আশা দে ভোস। শ্রীলংকান মেরিন বায়োলজিস্ট ও সমুদ্র শিক্ষাব্রতী। শ্রীলংকার উপূকুলে উত্তর ভারতসাগরের নীল তিমিদের নিয়ে গবেষণা করছেন। ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া থেকে পিএইচডি শেষ করে বর্তমানে পোস্ট ডকটরাল স্কলার হিসেবে আছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা ক্রুজ’এ। শ্রীলংকার জলসীমায় মাত্রাতিরিক্ত নৌযান চলাচলে নীল তিমিদের জীবনাচরণে যে সমস্যা হয় তা নিরসনে এখন কাজ করছেন। পিএইচডির বিষয়ও ছিল এটি। উত্তর ভারত মহাসাগরের এই নীল তিমিরা সারা পৃথিবীর অন্যান্য তিমিদের চেয়ে আলাদা। এরা সারা বছরই এই সাগরে থাকে। অন্য তিমিদের মতো প্রজননের উদ্দেশে দীর্ঘ মাইগ্রেশনে যায় না। আশা এই তিমিদের নাম দিয়েছেন ‘ব্যতিক্রমী নীল তিমি’। শ্রীলংকার চারপাশে সমুদ্র। মেরিন বায়োলজিস্টের মতো পেশায় যাবতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আশা আজ নারী হয়েও শ্রীলংকার ‘সমুদ্র নায়ক’। আশা শ্রীলংকার নতুন প্রজন্মকে আহ্বান করেন সমুদ্রকে ভালবাসতে। সমুদ্রের সম্পদকে রক্ষা করতে কাজ করে যেতে । বাংলাদেশের দক্ষিনেও আছে সমুদ্রের জলরাশি। আছে সম্পদ আছে সম্ভাবনা।

এদিকে, সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকা ও অনলাইনে খবর হয়েছিল শ্রীলংকার উপকূলে নীল তিমিদের এই আবাসস্থল পৃথিবীর সবচেয়ে বড়। অর্থাৎ এটি নীল তিমিদের এযাবতকালে সবচেয়ে বৃহৎ উপনিবেশ। আসলে কি তাই? এই সব কিছু নিয়ে জানতে চেয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে চিঠি লিখেছিলাম আশা দে ভোস’কে। তিনি উত্তর দিয়েছেন। তারই বাংলা তর্জমা এখানে দেয়া হল।

প্রিয় আশা দে ভোস,

আমি বিপাশা চক্রবর্তী বাংলাদেশ থেকে বলছি। প্রতিবেশী এই দেশ সম্পর্কে নিশ্চই আপনার একটা ধারনা আছে। তাই ভূমিকা না বাড়িয়ে বলছি আমাকে একজন বিজ্ঞান সাংবাদিক ও ফ্রিল্যান্সার লেখক মনে করতে পারেন। আমাদের দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন পোর্টাল ও প্রধান দৈনিকগুলিতে আমি নিয়মিত লিখতে চেষ্টা করি। আমার পড়ালেখার বিষয় ছিল সমাজকর্ম। কিন্তু আমি বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখালেখি পছন্দ করি। যেটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয়।

আমি বাংলাদেশের বিজ্ঞান সংগঠন ডিসকাশন প্রজেক্ট এর সাথে কিছুটা জড়িত। সংগঠনটি আমাদের দেশে ২৪ বছর ধরে বিজ্ঞান প্রসার চর্চায় কাজ করে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, বিজ্ঞানে ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে না পারলে সঠিক বিজ্ঞানচর্চায় মানুষ আসবে না। আমরা আর্থার সি ক্লার্ক, কার্ল সাগান, আইজ্যাক আসিম্ভ বর্তমানে স্টিফেন হকিং এর মতামত থেকে বুঝতে পাড়ি বিজ্ঞানকে প্রাতিষ্ঠানিক চৌহদ্দি থেকে সাধারন মানুষের কাছাকাছি না আনতে পারলে পৃথিবী শান্তিপূর্ণ জায়গায় পৌঁছবে না। বিজ্ঞানই পারে আমাদের সংকীর্নতা থেকে উঠিয়ে  শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থানে জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা আর মহাকাশের বিশালতাকে আমাদের সামনে তুলে ধরতে।   

 সেই জায়গা থেকে তিমির মতো একটা স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং তাদের বাচ্চাদের দীর্ঘ শৈশবকাল এবং পরস্পরের সঙ্গে দীর্ঘ দূরত্বে থেকেও যোগাযোগ করতে পারা, এসব আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে । তিমি গবেষক কেটি পাইন ও রজার পাইন’এর রেকর্ড করা গানের গভীরতা আমাকে ভাবায়। শ্রীলংকায় তিমিদের বৃহত্তম আবাস্থল সম্পর্কে আর আপনার বিভিন্ন সাক্ষাৎকার পড়ে আমাকে ভীষণ আগ্রহী করে তুলেছে। আমি চাই বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের আমি চাই বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের সাথে একজন আশা দে ভোস’কে পরিচিত করিয়ে দিতে । এই উদ্দেশ্য থেকে মূলত আপনার কাছে আমার এই চিঠি লেখা।

কিভাবে এই পথে এলেন? আপনার ছেলেবেলা কিভাবে কেটেছে? একাডেমিক সূত্রে মেরিন বায়োলজিস্টের মতো একটি পেশায় জড়িত হয়েছিলেন? না আপনার লক্ষ্যই ছিল এখানে পৌঁছানো? 

আমার ছোট বেলায় আমার বাবা-মা ন্যাশনাল জিওগ্রাফীর পুরনো সব ম্যাগাজিন এনে দিত। আমি যখন সেগুলির পাতা উল্টাতাম তখন রোমাঞ্চকর সে সমস্ত জায়গায় নিজেকে নিয়ে যেতাম। আর এভাবেই আমার অনুসন্ধানী অভিযাত্রিক বিজ্ঞানী হবার স্বপ্ন শুরু। যেখানে কেউ যায় নি, আমি সেসকল জায়গায় যেতে চাইতাম। আর এমন কিছু আবিষ্কারের কথা ভাবতাম যা এ পর্যন্ত কেউ আবিষ্কার করেনি। তখন আমার বয়স ছিল ছয় । বড় হবার সাথে সাথে জল ও জলের প্রাণীদের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে থাকে। আমি তাদের আচরণ বুঝতে থাকি। আমি সাতারু ছিলাম। দেখলাম যে কোন ধরনের বা আকারের জল থাকুক না কেন আমি তার সাথে একাত্মতা অনুভব করলাম। আমার ধারণা এ সমস্ত কিছুই আমাকে মেরিন বায়োলজিস্ট হবার পথে নিয়ে গেছে। 

শ্রীলংকার বা ভারত মহাসাগরের নীল তিমিদের নিয়ে আপনার যে গবেষণা সে সম্পর্কে কিছু বলুন। বিশেষ করে আপনার ‘ব্যতিক্রমী নীল তিমি’ সম্পর্কে।

উত্তর ভারতীয় মহাসাগরের নীল তিমিদের নিয়ে গবেষণায় আমি পথিকৃৎ। কেন পৃথিবী ঘুরে বেড়ানো বৃহত্তম এই প্রাণীটি সারা বছর থাকার জন্য ট্রপিক্যাল অঞ্চলের উষ্ণ জল বেছে নিল। এই বিষয়ে আমি খুবই কৌতূহলী ছিলাম। বৃহৎ এই তিমিরা সাধারণত ঠান্ডা স্থান থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে উষ্ণ জলে এসে বাচ্চা জন্ম দেয় ও তাদের লালন করে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা দেখলাম যে তিমিরা সারা বছর ধরেই শ্রীলংকার সমুদ্রসীমায় থেকেই সন্তান জন্ম দান, তাদের স্তন পান ও লালন-পালন করতে লাগল। সুতরাং আমার প্রকল্পটি এই কৌতূহল ও তাদের রক্ষা করার উদ্বেগ থেকে শুরু হলো। উদ্বেগ এ কারণে যে শ্রীলংকার দক্ষিণ ‘কোস্টাল জোন’ জাহাজ চলাচলের একটি বৃহত্তম পথ। আমি বুঝতে পারলাম তিমি ও জাহাজের পরস্পরকে অতিক্রম করা কোনভাবেই নিরাপদ না। পরবর্তীতে প্রমানিত হলো আমার ধারণাই সঠিক। জাহাজের আঘাতই হলো তিমিদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি যেখানে প্রায়শই তিমিরা আহত হয় বা মারা যায়। আমি এরকমের বেশ কয়েকটি ঘটনা লিপিবদ্ধ করে ‘ইন্টারন্যাশনাল হোয়েলিং কমিশন’-এর কাছে প্রতিবেদন পাঠালাম। যার ফলে সংস্থাটি শ্রীলংকার সরকারের সাথে যোগাযোগ শুরু করল। তিমিদের বৃহৎ এই আবাসের ব্যাপারে গবেষণা ও সংরক্ষনের উদ্যোগ নেয়ার জন্য জরুরী পদক্ষেপ নিতে বললো। বর্তমানে তাই আমি ও আমার দল কিছু মাত্র বিজ্ঞানের জ্ঞান নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছি শিপিং ইন্ডাস্ট্রির কোন ক্ষতি না করেও তিমিদের জন্য বিদ্যমান হুমকি নিরসনে কি কি পদক্ষেপ নেয়া যায়।

বাংলাদেশে প্রকৃতি নিয়ে কাজ করে এমন কারো সাথে কি আপনার যোগাযোগ আছে? কখনও যদি বাংলাদেশে আপনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, আপনি কি আসবেন? বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বা জলসীমায় কোন ধরনের তিমিদের আনাগোনা আছে? তাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আপনার কাছে কি কো তথ্য আছে?

হ্যাঁ, মেরিন লাইফ এলাইন্স’এর জহিরুল ইসলাম ও তার দলকে চিনি। ওরা অনেক বছর যাবৎ কক্সবাজারে কাজ করেছে। তাছাড়া ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটিজ সেটাসেন বায়োডাইভারসিটি প্রকল্পের রুবাইয়াৎ মনসুরকেও চিনি।    

 বাংলাদেশে আমন্ত্রণ ? অবশ্যই আসব! আমার বাংলাদেশে যেতে ভালো লাগবে, সেখানকার মানুষের সাথে সমুদ্রের প্রতি আমার ভালোবাসার কথা বলতে খুবই ভালো লাগবে।  

বাংলাদেশের উপকূলে ইরাবতী ডলফিন, ফিনলেস পোরপয়েসেজ, প্যাসিফিক হাম্ব্যাক ডলফিন, ইন্দো-প্যাসিফিক বোটলনোস ডলফিন, প্যান্ট্রোপিক্যাল স্পটেড ডলফিন, স্পাইনার ডলফিন আছে। তাছাড়া ব্রাইড তিমিদের আবাসস্থল থাকতে পারে। 

আপনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে আর্থার সি ক্লার্কের কথা বলেছেন। কেন?

আর্থার সি ক্লার্ক শ্রীলংকায় এসে বছরের পর বছর জাহাজে থাকতেন। সমুদ্রে ডুব সাঁতার দিতে ভালোবাসতেন। আমি ভাগ্যবান, যে সুইমিং ক্লাবে আমি প্রশিক্ষণ নিতাম সেখানে তিনিও আসতেন। আমি অনেক সন্ধ্যা কাটিয়েছি তাঁর মুখে গভীর নীল সমুদ্রের কথা শুনে। সমুদ্রে তিনি যা যা দেখতেন তার গল্প শুনতাম। একদিনের কথা স্পষ্ট মনে আছে তিনি বলছিলেন দক্ষিণ শ্রীলংকার সমুদ্রে একদিন সাঁতার কাটার সময় ঠিক তার নীচ দিয়ে খুব বড় কিছু সাঁতরে যাচ্ছিলো তো যাচ্ছিলো ফুরাচ্ছিলো না মোটেও । তারপর আর কখনো দেখেননি প্রাণীটি কি ছিল? ঐ মুহূর্তে আমিও সেটিকে দেখতে চাচ্ছিলাম।    

  আপনি নিশ্চই আইজ্যাক আসিমভ,কার্ল সাগান এদের কথা জানেন? তারা মনে করতেন শুধু একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিতরাই নয় বরং সাধারণ মানুষও যত বেশী গবেষণায় অংশ নেবে আমাদের জ্ঞানের জগতও তত বেশী সমৃদ্ধ হবে। আপনার কি মনে হয় ? 

আমি তাদের সাথে সম্পূর্ণ ও কায়োমনবাক্যে সম্মতি প্রকাশ করছি। একজন মেরিন সংরক্ষক হিসেবে আমি জানি একা আমার পক্ষে সমুদ্রে রক্ষা করা সম্ভব না। আমি আমার দিক থেকে সকলের অংশগ্রহনের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করি। তার মানে আমি শিশুদের উৎসাহী করার জন্য তাদের কাছে সমুদ্রের গল্প বলি যাতে তারা যেন সমুদ্রের নায়ক ‘ওশান হিরো’ হতে চায়। অথবা সাধারণ জনগণকে বিজ্ঞানের সুযোগ সুবিধাগুলির সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহী করি। দুঃখের বিষয় এরকম দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত। সে কারণে আমরা বলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুফুল সেই আইভরি টাওয়ারে উঠে যায়, যা নিয়ে আমরা শুধু কথা বলতেই পাড়ি খনো বাস্তবে রূপদান করতে পারি না। বাস্তব জগতের সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদের বাস্তব জগতের সাথে যুক্ত হতে হবে।      

নীল তিমিদের উপনিবেশে/কোলনীর সন্ধান আপনাকে কি নতুন কোনো উপলব্ধি দিয়েছে? যা মানুষকে বলা যায়।

সত্যি বলতে কি এটি যে নীল তিমিদের সর্ব বৃহৎ কোলনী এটি পুরোপুরি ঠিক নয়। চ্যানেল-৭ এর সংবাদে কেউ এই আখ্যা দিয়েছিল পরে ইউটিউবসহ অন্যান্য মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়ায় সবাই ভাবতে শুরু করে সত্যি এটি হলো পৃথিবীর নীল তিমিদের সর্ব বৃহৎ কোলনী। এখানকার কলোনীতে কত তিমি আছে তার সঠিক সংখ্যা এখনো আমরা জানি না। তাই পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছি না। বর্তমানে আমরা তিমিদের সংখ্যার হিসাব রাখার কাজ করছি।

মেরিন বায়োলজির মতো এমন একটি সাহসী কাজ কেন বেছে নিয়েছেন? কোথা থেকেই বা এর উৎসাহ পেলেন?

আমি সবসময়ই বলে থাকি আমার এই পথ পরিক্রমার জাদুকরি উপাদান হলো আমার বাবা-মা। আমি খুবই ভাগ্যবান যে এরকম একটি পরিবার আমি জন্মেছি যেখানে বাবা-মা সবসময়ই উৎসাহ দিতেন। তারা উৎসাহ দেয়া ছাড়া কখনও আমার আকাঙ্ক্ষায় প্রভাব বিস্তার বা  আমার স্বপ্ন নিয়ে প্রশ্ন করতো না। তাঁরা সব সময়ই বলত-“তুমি যা ভালবাস ও ভালভাবে করতে পারবে তাই করো”। আমি সে কথাগুলি চলার পথে পাথেয় করে নিয়েছি। এটাকেই পুঁজি করে প্রত্যেকটি মুহূর্ত চলেছি। সত্যি বলতে কি, তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া আমার গবেষণা চলত না। আমি যখন ফিল্ডে থাকতাম মা আমার সমস্ত একাউন্ট চালাতো। দেশের বাইরে গেলে বাবা আমার জন্য মাঠপর্যায়ের অন্যান্য তথ্যসংক্রান্ত কাজগুলি করত। যেমন-ক্লিয়ারিং, নমুনা শিপিং ইত্যাদির তথ্য আমার কাছে পাঠাত পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন। আমরা একটি সঙ্ঘবদ্ধ দল হিসেবে কাজ করতাম। আর সবক্ষেত্রেই আমরা এভাবে কাজ করতাম সেটি বাবার কাজ হোক আর মায়ের চ্যারিটি সংক্রান্ত কাজ হোক। এটি কাউকে সমর্থনের একটি অবিশ্বাস্য কাঠামো যেখানে আপনি প্রচলিত ধারার ভিন্ন কিছু, নতুন কিছু করছেন।        

চলার পথে কি ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে আপনার?

চলার পথে নানা ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমার । সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে টানাপোড়েন হয়েছে। তারা আমাকে কম বয়েসী বলে অবহেলা করতো, তার উপর আমি একজন নারী। তাছাড়া বিদেশী গবেষকদের সাথে কাজ করতে গিয়েও আমার প্রতি অবহেলা টের পেয়েছি। কারণ আমি গবেষণার কাজে যে যন্ত্র ব্যবহার করতাম সেগুলি মৌলিক ধরনের অর্থাৎ সেকেলে ছিল। তখন অবশ্য তাদের আমি মনে করিয়ে দিতাম যে বিজ্ঞানের মূল জ্ঞান কিন্তু এ ধরণের যন্ত্রের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছে। আমি ছাড়া দ্বিতীয় কোন পছন্দ বা কেউ না থাকায় আমাকে  যন্ত্রগুলি ব্যবহারের সম্মতি ছিল। আমি কাজের জন্য নিজ দেশের চেয়ে বিদেশের সহযোগিতা পেয়েছি। আমি ভাঙ্গা নৌকা ব্যবহার করেছি, কখনও যন্ত্রপাতি বিকল ছিল আবার মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে নিদারুণ আর্থিক কষ্টে ভুগেছি। সীমাবদ্ধতা সীমাহীন। তবুও সেগুলি ছিল বলেই ভালো করেছি। চ্যালেঞ্জকে আমার পক্ষে নিয়ে আসার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। অবশেষে সেটিই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

অনেক ধন্যবাদ। নিশ্চই আমার এই বড় প্রশ্ন পত্র আপনাকে ক্লান্ত-বিরক্ত করবে না। পরবর্তীতেও আমাদের সঙ্গেই থাকবেন এই কামনা রইল। – বিপাশা চক্রবর্তী ।

আশা দে ভোস ক্লান্ত বা বিরক্ত যে বোধ করেননি। তার প্রমাণ হিসেবে পাঠকদের কাছে এই সাক্ষাৎকার তো রইল। আর আশা দে’ তার কাজের ব্যাপারেও অক্লান্ত অদম্য তা স্বীকৃতিস্বরূপ জুন ২০১৬ তে তিনি ন্যাশনাল জিওগ্রাফীর প্রদত্ত এওয়ার্ড গ্রহণ করছেন।  

সম্প্রতি ন্যাশনাল জিওগ্রাফী পৃথিবীর সেরা ১৩ জন উদিয়মান আবিষ্কার অনুসন্ধানী অভিযাত্রী ২০১৬’এর নাম ঘোষনা করেছে। এর মাঝে বাংলাদেশের পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরিন ও শ্রীলংকার মেরিন বায়োলজিস্ট আশা দে ভোস রয়েছেন। আমাদের দেশের নাজরিন ও প্রতিবেশী শ্রীলংকান আশা এই দুই অকুতোভয় নারীকে জানাই আন্তরিক ভালবাসা ও অভিনন্দন। শুভ কামনা তাদের আগামীর প্রতিটি অভিযাত্রার জন্য।