আড্ডায় বসে গল্প করার সুযোগ কপালে খুব একটা জোটে না দেখে Santorini Island এর কিছু এক্সপেরিয়েন্স লিখে শেয়ার করলাম 

পৌরাণিক শহর এথেন্সের ঐতিহাসিক জায়গা দর্শন শেষে গ্রীসে ভ্রমণ তালিকার মধ্যে আগ্নেয়দ্বীপ সান্তোরিনি (Santorini) অনিবার্য। এথেন্সের Piraeus ferry পোর্ট থেকে ফেরি (Ferry) নিয়ে আনুমানিক ৮ ঘন্টার যাত্রা। তড়িঘড়ি ঘুম থেকে উঠে ট্রেন চেপে চলে আসতে হলো Piraeus পোর্টে। ইউরোপে যাবার আগেই এই ফেরির টিকেট কিনে রেখেছিলাম। পোর্টে পৌঁছানোর পর দেখলাম এদিক সেদিক অনেক ফেরি, ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কোনটাতে উঠতে হবে। আবার এদিকে হাতে মাত্র সময় আছে ১০ মিনিট। ভেবাচেকার মধ্যে একটা ফেরিতে যেয়ে বুঝতে পারলাম এ ভুল ঠিকানা। তখন হাতে মাত্র ৫ মিনিট বাকি। কর্তব্যরত ফেরির কর্মচারীকে জিজ্ঞেস করলাম ৭:২৫ এ সান্তোরিনির যাবার ' Blue Start Ferry' কোন দিকে। দিক বুঝিয়ে দিলো, সাথে সাথে দৌড়।

ঠিক ৭:২৫-এ ফেরিতে উঠে পড়লাম। আর এক মিনিট দেরি করলে আজকে সান্তোরিনি যাওয়া বৃথায় যেত। ইউরোপে বাস, ট্রেন, প্লেন এসব একদম ঘড়ির কাঁটা ধরে চলে। তাই ঝুঁকি এড়াতে নির্ধারিত সময় থেকে ১০ মিনিট আগে চলে যাওয়া উচিত। ফেরিতে উঠে দেখি অনেক যাত্রী এদিক সেদিক বসে, শুয়ে আবার জায়গায় জায়গায় জড়ো হয়ে কেউ কেউ বা আড্ডায়। কেননা ইকোনমি ক্লাসে যারা রয়েছে তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সিট নেই। বেশ রমরমা অবস্থা চারদিক। 

কেবিনের বাইরে খোলা আকাশের নিচে রোদে বসে সমুদ্রের উতাল পাতাল সৌন্দর্য্যের দিকে তাকিয়ে থাকার লোভ সামলাতে পারলাম না। ইতঃস্তত একটা কফি নিয়ে , ব্যাকপ্যাক পাশে রেখে এজিয়ান সাগরের (Agean Sea) দিকে একনাগাড়ে তাকিয়ে রইলাম। চারপাশে মানুষের হইচই চাপা পরে যাচ্ছে জাহাজের ইঞ্জিনের আওয়াজে , সমুদ্রের গর্জন আর নিজের নিস্বাসের শব্দে।

মাথার মধ্যে ঢুকে পড়ছে ম্যাক্সিম গোর্কির আমার ছেলেবেলার বইয়ের পাতা, জাহাজে পারি দেবার বর্ণনা , বইতে লিখা ছিল এরকম – “চল্লিশ বছর আগে স্টিমার চলতো আস্তে আস্তে। সৌন্দর্য্যস্নাত সেই প্রথম কয়েকটি দিনের কথা খুব স্পষ্ট মনে আছে। আবহাওয়াটা চমৎকার, আর সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত আমি দিদিমার সঙ্গে ডেকের উপরে থাকি। উজ্জ্বল আকাশকের নিচ দিয়ে, শরৎকালের স্বর্ণময় রেশমি কারোকার্যখোচিত ভোলগার দুই স্রোতের বিরুদ্ধে জল কেটে-কেটে, নীলাভ ধূসর জলের চাকার ছপ্ ছপ্ শব্দ তুলে মন্থর গতিতে এগিয়ে চলছে স্টিমার। ধূসর রঙের বজরাকে দেখায় জলের পোকার মতো। অলক্ষ্যে সূর্য্য ভোলগা নদীর ওপরে সাঁতার দিয়ে ভেসে যায়। ঘন্টায় ঘন্টায় রূপান্তর, ঘন্টায় ঘন্টায় নতুনের আবির্ভাব। সবুজ পাহাড়গুলো যেন মাটির বহুমূল্য পোশাকের ভাঁজ। দূরে দূরে শহর ও গ্রাম পার হয়ে যায় ; তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনে হয় সেগুলো বুঝি মিষ্টি পাউরুটির টুকরো দিয়ে তৈরী। শরৎকালের গাছের সোনালী পাতা ভাসে জলের ওপরে। ' দেখ , দেখ, কী সুন্দর !' আমার দিদি মা বলে বলে চলেন…… ”

গ্রাম ইয়াগ্রাম ইয়া

জাহাজের মন্থর গতি, সাইরেন আর যাত্রীর হট্টগোল জানান দিলো সান্তোরিনির তীরে তরী ভিড়লো। হাজার হাজার মানুষের লম্বা লাইন এই ছোট্ট দ্বীপে কিছুদিন নির্বাসনের। নেমেই পোর্টের পাশে Car Rental থেকে একটা গাড়ি রেন্ট করে নিলাম একদিনের জন্য। Santorini Island- এর রাস্তায় ড্রাইভ করা খুব সহজ। গাড়ি ঘোড়া খুব বেশি একটা নেই, মূলত একটা হাইওয়ে সান্তোরিনির এক মাথা ফেরোস (Faros) থেকে অন্য মাথা ইয়া (Oia)। এ দুইয়ের মাঝে বেশ অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। AirBNB মাধ্যমে থাকার ব্যবস্থা আগেই করে রেখেছিলাম।

সাদা এবং নীল রঙের বাড়ি ঘর এবং গম্বুজ সাদা এবং নীল রঙের বাড়ি ঘর এবং গম্বুজ

উঁচু নিচু রাস্তায় ড্রাইভ করার সময় কেবল দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে Agean Sea-র গাঢ় নীল পানি , সাদা এবং নীল রঙের বাড়ি ঘর এবং গম্বুজ (Dome)। নীল আর সাদার মধ্যে এভাবে চলতে চলতে এসে পৌঁছলাম থাকার জায়গায়, একটা পুরানো বাড়ি। দ্বীপের অন্যান্য বাড়ির মতন দেখতে, নীল এবং সাদা রঙের সমাহার। একটা ছোট্ট বেড, কাঠের জানালা, ছোট্ট স্নানঘর, এবং সিলিঙে ঝুলছে একটা টিভি। রিমোট টেবিল এর এককোনে পড়ে আছে। ‘থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে’ অস্থিরতায় রিমোট একেবারে হাতে নেয়া হলো না।

কামারি (Kamari) বীচকামারি (Kamari) বীচ

সান্তোরিনির প্রধান কয়েকটি সমুদ্র সৈকতের মধ্যে দ্বীপের পূর্ব উপকূলে রয়েছে কামারি (Kamari) বীচ। থাকার জায়গা থেকে মাত্র ৫ মিনিটের হাঁটা পথ, পেট ভর্তি খিদে নিয়ে এসে পড়লাম এই কামারি বীচে। বীচের পাশে রাস্তার ধারে সারি সারি রেস্টুরেন্ট , বার আর ঘন নীল পানি । MESA VOUNO মাউন্টেন ছায়ায় এই সমুদ্র সৈকত। এইটা ব্ল্যাক বীচ নামেও পরিচিত। জল গভীর এবং নীল, বালি কুচকুচে কালো। অগ্ন্যুৎপাতের 'বালি' তে এই বীচটা ভরে আছে তাই বালি এতো কালো।

মিষ্টি রৌদ এসে পড়েছে সমুদ্রে, সৈকতেমিষ্টি রৌদ এসে পড়েছে সমুদ্রে, সৈকতে

পড়ন্ত বিকেলের মিষ্টি রৌদ এসে পড়েছে সমুদ্রে, সৈকতে আর তার আশে পাশে। ক্ষুধা নিবারণের জন্য আর সামুদ্রিক এলাকায় সামুদ্রিক মাছের লোভ সামলাতে না পেরে, একটা রেস্ট্রুরেন্ট -এ বসে পড়লাম। মেনু-র নানা আইটেমের মধ্যে নজর কাটলো Squid, তার সাথে ফ্রাইস এবং অল্প ভাত। আর সান্তোরিনির ঐতিহ্যবাহী এবং ট্রাডিশনাল বিয়ার ' Yellow Donkey '। সান্তোরিনির সারাদিনের গরম আবহাওয়ার বেলাশেষে বিয়ারের গ্লাসে চুমুক, আর পড়ন্ত রৌদের উষ্ণতটা দেহমন বেশ সতেজ করে তুলছে। 

 সান্তোরিনির ঐতিহ্যবাহী এবং ট্রাডিশনাল বিয়ার সান্তোরিনির ঐতিহ্যবাহী এবং ট্রাডিশনাল বিয়ার

সান্তোরিনি গ্রীসের মধ্যে বহুল জনপ্রিয় ভ্যাকেশন গন্তব্য যেখানে আপনি কালো সৈকত, লাল সৈকত, নীল গম্বুজ, আর গাঢ় নীল সমুদ্রের পানি দেখতে পাবেন যেটা আমরা সাধারণত পোস্ট- কার্ডে দেখি। হ্যাঁ, এটি গ্রীসের "পোস্টকার্ড দ্বীপ"। আর দ্বীপটি তার কয়েকটা গ্রামের জন্য খুব জনপ্রিয়। তার মধ্যে রয়েছে গ্রাম ইয়া (Oia), ফিরা (Fira)। ইয়া গ্রামে শত শত পর্যটক আসে সূর্যাস্ত দেখতে, পৃথিবীর কয়েকটা বিশেষ জায়গা থেকে অপূর্ব সূর্যাস্ত দেখা যায়। তার মধ্যে ইয়া (Oia) একটা। 

পেট পুজোপেট পুজো

পেট পুজো করে শুরু হলো সূর্য্যের সাথে প্রতিযোগিতা। Agean Sea- এর পানির রেখায় সূর্য অস্ত যাবার পূর্বে ইয়াতে যেয়ে পৌঁছাতে হবে। রাস্তা ঘাট প্রায় ফাঁকা , আর যে কটি গাড়ি চলছে , তাতে মনে হচ্ছিলো সান্তোরিনিতে তেমন কোনো স্পিড লিমিট নেই , যে যার মতো স্পিডে ড্রাইভ করছে। আইল্যান্ডের প্যানারোমিক ভিউ, দূরের নীল সমুদ্র আর গোধূলির আলোর মাঝে মসৃন পথে গাড়ি ছুটে চলছে আর FM Radio- তে বেজে চলছে গ্রীক ট্রাডিশনাল মিউজিক। ভ্রমণে বিভিন্ন দেশের গাড়ি রেন্টের এই এক সুবিধা, ওখানকার লোকাল মিউজিক রেডিওতে এনজয় করা যায়। একটা দেশের সাধ নিতে হলে, সেদেশের স্থানীয় মিউজিক এর সাধ নেয়া একান্ত জরুরি , আর গ্রীক মিউজিকের জন্য চারপাশটা আরো গ্রীক মনে হচ্ছিলো। 

 সূর্য প্রায় ডুবু ডুবু সূর্য প্রায় ডুবু ডুবু

ইয়াতে পৌঁছাতে একটু দেরি হয়ে গেলো। ভয় হচ্ছিলো সূর্যডুবি দেখার এতো আকাঙ্ক্ষা – বাসনা - অস্থিরতা , এতটুকু পথ তড়িঘড়ি করে আসা ,সব বুঝি নিমিষেই শেষ করে দিবে এই সূর্য। ইয়া গ্রামটা পাহাড়ের ঢালে। পাথরের সিঁড়ি , নীল আর সাদা রঙের গম্বুজ, দোকানপাট এবং অনেক পর্যটকের ভিড় চারপাশে । সরু গলি এঁকে বেঁকে উপরে এদিক সেদিক উঠে গেছে।

সব উপেক্ষা করে ছুটে চলছি সূর্যডুবি দেখতে। একটা বিশেষ জায়গা থেকে এই সূর্য ডুবি দেখতে হয়, যেখান থেকে সবচেয়ে ভালো ভিউ পাওয়া যায়। আমার সাথে সাথে,পাশে পাশে,সামনে পিছে অগণিত মানুষের ভিড় ওই নির্দিষ্ট জায়গায় যাবার। যখন এসে পৌছালাম, মানুষের ভিড়ে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব, উঁকি ঝুঁকি দিয়ে দেখতে পাচ্ছি Agean Sea- এর Ammoudi Bay এর পিছনে সূর্য প্রায় ডুবু ডুবু। পুরো আকাশ রক্তিম বর্ণ ধারণ করলো। পাল তুলা জাহাজ স্থির হয়ে আছে এই মুহূর্তে।

অগণিত মানুষের চোখ একটি লাল টুকটুকে সূর্যের দিকেঅগণিত মানুষের চোখ একটি লাল টুকটুকে সূর্যের দিকে

অগণিত মানুষের চোখ একটি লাল টুকটুকে সূর্যের দিকে। কেউ ছবি তুলছে, কেউ ভিডিও ধারণ, কেউ আপন জনের সাথে বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতি ধারণ করে রাখছে। এক সময় সূর্য অর্ধবৃত্ত আকার ধারণ করলো। একটা সময় মনে হচ্ছিলো ত্রিভুজ আকৃতি। যাবার বেলায় সূর্য অপূর্ব জাদুকরী খেলায় মত্ত। এবং শেষ মেশ মৃদু হেসে মিশে বিদায় দিলো আজকের দিনের। 

ইয়াতে (Oia) রাতইয়াতে (Oia) রাত

সূর্যের বিদায় মানে রাতের শুরু। ইয়াতে (Oia) রাত বেশ উৎসবমুখর। সান্তরিনিতে অনেক Blue Dome Church রয়েছে। পোস্ট কার্ডে সাধারণত এই সাদা নীল ডোমের (Dome- গম্বুজ )ছবি দেখি । অনেক ডোমের মধ্যে কিন্তু তিনটা ডোম আছে যেখানে ছবি তুলার জন্য অতুলনীয়। খুঁজে খুঁজে বের করলাম এই তিনটি ডোম। এবং স্বভাবতই ছবি তুলার জায়গায় ছবি তুলতে তুলতে অনেকটা সময় পার করে দিলাম। দ্বীপটি বেশ স্বপ্নিল আর মায়াবী। সাদা বিল্ডিইং, নীল গম্বুজ আর চারপাশে পানিতে ঘেরা। দালানের ভিতরে বাতির আলো, মনে হচ্ছিলো নিখুঁত সাজানো আলোর বর্ণালী। 

স্বপ্নিল আর মায়াবীস্বপ্নিল আর মায়াবী

সারাদিনের ক্লান্তি চোখে, কানে,দেহে ভর করলো। ক্লান্ত শরীর দিনের ইতি টানতে ছুটলো গাড়ি নিয়ে ঘুমানোর জায়গায়। রুমের বাইরে এককোনে একাকী নিভৃতে একটা চেয়ারে বসে নিজের আনমনে আলো আঁধারি রাত্রির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে অনেকটা সময় কাটিয়ে দিলাম। ক্লান্ত চোখের পাপড়ি মাঝে মাঝে এক হয়ে মিশে যাচ্ছিলো, একসময়ে টেনে নিয়ে গেলো রাত্রির অতল গহ্ববরে। 

 মিনোয়ান ব্রোঞ্জ যুগের বসতি মিনোয়ান ব্রোঞ্জ যুগের বসতি

চোখ খুলেই নতুন দিনের সূচনা। যেতে হবে আক্রোতিরি (Akrotiri) । আক্রোতিরি (Akrotiri ) এই আগ্নেয়গিরি দ্বীপে(Santorini) অবস্থিত মিনোয়ান ব্রোঞ্জ যুগের বসতি (Minoan Bronze Age settlement)। প্রায় ১৬২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিলো , পুরো বসতি আগ্নেয় ছাইতে তলিতে গিয়েছিলো। এবং আক্রোতিরিতে একটা মিউজিয়াম রয়েছে যেখানে ছাইয়ের নিচে ব্রোঞ্জ যুগের সূক্ষ্ম ভাস্কর্য এবং অনেক বস্তু ও শিল্পকর্মের অবশেষ সংরক্ষিত হয়।

 মিনোয়ান ব্রোঞ্জ যুগের বসতি মিনোয়ান ব্রোঞ্জ যুগের বসতি

খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ বছর পূর্বের ইতিহাসের সাক্ষাৎ পাওয়া যায় এখানটায়। শুরুতে এখানে যারা বাস করতেন, তারা মূলত জেলে আর চাষী ছিলেন। ধীরে ধীরে আক্রোতির উন্নতি সাধনের জন্য Agean Sea -এর অন্নান্য অঞ্চলের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রমাণস্বরূপ রয়েছে সাইপ্রাস এর আমদানিকৃত মৃৎশিল্প এর নানা চীনা মাটির বাসন, টব ও পাত্র। এছাড়া তামার ব্যবসারও সম্প্রসার ঘটতে থাকে। আক্রোতির উন্নয়ন প্রায় ৫০০ বছর ধরে চলতে থাকে। কিন্তু সব কিছু নিমিষেই শেষ হয়ে যায়, সমাপ্তি ঘটে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে। সমস্ত এলাকা চাপা পড়ে Volcanic eruption -এ। ধ্বংসাবশেষ(Ruins) এখনো সংরক্ষিত রয়েছে এই আক্রোতিরি মিউজিয়ামে (Akrotiri Museum)।

আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে সমস্ত এলাকা চাপা পড়েআগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে সমস্ত এলাকা চাপা পড়ে

খুব সকালে আসাতে মিউজিয়ামে তেমন কেউ ছিল না। ধ্বংসাবশেষ ঘুরে ঘুরে দেখলাম। একটা রুম সুম্পূর্ণ পিতলের জারে ভর্তি। ধ্বংসাবশেষের একটা জায়গায় পুরানো ওয়াল পেইন্টিং বিশেষত মেয়েদের ছবি পেইন্ট করা, এবং একটা সরু করিডোর দেখা যায়। এবং এই রুমের নামকরণ করা হয় হাউস অফ লেডিস(House of Ladies)। এতে ধারণা করা হয় যে এটি কোনো এক সময় একটা ঘর ছিল যেহেতু এখানে অনেক খাবার দাবার রাখার প্রাত্র , ডোমেস্টিক জিনিসপত্র রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে করে অগ্ন্যুৎপাতের আগের অবস্থানের একটা ধারণা দিয়েছেন। এবং Ruins খুব সুরক্ষিত এবং হেঁটে হেঁটে দেখার সময় কিছু কিছু জায়গায় দেখলাম অগ্নুপাতের আগে ঠিক ওখানটা কেমন ছিল তার বর্ণনা দেয়া আছে প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে।

আক্রোতির মিউজিয়ামআক্রোতির মিউজিয়াম

আক্রোতির মিউজিয়াম থেকে যাত্রা করলাম সান্তোরিনি আইল্যান্ডের প্রধান শহর এবং রাজধানী ফিরাতে (Fira)। গাঢ় নীল আকাশের নিচে এবং গাঢ় নীল সমূদ্রের পাশে অবস্থিত এই শহর। এখানে কেবল নীল আর সাদার ছড়াছড়ি। ঘন্টা-খানেক হাঁটার একটা ট্রেইল রয়েছে , এক পাশে ছোট বড়ো নীল আর সাদা গির্জা ,বাড়ি- ঘর, হোটেল রেস্তোরা ,আর এক পাশে Agean সী। এবং এই ট্রেইলে চলে যায় শহরের কেন্দ্রে।

এবং এখানে পর্যটকদের জন্য একটা ক্যাবল কারের ব্যবস্থা রয়েছে, সে ক্যাবল কারে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে সমুদ্রের কাছে পোর্টে নামা যায়। লম্বা হাইক আর তপ্ত রোদ থেকে রেহাই পেতে বসে পড়লাম ক্যাবল কারে। Agean Sea- এর খুব কাছাকাছি কিছু সময় কাটালাম। ফিরাতে (Fira) Donkey রাইড খুব পপুলার। ভাবলাম কেন নয়! ট্যুরিস্টের জায়জায় যখন এসেই পড়লাম, তখন কিছুক্ষন গাধার পিঠে চড়ে না হয় ঘুরে বেড়াই। সিঁড়ি বেয়ে দশ মিনিটের গাধারোহণ (Donkey Ride) উপরে দিকে অবস্থিত শহরের কেন্দ্রে নিয়ে গেলো।

এভাবে সাদা আর নীলের মাঝে দুটো দিন গেল সান্তোরিনির রূপের মধ্যে ডুবে থেকে। দুপুর তিনটায় ফেরি ধরে আবার এথেন্স ফিরতে হবে। তাই তাড়াহুড়া করে গাড়িতে উঠে ছুটে চললাম ফেরি পোর্টের পথে, আর পিছনে এক এক করে বিদায় দিচ্ছে দ্বীপের নীল আর সাদা বাড়ি ঘর, গম্বুজ ,পানি, সমুদ্র আর মুহূর্ত।