবীর ঐতিহ্যবাহী সব নাম দেওয়া রাস্তা দেখবেন। আর্মেনিয়ান স্ট্রিট, বার্মা স্ট্রিট, চায়না স্ট্রিট আরও কত। এক একটি স্ট্রিটের সৌন্দর্য এক এক রকম স্থাপনা আর ওয়ালয়ার্ট দিয়ে বিশ্বযুদ্ধ, জাপান চীন যুদ্ধ ইত্যাদি ঘটনা শৈল্পীক ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই শহরটির এভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য UNESCO এটিকে ২০০৮ সালে এটিকে হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করেছে। স্ট্রিটগুলি হেটে হেটে দেখলেই মজা পাবেন, ক্লান্ত হলে উলটা একরকম রিক্সাও পাবেন। মালয়েশিয়ান ট্রাডিশণাল খাবারের অনেক বুফে রেস্টুরেন্ট পাবেন। ঘুরে দেখতে পাবেন মাসজিদ কাপিতান, ফোর্ট কর্নোয়ালিস, ক্লক টাওয়ার, পেনাং হিল, লিটল ইন্ডিয়া, পুরান চার্চ, টেম্পেল, জেটি। লেবু(মালয় ভাষায় এভিনিউ) চুলিয়া, লেবু কুইন এখানে থাকার অনেক হোটেল পাবেন। লেবু কুইনের হোটেল তাজুদ্দীনের নাসি কান্দার খেতে ভুলবেননা।

  • N.B.1 ইন্টারন্যাশনাল কারেন্সি পেনাং বা কুয়ালালাম্পুর থেকে রিংগিতে চেঞ্জ করলে ভালো রেট পাবেন তাই লাংকাউয়ীতে না করাই ভালো। ১০১ নম্বর বাস জর্জটাউন টু বাতুফিরিঙ্গি যাওয়া আসা করে। সিটিবাসের টিকেট বাসে উঠে তারপর ড্রাইভারের কাছ থেকে কিনবেন।
  • N.B.2 লংরুটের সব বাস সার্ভিসই ভালো তবে আমরা ইউজ করেছি সিটি এক্সপ্রেস আর ঈগল। লংরুটের বাসজার্নিগুলি যদি রাতে করেনতো দুটি সুবিধা এক হোটেল ভাড়া সেভ করলেন একরাত আর দুই দিনের সময় ভ্রমনে ব্যায় করলেন।

লাংকাউই

পেনাং থেকে লাংকাউই আসলে ভালো সাগর ভ্রমন হবে এতে সাড়ে তিন ঘন্টা লাগে। এজেন্টের কাছ থেকে জর্জটাউন টু লাংকাউই ফেরি টিকেট একদিন আগেই কিনে নিন জর্জটাউনে গিয়ে। জর্জটাউনের এই জেটিটি ক্লকটাওয়ারের পিছনের দিকে একটু খুজলেই পেয়ে যাবেন। এই ফেরি গুলো লঞ্চের মত শুধু মানুষই যায়, বাস গাড়ি নয়।

স্নোর্কেলিং, কোরাল আইল্যান্ড, লাংকাউই স্নোর্কেলিং, কোরাল আইল্যান্ড, লাংকাউই

আর যদি আপনি কুয়ালালামপুর থেকে লাংকাউইর উদ্দেশ্যে রওনা হন কুয়ালালামপুর থেকে লাংকাউই-এর সরাসরি কোনো বাস নেই। কুয়ালালামপুরের পুদুরায়া বাস স্টান্ড থেকে বাসে নামবেন কুয়ালা পার্লিসে। এখানে নেমেই কুয়ালালামপুর ফেরার বাসের টিকেট কেটে নিতে পারেন যদি দিন ক্ষণ জানা থাকে। বাস থেকে নেমে স্থানীয়দের সহায়তায় হেটে যাবেন জেটিতে। ফেরির টিকেট কেটে উঠবেন লাংকাউইর উদ্যেশ্যে সময় নেবে ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট। প্রতি ঘন্টায় ফেরি আছে যা আপনাকে নিয়ে ভিড়বে কুয়া জেটিতে। এখানে আসলেই দেখতে পারবেন ঈগল স্কয়ার। ফটো সেলফি তোলার থাকলে তুলুন। কুয়া থেকে ট্যাক্সি করে চলে আসুন পান্তাই সেনাং এলাকায় যেখানে সবচেয়ে সুন্দর বীচটি দেখবেন। যেকোন হোটেল, রিসর্ট ঠিক করে উঠে পড়ুন। মেইন রাস্তার পাশের এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে স্নোর্কেলিং, স্কুবা ডাইভিং, আইল্যান্ড হপ্পিংয়ের প্যাকেজ কিনে ঘুরতে যান। অনেক এজেন্সি দেখতে পাবেন দু-তিন্টির প্যাকেজ দেখে আপ্নারটি বেছে নিন। এখানকার সমুদ্রের পানি খুব স্বচ্ছ ও সুন্দর। লাংকাউইতে কোন সিটিবাস সার্ভিস নাই। নিজেরা ট্যাক্সি করে চলে চলে যান মেইন আকর্ষণ স্কাই ব্রীজ আর কেবল কারে চড়তে। এই কেবল কারটি অনেক উচু আর খাড়া ভাবে নিয়ে যায়। তাই ভয়ও পাবেন মজাও পাবেন।

কোরাল আইল্যান্ডকোরাল আইল্যান্ড

কোরাল আইল্যান্ডকোরাল আইল্যান্ড

লাংকাউইলাংকাউই

এখানে একটা বাটারফ্লাই পার্ক আছে, খোলা পেলে ঘুরে আসবেন। কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে ফেরার জন্য প্লেনে ফিরতে পারেন বা কোন এজেন্সির থেকে বাসের টিকেট কেটে নিন বা নিজে করতে চাইলে কুয়া জেটি এসে ফেরি পার হয়ে কুয়ালা পার্লিস বাস স্ট্যান্ড এসে কেটে নিন। এখান থেকেই বাসে চড়ে বসুন আর আট নয় ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন কুয়ালালামপুরে। 

 নাসি আয়াম নাসি আয়াম

N.B. লাংকাউই ডিউটিফ্রি আইল্যান্ড বলে যে জিনিস্পত্রের দাম কম তা ভুল কথা বরং তার উলটা, তবে শুধু চকলেট আর কিছু গৃহস্থলী সামগ্রীর দাম আসলেই কমে পাবেন। লাংকাউই তে যে বার্ড প্যারাডাইস আর আন্ডার ওয়াটার ওয়ার্ল্ড আছে তাতে না গিয়ে যাবেন কুয়ালালাম্পুরের কেএল বার্ড পার্ক এবং সি ওয়ার্ল্ড (একুয়ারিয়া) তে। এটা না করলে কিন্তু শুধু শুধু পয়সা নষ্ট করবেন। ফেরিঘাটে ঢুকতে যে দোকান বাজার পড়ে ওই খানে টয়লেটে চার্জ করবে তাই একটু ওয়েট করে ভিতরে ঢুকুন যাত্রীদের ওয়েটিং রুমের সাথেই টয়লেট পাবেন বিনামূল্যে।

জানা থাকা ভালো

১) কুয়ালালামপুর নেমে ঐদিনি চলে যেতে চাইলে যেতে পারবেন পেনাং বা লাংকাউই। তবে টায়ার্ড থাকলে একদিন কুয়ালালামপুর স্টে করে পরের দিন রওনা হোন।

২) আগে কুয়ালালামপুর নেমে কুয়ালালামপুর সব ঘুরে যদি পেনাং বা লাংকাউই যান তার চাইতে ভালো বা সেফ প্রেক্টিস হলো কুয়ালালামপুর একদিন থেকে বা ঐদিনই পেনাং বা লাংকাউই গিয়ে ঐগুলি সবঘুরাঘুরি শেষ করে তারপরে কুয়ালালামপুর সব ঘুরে দেখা। এতে যেটা হবে আপনার ইন্টারন্যাশনাল ফেরার ফ্লাইট যেদিন আপনি তখন কুয়ালালামপুর আছেন, আপনার ফ্লাইট মিসের ভয় নেই। কিন্তু পেনাং বা লাংকাউই থেকে এসে ফ্লাইট ধরতে চাইলে বিপদ হয়ে যেতে পারে।

৩)মালয়শিয়াতে খাবার নিয়ে চিন্তার কিছু নাই, রাস্তায় বেরুলেই অসংখ্য রেস্টুরেন্ট পাবেন, রাস্তার পাশের ভ্রাম্যমান দোকানের খাবারের স্বাদ নিতে ভুবেন না, যা কিনা খুবই নিরাপদ।

৪) দেশী খাবার না খুজাই ভালো, যেহেতু নতুন একটা দেশে এলেন, তাই তাদের বিভিন্ন স্বাদের খারাবের স্বাদ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন কেন।

৫) সাগর বেষ্টীত দেশে এসেছেন তাই মাংসর দিকে বেশী মনযোগ না দিয়ে সামুদ্রিক খাবারগুলি বেছে নিন, এটুকু বলতে পারি পস্তাবেন্না।

৬) মালয়েশিয়াতে ট্যাক্সি ভাড়া মোটামুটি ফিক্সড, মিটারে মনে হয় কম চলে, সবাই ভাড়া জানে। মালয়শিয়া দেশটি বলতে গেলে নিরাপদ। তবে বিপদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন।

৭) কোন কিছু জানতে চাইলে হোটেলের রিসিপসনে জিজ্ঞাসা করুন তারা সব রকম হেল্প করবেন। গাড়ি, মটরসাইকেল ভাড়া করে নিজেই চালাতে চাইলে তা পারবেন অনায়াসে। শুধু বাংলাদশী ড্রাইভিং লাইসেন্সটি সাথে রাখবেন।

৮) রাস্তার দুধারে প্রচুর ডাবের পানি, কোকোনাট মিল্কশেক, অনেক রকমের চা, মেডিকেল চা, পানীয় পাবেন এগুলি চেখে দেখতে ভুলবেননা। তবে সব পানীয়তেই এরা প্রচুর বরফ দেয় (টুথার্ড অংশ)।

৯) চলার পথে নিজেকে ভদ্রতা, সহনশীলতা, অমায়িক, সৎ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, মানুষ্কে ছাড় দেয়া এইদিক গুলোর দিকে বেশী নজর দিন, দেশের জাতীর ইমেজ নষ্ট না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখুন।

১০) এইখানে উল্যেখকরা স্থানগুলি ভ্রমন করলে ৭ থেকে ১০ দিন লাগবে। অন্য আরো স্থান ভ্রমন করতে চাইলে নিজ উদ্যোগে একটু ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে নিবেন।