এথেন্স ঘুরে বেড়ানো নিয়ে ছোটখাটো একটা লেখা লিখলাম, কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। আশা করি, ভালো লাগবে।

গ্রীস দেশ ভ্রমণের বহুদিনের উৎকণ্ঠা পেরিয়ে অবশেষে প্লেন অবতরণ করলো এথেন্স এয়ারপোর্টে। এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশনের লাইন পার করবার আগে সবসময় ইমিগ্রেশন অফিসারের অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির একটা সম্ভবনায় মনটা একটু অস্থির থাকে। হয়তোবা 'My Name is Khan' মুভি-র অবাঞ্চিত সংলাপ বুকের মধ্যে ধুপ-ধাপ করতে থাকে। কিন্তু একী বিস্ময়! ইম্মিগেশন অফিসার কোনো কথাই বললোনা, কোনো নাটকীয়তা, কোনো হয়রানি কিচ্ছুটি হলো না।

আগেই বলে রাখি, শখে হোক বা নানা কারণে হোক বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্ট পারি দিতে হয় বারবার। কিন্তু ইমিগ্রেশন পার করার প্রসেসটা মানুষ যতটা ঝামেলা, কিংবা অপ্রীতিকর মনে করেন ততটা কিন্তু না। এখন যদি কোনো গবাদি পশুর মাংস নেয়া নিষেধ থাকা শর্তেও জিহ্বার লোভ সামলাতে না পেরে একটু চালাকি করে নিয়ে যেতে চান, তাহলে হ্যাঁ! অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা থাকবে। সে যাহোক, সাথে কেবল একটা স্কুল ব্যাগ , ১৮ দিনের টুকটাক কাপড়, পাওয়ার কনভার্টার, কলম, অ্যানা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি, ক্যামেরা, কিছু ইউরো, আর তেমন কিছু না। ইমিগ্রেশন পার করে উৎসুক চোখে প্রথম যা ধরা দিলো তা হলো এক্সিট সাইন। সব দেশের এয়ারপোর্টে তাদের নিজস্ব ভাষাতেই এক্সিট সাইন থাকে, গ্রীকে লিখা ছিল ‘έξοδος ‘এবং এই éxodos দিয়ে বের হয়ে প্রথম কনফিউশান বাঁয়ে যাবো নাকি ডানে যাবো।

কৌতুহলের এবং হারিয়ে যাবার প্রথম অধ্যায় শুরু সঠিক দিক-নির্ধারণে বিভ্রান্তি দিয়ে। প্রায় সব এয়ারপোর্টে, ট্রেন স্টেশনে এই কনফিউশানে পড়তে হয়। কিন্তু কনফিউশান এড়ানো একদম ঝামেলার কিছু না। পাঁচ-দশ মিনিট একদিকে হাঁটার পর ম্যাপ দেখে হয়তো বুঝতে পারবেন আপনি ভুল পথে, নতুবা পথ-চারিদের জিজ্ঞেস করবেন অমুক জায়গাটা কোন দিকে। এবং জাগতিক নিয়মে এই বিশ্বজগত ট্রাভেলেরদের প্রতি দয়াশীল হয়। এবং এই সুযোগটা নিতে কার্পণ্য করবেন না।

যেতে হবে সিন্ট্যাগমা (Syntagma) স্টেশনে, এয়ারপোর্ট থেকে বাসে যেতে ৩০ মিনিট সময় লাগে। এবং সিন্ট্যাগমাকে এথেন্সের প্রাণকেন্দ্র বলা যায়, পাতায় পাতায় ইতিহাস এই জায়গাটায়। Airbnb -র কল্যানে আগেই ঠিক করে রাখা হলো কোথায় থাকা হবে। বাসে চড়ে যখন সিন্ট্যাগমা স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলাম, চারপাশটা কেবল স্মৃতির পাতায় কড়া নেড়ে জানান দিচ্ছে এ-যেন বাংলাদেশ। মনে হচ্ছিলো পথ-ঘাট বহুদিনের পরিচিত, কেবল নিখুঁত পরিষ্কার, ধুলাবালি -যানজটহীন।

এথেন্সএথেন্স

 

ওয়াল-ম্যুরালের উপর আমার ভীষণ দুর্বলতা আছে। যেখানেই দেখি, হা করে তাকিয়ে থাকি। সারা শহরের দেয়াল জুড়ে বখাটে শিল্পীদের এসব বিচিত্র, উদ্ভট শিল্পকর্ম , অপূর্ব একটা সাজে সজ্জিত হলো যেন। এভাবে চলতে চলতে বাস এসে পৌছালো সিন্ট্যাগমা স্টেশনে।

থাকার জায়গাটা স্টেশান থেকে ২০ মিনিটের হাঁটা পথ। Airbnb-র হোস্ট ইতিমধ্যে ফোনে মেসেজ করে জানিয়ে দিয়েছে কিভাবে যেতে হবে। সময়ের হিসাব ছেড়ে অচেনা শহরের নতুনত্বের, অজানাকে জানার মোহে হেঁটে চলছি। সব চেয়ে বেশি দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে মানুষের মুখ। সাঁজ- গোজে সবাই বেশ যত্ন-শীল। ‘ফ্যাশনটা হচ্ছে মুখোশ ,আর স্টাইলটা হচ্ছে মুখশ্রী’ দুইটাতেই এরা একেবারে পরিপাটি।

দেয়ালচিত্রদেয়ালচিত্র

 

এভাবে ভুলে থাকে সময়ের স্রোতে ভেসে ভেসে এসে পৌঁছালাম গলির ভিতর একটা কাঁচা বাজারে। ঠিক এই কাঁচা বাজারে মধ্যেই একটা দালান। এখানেই কয় একটা দিন থাকা হবে। বিল্ডিঙের হোস্ট মীকালেস সব বুঝিয়ে দিলো কোথায় বেডরুম, কোথায় ওয়াশরুম, কোন চাবি দিয়ে কোন দরজা খুলে। এবং একটা বিশাল ম্যাপ নিয়ে হালকা-পাতলা ইংরেজিতে বুঝিয়ে দিলো আজকে কোথায় কোথায় যাওয়া যায়। বাসার করিডোর থেকে এথেন্সের প্রাণকেন্দ্র এক্রোপলিস দেখা যায়।

ম্যাপ হাতে নিয়ে বের হয়ে পড়লাম। ম্যাপ খুব দ্রুত বোঝার চেষ্টা না করে একটু হারিয়ে যাবার নেশায় এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি। পাহাড় চূড়ার 'এক্রোপলিস' বিভিন্ন জায়গা থেকে উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে। আজকের দিনের বিকাল থেকে রাত অব্দি ভ্রমণ বৃত্তান্ত বাদ দিলাম কেননা সব জায়গাগুলোতে পরের দিন সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ঘুরে বেড়ালাম আনাচে কানাচে। একটু পরেই তার বিবরণ দিচ্ছি।

সাত ঘন্টা জেট-ল্যাগ, নিজেকে বেশ চঞ্চল মনে হচ্ছিলো সারা রাত। এপাশ ওপাশ করে ঘুম আসলো না। শেষমেশ যখন চোখ বন্ধ হলো, চোখ বন্ধ অবস্থায় অ্যালার্ম অফ করে দিলাম। উঠে দেখি তিন ঘন্টা লেট নির্ধারিত সময়ে উঠার। তরিঘড়ি করে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে দৌড়। গ্রীসের ট্রাডিশনাল ফুড দিয়ে যাত্রা শুরু হোক। অর্ডার করলাম Souvlaki, গ্রীসের খুব জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড। পিটা- ব্রেডের মধ্যে ছোট-ছোট মাংস, নানা রকম ভেজিট্যাবল, সাথে গার্নিশ (Garnishes) , Tzatziki সস আর ফ্রাইড পোটাটোস। এই খাবার দামে কম। আর হালকা খাবার যেহেতু , সারাদিনের চলা ফেরায় অলসতা ভর করে না।

Souvlaki, গ্রীসের ট্রাডিশনাল ফুডSouvlaki, গ্রীসের ট্রাডিশনাল ফুড

 

অনলাইনে আগেই কিনে রেখেছি Hop on and Hop off CitySightSeeing বাস ট্যুর। এই ট্যুর বাস এথেন্স শহরের বিভিন্ন হিস্টোরিক্যাল স্পটে নিয়ে যায় এবং আপনার ইচ্ছা হলে যেকোনো স্পটে নেমে যেতে পারেন। কোনো একটা স্পটে নিজের মতো সময় কাটিয়ে , ঘুরে ফিরে আবার পরবর্তী বাসে উঠে যেতে পারেন, এবং নেমে যেতে পারেন পরবর্তী কোনো স্পটে। এভাবে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওদের সার্ভিস থাকে। এবং বাসে অডিও ট্যুরেরও ব্যবস্থা রয়েছে। বাসে চড়তে চড়তে হিস্টোরিক্যাল প্লেস গুলো দেখবেন এবং সাথে রেকর্ডেড অডিও ধারা-বর্ণনা।

এই ট্যুরের সাথে একটা ওয়াকিং ট্যুরও ছিল। তিন ঘণ্টার হাঁটা ট্যুর। হাইলি রেকমেন্ড করবো ওয়াকিং ট্যুর নিতে। এর কয়েকটা কারণ রয়েছে। প্রথমত এই বিশাল একটা নগরীতে সময় সংক্ষিপ্ত, তাই সব নিজের উদ্যোগে দেখার চেষ্টা করলে অনেক কিছু মিস করার সম্ভাবনা রয়েছে। এবং স্বভাবতই অলিগলি চেনা মুশকিল অচেনা শহরে। আর ট্যুর গাইড অনেক ইনফোরমেটিভ, চতুর এবং মজার হয়। আজকের ট্যুর গাইড এর নাম হচ্ছে ডিমিত্রিস , আর্কিওলজিতে পড়াশুনা। ১০-১২ জনের নানান দেশ থেকে আসা একটা টীম ট্যুর গাইড ডিমিট্রিসের পিছে পিছে।

এথেন্স নগরীতে প্রাণকেন্দ্র এক্রোপলিস (Acropolis)। অনেকে এক্রোপলিস আর পার্থেননের(Parthenon) মধ্যে একটু গোলমাল বাঁধিয়ে ফেলতে পারেন। পার্থেনন হচ্ছে আর্কোপোলিস এর উপর দেবী অ্যাথিনাকে(Athena) উৎসর্গ করে নির্মিত একটি মন্দির। আর এক্রোপলিস মানে হচ্ছে Edge of the city অর্থাৎ শহরের প্রান্ত। শহরের এই প্রান্তে মানে এই এক্রোপলিসের মধ্যে রয়েছে অনেক দর্শনীয় প্রত্নতাত্ত্বিক অবশেষ। তার মধ্যে পার্থেনন, Odeon of Herodes Atticus, Theatre of Dionysus এবং আরো অনেক। সব টুকুই হাঁটা পথে। আগেই বলে রাখি, ইউরোপের শহরগুলো এবং শহরের আশপাশ মূলত হাঁটা পথ। এবং এখানে ঘুরতে হলে প্রচুর হাঁটাহাঁটি করতে হয়। নর্থ আমেরিকা বা বেশ কিছু শহরের মতো গাড়ি দিয়ে ঘুরে ফেরার মতন না। আর ইউরোপীয়ানরা প্রচুর হাঁটেন। যেন নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার।

পার্থেনন, এক্রোপলিসপার্থেনন, এক্রোপলিস

 

আর এক্রোপলিসের দর্শনীয় বহু ঐতিহাসিক স্থান বা বস্তুর মধ্যে পার্থেনন (Parthenon) সব চেয়ে জনপ্রিয়। এবার একটু হালকা পৌরাণিক কাহিনীর বর্ণনায় আসি। ‘হালকা’ বললাম দুটো কারণে। প্রথমত, এথেন্সের পাতায় পাতায়, অলিতে গলিতে পৌরাণিক ইতিহাস। ইতিহাসের বর্ণনায় গেলে ভ্রমণ থেকে বের হয়ে কেবল ইতিহাসই লিখা হবে আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে সব ইতিহাস আমার জানা নেই। (মিথোলজি কিন্তু অনেক ইন্টারেষ্টিং, বলা যায় রীতিমত অ্যাড্ডিক্টিভ। প্রতিদিন কাজে ফাঁকি দিচ্ছি, তার উপর ঘন্টা দুয়েক কম ঘুমাচ্ছি )।

রাতের এক্রোপলিসরাতের এক্রোপলিস

 

রাতের এক্রোপলিসরাতের এক্রোপলিস

পার্থেনন হচ্ছে দেবী এথেনাকে উৎসর্গ করে এক্রোপলিসে অবস্থিত মন্দির। গ্রীক মিথে জিউস (Zeus) হচ্ছে সব দেবদেবীর পিতা যেহেতু উনি স্বর্গের দেবতা। একদিন জিউস নদীর তীরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এবং হঠাৎ মাথায় প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করলেন। এমন ব্যথা, যন্ত্রনায় চটপট করছেন। এবস্থায় জিউস হার্মিসকে (Hermes) বললেন কামারের দেবতা হেফাস্টাসকে (Hephaestus) ডেকে নিয়ে আসতে। হেফাস্টাস যখন দেখলেন জিউসের অবস্থায় ভীষণ খারাপ , তখন তার হাতের ধারালো কুড়াল দিয়ে মাথায় আঘাত করলেন। ঠিক তখনি জিউসের মাথা থেকে হেলমেট পরা, যুদ্ধের পোশাক, হাতে ঢাল তলোয়ার নিয়ে বের হয়ে আসলেন দেবী এথেনা। যেহেতু এথেনার জন্ম পিতা জিউসের মাথা থেকে এবং মাতৃবঞ্চিত, তাই তার মধ্যে সব পুরুষালি স্বভাব ছিল।

এথেনা প্রাচীন গ্রীক ধর্ম ও পুরাণে জ্ঞান, যুদ্ধকৌশল, গণিত, শক্তি, কৌশল, চারু ও কারুশিল্প এবং দক্ষতার দেবী ছিলেন এবং দেবী এথেনার নামে ‘এথেন্স' শহরের নামকরণ করা হয়েছে।

গ্রীকদের মতে 'Beauty is not in the eye of the beholder ‘ বিউটি হচ্ছে এনালজি, সাদৃশ্য, উপমা, হারমোনি। দুটি বস্তুর মধ্যে কম্পারিজন। আর সেটা হচ্ছে বহুল পরিচিত Golden Ratio (1.618) - এর ব্যবহার। শর্ট এবং লং এর নির্ধারিত অনুপাত মেনে এই পার্থেনন তৈরী। ম্যাথমেটিক্স এবং আর্টসের মিশ্রনটা দেখা যায় লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত পেইন্টিং 'Vitruvian Man’ - এ। হিউমান বডির হিডেন হার্মনিতে জুড়ে আছে গোল্ডেন রেসিও।

Theatre of Dionysus,যেখানে প্রথমবারের মতো গ্রীক ট্রাজেডি নাটক অনুষ্ঠিত হয়।Theatre of Dionysus,যেখানে প্রথমবারের মতো গ্রীক ট্রাজেডি নাটক অনুষ্ঠিত হয়।

 

Theatre of DionysusTheatre of Dionysus

এক্রোপলিসের চূড়ায় পার্থনন থেকে নেমে এসে দক্ষিণে পাহাড়ের গা ঘেঁষে রয়েছে চোখ জুড়ানো পাথরের তৈরী এই বিশ্বের প্রথম অ্যাম্ফিথিয়েটার ‘থিয়েটার অফ ডিওনিসাস’ (Theatre of Dionysus), যেখানে প্রথমবারের মতো গ্রীক ট্রাজেডি নাটক অনুষ্ঠিত হয়। ডিওনিসাস হচ্ছে ওয়াইন আর উৎসবের (Wine and Festival) দেবতা। এই থিয়েটারটা গ্রীকদেবতা ডিওনিসাসকে উৎসর্গ করে তৈরী করা হয়। দর্শক ধারণ ক্ষমতা ১৭০০০। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে এই থিয়েটারটা নাটকের জন্য ব্যবহার করা হতো। এবং গ্রীক গড ডিওনিসাসের সম্মানার্থে 'সিটি ডিওনিসিয়া' ফেস্টিভ্যাল হতো, যেখানে মূলত শাস্ত্রীয় যুগের নাট্যকার এসকাইলাস, সফোক্লিস, ইউরিপিদেস, অরিস্টোফেনস এবং মীনান্দার ট্রাজেডি নাটকের নাট্য প্রতিযোগিতা হতো। পাথরের সিটে বসে একনাগারে অনেক পুরনো অতীতের খালি মঞ্চের দিকে একনাগাড়ে তাকিয়ে ছিলাম। ইডিপাস, প্রমিথিউস বন্ড ,আন্তিগোনে এই সব নাটকের চরিত্রগুলো যেন দেখতে পাচ্ছি।

প্রাচীন এগোরাপ্রাচীন এগোরা

 

তারপর ওখান থেকে উঠে এসে এক্রোপলিসের নর্থওয়েস্ট-এ অবস্থিত Ancient Agora-তে হেঁটে হেঁটে আসলাম। আগোরা (Agora) মানে হচ্ছে মূলত Gathering Place, সমাবেশ স্থান। অতীতে লোকজন এখানে রাজার বক্তব্য শুনার জন্য জড়ো হতো কিংবা আসত সামরিক কর্তব্য পালন করতে। পলিটিকাল আড্ডা হতো। পরবর্তীতে চিন্তা করা হলো যেহেতু লোকজন এখানে রাজনৈতিক আড্ডা দিতে আসেন, অবশ্য পানীয়-র ব্যবস্থার দরকার আছে, এভাবে পরিণত হয় মার্কেট প্লেসে, যেখানে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য সামগ্রী কেনা বেচার জন্য দোকান-পাট তৈরী করেন।

Areopagus - বাইবেল গ্রীকে লেখা একটা প্লেটAreopagus - বাইবেল গ্রীকে লেখা একটা প্লেট

 

এক্রোপলিসের নর্থওয়েস্ট-এ অবস্থিত একটি বিখ্যাত পাথর আছে, যার নাম Areopagus। এখানে বাইবেল গ্রীকে লেখা একটা প্লেট রয়েছে। ঐতিহাসিক একারণে যে বলতে গেলে এখান থেকে গ্রীসে ক্রিস্টিয়ানিটির উৎপত্তি হয়।

এথেন্সে যখন পৌরাণিক দেবদেবীতে বিশ্বাসী ছিল সবাই, ক্রিশ্চিয়ানিটি আসেনি তখনও ওখানে। যীসাসের (Jesus) ৫৪ বছর পর Paul the Apostle (Saint Paul) এথেন্সের এই জায়গায় আসেন। তখন কিন্তু পুরো গ্রীস জুড়ে বিভিন্ন গডের অনুসারী সবাই, কেবল একটা জায়গায় ছাড়া, সেটা হলো ডাউনটাউন অফ এথেন্স। ডাউনটাউন অফ এথেন্সের গডটা এখনো অচেনা তাদের। Saint Paul এসে সে সুযোগটা ব্যবহার করেন। এবং এই অপরিচিত গডের নাম দেন 'Jesus'

সেন্ট পলের কথা সক্রেটিস থেকে শুরু করে গ্রীসের নানা ফিলোসফার কেউ বিশ্বাসতো করলো না, বরঞ্চ হাসি, ঠাট্টায় উড়িয়ে দিলো। সেন্ট পলের চেষ্টা একদম বৃথাই যাচ্ছিলো। কিন্তু একজন উনার কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলেন এবং উনার কথায় বিশ্বাসী হয়ে ক্রিশ্চিয়ানিটি প্রচার করতে লাগলেন । উনি হলেন St Dionysius Areopagite, the first bishop of athens. এবং তখন থেকেই গ্রীসে ক্রিশ্চিয়ানিটি প্রচার হতে লাগলো।

এক্রোপলিসের পাদদেশে উত্তরে অবস্থিত প্লাকা (Plaka) বসতিএক্রোপলিসের পাদদেশে উত্তরে অবস্থিত প্লাকা (Plaka) বসতি

 

তারপর ওখান থেকে হেঁটে হেঁটে এক্রোপলিসের পাদদেশে উত্তরে অবস্থিত প্লাকা (Plaka) বসতিতে এসে পৌঁছালাম। প্লাকা একটা আলবেনিয়ান শব্দ, যার মানে পুরাতন। পাহাড়ের গা ঘেঁষে অনেক পুরাতন সব বাড়িঘর, সরু অলিগলি, দোকানপাট, বার আর রেস্টুরেন্ট।

আমরা সবাই ম্যারাথন দৌড়ের সাথে পরিচিত। ম্যারাথন এথেন্স শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি নগর। ৪৯০ B.C-তে পার্সিয়ান আর্মি এসেছিল এথেন্স আর্মিদের সাথে যুদ্ধ করতে। এথেন্স প্রায় হেরেই যাচ্ছিলো, কিন্তু শেষমেশ এথেন্সের জয় হয়, গ্রীকরা জয়ী হলেন। ম্যারাথন আর এথেন্সের মধ্যে সংবাদ আদান প্রদানের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল সব চেয়ে সেরা রানার ফিলিপ্পিদেসকে (Philippides) । গ্রীকদের বিজয়ের সংবাদটা দেয়ার জন্য এথেন্সের দিকে দৌঁড় শুরু করেন ফিলিপ্পিদেস। ২৫ কিলোমিটার দৌড়ে কালন্ত, পরিশ্রান্ত হয়ে অবশেষে মৃত্যুবরণ করেন ফিলিপ্পিদেস। ১৮৯৬-এ প্রথম মডার্ন অলিম্পিক উদযাপিত হয়, তখন ম্যারাথন রেস হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়ে শুরু হয় ২৫ কিলোমিটার দিয়ে। বর্তমানে পৃথিবীর নানা জায়গায় ম্যারাথন হয়। আনুমানিক ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে ম্যারাথন হয়, এবং এই দূরত্বটা বেসিক্যালি এথেন্স থেকে ম্যারাথনের দূরত্ব।

রবার্ট ব্রাউনিং তার কবিতা ‘Pheidippides’ তে এই চিরাচরিত গল্পের একটি সংস্করণ দিয়েছে এভাবে

So, when Persia was dust, all cried, "To Acropolis!

Run, Pheidippides, one race more! the meed is thy due!

Athens is saved, thank Pan, go shout!" He flung down his shield

Ran like fire once more: and the space 'twixt the fennel-field

And Athens was stubble again, a field which a fire runs through,

Till in he broke: "Rejoice, we conquer!" Like wine through clay,

Joy in his blood bursting his heart, - the bliss!

Monastiraki SquareMonastiraki Square

 

এভাবে সারাদিন এক্রোপলিসে ঘুরাঘুরি করতে করতে সন্ধ্যা গড়িয়ে এলো এবং এসে পৌঁছুলাম Monastiraki Square। রোমান আগোরার কাছাকাছি। এবং Monastiraki Square – এ এথেন্স শহরের বহুদিনের পুরনো মার্কেট রয়েছে। অনেকে এই মার্কেটটা দেখতে যায়। এবং এই Square-এ রাত দিন জম্পেশ আড্ডা চলে।

রাস্তার ধারে গান গেয়ে চলছে শিল্পীরারাস্তার ধারে গান গেয়ে চলছে শিল্পীরা

 

অন্ধকার ঘনিয়ে যখন রাত নামলো , তখন এথেন্স অন্য এক রকম মায়াবী প্রাণবন্ত শহর, রাস্তার ধারে বসে সবাই গল্প গুজব করছে, নানা রকম বাদ্যযন্ত্র নিয়ে দলবেঁধে রাস্তার ধারে গান গেয়ে চলছে শিল্পীরা। এবং এক মায়াবী আলোতে পাহাড়ের চূড়ায় জেগে আছে এক্রোপলিস।